19/02/2026
বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন বনাম যৌনকর্মঃ আর ধর্ষণের মামলা ও সাজা নয়🌎🌎🌎🌎🌎
#ধর্ষণবিরোধীআন্দোলন #নারীনিরাত্তা #নারীর_অধিকার #আইনের_কঠোর_শাস্তি
অনেক নারী তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানা কিংবা কোর্টে গিয়ে এই মর্মে মামলা করেন যে, তার প্রেমিক পুরুষ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। একাধিকবার বিয়ের প্রলোভনে তারা দুজনে যৌনসঙ্গমে আবদ্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ একটি তারিখ দেখিয়ে নারী প্রেমিকা বলেন যে, ওই তারিখে বিয়ের প্রলোভনে জোর করে সহবাসে লিপ্ত হন। ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এ ধরণের মামলায় সম্প্রতি আইনের সংশোধনীতে সীমারেখা টেনে দিয়েছে। এতে হাজার হাজার পুরুষ মিথ্যা ধর্ষণের মামলা হতে অব্যহতি কিংবা খালাস পেতে চলেছে👗👗
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০২৫ সালের সংশোধনীতে পারস্পরিক সম্মতির শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। তবু এ ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের জন্য সাত বছরের সাজার বিধান রাখা এবং মিথ্যা মামলার বাদীর সাজা কমিয়ে দুই বছর করা হয়েছে🧃🧃
সংশোধিত আইনের ৯খ ধারায় বলা হয়েছে, “যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বল প্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ষোলো বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদ-েও দ-নীয় হবেন।”
শুরুতেই বলে রাখি মুসলিম ম্যারেজ কিন্তু একটি সিভিল কন্ট্যাক্ট। ১৮ বছরের অধিক বয়সী যে কোন নারী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে, বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে বা গ্রহণ করতে পারে। কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে বিয়ে কথা দিয়ে কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেটি লঙ্ঘন করলে সেটা হবে বিবাহ চুক্তির লঙ্ঘন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি কিন্তু সাক্ষীর সম্মুখে হতে হবে। কাজেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হবে সিভিল ট্রানজেকশন, মোটেই ধর্ষণের অপরাধ নয়। আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের ব্যাখায় বলা হয়েছে যে, কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ছাড়া ষোল বছরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে অথবা ষোল বছরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন💡💡
ব্যাখ্যায় বড় জোর প্রতারণা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, মোটেই প্রলোভন শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। প্রতারণা শব্দটিও এ আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। আবছা আবছা ধারণামূলক কোন জিনিস দিয়ে অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা যায় না। প্রলোভন শব্দটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, কাউকে ভাল চাকুরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নিতে বা দিতে উদ্বুদ্ধ করা, প্ররোচিত করা, কারো মনে বিশ্বাস জন্মিয়ে তাকে দিয়ে কোন কাজ করিয়ে নেয়া কিংবা স্বার্ধসিদ্ধি হাসিল করা-সেগুলো হবে ‘প্রলোভিত’ করা🍑🍑
আবার আমাদের ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনে ‘ফ্রড’ এর সংজ্ঞার সাথে প্রেমিকাদের অর্থাৎ ভিকটিমের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেটা হচ্ছে সত্য নয় জেনেও সেটাকে সত্য বলে দাবী করা কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালন না করা অথবা অন্য কোনভাবে প্রতারিত করা। তবে এটি হতে হবে অবশ্যই কোন চুক্তির পক্ষদের মধ্যে। এক্ষেত্রে মুসলিম ম্যারেজের দুটি পক্ষ থাকে এবং সেই পক্ষের কেউ যদি প্রতিশ্রুতি কিংবা কনট্যাক্ট ভঙ্গ করে তাহলে সেটি হবে সিভিল রং অর্থাৎ দেওয়ানী প্রকৃতির ভুল। এর জন্য ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ বড়জোড় ক্ষতিপূরণ পেতে পারে। আর মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলে ভিকটিম দন্ডবিধি আইনে ৪১৭ ধারায় চিটিং (প্রতারণা) এর অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করতে পারে। কিন্তু ষোল বছরের অধিক বয়সের মেয়ের পক্ষে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় এ ধরণের উপাদান খুঁজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে এ ধরণের পিটিশন মামলার ক্ষেত্রে ট্রাইবুন্যালের বিচারকবৃন্দ যদি ভিকটিমকে ২৭ ধারায় একটু ভালভাবে পরীক্ষা করেন, তাহলে এ ধরণের মামলার সংখ্যা অনেকাংশে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে🗾🗾
তবে ধর্ষণের অপরাধে কোন পুরুষকে শাস্তি প্রদান করতে হলে কেবলমাত্র নারীর বক্তব্য তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে এরূপ ভাষা গ্রহণ সঠিক নয়। ওই নারীর বক্তব্য অবশ্য সাক্ষীর মাধ্যমে সমর্থিত হবে, যা ১৫ ডিএলআর এর ১৫৫ পাতায় রিপোর্টেড রয়েছে। আর অভিযুক্তের সাথে কথিত ধর্ষিতা প্রাপ্ত বয়স্ক নারী যখন যৌন সঙ্গমে অভ্যস্ত বলে প্রমাণ পাওয়া যায় এবং উক্ত নারী যৌন সঙ্গমে কোন প্রকার বাঁধা প্রদান করেননি বা বাঁধা প্রদানের চেষ্টাও করেননি অথবা কোন প্রকার চিৎকার দেননি তখন কথিত ধর্ষিতা একজন যৌন সঙ্গমে ইচ্ছুক অংশীদার হওয়ায় তা ধর্ষণের অপরাধ বলে গণ্য হবে না বলে উচ্চ আদালত অভিমত প্রকাশ করেছেন। যা ৫৭ ডিএলআর ৫৯১পৃষ্ঠায় রিপোর্টেড রয়েছে🏴🏴
আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হানিফ সেখ বনাম আছিয়া বেগম মামলা, যা ৫১ ডিএলআরের ১২৯ পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ১৬ বছরের অধিক কোনো মেয়েকে যদি কোনো পুরুষ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে যৌনকর্ম করে তা হলে তা ধর্ষণের নামান্তর হবে না। মোটকথা, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ যখন জেনে-বুঝে কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াবেন তখন পরবর্তীতে সেই সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে আদালতের কাছে প্রমাণ করা কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের দায়ে উপরের আলোচনা অনুযায়ী বড় জোর প্রতারণার মামলা চলতে পারে।
তবে ভিকটিম যদি ১৪ বছরের কম বয়সী হয়, তাহলে সেটিকে ‘ধর্ষণ’ বলা হবে। কারণ এই বয়সী মেয়ে সম্মতি দেয়ার মতো সক্ষমতা রাখে না বলে আইন মনে করে। কাজেই কোন প্রেমিক পুরুষ যদি এ ধরণের মামলার শিকার হন, ভয় না পেয়ে মামলায় লড়ে যান, জয় আপনার অবশ্যম্ভাবী। এ বিষয়ে যদি আপনার আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হয়, উচ্চ আদালতের কোন সিদ্ধান্ত কিংবা বই পুস্তকের রেফারেন্স, সংশ্লিষ্ট মামলার জেরা, যুক্তিতর্ক-সেক্ষেত্রে উপযুক্ত সম্মানী প্রাপ্তির মাধ্যমে আপনি নিতে পারবেন🍌🍌🍌