ভূমি জরিপ ও ভূমি সংস্কার ৷ Wb

  • Home
  • India
  • Sabang
  • ভূমি জরিপ ও ভূমি সংস্কার ৷ Wb

ভূমি জরিপ ও ভূমি সংস্কার ৷ Wb Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ভূমি জরিপ ও ভূমি সংস্কার ৷ Wb, Lawyer & Law Firm, Sabang.

24/03/2025

Generate your extra revenue by investing only thousand rupees with MLM Business.
9564144396

25/04/2024
25/04/2024
25/04/2024
12/01/2023

মনে রাখবেন, বিপ্লবতীর্থ চট্টোগ্রাম আজ ভারতবর্ষে নেই ৷
কেন নেই ?
মাস্টারদা সূর্য্য সেন কি চট্টোগ্রামহীন স্বাধীন ভারতবর্ষের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ?
আসুন, একটু খতিয়ে দেখা যাক ~
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

*🌸⭕ বাংলা ভাগের নেপথ্যে....। ⭕🌸*

_''মুসলমান একটা আলাদা জাতি। ১২০০ বছর আগে যেদিন ভারতবর্ষের প্রথম হিন্দুটি মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছে, সেদিন থেকেই ভারতবর্ষে একটা আলাদা জাতি তৈরি হয়ে গেছে। মুসলমানদের আলাদা জাতি গঠনের সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান আছে। তাই তাদের অবশ্যই নিজেদের বাসভূমির অধিকার আছে।"_

_১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের পাকিস্তান প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিন্না আরো বলেন: "ভারতের সমস্যা সম্প্রদায়গত নয় বরং জাতিগত। এটা খুবই দুঃখের যে হিন্দু বন্ধুরা ইসলাম এবং হিন্দুত্বের স্বরূপ ঠিক বুঝতে পারছেন না। ইসলাম ও হিন্দুত্ব শুধু আলাদা ধর্ম নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জাতিসত্তা। মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়, আলাদা একটা জাতি।"_

_ইসলামে নিষিদ্ধ তাঁর প্রিয় শুয়োরের মাংস এবং মদের ফোয়ারা ছুটিয়ে পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এভাবেই পাকিস্তান সৃষ্টির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিলেন মুসলমানদের কাছে। (শুয়োরের মাংস এবং মদ ছিল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম। তিনি জীবনে মাত্র একদিন কোরআন ছুঁয়ে ছিলেন, কোনদিন পড়েননি। তবুও তিনি ছিলেন ভারতের মুসলমানদের পয়গম্বর। কারণ, তিনি মুসলমানদের কাছে নিজেকে হিন্দুবিদ্বেষের এক মহীরুহ হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন)।_

_মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর এই তত্ত্বকে প্রথমেই সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিল কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া। পলিটব্যুরোতে সাজ্জাদ জাহির প্রস্তাব পাশ করলেন, পাকিস্তানের দাবি হচ্ছে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক দাবি (the demand for Muslim self-determination or Pakistan is just progressive and national demand)।‌_

_গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রইল মুসলিম লীগের এই লাহোর প্রস্তাবের নির্বাক দর্শক।_

_মুসলিম লীগের এই লাহোর প্রস্তাবের সক্রিয় বিরোধিতা করা হলো একমাত্র শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভা থেকে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হল: It was only the Hindu Mahasabha that reacted sharply against Pakistan resolution._

_১৯৪৬ এর আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আলী জিন্না মুসলমানদের কাছে আহ্বান জানালেন ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট "প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস" বা "ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে" পালন করবার জন্য।_

_"ডাইরেক্ট একশন ডে" নিয়ে কোন ভনিতা না রেখে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পরিষ্কার জানালেন, গান্ধীর মত অহিংস আন্দোলন নয়, সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে এই পাকিস্তান আদায় করতে হবে। তিনি দাবি করলেন, আমাদের কাছে পিস্তল আছে এবং আমরা তা ব্যবহার করব।_

