Rabia Bhuiyan and Associates

Rabia Bhuiyan and Associates United Kingdom based lawyers and law firm.

26/09/2021

Congratulations to all learned friends for being enrolled as an Advocate. Best wishes.

Founder of Rabia Bhuiyan and Associates at Tower Bridge in London.
11/09/2021

Founder of Rabia Bhuiyan and Associates at Tower Bridge in London.

06/09/2021
21/12/2019

আদালতের সমন

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই সমন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আসামী এবং সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার লক্ষে আদালতের বিচারক/প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক সাক্ষর ও সীলমোহর যুক্ত যে আদেশ নামা প্রদান করা হয় তাকে সমন বলে। সমন যেমন আসামীর উপর জারী করা হয় তেমনি সাক্ষীর উপর ও জারী করা হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা অনুযায়ী সমন লিখিত ফরমে দেওয়া হয়। ফরমের উপরে আসামীর প্রতি সমন বা সাক্ষী হলে সাক্ষীর প্রতি সমন লেখা থাকে। সমনের দুই কপি থাকে। স্থানীয় থানা পূলিশের মাধ্যমে সমন জারি করা হয়। যাকে সমন দেওয়া হয় তাকে এক কপি দেওয়া হয়। অন্য কপিতে যার উপর সমন জারি হলো তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সমন যথা সম্ভব ব্যাক্তিগত ভাবে জারী করতে হয়। তা সম্ভব না হলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, যার ওপর সমন জারি করা হয় তাকে পাওয়া না গেলে তার পরিবারের বয়স্ক কোনো পুরুষের কাছে সমন বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে।

আসামীর প্রতি সমন হলে আসামী আদালতে ব্যাক্তিগত ভাবে বা উকিল মারফত আদালতে হাজির হতে হবে। কোন সাক্ষী সমন পেলে তাকে অবশ্যই আদালতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।

সাক্ষীর প্রতি সমন জারী হলে সাক্ষীকে সমনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের জিআরও অফিস বা কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে হয়। কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর তার সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
অন্যদিকে জজ বা দায়রা আদালতে বা কোন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে হলে সমন নিয়ে সাক্ষীকে সরকারী কৌঁশুলি বা পিপি অফিসে হাজির হতে হয়। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সাক্ষীকে সংশ্লিষ্ট পিপির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। একটা কথা মনে রাখা দরকার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত সংশ্লিষ্ট কাউকে টাকা পয়সা বা ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আসামী বা সাক্ষী সমন পেয়ে আদালতে হাজির না হলে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির হতে বাধ্য করা হয়। অথবা আসামী বা সাক্ষীর প্রতি হুলিয়া বা সম্পত্তি ক্রোক করার মত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করবে। সেক্ষেত্রে সাক্ষীকে আরো হয়রানি হতে হবে। তাই সাক্ষীর প্রতি সমন জারী হলে সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।
সমন পাওয়ার পর কেউ আদালতে হাজির না হলে তিনি দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী দণ্ডযোগ্য অপরাধী সাব্যস্ত হবেন।
সংগৃহীত

আজ ১৮ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট দিবস। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহনকারী সকলকে প্রানঢালা অভিনন্দন!
18/12/2019

আজ ১৮ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট দিবস। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহনকারী সকলকে প্রানঢালা অভিনন্দন!

16/12/2019

মুসলিম আইনে ত্যাজ্যপুত্র ও দত্তক

বাংলাদেশে উত্তরাধিকারের বিষয়গুলো মূলত মুসলমান ও হিন্দুদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মুসলিম আইনে দত্তক বা ত্যাজ্যপুত্র কোনোটির মাধ্যমেই উত্তরাধিকার সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। অপরদিকে হিন্দু আইনে দত্তক পুত্রের আইনগত উত্তরাধিকার জন্মায় এবং ত্যাজ্যপুত্র ধারণাটা কিছুটা শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।

