Barrister Kanish Fatima

Directions Contact the business

Barrister Kanish Fatima Official Page of Barrister Kanish Fatima
ব্যারিস্টার কানিশ ফা?

18/10/2026
18/10/2026

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’ (Reform UK)-এর একাধিক কাউন্সিলর ও প্রার্থীর চরম বর্ণবাদী, সহিংস এবং আপত্তিকর মন্তব্য গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে প্রকাশ করেছে আইটিভি নিউজ (ITV News)।

আইটিভির বিশেষ অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘আন্ডারকভার: আ ইয়ার ইন রিফর্ম’-এর প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, দক্ষিণ লন্ডনের ব্রোমলি বরোর কাউন্সিলর ডিন মিলার কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের অমানবিক ভাষায় গালাগাল করেন এবং রাজা তৃতীয় চার্লসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সোলিহালের স্থানীয় প্রার্থীরাও নারী ও মুসলিমদের নিয়ে চূড়ান্ত উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পদত্যাগ ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে এবং নাইজেল ফারাজের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ার ব্রিজেট ফিলিপসন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফারাজকে প্রকাশ্যে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইটিভিতে সম্প্রচারিত হতে যাওয়া এই প্রামাণ্যচিত্রটি রাজনৈতিক অঙ্গনে রিফর্ম ইউকের অবস্থানকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।

12/10/2026

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার যা জানালেন....

04/10/2026
14/09/2026

যুক্তরাজ্যের ২০০০ বছরের ইতিহাস: রোমান স্যান্ডেল থেকে ব্রেক্সিট পর্যন্ত

যদি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসকে একটা সিনেমা বানানো হয়, তার শুরুটা হবে ৫৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। জুলিয়াস সিজার দুবার ব্রিটেন আক্রমণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আসল দখল শুরু হয় ৪৩ খ্রিস্টাব্দে, সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে। রোমানরা প্রায় ৪০০ বছর ব্রিটেন শাসন করে। তারাই লন্ডনকে Londinium নামে শহর বানায়, রাস্তা, স্নানাগার, এবং হ্যাড্রিয়ান প্রাচীর তৈরি করে। ৪১০ সালে রোমান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়, ব্রিটেন অন্ধকার যুগে প্রবেশ করে।

রোমানরা চলে যেতেই তিনটি জার্মানিক জাতি আসে - অ্যাঙ্গেল, স্যাক্সন ও জুট। তাদের নাম থেকেই England শব্দের জন্ম। তারা সাতটি ছোট রাজ্য গঠন করে, যাকে Heptarchy বলা হয়। এই সময়ে খ্রিস্টধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। ৫৯৭ সালে সেন্ট অগাস্টিন কেন্টে আসেন। একই সময়ে উত্তরে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে সেল্টিক রাজ্যগুলো টিকে ছিল।

৮ম শতক থেকে শুরু হয় ভাইকিং আক্রমণ। ডেনিশ ও নরওয়েজিয়ান ভাইকিংরা পূর্ব ইংল্যান্ড দখল করে Danelaw প্রতিষ্ঠা করে। রাজা আলফ্রেড দ্য গ্রেট ওয়েসেক্স থেকে তাদের প্রতিরোধ করেন, তাই তাকে ইংল্যান্ডের প্রথম প্রকৃত রাজা বলা হয়।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১০৬৬ সালে। ফ্রান্সের নরম্যান্ডির ডিউক উইলিয়াম হেস্টিংসের যুদ্ধে ইংরেজ রাজা হ্যারল্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ড দখল করেন। তিনি William the Conqueror নামে পরিচিত। নরম্যানরা সামন্ত ব্যবস্থা, ডোমসডে বুক (জমি জরিপ), এবং বিশাল দুর্গ ও ক্যাথেড্রাল নিয়ে আসে। ফরাসি ভাষা রাজদরবারের ভাষা হয়ে যায় ৩০০ বছরের জন্য।

মধ্যযুগে ইংল্যান্ড শক্তিশালী হয়। ১২১৫ সালে রাজা জনকে বাধ্য করা হয় Magna Carta তে স্বাক্ষর করতে, যা বিশ্বের প্রথম মানবাধিকার সনদের ভিত্তি। এরপর শত বছরের যুদ্ধ (১৩৩৭-১৪৫৩) ফ্রান্সের সাথে, এবং গোলাপের যুদ্ধ (১৪৫৫-১৪৮৫) নিজেদের মধ্যে। গোলাপের যুদ্ধ শেষে টিউডর রাজবংশ ক্ষমতায় আসে।

