Advocate Anisur Rahaman

Advocate Anisur Rahaman Criminal Lawyer

পলাশীর ষড়যন্ত্রকারীদের শেষ পরিণতি________________________________১। জগৎ শেঠ পরিবার  পলাশীর ষড়যন্ত্রের মূল গুটি এবং অর্থদ...
25/06/2026

পলাশীর ষড়যন্ত্রকারীদের শেষ পরিণতি
________________________________

১। জগৎ শেঠ পরিবার

পলাশীর ষড়যন্ত্রের মূল গুটি এবং অর্থদাতা ছিল—জগৎ শেঠ। যার ঘরে বসে রচিত হয়েছিল বাংলার পতনের নকশা। ১৭৬৩ সালে ইংরেজদের সঙ্গে মীর কাসিমের যুদ্ধ শুরু হলে জগৎশেঠেরা আবারও ইংরেজদের অর্থ দিয়ে গোপনে সাহায্য করছিলেন। এই ষড়যন্ত্র হাতেনাতে ধরে ফেলে নবাব মীর কাসিম।

মীর কাসিম নির্দেশ দেয় জগৎশেঠ মহাতাপ চাঁদ ও তাঁর ভাই স্বরূপ চাঁদকে বস্তায় ভরে মুঙ্গের দুর্গের চূড়া থেকে গঙ্গায় ফেলে হত্যা করার।

২। উমিচাঁদ

জয়ের ক্লাইভ চোখ উল্টে ফেলে। ক্লাইভের জালিয়াতির প্রথম শিকার হয়েছিলেন কাসিমবাজার ষড়যন্ত্রের অন্যতম অর্থদাতা ব্যবসায়ী উমিচাঁদ। ক্লাইভ জাল দলিল ব্যবহার করে উমিচাঁদকে লভ্যাংশ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছিলেন (সেই বিখ্যাত লাল কাগজ ও সাদা কাগজের চুক্তি)। এই চরম বিশ্বাসভঙ্গের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে উমিচাঁদ তাঁর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং স্মৃতিভ্রষ্ট ও উন্মাদ অবস্থায় অত্যন্ত করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন

৩। রাজবল্লভ

ঘষেটি বেগমের প্রধান দেওয়ান ছিলেন এই রাজা রাজবল্লভ। পলাশীর পর তিনি মীরজাফরের রাজত্বে ভালো পদ পেলেও, পরবর্তীতে মীর কাসিম যখন নবাব হন, তখন রাজবল্লভের ইংরেজ-তোষণ ও ষড়যন্ত্র মীর কাসিমের নজরে আসে। ১৭৬৩ সালে মীর কাসিমের আদেশে জগৎশেঠদের সাথে রাজা রাজবল্লভ এবং তাঁর পুত্র কৃষ্ণদাসকেও বিহারের মুঙ্গের দুর্গের কাছে বস্তাবন্দী করে পদ্মা-গঙ্গার মিলনস্থলে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।

৪। নন্দকুমার

তরুণ নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে যিনি ইংরেজদের কলকাতা পুনর্দখল করতে দিয়েছিলেন, সেই নন্দকুমার পরবর্তীতে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এক জালিয়াতির মামলায় ফেঁসে যান। ১৭৭৫ সালে কলকাতায় অত্যন্ত অপমানজনকভাবে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

৫। রবার্ট ক্লাইভ

পলাশীর যুদ্ধের মূল কারিগর রবার্ট ক্লাইভ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠন করে ব্রিটেনে ফিরে যান। তিনি তৎকালীন ইংল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠে। যদিও বিচারে তিনি খালাস পান, কিন্তু তীব্র সামাজিক ধিক্কার, অপবাদ এবং শারীরিক অসুস্থতার (পিত্তথলির পাথর) তীব্র যন্ত্রণায় তিনি ভেঙে পড়েন। অতিরিক্ত আফিম সেবনের কারণে তীব্র মানসিক অবসাদ ও হাহাকার থেকে ১৭৭৪ সালে লন্ডনে নিজের বিলাসবহুল বাড়িতে এই ব্রিটিশ সেনাপতি বাথরুমে ছুরি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেন।

৬। ইয়ার লতিফ খান

নবাব সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনীর অন্যতম এই সেনাপতি পলাশীর মাঠে মীরজাফরের মতো নিজ সৈন্যদল নিয়ে পুতুলের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রের মূল চুক্তি অনুযায়ী, তাঁরও নবাব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লর্ড ক্লাইভ শেষ মুহূর্তে মীরজাফরকে বেছে নেন। যুদ্ধের পর ইয়ার লতিফ খান তাঁর প্রাপ্য ক্ষমতা বা অর্থ কোনোটিই পাননি। কিছুদিন পর তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ধারণা করা হয়, মীরজাফরের পুত্র মীরন অথবা ইংরেজদের নির্দেশে তাঁকে গুপ্তহত্যা করে লাশ গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল।

