09/04/2024
ছায়েমুর রমজান জান ত্রিশ পূরণে
(কালাম-এ-মওলা মালেক শাহা)
মহান আল্লাহ তা'য়ালার অপার কৃপায় পবিত্র মাহে রামাদ্বানের রোজাগুলো সুস্থতার সাথে অতিবাহিত করার তাওফিক লাভ করছি, আলহামদুলিল্লাহ।
শিক্ষনীয় আমল হলো সকলের উচিত আত্মবিশ্লেষণ করা, আমরা যে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য রোজাগুলো পালন করছি আসলেই কি আমরা এ দিনগুলোতে আল্লাহর নির্দেশমত জীবন পরিচালিত করছি?
উপবাস থাকা ব্যতীত আমরা কি মিথ্যাসহ সব পাপ থেকে বিরত থাকছি? আমরা কি আল্লাহর ধ্যানে কিছুটা সময় অতিবাহিত করছি? যদি আমাদের উত্তর 'না' হয়, তাহলে এই রোজা রাখা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকা আমাদের কোনো কাজে আসবে না।
রছুলে খোদা (দ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা এবং এর ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকে না আল্লাহ তা'য়ালার জন্য তার উপবাস থাকা এবং পিপাসার্ত থাকার কোনো প্রয়োজন নেই' (বুখারি)।
রণবীর, ফতেহ খায়বার, মওলাল আলামিন ছৈয়দ আলী (কর.) বলেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রামাদ্বান মাসের একটি রোজা ভঙ্গ করবে, সে আজীবন সেই রোজার (ক্ষতিপূরণ) আদায় করতে পারবে না" (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস-৯৮৭৮)।
হযরত ছৈয়দা খাতুনে জান্নাত, ফাতেমাতুয যাহরা (আ.) বলেছেন,"যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা, চোখ, কানসহ অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সংযত করতে পারে না তার রোজা কোনো কাজেই আসবে না" (বিহারুল আনওয়ার)।
মানুষ যখন রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে গাফেল হয়ে যায় তখন সে শুধু নিজেকে উপবাসই রাখে যা আল্লাহ তা'য়ালার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কোন নিয়তে সে রোজা রাখছে এটাই মূল বিষয়।
নবী করিম (দ.) অন্য হাদীসে বলেছেন-‘কত রোজাদার আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত নামাজ আদায়কারী আছে, যাদের রাত (জেগে নামাজ) জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না’ (ইবনে মাজাহ)।
রাহে ভান্ডার দর্শনের মহান দীক্ষাগুরু, মওলা ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মা.) বলেন, "আল্লাহকে রাজি না করে, চাহরী হতে ইফতার পর্যন্ত উপোষকারী আর যাই হোক না কেন, ছায়েম বা রোজাদার নয়"।
হাদীসে কুদসী (الحديث القدسي) তে উল্লেখ রয়েছে, রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তা'য়ালা নিজে দেবেন।
★আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে। রোজা আমার জন্যই, আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব" (বুখারি, হাদীস-১৮৯৪)
★আল্লাহ তা'য়ালা, "প্রত্যেক ইবাদতই ইবাদতকারী ব্যক্তির জন্য, পক্ষান্তরে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব" (সহিহ বুখারি-১৯০৪)।
★রোজা ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্ত রোজা আমার জন্য। তাই আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো। (বুখারি-১৭৮৩, মুসলিম-২৫৭৭)।
তরিকায়ে রাহে ভান্ডারর আকাবির মওলা ছৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শাহ (ক.)'র কালাম (১ম অংশ) "ছায়েমুর রমজান জান ত্রিশ পূরণে" শিরোনামে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ৩০তম পর্বের ইতি টানলাম। মওলা অধমের সকল প্রয়াস নিজগুণে দয়া করে কবুল করুন।
الیوم الثلاثون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ صِیامى فیهِ بِالشُّکْرِ وَالْقَبُولِ عَلى ما تَرْضاهُ وَیَرْضاهُ الرَّسُولُ، مُحْکَمَةً فُرُوعُهُ بِالاُْصُولِ، بِحَقِّ سَیِّدِنا مُحَمَّد وَآلِهِ الطّاهِرینَ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعالَمینَ.
হে আল্লাহ ! তুমি ও তোমার রছুল ঠিক যেমনিভাবে খুশি হবে তেমনি করে আমার রোজাকে পুরস্কৃত কর এবং কবুল করে নাও। আমাদের গুরু হযরত মোহাম্মদ (দ.) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের উছিলায় আমার সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলকে মূল এবাদতের সাথে যোগ করে শক্তিশালী কর। আর সব প্রশংসা ও স্তুতি জগতসমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর (‘আলবালাদুল আমিন’ ও ‘মিসবাহুল কাফআমি’)।
✍️ শাহছাহেব, মালেক মঞ্জিল, চট্টগ্রাম দরবার শরীফ, বোয়ালখালী পৌরসভা।
৩০তম রামদ্বান ১৪৪৫ হিঃ, ১০ এপ্রিল ২০২৪ ইং, বুধবার।