টিউডর যুগ আধুনিক ব্রিটেনের ভিত্তি। হেনরি অষ্টম ১৫৩৪ সালে পোপের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেকে চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান ঘোষণা করেন, শুধু বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি পাওয়ার জন্য। তার মেয়ে প্রথম এলিজাবেথ (১৫৫৮-১৬০৩) ব্রিটেনকে নৌ-শক্তিতে পরিণত করেন। ১৫৮৮ সালে স্প্যানিশ আর্মাডা ধ্বংস হয়। এই সময়ে শেক্সপিয়র লেখেন এবং আমেরিকায় প্রথম উপনিবেশ স্থাপনের চেষ্টা হয়।

১৬০৩ সালে স্কটল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জেমস ইংল্যান্ডের প্রথম জেমস হন, দুই মুকুট এক হয়। কিন্তু সংসদের সাথে রাজার দ্বন্দ্ব বাড়ে। ১৬৪২-১৬৪৯ সালে গৃহযুদ্ধ হয়। রাজা প্রথম চার্লসের শিরশ্ছেদ হয় এবং অলিভার ক্রমওয়েল প্রজাতন্ত্র গঠন করেন। ১৬৬০ সালে রাজতন্ত্র ফিরে আসে এবং ১৬৮৮ সালে Glorious Revolution এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় - রাজা থাকবেন, কিন্তু শাসন করবে পার্লামেন্ট।

১৭০৭ সালে Act of Union এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড এক হয়ে Great Britain গঠিত হয়। ১৮০১ সালে আয়ারল্যান্ড যুক্ত হয়ে United Kingdom of Great Britain and Ireland হয়।

এরপর দুটি বিপ্লব ব্রিটেনকে বিশ্বের নেতা বানায় - শিল্প বিপ্লব এবং সাম্রাজ্য বিস্তার। ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে বাষ্প ইঞ্জিন, কাপড়ের কল, রেলওয়ে আবিষ্কার হয়। ব্রিটিশ পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২২ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার উপর সূর্য কখনো অস্ত যেত না। ভারত ছিল সাম্রাজ্যের মুকুট।

ভিক্টোরিয়ান যুগে (১৮৩৭-১৯০১) রানি ভিক্টোরিয়া ৬৩ বছর রাজত্ব করেন। এই সময়ে গণতন্ত্র, রেল, টেলিগ্রাফ, এবং আধুনিক শহরের বিকাশ ঘটে।

বিংশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৯১৮) ব্রিটেন জয়ী হলেও অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) উইনস্টন চার্চিলের নেতৃত্বে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াই ব্রিটেনকে নৈতিক বিজয় দেয়, কিন্তু সাম্রাজ্য আর ধরে রাখা যায়নি। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়, এরপর একে একে আফ্রিকার দেশগুলো স্বাধীন হয়।

যুদ্ধের পর ব্রিটেন Welfare State গঠন করে - NHS (জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা) তৈরি হয় ১৯৪৮ সালে। ১৯৭৩ সালে ব্রিটেন European Economic Community তে যোগ দেয়, যা পরে EU হয়।

সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো ব্রেক্সিট। ২০১৬ সালের গণভোটে ৫২% মানুষ EU ছাড়ার পক্ষে ভোট দেয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ৩১ জানুয়ারি ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে EU ত্যাগ করে। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৭০ বছর রাজত্বের পর মারা যান, যা ব্রিটিশ ইতিহাসের দীর্ঘতম রাজত্ব। তার ছেলে তৃতীয় চার্লস এখন রাজা।

২,০০০ বছরে ব্রিটেন রোমান প্রদেশ থেকে বিশ্ব সাম্রাজ্য এবং পরে একটি আধুনিক বহুসাংস্কৃতিক গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে - যার ইতিহাস এখনো লেখা হচ্ছে।

একসময় আইন পেশা ও আইনশিক্ষা ছিল প্রায় পুরোপুরিই পুরুষদের জগৎ। সেই সময়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ে দেশে ফিরে শুধু আইন...
11/09/2026