৭। দানা শাহ

নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন সপরিবারে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন রাজমহলের কাছে এই তথাকথিত সুফি সাধক বা ফকির দানা শাহ নবাবকে চিনে ফেলেন। নবাবের কাছে থাকা বহুমূল্য রত্ন দেখে এবং পুরস্কারের লোভে সে মীরজাফরের ভাই মীর দাউদকে খবর দিয়ে নবাবকে ধরিয়ে দেয়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কিছুদিন পরেই এক বিষাক্ত সাপের কামড়ে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে দানা শাহের মৃত্যু হয়।

৮। ঘষেটি বেগম

নবাব সিরাজের খালা ও অন্যতম প্রধান চক্রান্তকারী ঘষেটি বেগমকে পলাশীর পর মীরজাফরের পুত্র মীরন ঢাকার জিনজিরা প্রাসাদে বন্দি করে রাখেন। পরবর্তীতে ১৭৬০ সালে তাঁদেরকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বুড়িগঙ্গা বা ধলেশ্বরী নদীতে চলন্ত নৌকা ফুটো করে ডুবিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

৯। মীরজাফর

ষড়যন্ত্রের অন্যতম গুটি মীরজাফর আলী খান বাংলার মসনদ পেলেও তাঁর সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইংরেজদের হাতের পুতুলে পরিণত হওয়া এই নবাব ১৭৬৫ সালে এক মারাত্মক ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। লোকগাথা অনুযায়ী তাঁর সারা শরীর কুষ্ঠ রোগে পচে খসে পড়েছিল।

১০। মিরন

মীরজাফরের চেয়েও নির্মম পরিণতি হয়েছিল তাঁর পুত্র মীরনের, যিনি সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যার মূল নির্দেশদাতা ছিলেন। ১৭৬০ সালে বিহারে এক সামরিক অভিযানের সময় মেজর ওয়াটসনের তাঁবুতে রহস্যময় এক বজ্রপাতে মীরন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। অনেকে মনে করেন, ইংরেজরাই তাদের এই অবাধ্য মিত্রকে পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল।

১১। মুহাম্মদী বেগ:

বেগ সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিজ আশ্রয়দাতা সিরাজউদ্দৌলাকে তলোয়ারের আঘাতে খণ্ড-বিখণ্ড করেছিলেন, তিনি শেষ জীবনে সম্পূর্ণ উন্মাদ হয়ে যান এবং এক অন্ধকার কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

১২। মীর কাসিম

যদিও মীর কাসিমের পলাশীর পরে বোধোদয় হয়, ইংরেজ এবং হিন্দু ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তবে তিনিও পলাশীর অভিশাপ এড়াতে পারে নাই। বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দিল্লী পালিয়ে যান। শেষ জীবনে তার অবস্থা—ছিন্নবস্ত্র, ভিখারীর মতো জীবন। এই দশাতেই তার জামে মসজিদের কাছে মৃত্যু হয়।


( মূল লেখা থেকে সংক্ষেপিত)

৩৬৩-এর মরীচিকা গণতন্ত্রের কফিনে কি শেষ পেরেক?বিশেষ প্রতিবেদনসংসদের করিডোরে এখন এক অলিখিত লড়াই চলছে। অঙ্কটা বড্ড কড়া—৩৬৩।...
22/06/2026

৩৬৩-এর মরীচিকা

গণতন্ত্রের কফিনে কি শেষ পেরেক?

