27/07/2020
#নারীদেহের_প্রত্যেকটি_অঙ্গ_একেকটি_তীর্থক্ষেত্র।
🤔 #কি_অবাক_হলেন?
👉তবে আসুন এর ব্যাখ্যা জেনে নিই...
স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের "স্ত্রীজাতিতে মাতৃভাব" গ্রন্থটি পড়তে গিয়ে বিস্মিত হলাম, অনেকটা বাকরুদ্ধ!
কি লিখেছেন উনি ঐ গ্রন্থে? আসুন জানা যাক...
দেবী সতীর দেহ ৫১ ভাগ হয়ে যে ৫১ স্থানে পতিত হয়েছিল সেই ৫১ স্থানে ৫১ টি তীর্থক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। ঠোঁট, কান, নাক, হাত, পা, নিতম্ব, যোনী, চক্ষু, স্তন, ঊরু, গ্রীবা ইত্যাদি প্রত্যেকটি অঙ্গই একেকটি তীর্থক্ষেত্র। এই অংশগুলো যে যে স্থানে পতিত হয়েছে সেই প্রত্যেকটি স্থানেই একজন দেবী প্রতিষ্ঠিত। যেমনঃ চক্ষু যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "মহিষ-মর্দিনী", নাক যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "সুনন্দা", কর্ণ যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "জয়দুর্গা", ঠোঁট যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "ফুল্লরা" জিহবা যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "সিদ্ধিদা", যোনী যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "কামাখ্যা", কেশ যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "উমা", বামবাহু যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "বহুলা", ডানবাহু যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "ভবানী", বাম স্তন যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "শিবানী", ডান স্তন যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "ত্রিপুর মালিনী", উদর যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "চন্দ্রভাগা", নাভী যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে দেবী "বিমলা"... এমন করে ৫১ দেহাংশ যেখানে পতিত হয়েছে সেখানে ৫১ জন দেবী প্রতিষ্ঠিত। সেখানে ৫১ টি সতীপীঠ তথা তীর্থক্ষেত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, দেবী সতীর প্রত্যেকটি দেহাংশ একজন পূর্ণ দেবীর সমান। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি দেহাংশ একটি তীর্থক্ষেত্রে।
আচ্ছা এবার ভাবুন, দেবী সতী আর আপনার জননীর মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? দেবী সতী আর আপনার ভগিনীর মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? দেবী সতী আর আপনার আশেপাশে যত নারী আছে তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? আজ যত নারী দেখছেন তাদের আর দেবী সতীর মাঝে কোনো পার্থক্য আছে কি? না, কোনো পার্থক্য নেই। দেবী সতীর দেহ যেভাবে তৈরি, যে পদার্থ দিয়ে তৈরি ; জগতের সকল নারীর দেহও সেভাবে সেই পদার্থ দিয়েই তৈরি। তাহলে যদি দেবীর সতীর একেকটি দেহাংশ একেকটি তীর্থক্ষেত্র হতে পারে তাহলে অন্য সকল নারীদের দেহাংশ কেন তীর্থক্ষেত্র হবে না?
হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন। জগতে যত নারী আছে তাদের প্রত্যেকের দেহে এই ৫১ টি সতীপীঠ আছে৷ ৫১ টি সতীপীঠের সমান পবিত্রতা ১ জন নারীদেহে আছে। সেই নারী হোক আপনার মা, বোন, স্ত্রী, মামী, কাকি, জেঠিমা, দিদা, ঠাকুরমা, পাশে বাড়ির কেউ, কোনো সেবিকা, মেথরনী, দাসী বা অন্য কেউ। জগতে হয়ত জীবিকার তাগিদে নানা জন নানা কাজ করছেন কিন্তু তাদের সত্ত্বা যে মহাপবিত্র সেটা বিশ্বাস করুন। এটা সত্য। দেবী সতীর এক অঙ্গ তীর্থক্ষেত্র হয়ে লক্ষ-লক্ষ লোকের পাপমোচন করছে, সাধনার উন্নতি করছে, লক্ষ-লক্ষ লোককে শান্তি, সিদ্ধি, তৃপ্তি ও মুক্তি দিচ্ছে। জগতের সকল নারীর সেই একটি অঙ্গে ঠিক একই ক্ষমতা আছে। বিশ্বাস করুন নারীর পবিত্রতায়, বিশ্বাস করুন নারীর শুদ্ধতায়।
নারীকে আদ্যাশক্তি মহামায়া বলা হয়। শুধু বলাই হয় কিন্তু আজ সবাই সব ভুলেছে। পুরুষ যেমন নিজেদের ভাবনা অধোগামী করে নিজেদের ভোগ করার যন্ত্র ও নারীদের ভোগ্য বস্তু ভাবা শুরু করেছে, নারীরাও নিজেদের চিন্তা নিম্মগামী করে নিজেদের ভোগ করার যন্ত্র ও পুরুষদের ভোগ্য বস্তু ভাবা শুরু করেছে। তাই আজ সমাজে এত নোংরামি, এত বিশৃঙ্খলা, এত অশ্লীলতা!