মুসলিম আইনে দত্তক গ্রহণ করার বিধান নেই। মুসলিম আইনের বিধান বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। মুসলিম আইনে রক্তের সম্পর্কিত এবং বিয়ের মাধ্যমেই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়, তাছাড়া অন্য কোনোভাবে অর্জিত অধিকার স্বীকার করে না। দত্তকের মাধ্যমে অন্যের সন্তান সম্পত্তিতে অধিকার পাবে, আর এতে প্রকৃত অংশীদাররা বঞ্চিত হবে। ইসলাম কোরআনের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তিতে বঞ্চিত করাকে হারাম করেছে।
একজন বাইরের লোককে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করলে পারিবারিক পর্দা রক্ষা হয় না যা হারাম। দত্তক পুত্র দত্তক গ্রহীতার স্ত্রীর ছেলে হবে না, তার কন্যার ভাই হবে না। দত্তক যদি সম্পত্তির অধিকার দাবি করে তবে যারা প্রকৃত উত্তরাধিকারী তাদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেবে যা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করবে।

তবে দত্তক নেয়া অপরাধ বা গোনাহ নয়, সেক্ষেত্রে দত্তক ভিন্ন অর্থে হবে। দত্তকের ভিন্নার্থ ইসলামে নিষিদ্ধ নয়, যদি কোনো এতিম বা গৃহহীন অথবা পরিত্যক্ত শিশুকে তার মঙ্গলের জন্য নিজের পুত্রের মতো অন্ন-বস্ত্র-আশ্রয় ইত্যাদি দিয়ে পালন করা হয়। নিঃসন্তান দম্পতি কোনো শিশুকে স্নেহ দিয়ে লালন-পালন করে তাকে যা কিছু ইচ্ছা দান করতে পারে, তবে তার মৃত্যুর পর ওই দত্তক কোনো সম্পত্তি পাবে না। মূলত মুসলিম আইনে এভাবে পালিত পুত্রের কোনো আইনগত অধিকার নেই। মুসলিম আইনে জন্মসূত্রে সন্তান সম্পত্তির অধিকারী, তা অন্যভাবে খর্ব করা যায় না।
রাসুলুল্লাহও (সা.) একটি শিশুকে তাঁর গৃহে আশ্রয় দিয়ে লালন-পালন করেছেন। হজরত জায়েদ (রা.) নামের ওই পালিত পুত্র যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হন। রক্ত সম্পর্কিত না হওয়ায় পালিত পুত্র নিজের পুত্র হিসেবে স্বীকৃত নয়। পালিত পুত্র বা কাউকে নিজের পুত্রের মতো আদর ভালোবাসা দেয়া ইসলামে খুবই পুণ্যরে কাজ।

বাংলাদেশে ১৯৫৬ সালের হিন্দু দত্তক ও ভরণ-পোষণ আইনে দত্তক নেয়ার বিধান আছে, তবে দত্তক নেয়া যায় শুধু পুত্র সন্তানের। দত্তক সন্তানও পিতার সম্পত্তিতে অধিকার পাবে। হিন্দু ধর্মে পুত্রসন্তানের গুরুত্ব অনেক, কারণ পুত্র না থাকলে স্বর্গেও স্থান নেই। কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে একজন পুত্রহীন একজন নাবালক ছেলেকে দত্তক নিতে পারে। পিণ্ডদানের মাধ্যমে পুত্র পিতার মৃত্যুর পর পাপমোচন করে, তাই হিন্দু ধর্মে পুত্রসন্তান দত্তক নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংশোধিত ভারতীয় দত্তক ও ভরণ-পোষণ আইনে কন্যাশিশুকেও দত্তক নেয়া যায়। দত্তক গ্রহণকারী আইন অনুযায়ী চুক্তি করার যোগ্য হতে হবে। একজন পুরুষই হিন্দু ধর্মের সমগোত্রীয় একজনকে দত্তক নিতে পারে। তবে বিধবা স্ত্রীলোক স্বামীর পূর্বানুমতি নিয়ে দত্তক নিতে পারে। ভারতীয় দত্তক আইনে অনেকগুলো সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মধ্যে কন্যাশিশুর দত্তক এবং মহিলাদের দত্তক নেয়াও বৈধ করা হয়েছে।