বিশেষ প্রতিবেদন

সংসদের করিডোরে এখন এক অলিখিত লড়াই চলছে। অঙ্কটা বড্ড কড়া—৩৬৩। সংবিধানের ৩৬৮ নম্বর ধারার দোহাই দিয়ে যে সংস্কারের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, তা আসলে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী চরিত্র বদলানোর এক সার্বিক ষড়যন্ত্র।
লোকসভায় ৫৪৩ জনের সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানে ৩৬৩। শাসক জোট এখন ৩১৩-তে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে, আর সেই বাকি ৫০টি আসন জোগাড় করতে তারা যে ধরনের রাজনৈতিক ‘অপারেশন থিয়েটার’ চালাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের বুক চিরে দেওয়ার মতোই বীভৎস।
এই ‘অপারেশন থিয়েটার’-এর সূত্রপাত কিন্তু হয়েছে আমাদের বাংলা থেকেই। তৃনমূল কংগ্রেসের ভাঙন এবং দলের অন্দরে যেভাবে মেরুকরণ করা হচ্ছে, তা কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়—এ এক সুপরিকল্পিত চাপ। বাংলার সাংসদ এবং বিধায়কদের একটি বড় অংশ এখন নিজেদের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির ফাইলগুলো ধামাচাপা দিতে বাধ্য হয়ে এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। এজেন্সি আর কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে তাদের যে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে, তা কার্যত গণতন্ত্রের মানচিত্র থেকে বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার এক নিপুণ কারসাজি। বাংলার রাজনৈতিক নেতাদের এই মেরুদণ্ডহীন আত্মসমর্পণই প্রমাণ করে, আদর্শ নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই তাঁরা ৩৬৩-এর এই ঘাতক শক্তির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন।
বাংলা থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র , উত্তরপ্রদেশ—আজকের রাজনীতি সর্বত্রই আদর্শহীনতার চরম শিখরে। শিবসেনার ভাঙন বা সমাজবাদী দলের অন্দরে বিভাজন কেবল আকস্মিক ঘটনা নয়, এগুলো পরিকল্পিত রাজনৈতিক সার্জারি। শাসক দলের আইটি সেল একে ‘জনগণের রায়’ বলে চালিয়ে দিলেও, সত্যটা হল—এই সংখ্যা জোগাড়ের খেলা আসলে একটি ব্ল্যাকমেলিংয়ের ইন্ডাস্ট্রি। যে আঞ্চলিক দলগুলো আজ জোটের ছাতার তলায়, তারা জানেও না কাল সকালে তাদের অস্তিত্ব ওই ৩৬৩-র যূপকাষ্ঠে বলি হবে কি না।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হল, বিরোধীরাও যে এই খেলার বাইরে—তা নয়। বরং তারা এই ‘অপারেশন থিয়েটার’-এর সবথেকে সক্রিয় এবং সুবিধাবাদী অংশ। ক্ষমতার লোলুপতায় কিংবা এজেন্সির ভয়ে যারা আজ এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষে ডিগবাজি খাচ্ছে, তারা আসলে তাদের নৈতিকতা আগেই বিসর্জন দিয়েছে। আদর্শহীনতার এই চোরাবালিতে তারা আর কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং গণতন্ত্রের কফিনে পেরেক পোঁতার সহযোগী কারিগর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাঙনগুলো কোনো স্ট্র্যাটেজি নয়, বরং ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে কোটি কোটি টাকার এক বিশাল ইনভেস্টমেন্ট।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, নির্বাচনী সংস্কার, আর ওয়াকফ আইনের নাম করে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তা আদতে ভারতের বহুত্ববাদী কাঠামোকে ধূলিসাৎ করার নীলনকশা। বিরোধীরা যাকে সংবিধান বদলানোর চক্রান্ত বলছে, শাসক দলের কাছে তা দেশ এগিয়ে নেওয়ার ঝান্ডা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—দেশ কার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে? যদি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা থেকে শুরু করে ফেডারেল কাঠামোর গলা টিপে ধরায় এই সংস্কার সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ৩৬৩ পাওয়ার অর্থ হবে একটি নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের অভিষেক।
সবচেয়ে ভয়ের জায়গাটা সংসদের ভেতরে নয়, বরং মিডিয়ার ড্রয়িংরুমে। সংবিধান বাঁচাও বনাম দেশপ্রেমের সংস্কার—এই যুদ্ধের মোড়ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছে না, তারা আসলে নিজেদের অধিকার হরণের সপক্ষে তালি দিচ্ছে। আইটি সেলের সুনিপুণ কারসাজিতে সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলো এখন সাধারণের কাছে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিডিয়ার ড্রয়িংরুমে বসে যখন এই খেলাটাকে ‘স্ট্র্যাটেজি’ বলে মহিমান্বিত করা হয়, তখন গণতন্ত্রের মৃত্যুটা খুব নীরবে ঘটে।
২০২৪-এর ‘৪০০ পার’-এর স্বপ্ন যখন ২৪০-এ এসে থমকে গিয়েছিল, তখন থেকেই শাসক দল মরিয়া। উনত্রিশের ভোটের আগে এই ৫০ জন সাংসদকে কব্জা করাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। একবার ৩৬৩ পার করতে পারলে ভারতের মানচিত্র, আইন ও সমাজব্যবস্থায় যে রদবদল হবে, তা আর কোনোদিন ফিরবে না।
আসল লড়াইটা ৩৬৩-র সংখ্যার নয়, লড়াইটা টিকে থাকার। ইতিহাস সাক্ষী থাকে, যখনই কোনো শাসক দল সংবিধানকে নিজের হাতের মুঠোয় নিতে চেয়েছে, শেষ কথা বলেছে জনগণের ব্যালট।
আমরা সম্ভবত একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘সাইলেন্ট পিরিয়ড’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে বিরোধী স্বরগুলো কেবল অশুভ চক্রের অংশীদার। উনত্রিশের ভোট কেবল সরকার পরিবর্তনের ভোট হবে না; ওই ভোটই ঠিক করবে ভারতের সংবিধান কি টিকে থাকবে, নাকি তা কেবল ইতিহাসের পাতায় একটা আর্কাইভাল ডকুমেন্ট হয়ে পড়ে থাকবে। ৩৬৩-র জুজু দেখিয়ে সংবিধানকে কব্জা করার এই যে অশুভ প্রক্রিয়া চলছে, তাতে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার কাজটা প্রায় সম্পন্ন। এখন কেবল আমাদের দেখার পালা, এই পেরেকগুলো উপড়ে ফেলার মতো কোনো রাজনৈতিক নৈতিকতা কি আদৌ অবশিষ্ট আছে, নাকি আমরা নিস্পৃহভাবেই আমাদের অধিকার বিসর্জন দিচ্ছি।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে মুসলিম লীগের পক্ষে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হ...
22/06/2026

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে মুসলিম লীগের পক্ষে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক। যে প্রস্তাব পরবর্তীকালে দেশভাগের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