বয়ঃসন্ধি শুরুর সাথে সাথে ছেলেরা নারীকে ভোগ্যবস্তু ভাবা শুরু করে। নিজেদের মায়ের সমবয়সী নারীকে নিয়ে অশ্লীল ভাবনা ও মন্তব্য করতেও দ্বিধা বোধ করে না। মেয়েরাও ঠিক এমনি ভাবে বয়ঃসন্ধি শুরুর সাথে সাথে যেন এক অবাস্তব কল্পনায় হারিয়ে গিয়ে নিজের মানসিক ও দৈহিক পবিত্রতাকে বিসর্জন দেয়! কিন্তু এসব ভ্রান্ত ও অপবিত্র ধারণা থেকে সবাইকে বের হতে হবে। সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে। প্রত্যেক নারীকে যেমন নিজেদের পবিত্রতায় বিশ্বাস করতে হবে। তেমনি প্রত্যেক পুরুষকে নিজেদের ও নারীর পবিত্রতায় বিশ্বাস করতে হবে।
ভোগ, কাম এসব জীবনে আসবে সাময়িক সময়ের জন্য। কিন্তু এসব গৌণ ব্যাপার। এগুলো জীবনের সাথে একেবারে মিশিয়ে দেওয়া যাবে না। জীবনের সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে সংযম, পবিত্রতা, শুদ্ধতা আবশ্যক।
গৃহস্থ জীবনে প্রবেশের পূর্বে ব্রহ্মচর্য আশ্রমে অবস্থিত কিশোর-যুবকদের উদ্দেশ্যে স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব বলেছেন — "জগতের যত রমনী সকলই তোমার মা। একজনেও তোমার মাতা ব্যতীত অপর কিছু নহেন। একজনের প্রতিও তুমি সন্তানের অযোগ্য চক্ষে তাকাইতে পার না।"
তাই আসুন, আমরা পুরুষ-নারী সকলে নিজেদের পবিত্রতা ও পরমসত্ত্বায় বিশ্বাস করি। আত্মার পবিত্রতায় বিশ্বাস করি। মন ও দেহকে সর্বদা সৎকাজে লাগিয়ে রাখি এবং পবিত্র রাখার চেষ্টা করি। এবং জগতের সকল নারীই যে মা সতী এবং নারীর প্রত্যেকটি দেহাংশ যে একেকটি মহাপবিত্র তীর্থক্ষেত্র সেই সত্যকে বিশ্বাস করি।
অবশেষে বলতে চাই, স্ত্রীজাতিতে মাতৃভাব গ্রন্থটি পড়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এই দেখে যে এমন করে কোনোদিন নারীকে কেউ ব্যাখ্যা করে নি স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব যেমন করে করেছেন ❤ বইটি পড়ে নিজের মত করে পোস্টটি লিখেছি। জানি এই বই সম্পর্কে লেখার কোনো যোগ্যতা আমার মত অধমের নেই। তবুও এই ধৃষ্টতা করার জন্য স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী 🙏।🕉 জয় শ্রীগুরু 🕉 ।।
_*🔱 ।। জয় শ্রী হরগৌরীর জয় ।। ।। জয় শ্রী ত্র্যম্বকেশ্বর ।। ।। জয় মা রাজরাজেশ্বরী ।। ।। জয় মা কামাখ্যা ।।*_🔱
🙏🏼"অসতো মা সত্ গময়া
তমসো মা জ্যোতির্গময়া
মৃত্যুর্ মা অমৃতং গময়া।"🙏🏼 . _*আপনার মঙ্গল ও চৈতন্য প্রার্থনা করি*__ . 🌷(সংগৃহীত, সংযোজিত ও পরিমার্জিত )🌷* _* 🕉🙏 আমি পড়ি ও আপনাদের পড়তে সাহায্য করার চেষ্টা করি মাত্র । *_🙏🕉 🌺🌻।।