ত্যাজ্যপুত্র দীর্ঘদিন থেকে প্রচলিত একটি সামাজিক ধারণা, যা মূলত আইনে অনুপস্থিত। সাধারণত মা-বাবার অবাধ্য সন্তানদের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, সন্তান মা-বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চললে বা বখে গেলে কোনোভাবেই যখন সঠিক পথে আনা যায় না তখন মা-বাবা ত্যাজ্যপুত্র করার ভয় দেখান, যা আমাদের সমাজে পারিবারিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ফলপ্রসূ। কারণ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ত্যাজ্যপুত্র সম্পত্তিতে তার অধিকার হারায়। ত্যাজ্যপুত্র সাধারণত মৌখিকভাবে করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পিতা হলফনামা করে তার সম্পত্তিতে ওই সন্তানের সম্পত্তির অধিকার বাতিল করার ঘোষণা দেন। অনেক ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ত্যাজ্য করেন অথবা এই মর্মে ঘোষণা দেন যে তার সন্তান যদি তার বাধ্যমত হয়, তবেই ওই ঘোষণা বাতিল করা হবে। বস্তুুত সন্তানের বেপরোয়া আচরণে মা-বাবা অতিষ্ঠ হয়েই এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

সাধারণত বিত্তশালী পরিবারে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। ত্যাজ্যপুত্র একটি ভ্রান্ত ধারণা, যা বাংলাদেশের কোনো আইনে বিধৃত নেই । প্রকৃত মুসলিম আইন না জানার কারণে এমন অমূলক একটি বিষয় সমাজে প্রচলিত এবং নানা রকম সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশে ১৯৬৫ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন ও ১৮৯০ সালের ভরণ-পোষণ আইন প্রচলিত। এতে বলা হয়েছে, সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পিতার এমনকি যদি পিতা-মাতার বিয়েবিচ্ছেদ ঘটেও। ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত। পিতা অসচ্ছল হলে এবং মা সচ্ছল হলে সেক্ষেত্রে মাকে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। এভাবে পিতামহ এমনকি চাচা পর্যন্ত কোনো সন্তানের ভরণ-পোষণ দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত।

মুসলিম আইনে সন্তানের উত্তরাধিকার জন্মসূত্রেই সুস্পষ্ট, যা কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না। তবে বাবা চাইলে সে তার সম্পত্তি জীবিতাবস্থায় দান করে যেতে পারে অন্য কাউকে, অথবা উইল করে সম্পত্তি দান করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি দান করতে পারে। দান বা হেবার ক্ষেত্রে বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। উইল বা অছিয়ত রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়, যে কোনো সময় বাতিল করতে পারেন এবং ১৮৭২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বিক্রি করতে পারেন।

পিতা-মাতার কাছে তার সন্তান প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক এবং মুসলিম আইনেও তাদের উত্তরাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে নরহত্যাজনিত অপরাধে অর্থাত্ কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে সে ব্যক্তি সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এবং যদি সে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ করে তাতেও সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে ।

ত্যাজ্যপুত্র ধারণাটি বাংলাদেশে মুসলমানদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ায় বাবার মৃত্যুর পর অন্য উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি বণ্টনের সময় অংশ দেয় না বা দিতে অনিচ্ছুক হয়। অপরদিকে প্রকৃত আইনের অজ্ঞতার কারণে সালিশকারীদের পক্ষপাতমূলক বা ভুল সিদ্ধান্ত দিতে দেখা যায়। এতে মুসলিম আইনের লঙ্ঘন ঘটে, আর তাই ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আইনের আশ্রয় নিতে পারেন তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এক্ষেত্রে ১৮৯৩ সালের বাটোয়ারা আইনে ৫০০ টাকা কোর্ট ফি দিয়ে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা যায়।

হিন্দু আইনে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ধর্মান্তরিত হওয়া, দুশ্চরিত্র হলে, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসমর্থ হলে, হত্যাকারী হলে, সন্ন্যাসী হলে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তবে ১৮৫০ সালের ঈধংঃব উরংধনরষরঃরবং জবসড়াধষ অপঃ পাস হওয়ার পর ভারতে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। অপরদিকে মুসলিম আইনের বিধানে শুধু নরহত্যার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

কালেক্টেড

16/12/2019

বাংলাদেশে কোন শিশুকে অ্যাডপ্শন বা দত্তক নেয়ার বিষয়ে কোন আইনি কাঠামো না থাকলেও দত্তক বা সন্তান পালক নেয়ার বিষয়টি থেমে নেই এবং দীর্ঘকাল ধরেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে তা অব্যাহত রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, হালে নানা কারণে নি:সন্তান দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের অনেকেই এখন শিশু দত্তক নিতে চাইছেন।

