06/01/2026
“১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর আর কিছু থাকে না।”
“আসামীর আবার কিসের রাইটস”? রামিসা মামলায় আইনজীবিদের আবেগতাড়িত মিডিয়া ব্রিফিং। এটেনশন সিকার না হয়ে প্লিজ আইনের চর্চা করুন। মানুষ কি আপনাদের কাছ থেকে এই আইন জানবে? আপনারা সোসাইটিকে কি ম্যাসেজ দিচ্ছেন?
একজন বলছেন, “১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হয়ে গেলে আর কিছু থাকে না।” কিন্তু একজন আইনজীবী নিশ্চয়ই জানেন যে, আদালত শুধু ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেখেই বিচার সম্পন্ন করে না। আদালত এটাও বিবেচনা করে যে জবানবন্দি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো ভয়, চাপ বা প্ররোচনার প্রভাব ছিল কি না, এবং তা অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, ফরেনসিক রিপোর্ট এসেছে কি না। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা এতটা সরল নয় যে একটি মাত্র বিষয় দেখেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। আর আইন এখানেই শেষ হয়ে যায় না।
আবার কেউ বলছেন, “আসামীর আবার কীসের অধিকার?” ম্যাডাম due process, fair trial, এবং rule of law-এই Doctrine গুলো নিশ্চয়ই আপনি পড়েছেন। আপনি মিডিয়াতে ওভারল ম্যাসেজ দিচ্ছেন। জানেন তো সব আসামি কিন্তু অপরাধী নয়, তাই এই নীতিটি এসেছে যে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে কেউ অপরাধী নয়; তিনি একজন অভিযুক্ত হলেও। কিন্তু আপনার যে ম্যাসেজ সাধারণ মানুষ জানবে আসামিদের কোন অধিকারই নাই।
বিচার প্রক্রিয়ায় জটিলতা, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বাধা, কিভাবে এই সেনসিটিভ মামলাগুলোকে ডিপ কনসার্ন দিয়ে দ্রুত আসামির শাস্তি নিশ্চিত করা যায় তার সমাধান নিয়ে ভাবতে হবে।
মিডিয়ায় মন্তব্য করার সময় আইনজীবীদের এই বিষয়গুলো আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ তাদের বক্তব্য শুধু একটি মামলাকে নয়, সাধারণ মানুষের আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণাকেও প্রভাবিত করে।