25/05/2026
বাংলাদেশের সংবিধান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনার অধিকার দেয়, কিন্তু কাউকে গালি দেওয়ার জন্য (absolute) সীমাহীন বা বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার দেয় না। কোনো বক্তব্য বৈধ কি না, তা তার ভাষা, প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। আপনার কাছে সবসময়ই মনে হয় যে গোটা বাংলাদেশে একমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র মহাজ্ঞানী এবং সর্ববিষয়ে সর্বোচ্চ জ্ঞান শুধু আপনারই আছে। আপনি যখন যা ইচ্ছা তাই বলতে পারেন, যেমন ক্যান্টনমেন্ট উড়াই দিতে চেয়েছেন এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিকে গালিগালাজও করতে পারেন বলে মনে করেন। কিসের ভিত্তিতে আপনার এমনটা মনে হয় বুঝলাম না!! নিজেকে আবার সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন, সংবিধানের কোথায় বলছে যে প্রধানমন্ত্রীকে আপনি গালিগালাজ করতে পারবেন?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী:
* বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ নাগরিকদের চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়।
* একজন নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের নীতি, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনা করতে পারেন। এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ।
* তবে এই স্বাধীনতা absolute or unlimited নয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধে প্ররোচনার মতো ক্ষেত্রে আইন দ্বারা যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যেতে পারে।
সুতরাং আপনি প্রধানমন্ত্রীকে কোন অনুচ্ছেদ এর আওতায় গালি দিতে চান? প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করাকে সংবিধান সরাসরি “গণতান্ত্রিক অধিকার” হিসেবে ঘোষণা করে না। যদি বক্তব্য মানহানিকর, হুমকিমূলক, উসকানিমূলক, বা অন্য কোনো ফৌজদারি আইনের লঙ্ঘন হয়, তাহলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।অন্যদিকে, কঠোর বা তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যঙ্গ বা প্রতিবাদ—যদি তা আইনসঙ্গত সীমার মধ্যে থাকে—সাধারণভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়তে পারে তবে গালি এই আওতায় পড়ে না ।