কোন দম্পতি যদি পরিত্যক্ত শিশুর ‘অভিভাবকত্ব’ নিতে চান, তারা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

তবে সরকারী বা বেসরকারি কোন সেইফ হোম কিংবা হাসপাতাল যেখান থেকেই নেয়া হোকনা কেন, অভিভাবক হবার এই প্রক্রিয়াটিকে অনেকেই কিন্তু জটিল বলছেন এবং অনেকেই এক পর্যায়ে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক জায়েদা শারমিন বলছিলেন, সরকারী শিশু নিবাসের একটি শিশুকে তার দত্ত নেয়ার ইচ্ছা থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তিনি শিশুটিকে পালন করতে নিতে পারেননি।

“আমার নিজের বাচ্চা না থাকায় ঐ বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চেয়েছিলাম। এখন প্রায়ই আমি শিশু নিবাসে গিয়ে ওকে দেখে আসি। ওদের সাথে সময় কাটাতে আমার বেশ ভালই লাগে। আইন সহজ হলে আমি হয়তো ওকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে পারতাম,” বলছিলেন জায়েদা শারমিন।

কিন্তু অভিভাবকত্ব আর দত্তক এক বিষয় নয়। মূলত শিশু দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনে কোন বিধান না থাকায় ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আইনের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি একটি শিশুর দায়ভার নিতে পারেন একজন অভিভাবক হিসেবে।

তবে বর্তমানে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশের পর শুধুমাত্র হিন্দু আইনে হিন্দু পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনসিদ্ধ। আর বাংলাদেশের খ্রিষ্ট ধর্মের অনুসারীরাও শুধু অভিভাবকত্ব নিতে পারেন।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে জটিল প্রক্রিয়ার কথা ভুক্তভোগীরা বলছেন তা মানতে রাজী নন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তা এডভোকেট সালমা আলী।

তিনি বলেন, “বাচ্চার নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই খুব ভাল করে যাচাই করেই অভিভাবকত্ব দেয়ার বিষয়টি করা উচিৎ। না হলে ঝুঁকি থাকে যে বাচ্চা ভুল মানুষের হাতে পড়ে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।‌”

দত্তক নেয়ার বিষয়টি কৃষি-প্রধান সমাজে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ভারতবর্ষে পৌরাণিক গ্রন্থ মনুসংহিতায় বলা হয়েছে: পুত্রার্থে ক্রীয়:তে ভার্যা, অর্থাৎ পুত্রসন্তান উৎপাদনের জন্যেই স্ত্রী।

কিন্তু সন্তান না হলে স্বামীর মর্যাদা খাটো হতো আর স্ত্রীকে বলা হতো অপয়া। তাই প্রাচীনকালে হিন্দু সমাজে এক পর্যায়ে প্রচলন হয় অন্যের ঔরসে জন্ম নেয়া সন্তানকে গ্রহণ বা দত্তক প্রথার।

একটি সময় এর মূল কারণটি ছিল অনেকাংশে অর্থনৈতিক এবং একই সাথে ধর্মীয়। কিন্তু বর্তমান সময়েও কি তাই আছে"page4">

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, আধুনিক সমাজে সন্তান দত্তক নেয়ার কারণ মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগের। ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের দিকে গিয়ে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা না থাকলে নি:সঙ্গতা কাটাতে সন্তান দত্তক নেয়ার কথা ভাবছে মানুষ।

মি. আহমেদ আরও বলছিলেন, “শিল্প-ভিত্তিক সমাজে যেসব সমস্যা তার প্রত্যক্ষ প্রভাবে নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অনেক নারী গর্ভধারণ করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে জন্মবিরতীকরণ বড়ির প্রভাব, রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার, জরায়ুর ক্যান্সারসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যত্ব বাড়ছে। ফলে এ কারণেও বাংলাদেশে দত্তক নেয়ার বিষয়টি দিন দিন বাড়ছে।‌”

একই সাথে নানা সামাজিক ও আইনি জটিলতাও বাড়ছে এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আইনি জটিলতাটি মূলত উত্তরাধিকার প্রশ্নে।