_"ডাইরেক্ট একশন ডে"র দিন কলকাতার বুকে একতরফা হিন্দুর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলো। এই হত্যার ব্যাপকতা দেখে ঐতিহাসিকরা এর নাম দিয়েছিল "দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং"। ভারত সেবাশ্রম সংঘ থেকে আনন্দবাজার সহ বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছিল- বিভিন্ন জায়গা হইতে খবর আসিতেছে যে বহু হিন্দু নারী অপহৃতা হইয়াছে। তাদের খোঁজ পাইলে নিম্নের ফোন নম্বর অথবা ভারত সেবাশ্রম সংঘের বালিগঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করুন।_

_হিন্দু হত্যার উৎসবের দেড় দিন পর হিন্দুরাও প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা বিজয় সিংহ নাহার বা বউবাজারের গোপাল মুখার্জি, যিনি গোপাল পাঁঠা বলেই বেশি পরিচিত, এবং আরো অনেকে।_

_মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তার সাকরেদ তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শাহিদ সুরাবর্দী "ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে" যেভাবে চেয়েছিলেন, সেভাবে হল না। মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত বেশি। মৃত্যুর সংখ্যাও মুসলমানদের বেশি।‌_

_এরপর বাংলার বিভিন্ন জায়গায় একতরফা হিন্দু নিধন চলতে থাকে। সবচেয়ে নারকীয় ঘটনা ঘটে নোয়াখালীতে। ১০ই অক্টোবর, ১৯৪৬ নোয়াখালীতে গোলাম সারওয়ারের নেতৃত্বে বাঙালী, পাঠান ও বিহারী মুসলমান একযোগে শুরু করে হিন্দু হত্যা, ধর্ষণ, লুট। সবচেয়ে বেশি দানবীয় ঘটনা ঘটে হিন্দু মেয়েদের ওপর, আরো বিশেষ করে মতুয়া হিন্দু মেয়েদের ওপর। এই নারকীয়তা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছিল যে, স্বামীর হত্যাকারী বা পিতার হত্যাকারী সেই মুসলমানকে নিহত স্বামীর স্ত্রী বা পিতার কন্যাকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। সঙ্গে খেতে বাধ্য করা হয় গরুর মাংস। এরপর কলমা পড়ে মুসলমান করানো হয় সবাইকে।_

_ওই সময় নোয়াখালীতে সফররতা কংগ্রেস নেত্রী স্বয়ং সুচেতা কৃপালনি বলেছিলেন, হিন্দুর ওপরে এই দাঙ্গা প্রতিরোধ করার জন্য যদি "আমাকে অহিংসা ছাড়তে হয়, আমি তাতেও রাজী।" নোয়াখালী গণহত্যার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক ছিল, মুসলমান মেয়েরাও প্রত্যক্ষভাবে পুরুষদের সাথে হিন্দুদের নিধন এবং লুটে অংশগ্রহণ করেছিল।_

_ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বুঝতে পারছিলেন, ভারতবর্ষের ভাগ আটকানো যাবে না। কারণ কংগ্রেস যে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, ভারতবর্ষের মানুষ তা বুঝতে পারছে না। একদিকে কংগ্রেস বলছে, তারা দেশভাগ মানবে না, অন্যদিকে গান্ধী নিজে জিন্নাহর সাথে মিটিং করছেন দেশভাগের স্বপক্ষে। কমিউনিস্টরা দেশভাগের সপক্ষে জনমত গঠন করতে শুরু করেছেন। দেশের বেশিরভাগ হিন্দু মানুষ বুঝতেই পারছেন না, আসল সত্য কে বলছেন। বরং তারা গান্ধীর বক্তব্য সত্য বলে মনে করছেন যে, দেশভাগ হবে না, দেশভাগ হলে তাঁর মৃতদেহের উপর দিয়েই দেশভাগ হবে।_