আর সেই ফজলুল হকের মন্ত্রীসভায় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী — হিন্দু মহাসভার নেতা।
অর্থাৎ, যে প্রস্তাবের মাধ্যমে পরবর্তীকালে ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করার দাবি উঠল, সেই প্রস্তাব উত্থাপনকারীর মন্ত্রীসভায় তিনি মন্ত্রী ছিলেন।

শুধু বাংলায় নয়, সিন্ধু এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (NWFP)-এও হিন্দু মহাসভা মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেছিল।

সিন্ধু প্রদেশে-- হিন্দু মহাসভার সদস্যরা মুসলিম লীগ নেতা স্যার গোলাম হোসেন হিদায়াতুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪৩ সালে সিন্ধু বিধানসভায় যখন পাকিস্তান প্রস্তাব পাস হয়, তখনও হিন্দু মহাসভার মন্ত্রীরা সেই সরকারেই ছিলেন।

উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে-- সর্দার আওরঙ্গজেব খানের (মুসলিম লীগ) নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা ও আকালিদের সমর্থনে জোট সরকার গঠিত হয়।
হিন্দু মহাসভার নেতা মেহর চাঁদ খান্না সেখানে অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন।

একদিকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী হিন্দু মহাসভার নেতা হয়ে “হিন্দুর অধিকার” নিয়ে বক্তৃতা দিতেন, অন্যদিকে পাকিস্তান প্রস্তাবের উত্থাপকের সঙ্গে জোট করে মন্ত্রিত্ব করছিলেন। এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক দ্বিচারিতা আর কী হতে পারে?

যখন সারা দেশ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখন তিনি ব্রিটিশ গভর্নরকে চিঠি লিখে আন্দোলন দমনের পরামর্শ দিচ্ছিলেন। আর যখন পাকিস্তান প্রস্তাব উঠছে, তখন তিনি সেই প্রস্তাবকারীর মন্ত্রীসভায় বসে আছেন।

আজ যাঁরা তাঁকে “জাতীয়তাবাদের প্রতীক” বলে বিজেপি প্রচার করে, তাঁদের এই অস্বস্তিকর ইতিহাস মনে রাখা উচিত।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন একজন চরম সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি সময় ও ক্ষমতার সুবিধা অনুযায়ী পক্ষ বদলাতে দ্বিধা করেননি।

সুস্মিতা!¡ আল্লাহর ইচ্ছা দুই রকম। এই দুইটা না বুঝলে তুমি কোনোদিন ইসলাম বুঝবে না। আজ পুরোটা ভেঙে দিচ্ছি।প্রথম ইচ্ছা, আল্ল...
22/06/2026

সুস্মিতা!¡ আল্লাহর ইচ্ছা দুই রকম। এই দুইটা না বুঝলে তুমি কোনোদিন ইসলাম বুঝবে না। আজ পুরোটা ভেঙে দিচ্ছি।

প্রথম ইচ্ছা, আল্লাহ যা চান তা হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। আরবিতে বলে ইরাদাহ কাওনিয়া এটা আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছা। এটা কারো ক্ষমতা নেই থামানোর।

উদাহরণ
মৃত্যু। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। সুরা আলে ইমরান ৩:১৮৫। তুমি যত বড় ডাক্তার হও, যত টাকা থাকুক, মৃত্যু আসবেই। এটা আল্লাহ চান, তাই হয়।

দিন রাত, সূর্য চাঁদ। আল্লাহ বলেন, সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে চলে, চাঁদের জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করেছি। সুরা ইয়াসিন ৩৬:৩৮-৩৯। তুমি চাইলেও সূর্যকে থামাতে পারবে না।

কিয়ামত। এটা হবেই কেউ থামাতে পারবেনা। সুরা হজ ২২:৭।

এগুলো আল্লাহর প্রথম ইচ্ছা। এখানে মানুষের কোনো স্বাধীনতা নেই এগুলো কেউ থামাতে পারবে না।

এরপরে আল্লাহর দ্বিতীয় ইচ্ছা
আল্লাহ যা পছন্দ করেন না কিন্তু হতে দেন। আরবিতে বলে ইরাদাহ শরইয়া

এটা আল্লাহর বিধানগত ইচ্ছা। এখানে আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন। কারণ দুনিয়া পরীক্ষার হল।

আল্লাহ বলেন, যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন কে কর্মে উত্তম। সুরা মুলক ৬৭:২
আল্লাহ বলেন, আমি মানুষকে পথ দেখিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে না হয় অকৃতজ্ঞ। সুরা ইনসান ৭৬:৩

উদাহরণ

১. চুরি। আল্লাহ চুরি হতে দেন, কিন্তু তিনি চুরি পছন্দ করেন না। তিনি বলেন চোরের হাত কাটো। সুরা মায়িদা ৫:৩৮। যদি তিনি পছন্দ করতেন তাহলে শাস্তি দিতেন না।

২. ধর্ষণ ও ব্যভিচার। আল্লাহ এটা হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন ব্যভিচারের কাছেও যেও না। সুরা ইসরা ১৭:৩২। নবীজি ﷺ ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তিরমিজি ১৪৫৪।

৩. খুন। আল্লাহ খুন হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন একজনকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। সুরা মায়িদা ৫:৩২।