একসময় আইন পেশা ও আইনশিক্ষা ছিল প্রায় পুরোপুরিই পুরুষদের জগৎ। সেই সময়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ে দেশে ফিরে শুধু আইনজীবী হিসেবেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেও ইতিহাস তৈরি করেছিলেন সালমা সোবহান। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথমদিকের নারী ব্যারিস্টারদের একজন এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের আইন একাডেমিয়ায় নারীর প্রবেশের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন।

১৯৩৭ সালের ১১ আগস্ট লন্ডনে জন্ম সালমা সোবহানের। তাঁর পারিবারিক পরিচয়ও ছিল অসাধারণ। বাবা মোহাম্মদ ইকরামুল্লাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম পররাষ্ট্রসচিব। মা বেগম শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামুল্লাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম সংসদের সদস্যদের একজন। এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা, আইন, রাজনীতি ও জনসেবার জগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গিরটন কলেজে। সেখানে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। এভাবেই তিনি সেই সময়ের অত্যন্ত পুরুষপ্রধান আইন পেশায় প্রবেশ করেন।

কেমব্রিজের পড়াশোনা শেষ করে পাকিস্তানে ফিরে করাচিতে আইন পেশায় কাজ শুরু করেন সালমা সোবহান। আদালতে আইনচর্চার পাশাপাশি খুব দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, আইন শুধু আদালতের যুক্তিতর্কের বিষয় নয়—সমাজের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

১৯৬২ সালে রেহমান সোবহানের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। আর সেই বছরই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয়। ২৬ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন সালমা সোবহান। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাঁকে বাংলাদেশের প্রথম নারী আইন একাডেমিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে একজন নারী শিক্ষক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি পড়াতেন জুরিসপ্রুডেন্স—আইনের দর্শন ও তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনকে শুধু মুখস্থ করার বিষয় হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি শাস্ত্র হিসেবে দেখতেন তিনি।

তাঁর একাডেমিক জীবন অবশ্য দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে ভাষাগত পরিবর্তন—বিভিন্ন কারণে তাঁর শিক্ষকতা বাধাগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়তে থাকলেও ইংরেজিতে উচ্চশিক্ষিত সালমা সোবহানের জন্য নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি আইন একাডেমিয়া থেকে সরে আসেন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দিলেও আইন থেকে তিনি কখনো দূরে সরে যাননি। বরং এরপর তাঁর কাজ আরও বিস্তৃত হয় নারী অধিকার, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে।

১৯৭৮ সালে প্রকাশিত তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই The Legal Status of Women in Bangladesh বাংলাদেশের নারীদের আইনগত অবস্থান নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। দেশের আইন নারীদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, কোথায় বৈষম্য রয়েছে এবং কীভাবে আইনি কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব প্রশ্নকে তিনি সামনে আনেন।

সালমা সোবহানের চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—আইনজ্ঞান শুধু আইনজীবী বা বিচারকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

এই চিন্তা থেকেই পরবর্তীতে তিনি মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে কাজ করার পাশাপাশি নারীর অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৬ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তিনি গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত হন।

গ্রামীণ নারীদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার কাজেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। BRAC-এর Legal Education Programme-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এমন একটি উদ্যোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করেন, যেখানে জটিল আইনি বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

সালমা সোবহানের জীবন তাই শুধু কয়েকটি ‘প্রথম’-এর তালিকা নয়। তাঁর গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি হলো—তিনি একই সঙ্গে আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। কেমব্রিজে পাওয়া উচ্চশিক্ষাকে তিনি শুধু নিজের পেশাগত সাফল্যের জন্য ব্যবহার করেননি; বাংলাদেশের সমাজে আইন ও অধিকার নিয়ে নতুন চিন্তার ক্ষেত্রও তৈরি করেছিলেন।

১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে তাঁর প্রবেশের সময় বাংলাদেশের আইন একাডেমিয়ায় নারী শিক্ষক ছিল বিরল ঘটনা। কয়েক দশক পর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইন বিভাগে অসংখ্য নারী শিক্ষক, গবেষক ও আইনবিদ দেখা গেলেও সেই পথের শুরুর দিকের একজন ছিলেন সালমা সোবহান।

