17/11/2023
পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির/আসামীর আইনগত অধিকার গুলো লিপিবদ্ধ করুন।
পুলিশের (পিআরবি সহ)
পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির/আসামীর আইনগত অধিকার গুলো নিম্মে আলোকপাত করা হল:
অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হলে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যে সুযোগ সুবিদা দেওয়া বিধান আছে তাকেই আসামীর আইনগত অধিকার বলে।
(১) যাকে গ্রেফতার করা হবে তাকে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। এবং আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। [ফৌঃকাঃবিঃ ৫৬,৮০ ধারা, বাংলাদেশ সংবিধান ৩৩(১) অনুচ্ছেদ]
(২)ফৌঃকাঃবিঃ আইনের ৫৭(২) উপধারা অনুযায়ী প্রকৃত নাম ঠিকানা পাওয়া গেলে মুচলেকা সম্পাদনের পর ছেড়ে দিতে হবে। [ফৌঃকাঃবিঃ ৫৭(২) উপধারা]
(৩) বেসরকারী ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে থানায় আনার পর আসামী কোন অপরাধ করেছে বলে যথেষ্ট কারণ না থাকলে তৎক্ষনাৎ ছেড়ে দিতে হবে। [ফৌঃকাঃবিঃ ৫৯(৩) উপধারা, পিআরবি ৩১৭ বিধি]
(৪)জামিনের অযোগ্য অপরাধে শিশু অপরাধীকে আটক করলে শর্ত সাপেক্ষে অফিসার ইনচার্জ তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। [১৯৭৪ সালের শিশু আইনের ৪৮ ধারা]
(৫) আসামী মহিলা হলে অন্য একজন মহিলা/মহিলা পুলিশ/মহিলা আনসার সদস্য দ্বারা দেহ তল্লাশী করাতে হবে। [ফৌঃকাঃবিঃ ৫২,১০৩ ধারা, পিআরবি ২৮০,৩২২ বিধি]।
(৬) আসামীর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমান পাওয়া না গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার একটি মুচলেকা নিয়ে উক্ত আসামীকে ছেড়ে দিতে পারেন। [ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৯ ধারা]
(৭) অপরাধটি যদি কোন জামিনযোগ্য হয় তখন কোন নির্দিষ্ট দিনে ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট হাজির হওয়ার জন্য জামানত নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তি দিতে পারেন। [ফৌঃকাঃবিঃ ১৭০ ধারা, পিআরবি ৩১৬(খ) বিধি]
(৮) বিনাপরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃত জামিনযোগ্য ব্যক্তির নিকট হতে জামানত বা মুচলেকা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছেড়ে দিতে পারেন। [ফৌঃকাঃবিঃ ৪৯৬ ধারা, পিআরবি ৩১৬(খ) বিধি]
(৯)বিনাপরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃত জামিনের অযোগ্য অপরাধী যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী না হয় তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামানত বা মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিতে পারেন। [ফৌঃকাঃবিঃ ৪৯৭(১) উপধারা, পিআরবি ৩১৬(খ)বিধি]
(১০) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি যদি মহিলা শিশু বা অতি বৃদ্ধ লোক হয় তাহলে হাত কড়া পরানো যাবে না। [পিআরবি ৩৩০ বিধি]
(১১) আসামী বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। [ডিএমপি অধ্যাদেশ ১৬ ধারা, পিআরবি ৩২১ বিধি]
(১২)আসামীকে ৩৬ বর্গফুটের কক্ষ বিশিষ্ট হাজতখানায় রাখতে হবে। [পিআরবি ৩২৭ বিধি]
(১৩)আসামী থানা হাজতে আটক থাকলে প্রয়োজনে পরীক্ষামূলক যথাসময়ে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। [ পিআরবি ৩৩৩,৪৮৭ বিধি]
(১৪)আসামী বা গ্রেফতার কৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার বেশি থানা হাজতে রাখা যাবে না। [ফৌঃকাঃবি ৬১ ধারা, পিআরবি ৩২৪ বিধি, বাংলাদেশ সংবিধান ৩৩(২) অনুচ্ছেদ]
(১৫)হয়রানীমূলক গ্রেফতার করা যাবে না। [দঃবিঃ ২২০ ধারা, পিআরবি ৩১৭ বিধি]
(১৬) আসামীকে কোন প্রকার নির্যাতন করা যাবে না। [পুলিশ আইনের ২৯,৭ ধারা,দঃবিঃ ৩৩০,৩৩১ ধারা, পিআরবি ৮৫৭ বিধি, অ্যামিনেষ্ট্রি ইন্টান্যাশনাল ৮ নীতি]
(১৭) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ভয় ভীতি দেখানো যাবে না। [ফৌঃকাঃবি ১৬৩ ধারা, স্বাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা]
(১৮)দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে বাধ্য করা যাবে না।[ফৌঃকাঃবি ১৬৪(৩) উপধারা, বাংলাদেশ সংবিধান ৩৫-৪ অনুচ্ছেদ]
(১৯) ১৫ দিনের বেশি পুলিশ রিমান্ড হবেনা। [ফৌঃকাঃবি ১৬৭ ধারা]
(২০) ভয় দেখানো যাবে না। [ফৌঃকাঃবি ১৬৩ ধারা]
(২১) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পছন্দ মোতাবেক আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। [স্বাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদ ]
বিঃদ্রঃ যেকোন আইনি পরামর্শ বা সহায়তা লাগলে যোগাযোগ করুন
Shams Law Chamber
01921121576 (WhatsApp or Call)