৪. শিরক মূর্তিপূজা। আল্লাহ এটা হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম। সুরা লুকমান ৩১:১৩।
মূর্তি পূজা হচ্ছে স্রষ্টার সাথে অংশীদার বানানো শিরিক বলে ভয়ানক পাপ।

৫. মিথ্যা বলা, ঘুষ খাওয়া, জুলুম করা। সব আল্লাহ হতে দেন, কিন্তু তিনি বলেন আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না। সুরা আলে ইমরান ৩:৫৭।

তাহলে আল্লাহ কেন থামান না

কারণ যদি আল্লাহ দ্বিতীয় প্রকারের সব খারাপ কাজ সাথে সাথে থামিয়ে দিতেন তাহলে পরীক্ষা থাকতো না।

চিন্তা করো, যদি কেউ চুরি করতে হাত বাড়ালেই আল্লাহ হাত অবশ করে দিতেন, কেউ ধর্ষণ করতে গেলেই আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দিতেন, কেউ মিথ্যা বললেই মুখ বন্ধ হয়ে যেত, তাহলে সবাই ফেরেশতা হয়ে যেত। তাহলে জান্নাত জাহান্নাম, বিচার দিবস, পুরস্কার শাস্তির কোনো মানে থাকতো না।

আল্লাহ বলেন, যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের জুলুমের কারণে সাথে সাথে পাকড়াও করতেন তাহলে পৃথিবীতে কোনো প্রাণী বাকি থাকতো না, কিন্তু তিনি তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। সুরা নাহল ১৬:৬১

আল্লাহ সময় দেন যাতে চোর তওবা করে, ধর্ষক ফিরে আসে, খুনি অনুতপ্ত হয়। এটা আল্লাহর দয়া।

বাস্তব উদাহরণ

সরকার তোমাকে বিদ্যুৎ দেয়। তুমি সেই বিদ্যুৎ দিয়ে হাসপাতালে জীবন বাঁচাও, আবার সেই বিদ্যুৎ দিয়ে কাউকে শক দিয়ে মারো। সরকার বিদ্যুৎ দিয়েছে বলে খুনের দায় সরকারের না।

বাবা তোমাকে টাকা দিয়েছে বই কেনার জন্য। তুমি সেই টাকা দিয়ে মদ কিনেছো। দোষ বাবার না, তোমার।

আল্লাহ তোমাকে হাত, চোখ, শক্তি, ইচ্ছা দিয়েছেন। তুমি সেই শক্তি দিয়ে আল্লাহর এবাদত করতে পারো আবার সেই শক্তি দিয়ে চুরি করতে পারো। আল্লাহ ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তিনি দায়ী না, তুমি দায়ী।

শেষ কথা

প্রথম ইচ্ছায় যা হয় তা তুমি আটকাতে পারবে না, মৃত্যু, জন্ম, রিজিক, কিয়ামত। এগুলো আল্লাহর হুকুম।

দ্বিতীয় ইচ্ছায় যা হয় তা তুমি করো, আল্লাহ শুধু হতে দেন মানে আল্লাহর ইচ্ছায় হয় কিন্তু তিনি পছন্দ করেন না। চুরি, ধর্ষণ, খুন, শিরক। এগুলো আল্লাহ ঘৃণা করেন, নিষেধ করেছেন, কঠিন শাস্তি রেখেছেন।

আল্লাহ বলেন, তোমাদের উপর যে বিপদ আসে তা তোমাদের হাতের কামাই। সুরা শুরা ৪২:৩০
আল্লাহ বলেন, আল্লাহ মানুষের উপর জুলুম করেন না, মানুষ নিজেরাই জুলুম করে। সুরা ইউনুস ১০:৪৪

সুস্মিতা, তুমি বলেছো উত্তর পেলে মুসলিম হবে। এখন তুমি জানো আল্লাহর ইচ্ছা দুই রকম। তিনি মৃত্যু দেন, এটা তার হুকুম। তিনি চুরি হতে দেন, এটা তার পরীক্ষা। দোষ আল্লাহর না, দোষ মানুষের।

ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এই পার্থক্য এত পরিষ্কার। এখন সত্য গ্রহণ করো। Shah ali

ইসলাম বিজয়ী হবে।আপনাকে নিয়ে অথবা আপনাকে ছাড়াই।
21/06/2026

ইসলাম বিজয়ী হবে।
আপনাকে নিয়ে অথবা আপনাকে ছাড়াই।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করবেন,শ্যামাপ্রসাদের নাম বন্দনা করবেন....কম: ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও উমাপদ মজুমদারের পিঠের বেত্রাঘাত...
20/06/2026

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করবেন,
শ্যামাপ্রসাদের নাম বন্দনা করবেন....