_শ্যামাপ্রসাদ এবার পরিষ্কার জানালেন, দেশভাগ যদি করতে হয়, তাহলে বাংলা এবং পাঞ্জাবকেও ভাগ করতে হবে। কারণ শ্যামাপ্রসাদ পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন, দেশভাগ হলে বাঙালী হিন্দুর আর থাকার জায়গা থাকবে না। শ্যামাপ্রসাদ যে সঠিক ছিলেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সিন্ধ্রিদের দুরবস্থা। তারাও দেশ ভাগ হলে পালিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু যেহেতু একজন শ্যামাপ্রসাদ তাঁরা পাননি, তার ফলে তারা সিন্ধু থেকে পালিয়ে এসে বম্বেতে ছাদ ভাড়া নিয়ে থেকেছেন, কিন্তু নিজের দেশ তৈরি করতে পারেননি।_

_মুসলমান মনস্তত্ত্ব, কুরআন, হাদিসের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সত্যতার উপর দাঁড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ এটা বুঝতে পেরেছিলেন, ইসলামিক পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলায় বাঙালী হিন্দু তাদের ধর্ম নিয়ে বাঁচতে পারবে না। তাই তিনি জোরালো দাবি করলেন, দেশভাগ হলে, বাংলা ও পাঞ্জাবকেও ভাগ করতে হবে। জিন্না প্রমাদ গণলেন। কারণ শ্যামাপ্রসাদ গান্ধী বা নেহেরু নন। তাই জিন্না তার বিরক্তি প্রকাশ করলেন- sinister move actuated by fight and bitterness._

_লীগের নেতা আক্রম খান বললেন, অবিভক্ত বাংলা আর পাঞ্জাব নিয়ে পাকিস্তান তৈরি করতে হবে। কমিউনিস্টরা মুসলিম লীগের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, মুসলমানদের রাজনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব "বর্ণহিন্দু" চক্রান্ত।_

_জিন্না পরিস্কার বললেন, what is the the use of Bengal without Calcutta? সুরাবর্দী বললেন, আমরা রিচ প্রাইস অফ ক্যালকাটা ছাড়া পূর্ব পাকিস্তান নেব না।_

_শেষ চেষ্টা হিসেবে জিন্না শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশঙ্কর রায় ও কমিউনিস্টদের কাজে লাগালেন। সুরাবর্দীর নেতৃত্বে তারা দাবি তুললেন "united and free Bengal within free India"।_

_কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র স্বাধীনতা পত্রিকায় (01.06 1947) আহবান জানানো হলো- বঙ্গভঙ্গ রোধ করুন। ঐক্যবদ্ধ বাংলা করুন। এই বঙ্গভঙ্গ কিন্তু কার্জনের বঙ্গভঙ্গ নয়। এই বঙ্গভঙ্গ মানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ইসলামিক পাকিস্তান ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করা।_

_কিন্তু বাঙালী হিন্দুকে বাচঁতে হলে বাঙালী হিন্দুদের জন্য চাই নিজস্ব বাসভূমি বা home land।_

_১৫ই মার্চ ১৯৪৭, হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে বাঙালীর জন্য হোমল্যান্ড এর প্রস্তাব দেওয়া হল। সমর্থনে এগিয়ে এলেন বাংলার সমস্ত বিদগ্ধজন, ঐতিহাসিক রমেশ মজুমদার, সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, পন্ডিত রামশংকর ত্রিপাঠি। শ্যামাপ্রসাদ বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বললেন, পূর্বের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি যে হিন্দুরা কোনোভাবেই একটা ইসলামিক পাকিস্তানে বেঁচে থাকতে পারবে না। ওই সম্মেলনে ঠিক হয়, বাংলা ভাগের প্রস্তাবের সমর্থনে ব্যাপক জনমত তৈরি করা হবে।_

_হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকৃতি দিল বাংলার জনগণ। ২৩/০৩/১৯৪৭ এর অমৃতবাজার পত্রিকা জানালো, ৯৮.৩০% বাঙালী হিন্দু বাংলা ভাগের পক্ষে। মাত্র ০.৬% বাঙালী হিন্দু বাংলা ভাগের বিপক্ষে।_

_৪ ই এপ্রিল, ১৯৪৭ সালে তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার তিনদিনব্যাপী Bengal Partition Convention শুরু হল। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।_

_শ্যামাপ্রসাদ বললেন, বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবাংলা তৈরি না করলে বাঙালী হিন্দুদের বেঁচে থাকার আর কোন উপায় নেই। এটা বাঙালীর জীবন মরণের প্রশ্ন।_

_শ্যামাপ্রসাদের এই বাংলা ভাগের বিরোধিতায় নামলেন স্বয়ং গান্ধী। কারণ গান্ধী এবং কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা ভাবছিলেন বাংলা বিদায় হোক। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ ২৯ শে জানুয়ারি ১৯৪৬, কংগ্রেস কমিটির তরফ থেকে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেখানে অসম এবং সীমান্ত প্রদেশের প্রসঙ্গ থাকলেও বাংলার হিন্দু অধিবাসীদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। গান্ধী অসমকে ক্যাবিনেট মিশন এর বৈঠকে যোগদান না করার পরামর্শ দিলেও, বাংলা সম্পর্কে নীরব ছিলেন।_

_১৯৪৭ সালের ৭ ই মে মেঘনাদ সাহা, যদুনাথ সরকার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি বুদ্ধিজীবীরা বাঙালি হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য একটি আলাদা প্রদেশের দাবি তোলেন। শনিবারের চিঠি লেখে "ভাগ হইয়া যাওয়াই ভালো।"_

_প্রবাসী বলে, বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব স্থিরভাবে বিবেচনা করা উচিত। কলকাতা কর্পোরেশনের ৩৭ জন কাউন্সিলর দাবি করেন বাংলার হিন্দু ও জাতীয়তাবাদীদের জন্য একটি আলাদা বাসভূমি চাই।_

_এমনকি কিরণশঙ্কর রায় এবং ডঃ বিধানচন্দ্র রায় শ্যামাপ্রসাদকে জানান, কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে তারা বাংলা ভাগের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।_

_প্রমাদ গণলেন সুরাবর্দী। তিনি মাউন্টব্যাটেনের সাথে দেখা করে বারবার অনুরোধ করলেন, কোনভাবেই যেন শ্যামাপ্রসাদের দাবি না মানা হয়।_

_২৮ শে মে ১৯৪৭, বরোজ মাউন্টব্যাটেনকে লিখেছিলেন, বাংলা ভাগ হলে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে গন্ডগোল করবে। তিনি আরো জানান যে ব্যাপক পরিমাণে অস্ত্র ও বোমা মজুদ করা হয়েছে।_

_বাস্তব বুঝতে মাউন্টব্যাটেনের বিলম্ব হলো না। ৩ রা জুন ১৯৪৭ মাউন্টব্যাটেন প্ল্যানে স্পষ্ট ঘোষণা হলো যে, বাংলা ও পাঞ্জাবে বিভাজনের পক্ষে একটিও ভোট বেশী পড়লে বিভাজনের সিদ্ধান্তই কার্যকরী হবে।_

_স্থির হলো যে ২০ শে জুন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলীতে তিন পর্যায়ে ভোট হবে (তখন মোট প্রতিনিধি সংখ্যা ২৫০)। প্রথমে সম্পূর্ণ সভার। তারপর মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিদের। তারপর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিম অংশের প্রতিনিধিদের। ততদিনে হিন্দু প্রতিনিধিদের ইতিকর্তব্য নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। তৃতীয় পর্বের ভোটে বাংলার পশ্চিম অংশের প্রতিনিধিরা ৫৮-২১ (পক্ষে ভোট দেওয়া ৫৮ জনই হিন্দু) ভোটের ব্যবধানে নিজেদের জয় ছিনিয়ে আনলেন। কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিনিধি জ্যোতি বসু ও রতনাল ব্রাহ্মণ ভোট দিলেন বাংলা ভাগের পক্ষে।_

