11/06/2026
পিতা-মাতা বনাম অ্যাডভোকেট সন্তান।
পিতা-মাতা তাঁদের জীবনের সঞ্চয়, কখনো কখনো শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করে সন্তানের শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। আর যদি সেই শিক্ষা আইন পেশাকে কেন্দ্র করে হয়, তাহলে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সন্তানের পক্ষে যেন এক ধরনের যুদ্ধ জয় করার সমান।
পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো সন্তানকে শিক্ষিত ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা সেই দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি রাখেন না। অন্যদিকে সন্তানের দায়িত্ব হলো তাঁদের ত্যাগ, কষ্ট ও বিশ্বাসের যথাযথ প্রতিদান দেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইন পেশায় প্রবেশের পরপরই পরিবারের প্রতি প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে।
কারণ ওকালতি এমন একটি পেশা, যেখানে সনদ অর্জনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। একজন নবীন আইনজীবীর জন্য প্রথম ১০ বছর সাধারণত শেখা, সংগ্রাম, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের সময়। এই সময়ে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পেশার প্রতি অটল নিষ্ঠাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় পুঁজি।
অনেক সময় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। পেশার বাস্তবতা তাঁদের কাছে বোঝানো সবসময় সহজ হয় না। তবুও অধিকাংশ পিতা-মাতা কোনো অভিযোগ করেন না। তাঁরা শুধু এই আশাতেই দিন, মাস এবং বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন যে, তাঁদের সন্তান একদিন ভালো কিছু করবে, তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করবে। আর সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবতার রূপ নেবে শুধু প্রয়োজন হয় একটু সময়, ধৈর্য এবং অবিচল পরিশ্রমের।
এই কঠিন সময়টুকু ধৈর্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে পারলে ভবিষ্যৎ অনেকটাই সুদৃঢ় হয়ে ওঠবে। তখন আর নিজের অবস্থান, সাফল্য কিংবা পেশার গুরুত্ব পরিবার বা সমাজের কাছে বারবার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হবে না, সময় তখন নিজের হয়ে কথা বলবে।
এ কথাগুলো আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া। আমি অ্যাডভোকেট সরল কুমার রায়, আমি ২০১৮ সালে আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করি এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি অর্জন করি। সেই হিসেবে ২০২৮ সালে আমার পেশাগত জীবনের প্রায় ১০ বছর পূর্ণ হবে।
আমি বিশ্বাস করি, ধৈর্য, সততা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন যোগ্য সন্তান হিসেবে পিতা-মাতার প্রতি আমি দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে সক্ষম হবো।
নবীন আইনজীবীদের প্রতি আমার একটাই পরামর্শ—ধৈর্য হারাবেন না। নিষ্ঠা, সততা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে কাজ করে যান। সময় একদিন আপনার পরিশ্রম, ত্যাগ এবং যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
অ্যাডভোকেট সরল কুমার রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
পরিচালক, সরল ল' একাডেমি
মোবাইল: 01737169148. #পিতা_মাতা #অ্যাডভোকেট_সন্তান #আইনপেশা #নবীন_আইনজীবী #ওকালতি #ধৈর্য #অধ্যবসায় #সফলতা #পিতামাতার_ত্যাগ #সরললএকাডেমি #সরলকুমাররায়