২০০৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান সালমা সোবহান। কিন্তু তাঁর কাজের প্রভাব রয়ে গেছে বাংলাদেশের আইনশিক্ষা, মানবাধিকার ও নারী অধিকার আন্দোলনে।

11/09/2026

আমার কাছে অনেক সময় মনে হয়, আওয়ামী লীগ যেন বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি রাজনৈতিক দল নয়; বরং বাংলাদেশের ভিতরে বসবাসকারী আলাদা একটা জাতি। এই জাতির পিতা হলো শেখ মুজিব। এই জাতির দেখতে একেবারে মানুষের মতোই কিন্তু আমরা ধারনা এদের মাথায় গন্ডগোল আছে নাহলে এরা এমন দল কানা কিভাবে হয়!?? এতোটা বিকৃত মানসিকতা আর বিবেকহীন কিভাবে হয় ? এদের বিবেক বুদ্ধি কি আওয়ামী লীগে আসার আগে থেকেই এমন থাকে নাকি পরে হয়!! তা যাই হোক আমার বিশ্বাস সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ আওয়ামীলীগ করে না বা করতে পারে না।
আওয়ামীলীগদের আচরণ দেখে মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ দুটি আলাদা ভাগে বিভক্ত —একদিকে তারা, অন্যদিকে বাকি বাংলাদেশ।

অবশ্যই রাজনৈতিক মতের পার্থক্য থাকবে। আপনি অন্য দলের সমালোচনা করবেন, অন্য রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা করবেন, কারও বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন—এটাই গণতন্ত্র।
কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতা আর নোংরাভাবে কাউকে হেনস্তা করা এক জিনিস নয়।

আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মীরা এক বিশেষ চশমা পরে থাকেন সব সময়, যা দিয়ে শুধু আওয়ামীলীগদের আর মুজিব পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়; তাতে তাদের কোন রকম অন‍্যায়, অনিয়ম বা অপরাধ দেখা যায় না। শুধু আপা তথা হাসিনা আর তাঁর উন্নয়নের জোয়ারে ভাসা বাংলাদেশ দেখা যায় । এই চশমার কারনে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৮ কোটা আন্দোলন, শাপলা চত্বরের ঘটনা বা ২০২৪ এর আন্দোলের সময় করা হত‍্যাকান্ড কিংবা আয়না ঘর; কিছুই দেখা যায় না। তাদের কাজের কোন জবাবদিহিতা নাই, কেউ কিছু বলতে পারবে না তাদের আর যারা প্রশ্ন করে, ভিন্নমত পোষণ করে কিংবা তাদের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে একমত হয় না—তারা যেন বাংলাদেশিই না।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখা দরকার:

বাংলাদেশ কোনো দলের সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো পরিবারের সম্পত্তি নয়।
বাংলাদেশ কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের একচেটিয়া ভূখণ্ডও নয়। বাংলাদেশের মানুষ যেমন মুজিবের বাকশালকে গ্রহণ করেনি তেমনি আবার ২০২৪ এ আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। সুতরাং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার জন্য কাউকে শেখ মুজিবকে ‘বাপ’ মানতে হবে না, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে হবে না, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় বহন করতে হবে না।

যে মানুষটি বাংলাদেশের নাগরিক, সে-ই বাংলাদেশি।

সে আওয়ামী লীগ করুক, বিএনপি করুক, জামায়াত করুক, বাম রাজনীতি করুক, কোনো দলই না করুক—তার অধিকার, মর্যাদা এবং নাগরিকত্ব সমান।
যখন কোনো দল বা গোষ্ঠী মনে করতে শুরু করে, ‘আমরাই বাংলাদেশ’, তখন তাদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্নমতাবলম্বী মানুষ আর পূর্ণ নাগরিক থাকে না। যেটা আওয়ামীলীগ করে।
এই মানসিকতার বিরুদ্ধেই কথা বলা দরকার। যতদিন আওয়ামীলীগের এই মানসিকতা পরিবর্তন হবে না ততদিন ওরা এমনই থাকবে । দেশে বা বিদেশি, সব জায়গায় । মানুষের মত দেখতে অমানুষ!