কম: ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও উমাপদ মজুমদারের পিঠের বেত্রাঘাতকে মনে রাখবেন।

কমরেড বললাম কারণ এই ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় আর উমাপদ মজুমদার ব্রিটিশ জ্যাক পতাকাকে সেলাম না জানানোই বেতের আঘাত মারেন সর্বসমক্ষে শ্যামাবাবু ,এবং পরবর্তীতে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে ছাত্ররা "ক্ষমা চাইব না আবার সেলামও করব না" সিদ্ধান্তে অনড় থাকাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার,আর কলকাতার রাজপথে এই বহিষ্কারের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘটের "শ্লোগান কম: ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও কম: ঊমাপদের বহিষ্কার রদ করো,ব্রিটিশের দালালি বন্ধ করো"

ঘটনার তথ্যঃ শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি
ধর্মঘটএর তথ্যঃ সেকালের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস -সুবীরেশ মজুমদার
ছবি: চ্যাট জিপিটি ইমাজিন করেছে।

বুকের ভেতর পুত্র হারানোর তীব্র যন্ত্রণা, মাথার ওপর ছাদ বলতে একটা ভাড়া বাড়ি, আর সম্বল বলতে শুধুই একটা পুরোনো ট্রাক। শত অ...
20/06/2026

বুকের ভেতর পুত্র হারানোর তীব্র যন্ত্রণা, মাথার ওপর ছাদ বলতে একটা ভাড়া বাড়ি, আর সম্বল বলতে শুধুই একটা পুরোনো ট্রাক। শত অভাব আর প্রতিকূলতার মাঝেও যে মানুষটা কখনো হার মানেননি, আজ তাঁর লড়াই সার্থক হলো!
গর্বের সাথে জানাই, এবারের UPSC পরীক্ষায় ৭০৮তম স্থান (Rank) অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন আমাদের বোন ফাতিমা। 👑
কয়েক বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ফাতিমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। সেই শোকে ভেঙে না পড়ে, ফাতিমার বাবা নিজের মেয়েকেই 'ছেলে'র মতো করে মানুষ করার প্রতিজ্ঞা নেন। নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে, দিন-রাত ট্রাক চালিয়ে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সীমিত সম্পদের মধ্যেও মেয়ের কোনো স্বপ্নের গায়ে আঁচ লাগতে দেননি।
আজ ফাতিমা প্রমাণ করে দিলেন— মেধা আর জেদ থাকলে দারিদ্র্য বা কোনো অভাবই সাফল্যের পথ আটকাতে পারে না। এক লড়াকু বাবার ত্যাগ আর এক যোগ্য মেয়ের জেদের কাছে আজ মাথা নোয়াতে বাধ্য হলো UPSC-র মতো কঠিন পরীক্ষাও!
ফাতিমা ও তাঁর বাবার এই রূপকথা আমাদের শেখায়, জীবন যতই কঠিন হোক, লড়াই থামানো যাবে না।
স্যালুট জানাই এই সংগ্রামী বাবাকে এবং অনেক অনেক শুভকামনা বোন ফাতিমার জন্য! ❤️🙌

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর কোনো রাষ্ট্রনেতার বিদায় বলতে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বিশাল গাড়িবহর, নিরাপত্তার কড়া আয়োজন কিংবা আন...
19/06/2026

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর কোনো রাষ্ট্রনেতার বিদায় বলতে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বিশাল গাড়িবহর, নিরাপত্তার কড়া আয়োজন কিংবা আনুষ্ঠানিকতার দৃশ্য।

কিন্তু নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের বিদায় ছিল একেবারেই ভিন্ন।

২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুটে। তিনি ছিলেন ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা নেতাদের একজন।

ক্ষমতা উত্তরসূরি ডিক স্কুফের হাতে তুলে দেওয়ার পর তার বিদায়ের মুহূর্তে ছিল না কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন।

ছিল না বিশাল গাড়িবহর, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা নাটকীয় কোনো বিদায় অনুষ্ঠান।

সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে সরকারি ভবন থেকে বের হন রুটে। এরপর সাধারণ মানুষের মতো নিজের সাইকেলে উঠে চলে যান দ্য হেগের রাস্তায়।

মুহূর্তটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কারণ প্রায় ১৪ বছর একটি দেশ পরিচালনা করা একজন মানুষকে অফিস ছাড়তে দেখা যায় ঠিক সেইভাবে, যেভাবে প্রতিদিন লাখো ডাচ নাগরিক কাজে যাওয়া-আসা করেন।

রাজনৈতিক মতামত যাই হোক না কেন, তার এই বিদায়ের দৃশ্য অনেকের কাছে ক্ষমতার এক ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। যেখানে পদ বা ক্ষমতার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সরলতা, স্বাভাবিকতা আর দায়িত্ব শেষে শান্তভাবে সরে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি।




( collected from history)

বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক :-        সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ----------------------------------------------------------...
17/06/2026

বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক :-
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
---------------------------------------------------------------------
✍️মধ্যযুগের বাংলার সুলতানদের মধ্যে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। তিনি শুধুমাত্র ইলিয়াস শাহী বংশেরই প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদেরও জনক’। তিনিই প্রথম বাঙ্গালি জাতিকে বাঙ্গালি হিসেবে পরিচিত করেন। তিনি উড়িষ্যা ও নেপাল এলাকার ত্রিহুত পর্যন্ত বাংলার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর প্রভাব কাশী-বেনারস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনিই প্রথম ‘‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’’ উপাধি ধারন করেন। তিনিই প্রথম শাসক যিনি বাংলা নামক বর্তমান যে অঞ্চলগুলোকে বোঝানো হয় সেসব অঞ্চলকে সর্বপ্রথম ভৌগলিকভাবে একীভূত করার কৃতিত্বের দাবীদার। এর আগে বাংলার বিভিন্ন এলাকা বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল, যেমন গৌড়, রাঢ়, পুন্ড্রবর্ধণ, সমতট ইত্যাদি। তাদের শাসন ব্যবস্থাও ছিল আলাদা আলাদা। তিনি ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত রাজত্বকালে উড়িষ্যা, নেপাল এবং কামরূপ বাংলার সাম্রাজ্যভুক্ত করে এতদাঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এ সম্মিলিত রাজ্যের নামকরণ করেন বাঙ্গালাহ এবং এর অধিবাসীদের বাঙালী নামে অভিহিত করেন।
তিনিই প্রথম ফার্সির পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করেন এবং বাঙ্গালীদেরকে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় উৎসাহিত করেন।
তা‍ঁর পিতার নাম ছিল সুলতান। তিনি সাতগাঁও-এর শাসক ইজ্জুদ্দীন ইয়াহইয়ার অধীনে চাকরী নেন। নিজ যোগ্যতাবলে তিনি মালিক পদে উন্নীত হন। পরবর্তীতে ইজ্জুদ্দীনের মৃত্যুর পরে তিনি ১৩৩৮ সালে সাতগাঁওয়ের অধীশ্বর হন। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সনে বাংলার ক্ষমতায় আরোহণ করেন। বাংলার রাজধানী তিনি লক্ষণাবতী (গৌড়) থেকে পান্ডুয়ায় সরিয়ে নেন। পান্ডুয়ার অবস্থান ছিল গৌড়ের ৩২ কিলোমিটার উত্তরে। তারপর থেকে পান্ডুয়া একটি গুরুত্বপূর্ন নগর হিসেবে গড়ে ওঠে। পান্ডুয়ার বর্তমান অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায়।
তিনি যখন সিংহাসনে বসেন তখন দিল্লীতে তুঘলক বংশের ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসন চলতেছিল। গিয়াসউদ্দীন তুঘলক বাংলাকে তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন যেমন– (ক) লক্ষ্মণাবতী; (খ) সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম; (গ) সোনারগাঁও। এই তিন প্রদেশের রাজধানীও ছিল আলাদা এবং শাসনকর্তা ছিলেন তিনজন। এরা ছিলেন দিল্লির অধিনস্ত এবং এই তিনজন শাসনকর্তার মধ্যে বিরোধ অব্যাহত ছিল। সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এই সুযোগটি গ্রহন করলেন। তিনি ১৩৫২ সালে ইখতিয়ারউদ্দীন গাজী শাহকে পরাজিত করে সোনারগাও দখল করেন। এরূপে তিনি সমগ্র বাংলা অঞ্চলের অধিপতি হন। বাংলার তিনটি প্রদেশ জয় করে বাংলাকে একীভূত করে ‘শাহ–ই–বাঙ্গালিয়ান’ উপাধি গ্রহন করলেন। বাংলার ইতিহাসে বাংলা এই প্রথম ‘বাঙ্গলা’ নামে পরিচিত হল। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা সন্দেহ নেই। কেননা, এর আগে বাংলা প্রাচীন কাল থেকে গৌড়, পুন্ড্র, বঙ্গ এসব জনপদে বিভক্ত ছিল।
এর পূর্বে ১৩৪৪ সালে ত্রিহুত ও ১৩৫০ সালে নেপাল অভিযান করেন। বাংলা অঞ্চলকে একীভূত করার সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে তিনি জাজনগর (উড়িষ্যা) আক্রমন করেন। অতঃপর ইলিয়াস শাহ ১৩৫৩ সালে বিহার আক্রমন করেন। বিহারের পরেও তিনি তাঁর কর্তৃত্ব চম্পারন, গোরখপূর, ও বেনারস পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। রাজত্বের শেষদিকে ১৩৫৭ সালে তিনি কামরূপ দখল করেন।
ইলিয়াস শাহ তাঁর সাম্রাজ্য সম্প্রসারন করতে গিয়ে দিল্লীর শাসক ফিরোজ শাহ তুঘলকের বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন, ফিরোজ শাহ তাকে দমন করার জন্য বাংলা অভিযান করলে অভিজ্ঞ কূটনীতিকের মত সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করে তাঁর দিল্লীর আক্রমন মোকাবিলা করেছেন। সাহসী যোদ্ধা ইলিয়াস শাহ সফল সামরিক গুনের অধিকারী ছিলেন। তিনি বাংলা ও বাংলার বাইরে তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ন বিজয় অর্জন করেন।
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ শুধুমাত্র বাংলা অঞ্চলকে একীভূত করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি এতদাঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন এবং বাংলার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে জনসমর্থন লাভে প্রয়সী হন। স্থানীয় জনগনকে উদারভাবে সুযোগ সুবিধা দিয়ে শাসনব্যাবস্থাকে গনশাসনে রূপ দেন। তিনিই সর্বপ্রথম স্থানীয় জনগনকে অধিক সংখ্যায় সামরিক বাহিনীতে চাকরীর সুযোগ দেন।
বাঙালী জাতির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনিই সর্বপ্রথম লক্ষ্মণাবতী, সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম এবং সোনারগাঁও এই তিন অঞ্চলে বিভক্ত বাংলাকে একত্রিত করে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত করেন।
জিয়াউদ্দীন বারানীই হলেন প্রথম মুসলিম ঐতিহাসিক যিনি ইকলিম-ই-বাঙ্গালাহ অথবা দিয়ার-ই-বাঙ্গালাহ (যার দ্বারা তিনি বাংলাকে বুঝিয়েছেন) শব্দগুলি ব্যবহার করেন। ইলিয়াস শাহ কর্তৃক লখনৌতি,সাতগাঁও এবং সোনারগাঁও একত্রিত হওয়ার পর শামস-ই-সিরাজ ইলিয়াস শাহকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’, ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ এবং ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইলিয়াস শাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সালতানাত প্রায় দুশ বছর টিকে ছিল এবং এ সময় বাঙ্গালাহ নামের বহুল পরিচিতি ঘটে। এ অঞ্চলে মুগলদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মুগলগণ বাঙ্গালাহকে মুগল সাম্রাজ্যে একটি সুবাহ (প্রদেশ) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং এ প্রদেশ সুবাহ-ই-বাঙ্গালাহ নামে পরিচিতি লাভ করে। এ নামই পর্তুগিজ বিবরণে বেঙ্গালা রূপে দেখা যায়। ইংরেজরা বেঙ্গালাকে বেঙ্গল বলে অভিহিত করেন। এভাবে দেখা যায় যে, চৌদ্দ শতক থেকেই বাঙ্গালাহ নামের পরিচিতি ঘটে এবং এ অঞ্চল বলতে বর্তমানের বাংলাদেশ ও ভারতীয় পশ্চিমবাংলা প্রদেশের অন্তর্গত প্রায় সব ভূভাগকেই বোঝায়।

