14/12/2021
ন্যায়বিচার সম্পর্কিত চারটি বিখ্যাত মামলাঃ
১. রাসূল (সাঃ) এর সময়কালের ঘটনা। একবার কুরাইশ বংশের এক মহিলা চুরির অপরাধে ধরা পড়েছিল। রাসূল (সাঃ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। মহিলাটি সম্ভ্রান্ত বংশের বিধায় কেউ কেউ তার শাস্তিত লাঘর করার সুপারিশ করেছিলেন। মহানবী (সাঃ) রাগান্বিত হয়ে বললেন- ‘‘আমার কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তাহলে তারও হাত আমি কেটে দিতাম।’’ তিনি আরও বলেন যে, ‘‘পূর্ববর্তী জাতিগুলো এই আদলের (ন্যায় বিচার) অভাবেই ধ্বংস হয়ে গেছে।’’
২. হযরত উমার (রা:) এর খিলাফত কাল। একবার হজ্ব করবার সময় ভিড়ের মধ্যে আরবের পার্শ্ববর্তী এক রাজার চাদর এক দাসের পায়ে জড়িয়ে যায়। বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে রাজা জাবালা সেই দাসের গালে চড় বসিয়ে দিলেন। লোকটি খলীফা উমারের (রা.) নিকট সুবিচার প্রার্থনা করে নালিশ করে।
জাবালাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠানো হলো। অভিযোগ সত্য কিনা জিজ্ঞেসা করায় জাবালা রূঢ় ভাষায় উত্তর দিলেন-‘‘অভিযোগ সত্য। এই লোকটি আমার চাদর মাড়িয়ে যায় কা’বা ঘরের চত্বরে।’’ ‘‘কিন্তু কাজটি ইচ্ছাকৃত নয়, ঘটনাক্রমে হয়ে গেছে’’- রুক্ষ স্বরে বাধা দিয়ে বললেন খলীফা। উদ্ধত ভাবে জাবালা বললেন, ‘‘তাতে কিছু আসে যায় না,- এ মাসটা যদি পবিত্র হজ্বের মাস না হতো তবে আমি লোকটিকে মেরেই ফেলতাম।’’ জাবালা ছিলেন ইসলামী সাম্রাজ্যের একজন শাক্তিশালী মিত্র ও খলীফার ব্যক্তিগত বন্ধু। খলীফা কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপর অতি শান্ত ও দৃঢ় স্বরে বললেন-
‘‘জাবালা, তুমি তোমার দোষ স্বীকার করেছ। ফরিয়াদী যদি তোমাকে ক্ষমা না করে তবে আইনানুসারে চড়ের পরিবর্তে সে তোমাকে চড় লাগাবে। গর্বিত সুরে উত্তর দিলেন জাবালা, ‘‘কিন্তু আমি যে রাজা আর ও যে একজন দাস’’ উত্তরে উমার (রা.) বললেন,- ‘‘তোমরা দু’জনেই মুসলমান এবং আল্লাহর চোখে দু’জনেই সমান।’’
৩. আরেকদিনের ঘটনা। হযরত উমার (রা.) এর পুত্র আবু শাহমা মদ্যপানের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খলিফা তাকে ৮০টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন এবং নিজেই বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতের ফলে আবু শাহমার মৃত্যু হয়।
৪. হযরত আলী (রা.) এর খিলাফতকাল। একবার হযরত আলী (রা:) এর ঢাল চুরি হয়ে গেল। চুরি করল একজন ইহুদী। খলীফা আলী কাযীর কাছে বিচার প্রার্থী হলেন। কাযী আহবান করলেন দু’পক্ষকেই। ইহুদী খলীফার অভিযোগ অস্বীকার করলো। কাযী খলিফার কাছে সাক্ষী চাইলেন। খলীফা হাজির করলেন তাঁর এক ছেলে এবং এক চাকরকে। কিন্তু আইনের চোখে এ ধরণের সাক্ষী অচল। কাযী খলিফার অভিযোগ নাকচ করে দিলেন।
মুসলিম জাহানের খলীফা হয়েও কোন বিশেষ বিবেচনা তিনি পেলেন না, ইসলামী আইনের চোখে শত্রুমিত্র সব সমান।
ইহুদী বিচার দেখে অবাক হলো। অবাক বিস্ময়ে সে বলে উঠলো, ‘‘অপূর্ব এই বিচার, ধন্য সেই বিধান যা খলীফাকে পর্যন্ত খাতির করে না, আর ধন্য সে নবী যার প্রেরণায় এরূপ মহৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ জীবনের সৃষ্টি হতে পারে। হে খলীফাতুল মুসলিমীন! ঢালটি সত্যই আপনার। আমিই তা চুরি করেছিলাম। এই নিন আপনার ঢাল। শুধু ঢাল নয় তার সাথে আমার জান-মাল আমার সবকিছু ইসলামের খেদমতে পেশ করলাম।
(......সংগৃহীত)