✍️ Barrister Kanish Fatima

Absolutely agree
09/09/2026

Absolutely agree

অসম্মানের জন্য কোনো undo button নেই। আপনি পরে ক্ষমা চাইতে পারেন , বলতে পারেন আমি রাগের মাথায় বলেছি, আমি সেটা বোঝাতে চাইনি, আমার বলা উচিত হয়নি। মানুষ হয়তো আপনাকে ক্ষমাও করে দেবে। কিন্তু যে কথাটা সে শুনেছে সেটা আর বদলানো যাবে না।

দশ বছর পরেও হয়তো সেই মানুষটার ওপর আমার কোনো রাগ থাকবে না, ঘটনাটাও আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না। কিন্তু আমি ঠিক মনে রাখতে পারব, কোন মুহূর্তে সে আমাকে অসম্মান করেছিল। কারণ কিছু আঘাতের ব্যথা চলে যায়, কিন্তু সেই উপলব্ধিটা থেকে যায় ‘এই মানুষটা আমার সঙ্গে এমনও করতে পারে।’
যারা ক্ষমতাবিহীন তারা চিৎকার দিয়ে মিথ্যা ক্ষমতা জাহির করতে চায় । তাদের একটাই অস্ত্র । চিৎকার ও রাগ ।তারা চায় তাদের মানুষ ভয় পাক । এতেই তারা খুশি । সম্মান নিয়ে তারা কখনও ভাবে না ।

অসম্মান অনেকটা বিশ্বাসের মতো। একবার ভেঙে গেলে সেটা জোড়া লাগানো যায়, কিন্তু ফাটলটা থেকে যায়।
আমরা মানুষ। রাগ হবেই, তর্ক হবেই, কখনো কখনো মেজাজও হারাব। কিন্তু রাগের মধ্যেও একটা সীমারেখা থাকা উচিত।

এমন কিছু কথা বা কাজ, যেটা আপনি যতই রাগ করেন না কেন, কখনোই করবেন না।
কারণ একটা তর্ক জেতার জন্য আপনি হয়তো পাঁচ মিনিটের জন্য খুব কঠিন কিছু বলে ফেললেন । পরে রাগ কমে যাবে, আপনি ক্ষমা চাইবেন, হয়তো জড়িয়ে ধরবেন, সবকিছু আবার স্বাভাবিকও হয়ে যাবে।

কিন্তু ওই মানুষটা তখন জেনে গেছে আপনার রাগ যখন সীমা ছাড়ায়, তখন তার দুর্বলতাগুলো আপনার কাছে নিরাপদ নয়, তার গোপন কথাগুলো নিরাপদ নয়, তার সম্মানও আপনার কাছে নিরাপদ নয়।
আর সেই বোধটা কোনো মাফ চাওয়া বা কথা দিয়ে পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।
আপনি স্বাভাবিক ভাবে অন্যের সাথে কি আচরণ করেন, সেটা না ভেবে রাগের চরম মুহূর্তে আপনি কতটা বাজে আচরণ করতে পারেন ,সেটাও মানুষ মনে রাখে।কারণ মানুষ নিষ্ঠুরতা মনে রাখে ।
তাই রাগ করুন। তর্ক করুন । নিজের কষ্ট, রাগ, অভিমান সবকিছু স্পষ্ট করে অন্যকে বলুন।
কিন্তু একটা সীমারেখা রাখবেন। এমন একটা সীমা, যেটা আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে রাগের মুহূর্তেও পার করবেন না।
কারণ আপনি যখন কাউকে দেখিয়ে দিবেন বা বুঝিয়ে দিবেন যে রাগের সময় আপনি তাকে কতটা অসম্মান করতে পারেন, তখন সে আপনার শান্ত মুখের দিকে তাকিয়েও সেই রূপটাকে আর পুরোপুরি ভুলতে পারে না।

আরেকটা কথা “অন্যকে অসম্মান করা মানেই আপনি শক্তিশালী না , আপনি সত্য না , আপনি এগিয়ে গেলেন না , সীমারেখাহীন কথা মানেই ধ্বংস “ ।