তথ্যসূত্র:
১। ভারতবর্ষের ইতিহাস-কোকো আন্তোনোভা,
২। শাসসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও বাঙালীজাতিয়তাবাদ-সানাউল্লাহ সামি,
৩। তারিখ-ই-ফিরোজশাহী-জিয়াউদ্দিন বারানী,
৪। বাংলার ইতিহাস-সুলতানি আমল-আবদুল করিম
৫। বাংলার ইতিহাসের দুশো বছর-শ্রীসুখময় মুখোপাধ্যায়

মুসলিম যুবক ইরফান নিজের জীবন বাজি রেখে একে একে টেনে তুলল ৫ জন সনাতনী তীর্থযাত্রীকে।  মহারাষ্ট্রের একটা কুয়ো।  গাড়ি ডুবছে...
17/06/2026

মুসলিম যুবক ইরফান নিজের জীবন বাজি রেখে একে একে টেনে তুলল ৫ জন সনাতনী তীর্থযাত্রীকে।
মহারাষ্ট্রের একটা কুয়ো।
গাড়ি ডুবছে, সাথে ডুবছে ৫টা তাজা প্রাণ।
পাড়ে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ, হাতে মোবাইল, চোখে আতঙ্ক।

কেউ লাইভ করছে, কেউ চিৎকার করছে,
কিন্তু পানিতে নামার সাহস কারও নেই।
কারণ কুয়োটা মৃত্যুকূপ, আর “ওরা তো আমার কেউ না”।

ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে এগিয়ে এল এক যুবক — ইরফান মুজাবর।
না সে পুলিশ, না সে ডুবুরি।
সে একজন সাধারণ মুসলিম ছেলে, যার বুকে ছিল অসাধারণ সাহস।

ইরফান জিজ্ঞেস করেনি, “ভিতরে কারা? হিন্দু না মুসলিম?”
সে শুধু দেখেছে, ৫টা মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
আর সে সাঁতার জানে।

নিজের জীবন বাজি রেখে একে একে টেনে তুলল ৫ জন সনাতনী তীর্থযাত্রীকে।
যারা বাঁচল, তারা যাচ্ছিল মন্দিরে।
যে বাঁচাল, সে যায় মসজিদে।

*কিন্তু কুয়োর পানিতে ধর্মের রং ছিল না।*
*ছিল শুধু একটাই পরিচয় — মানুষ।*

আজ টিভিতে দাঙ্গা দেখায়, রাজনীতিতে ধর্ম বেচে,
আর সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা হিন্দু-মুসলিম করে মরি।
অথচ ইরফান দেখিয়ে দিল — *বিপদে ধর্ম থাকে না, থাকে শুধু ইনসানিয়াত।*

*টুপি পরা ছেলেটা প্রমাণ করল,*
*মন্দির-মসজিদের উপরে আছে মনুষ্যত্ব।*
*আর গীতা-কুরআনের উপরে লেখা আছে — মানুষ বাঁচাও।*
ইরফান, তোমাকে স্যালুট।
তুমি ৫টা জীবন না, গোটা দেশের বিশ্বাস বাঁচিয়েছো।
তোমার মতো মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা এখনো সুন্দর।

#ধর্ম_নয়_মানুষ_আগে

Address

Sonarpur, Kalikapur
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm

Telephone

+919830155430

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Anisur Rahaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share