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিভাবকত্ব পেলেও একটি শিশু উত্তরাধিকার সূত্রে কিন্তু পালক নেয়া বাবা-মায়ের কোন সম্পত্তি পায়না। কেননা বাংলাদেশে ইসলামী আইনের অনুসরণ করা হয় এবং মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে আদালত শুধু সন্তানের অভিভাবক হবার অনুমতি দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একজন পরিচালক ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ আল-মারুফ বলছিলেন, ইসলামী আইনের আলোকে পালিত শিশু পালক পিতামাতার সম্পদের উত্তরাধিকারী হবেনা। সে ঐ বাবা-মায়ের নামও ব্যবহার করতে পারবেনা। তবে তারা পালক সন্তানকে সম্পত্তি দান করে দিতে পারেন বা ওয়াসিয়ত করতে পারেন।

দান কিংবা ওয়াসিয়ত করা গেলেও এই উত্তরাধিকারের প্রশ্নেই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে অনেক পরিবারে। একদিকে নি:সন্তান দম্পতিরা চাইলেও পালিত সন্তানকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার করতে পারেননা। অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার থেকে পালিত সন্তানও বঞ্চিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক শাহনাজ হুদা এ বিষয়ে গবেষণা করে দেখেছেন মূলত সম্পত্তির অধিকার প্রশ্নেই সমস্যার জটিলতা শুরু হয়। তিনি বলেন, “পালক নেয়া বাবা মায়ের মৃত্যুর পর তাদের আত্মীয়রা এসে যদি সম্পত্তি থেকে ঐ সন্তানকে বঞ্চিত করে, তাহলে কিন্তু আইনত তার কিছুই করার থাকেনা। এটা একটি বিরাট সমস্যা।‌”

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্ষণের শিকার নারীদের গর্ভে জন্ম হওয়া শিশুদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের দত্তক দিতে ১৯৭২ সালে একটি বিশেষ আইন প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শিশু পাচার বা ধর্মান্তরিত হবার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ১৯৮২ সালে সরকার আইনটি বাতিল করে।

ফলে দত্তক যেমন নেয়া যায়না, তেমনি কোন বিদেশী নাগরিকও বাংলাদেশের কোন শিশুর অভিভাবক হতে পারেনা। তাছাড়া, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের প্রথম দিকের স্বাক্ষরকারী দেশ হলেও শিশু দত্তক নেয়ার ধারাটি অনুস্বাক্ষর করেনি।

তবে ১৯৮২ সালে দত্তক নেয়ার আইন বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত বহু পরিত্যক্ত শিশুকে এই আইনের আওতায় দত্তক দেয়া হয়েছিল। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দত্তক মানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক সন্তানের মতো উত্তরাধিকার পাবার যোগ্য হয়।

বাংলাদেশে গতবছর আইন কমিশন থেকে পৃথক একটি দত্তক আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এখন সরকারের দিক থেকে এ নিয়ে একটি বিধি প্রণয়নের কথাও ভাবা হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসিমা বেগম বলছিলেন বর্তমানে শিশু আইনের আওতায় বিকল্প যত্ন বা পরিচর্যার নীতির আলোকে তারা এই বিধি করতে যাচ্ছেন।

“আমরা মনে করি, শিশু নিবাসের চাইতে একটি পরিবারে বাবা মায়ের আদরে একটি শিশু বড় হলে তা ভাল হবে। তাই আমরা বিষয়গুলো সহজ করার কথা ভাবছি ,” বলছিলেন নামিমা বেগম।

তিনি আরও বলেন, বিধিটি তৈরি হবার পর সরকারী তত্বাবধানে থাকা শিশুদের যেসব পরিবার গ্রহণ করবে, সেখানে তাদের ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত সময় সময় লালন পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে সরকার।

এরপর তারা আইনত নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব নিতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
(সংগৃহিত)

শুভ জন্মদিন   #বাংলাদেশ!
15/12/2019

শুভ জন্মদিন
#বাংলাদেশ!

Address

London
E78PH

Telephone

+447424428286

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rabia Bhuiyan and Associates posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rabia Bhuiyan and Associates:

Featured

Share