08/09/2026

আমি জীবনে এমন অনেক মানুষ দেখেছি যাদের খুব বেশি টাকা ছিল না, কিন্তু তাদের মধ্যে এমন একটা আকর্ষন, এলিগেন্স ছিল। তারা যেভাবে কথা বলত, মানুষকে সম্মান করত, নিজেকে ক্যারি করত তাতে মনে হতো তাদের উপস্থিতিই যথেষ্ট।
আবার এমন মানুষও দেখেছি যাদের টাকা, গাড়ি, পোশাক, বাড়ি সবকিছু আছে! কিন্তু আচরণে এতটা অমার্জিত যে সেই সব দামি জিনিসও তাদের ক্লাস দিতে পারেনি।
কারণ “এক্সপেন্সিভ হওয়া আর ক্লাসি” হওয়া এক জিনিস না।
আমরা অনেক সময় একটা দামি গাড়ি দেখি, ডিজাইনার পোশাক দেখি, সুন্দর বাড়ি দেখি, পাঁচ তারকা রেস্টুরেন্ট দেখি আর সঙ্গে সঙ্গে বলে ফেলি, “ওয়াও , কী ক্লাসি !”
নাহ, সেটা এক্সপেন্সিভ! ক্লাসি না।
ক্লাস বোঝা যায় তখন, যখন আপনার হাতে ক্ষমতা আছে কিন্তু আপনি কাউকে ছোট করেন না।
যখন আপনি রেগে আছেন , তবুও নিজের ভাষার সীমাটা জানেন।
যখন আপনি কারও সঙ্গে একমত নন , তবুও তাকে অসম্মান করেন না।
যখন কারও ব্যক্তিগত কথা জানেন , কিন্তু সেটা অন্যের কাছে বলে বেড়ান না।
যখন ভুল বুঝতে পারেন, তখন নিজের ইগো সরিয়ে “আমি ভুল করেছি” বলতে পারেন ।
ক্লাস হলো কখন কথা বলতে হয় সেটা জানা, আবার কখন চুপ থাকতে হয় সেটাও জানা।
সব তর্কে জিততে হবে না এই বোধটাও ক্লাস ।
প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও নিজেকে সংযত রাখা ক্লাস ।
কারও দুর্বলতা জেনে সেটা দিয়ে তাকে আঘাত না করা
ক্লাস ।
আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে বড় দেখানোর জন্য অন্য কাউকে ছোট করার প্রয়োজন না হওয়া এটাই সত্যিকারের ক্লাস ।
কারণ টাকা আপনাকে অনেক কিছু কিনে দিতে পারে।
দামি পোশাক, গাড়ি, বাড়ি, ভ্রমণ, বিলাসবহুল জীবন।

কিন্তু টাকা দিয়ে ভদ্রতা, সংযম, ব্যক্তিত্ব, সম্মানবোধ কিংবা চরিত্র কেনা যায় না।

একজন মানুষ কতটা ধনী , সেটা তার সম্পদ প্রতিপত্তি দেখে বোঝা যায়।
কিন্তু একজন মানুষ কতটা মুল্যবান, সেটা বোঝা যায় সে তার চেয়ে দুর্বল মানুষটির সঙ্গে কেমন আচরণ করে।
Money tells you what someone can afford.
Class tells you who they are.

তাই আমি কখনো শুধু টাকা দেখে ইম্প্রেসড হই না। কারণ আমি দেখেছি কেউ হাজার হাজার টাকার পোশাক পরে খুব চিপ আচরণ করতে পারে, আবার কেউ খুব সাধারণ পোশাক পরেও এমন আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে পারে যেন পুরো পৃথিবীটা তার নিজের।
শেষ পর্যন্ত মানুষ আপনার গাড়ির দাম মনে রাখবে না, আপনার পোশাকের ব্র্যান্ড মনে রাখবে না। তারা মনে রাখবে আপনি তাদের কেমন বোধ করিয়েছিলে।
কারণ লাক্সারি চোখে পড়ে, কিন্তু ক্লাস অনুভব করা যায়।
আর সত্যিকারের ক্লাস এর কোনো প্রাইস ট্যাগ নেই।

এবার ভাবুন তো ! আসলেই ক্লাসি মানুষের আমাদের সমাজে কতখানি অভাব !

*** আমার কাছে সত্যি বলতে, প্রচুর টাকা মনে ধনী একজন মানুষের মধ্যে ক্লাস না থাকা- এর চেয়ে অসুন্দর , কুৎসিত জিনিস আর কিছুতেই নেই।**

Address

London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Barrister Kanish Fatima posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Barrister Kanish Fatima:

Shortcuts

Sponsored

Share