_আবুল হাশেম, হুসন আরা বেগম, ইদ্রিস আলী মোল্লা, মোহাম্মদ ইদ্রিস, মোহাম্মদ দীন মোহাম্মদ কোমরউদ্দিনের মত মোট ২১ জন মুসলমান বিধায়ক জিন্নার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ভোটাভুটির সময় পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়ে চেয়েছিলেন যে, সম্পূর্ণ বাংলা পাকিস্তানে চলে যাক।_

_আবুল হাশেম ছিলেন কাসরা, কাশেমনগর, বর্ধমানের অধিবাসী। তিনি বর্ধমান কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়ে বাংলার বিধানসভায় গিয়েছিলেন।_

_হুসন আরা বেগম থাকতেন ১১-বি, গ্রীন রোড, তিলজলা রোড, কলিকাতা। তিনি কলিকাতার মহিলা সংরক্ষিত আসন থেকে জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন।_

_ইদ্রিস আলী মোল্লা থাকতেন ১নং জগন্নাথনগর, বাটানগর, ২৪-পরগনা। তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন ২৪ পরগনা সাধারণ কেন্দ্র থেকে।_

_মোহাম্মদ ইদ্রিসের ঠিকানা ছিল, গ্রাম: বাউল, ডাকঘর: জগৎবল্লভপুর, হাওড়া। তিনি বিধানসভায় গিয়েছিলেন হাওড়া আসন জিতে।_

_মোহাম্মদ দীন মোহাম্মদ কোমরউদ্দিন এর ঠিকানা ছিল কাঁকিনাড়া, ২৪-পরগনা। তিনি জিতেছিলেন ব্যারাকপুর পুরসভা আসন থেকে।_

_দেশভাগের পর, আরো পরিষ্কার করে বলি, বাংলা ভাগের কারণে পশ্চিমবাংলার জন্ম হওয়ার পর কোথায় ছিলেন এরা বা এদের যারা ভোট দিয়েছিল সেই সব ভোটাররা? কেউ পাকিস্থানে যাননি, রয়ে গেলেন এই বাংলায়, এই খন্ডিত পশ্চিমবঙ্গে- সিএএ বা এনআরসির বিরোধিতা করবার জন্য। হিন্দু বাঙালীর হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গকে আবার ইসলামিক পাকিস্তান তৈরি করবার জন্য!_

_২০/০৬/১৯৪৭ এ বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বাংলা ভাগের প্রস্তাব পাস হয়। তাই বলা যায় ২০ শে জুন ১৯৪৭ পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন।_

_জিন্না, সুরাবর্দী ও কমিউনিস্টদের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ করে পাকিস্তান ভেঙে ভারত রাষ্ট্রের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ নামক স্বতন্ত্র এক প্রদেশের জন্ম নিল। বাঙ্গালী হিন্দুর হোমল্যান্ড। নিজস্ব ভূখন্ড।_

_তাই ঐতিহাসিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গ শুধু অ-মুসলমানদের অথবা সেই মুসলমানদের যারা 'মুসলমান' আলাদা একটা জাতি না মনে করে ভারতীয় মনে করে।_

_আসুন আমরা সবাই একসাথে শপথ নেই, এই হিন্দু বাঙালী বা অ-মুসলমানের জন্য তৈরি হওয়া পশ্চিমবঙ্গের মাটি আগলে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। জিহাদী শক্তিকে উৎপাটিত করবার কর্তব্য আমাদের সবার।‌_


*সংগ্রহে ও সংযোজনায়- বিকাশ দত্ত।*

*(সংগৃহীত)*

Address

Sabang
721144

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভূমি জরিপ ও ভূমি সংস্কার ৷ Wb posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share