02/03/2024
••• সংযুক্ত আরব আমীরাতে জুমা’র খোৎবা ০১/০৩/২০২৪ •••
*** বিষয় : যথাসময়ে নামাজ আদায় করুন ।
*** সমস্ত প্রশংসার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ । তিনি এক ও একক মা’বুদ । সকল মু’মিনগণ রুকু ও সিজদার মাধ্যমে তাঁর প্রতি মস্তক অবনত করে ।
*** অনাবিল শান্তি প্রশান্তি অবতীর্ণ হোক বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মহানবী মুহাম্মদ সাঃ, তাঁর পূত ও পবিত্র পরিবার রাঃ, তাঁর সাহাবায়ে কেরামগণ রাঃ, তাবেঈনগণ রাঃ সহ সকল মুসলমানদের উপর ।
*** হে মানবমন্ডলী ! তোমাদের রবকে ভয় করো । যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের সৃষ্টি করেন । যেনো তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পারো ।
সূরা আল্ বাক্বারা ২১
*** একদা মহানবী সাঃ চলার পথে কিছু সংখ্যক সাহাবীদেরকে রাঃ এক জায়গায় উপবিষ্ট দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন ‘ তোমরা এখানে সমবেত হলে কেন ?’ তাঁরা বললেন ‘ ইয়া রসুলাল্লাহ ! আমরা সবাই নামাজের জন্য অপেক্ষা করছি । ‘ অতঃপর প্রিয় রসুল সাঃ বললেন “ তোমরা কি জানো আল্লাহপাক কি বলেছেন ? তিনি বলেছেন ‘ যে বান্দা সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে , নামাজের হেফাজত করে এবং নামাজের কাজগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে সম্পাদন করে, তাঁর সাথে আমার প্রতিশ্রুতি হলো যে, আমি তাকে জান্নাতে দাখিল করবো ।”
সুনানে আবু দাউদ ৪২৫ ( হাদিসে কুদসী )
*** হযরত জিব্রাইল আঃ কা’বার নিকটে ২ দিন পর্যন্ত মহানবী সাঃকে নিয়ে নামাজ পড়ালেন এবং তিনি নিজেই ইমামত করে রসুল সাঃকে নামাজের ওয়াক্ত সমূহ শিক্ষা দেন । ১ম দিনে তিনি আওয়াল ওয়াক্তে নামাজের ইমামত করেন এবং ২য় দিনে শেষ ওয়াক্তে নামাজ পড়ান । তিনি বলেন “ হে আল্লাহর রসুল সাঃ ! এটাই আপনার পূর্ববর্তী নবীদের আঃ নামাজের সময়সূচী ছিলো ।”
সুনানে আবু দাউদ ৩৯৩
*** আল্লাহপাক বলেন “ সুনির্দিষ্ট সময়ে মু’মিনদের উপর নামাজ সম্পাদন করা ফরজ করা হয়েছে ।”
সূরা আন নিসা ১০৩
*** প্রিয় রসুল সাঃ বলেন “ অধিক নিদ্রার কারণে নামাজ ছুটে যাওয়া সমস্যা নয় । বরং জাগ্রত অবস্থায় অলসতা করা হচ্ছে সমস্যা । যে ব্যক্তি নামাজের সময়ে ঘুমন্ত থাকে কিংবা নামাজের কথা ভুলে যায় , ঘুম থেকে উঠা মাত্রই নামাজ আদায় করে নেবে । ভুলে যাওয়া ব্যক্তি মনে পড়া মাত্রই নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে ।”
ছহীহ মুসলিম ৬৮১
*** সর্বোত্তম আমল হলো সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা ।
ছহীহুল বোখারি ৫২৭
ছহীহ মুসলিম ৮৫
*** আল্লাহর নির্দেশ “ হে নবী সাঃ ! পশ্চিম দিকে সূর্য হেলে যাওয়ার সময় হতে গভীর রাত পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো । ফজর নামাজে কুরআন তেলাওয়াত করো । এই তেলাওয়াতের সরাসরি সাক্ষী হয়ে থাকেন ফিরিশ্তারা ।
সূরা আল্ ইসরা ৭৮
*** ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম ।
সুনানে আবু দাউদ ৫০১
এখানে ফজরের নামাজকে বুঝানো হয়েছে ।
বলেছেন শায়খ বিন বায রহঃ ও শায়খ সালেহ উসাইমিন রহঃ ।
*** ফজরের নামাজ সম্পাদনকারী বান্দা পরকালে পূর্ণ নূর সহকারে থাকবে ।”
সুনানে তিরমিযি ৩২৩
*** ফজরের নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্পূর্ণ আল্লাহর জিম্মায় ।
ছহীহ মুসলিম ৬৫৭
*** ফজর নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তি একটি খবিস আত্মা !
ছহীহুল বোখারি
ছহীহ মুসলিম ।
*** এক ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা হলে পরবর্তী নামাজ পর্যন্ত গুনাহের কাফফারা হয়ে যায় ।
মুসনাদে আহমদ ৭১২৯
অর্থাৎ এক ওয়াক্ত আদায় করা হলে পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যায় ।
*** নামাজের জন্য অপেক্ষা করাটা নামাজের মধ্যে পরিগণিত হবে । অর্থাৎ নামাজের মধ্যেই ধরে নেয়া হবে ।
ছহীহুল বোখারি ৬৫৯
ছহীহ মুসলিম ৬৪৮
*** নামাজের জায়গায় বসে থাকা ব্যক্তির জন্য ফিরিশ্তারা দোয়া করতে থাকেন ।
বোখারি
মুসলিম
*** আল্লাহপাক আমাদেরকে নামাজ হেফাজতকারীদের মধ্যে শামিল করুক ।
*** জান্নাতের উত্তরাধিকারীরা হলেন নামাজী বান্দারা । তাঁরা হবে জান্নাতুল ফিরদাউসের ওয়ারিশ । সেখানে অবস্থান করবে অনন্ত কাল ।
সূরা আল্ মু’মিনুন ১০-১১
*** ইয়া আল্লাহ ! আমাদের সবাইকে নামাজী বানিয়ে দিন । আমৃত্যু যেনো নামাজের হেফাজত করতে পারি ।
আমাদের মা বাবাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন । আমিন ।
MQM Saifullah Mehruzzaman
Khateeb
Rafaa Bin Araba Government Jame Mosque. Sharjah UAE
#আমিরাতসংবাদ