20/05/2025
দেওয়ানী মামলা ও একজন আইনজীবীর বাস্তবতা!
📝অ্যাডভোকেট আবির হাসান সোহেল
দেওয়ানী মামলার প্রক্রিয়া যতটা আইনি, ততটাই ধৈর্যের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ধৈর্যের ভার প্রায়শই এসে পড়ে একজন আইনজীবীর ওপর — যদিও পুরো প্রসিডিওর আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না।
মামলা দায়েরের পর শুরু হয় প্রাথমিক ধাপ — নোটিশ প্রেরণ। একটি ডাক বিভাগের মাধ্যমে, অপরটি কোর্টের নেজারত শাখার মাধ্যমে। অথচ এই দুইটি ধাপেই লেগে যায় মাস কয়েক কিংবা বছর। অনেক সময় সেখানেই শুরু হয়ে যায় মোয়াক্কেলের অস্থিরতা, প্রশ্নবাণ, আর কখনো কখনো... কষ্টদায়ক বদনাম।
এরপর আসে বিবাদীপক্ষের জবাবের সময়, তাদের হাজিরা, একতরফা শুনানি — আর প্রতিটি ধাপে সময় গড়ায়, ক্যালেন্ডার পাতা উল্টায়। একতরফা শুনানি হয়ে গেলেও রায়ের অপেক্ষায় কেটে যায় আরও ১-২ মাস।
এত শত ধাপ, এত সততা ও আন্তরিকতার পরও দেখা যায় — মোয়াক্কেলের চোখে আইনজীবী হয়ে যান দোষারোপের পাত্র।
আমরা স্বীকার করি, কিছু আইনজীবী কখনো কখনো মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলেন যে —৩/৬ মাসেই রায় এনে দেব। কিন্তু আমরা যারা আইন ও বাস্তবতার মাঝে ভারসাম্য রাখতে চাই, তাদের জন্য মোয়াক্কেলের এই প্রশ্নটা অনেক কঠিন — মোয়াক্কেল এসেই জানতে চায়
কতদিনে রায় এনে দিবেম?!!
যদি মোয়াক্কেলকে বাস্তবতা বুঝিয়ে বলি — হয়তো তিনি অন্য কাউকে খুঁজবেন। কিন্তু যদি মিথ্যা আশ্বাস দিই — পরে তিনিই আবার বলবেন, আপনার কথায় ভরসা করে ভুল করেছিলাম।
🔍 সমস্যাগুলো কী?
- সময়ক্ষেপণ নোটিশ প্রেরণ ও নোটিশ জারী প্রক্রিয়ায়
- বিচারক অনুপস্থিতি বা পরিবর্তন
- আদালতের প্রশাসনিক ধীরগতি
- সেরেস্তায় তদ্বির না করলে নোটিশ জারীতে বিলম্ব
- মোয়াক্কেলের আইন সম্পর্কে অসচেতনতা
- কিছু আইনজীবীর অবাস্তব প্রতিশ্রুতি
✅ সমাধান কী হতে পারে?
- আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি, আদালতের বাস্তবতা বোঝানো
- প্রতিটি ধাপে মোয়াক্কেলকে আপডেট দেওয়া
- সময় সম্পর্কে সতর্ক, বাস্তবভিত্তিক ব্যাখ্যা
- কোর্ট প্রসিডিওরে ডিজিটালাইজেশন
- পেশাগত সততা বজায় রাখা
🎯 একজন আইনজীবীর উচিত কীভাবে মামলা রিসিভ করা?
🗣️
"আপনার মামলা আদালতে চলবে, আমার কাজ আপনাকে সর্বোচ্চ সেবা ও সততার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করা। সময়টা অনেকটাই আদালতের ওপর নির্ভরশীল, তাই আমি আপনাকে প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য জানাবো — কিন্তু রায়ের সময় জানতে চেয়ে বিভ্রান্ত করবেন না।"
💬 এই লেখা একজন পেশাদার আইনজীবীর অন্তর থেকে আসা — বাস্তবতা, নৈতিকতা আর পেশাগত সততার মিশেলে গড়া।
আপনি যদি এই পথে থাকেন, তবে হয়তো আপনি অল্পকিছু মোয়াক্কেল পাবেন — কিন্তু যাদের পাবেন, তারা সারাজীবনের বিশ্বাস দিয়ে পাশে থাকবে।
(একজন আইনজীবী হিসেবে আমার অভ্যন্তরীণ উপলব্ধি)
আবির হাসান সোহেল
অ্যাডভোকেট,
জেলা ও দায়রা জজকোর্ট, কুমিল্লা।
মোবা: ০১৯১৭-৩৬৭৯৭৫