Learning with Lokman

Learning with Lokman Taxation is the heart of a country. This page is to educate the people on taxation and to increase knowledge & awareness on taxation.

https://www.channel24bd.tv/24pressrelease/article/342590/%E0%A6%A2%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B...
16/08/2026

https://www.channel24bd.tv/24pressrelease/article/342590/%E0%A6%A2%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A7%A9-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE

নিজে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিলের পাশাপাশি আয়কর আইনের সর্বশেষ পরিবর্তন ও কর পরিপালন বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্র.....

16/08/2026
14/08/2026

টার্নওভার ট্যাক্স: আয়ের বদলে বিক্রির উপর কর, কতটা ন্যায়সঙ্গত?

লোকমান হোসাইন
আইনজীবী, হাইকোর্ট বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

অর্থ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ন্যূনতম টার্নওভার ট্যাক্সের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, একজন ব্যবসায়ী বছরে ১০০ টাকার পণ্য বা সেবা বিক্রি করলে, তাকে সেই ১০০ টাকার উপর ১ টাকা কর দিতে হবে—তার প্রকৃত আয় বা মুনাফা যাই হোক না কেন। হিসাব করলে দেখা যায়, একজন ব্যবসায়ী যদি বছরে ১ কোটি টাকা টার্নওভার দেখান, তাহলে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে তাকে ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। এই বিধানটি নিয়ে ব্যবসায়ী মহল ও কর অঙ্গনে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে, এবং সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ইতিমধ্যে এই সীমা পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠেছে।

আয়কর বনাম টার্নওভার কর: মৌলিক পার্থক্য
আয়কর আইনের নামেই এর মূল দর্শন নিহিত—কর আরোপিত হবে আয়ের উপর, ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত মুনাফা অবশিষ্ট থাকে তার উপর। এটিই আয়কর ব্যবস্থার সবচেয়ে মৌলিক ও সর্বজনস্বীকৃত নীতি। কিন্তু টার্নওভার বা মোট বিক্রয়ের উপর কর আরোপ করা হলে এই মূলনীতিই লঙ্ঘিত হয়। টার্নওভার একটি ব্যবসায়ের কার্যক্রমের পরিমাণ নির্দেশ করে, লাভের পরিমাণ নয়। একজন ব্যবসায়ী প্রচুর বিক্রি করেও অল্প মুনাফা করতে পারেন, এমনকি লোকসানেও থাকতে পারেন—বিশেষত যেসব খাতে মুনাফার হার (margin) সীমিত, যেমন খুচরা ব্যবসা, পাইকারি বাণিজ্য বা উৎপাদনশীল শিল্প।
এমতাবস্থায় টার্নওভারের উপর সরাসরি ১ শতাংশ হারে কর আরোপ করার অর্থ দাঁড়ায়—একজন ব্যবসায়ী লাভ করুন বা না করুন, তাকে নির্দিষ্ট হারে কর গুনতেই হবে। এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ করনীতির একটি স্বীকৃত নীতি হলো "করদানের সক্ষমতা অনুযায়ী কর" (ability to pay principle)। যার আয় নেই বা সামান্য, তাকে বড় অঙ্কের কর দিতে বাধ্য করা এই নীতির পরিপন্থী।

অগ্রিম করের যৌক্তিকতা ও তার সীমা
এটি ঠিক যে, রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এবং কর ফাঁকি রোধে ন্যূনতম বা অগ্রিম কর ব্যবস্থার একটি যৌক্তিকতা রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী প্রকৃত আয় গোপন করে বা কম দেখিয়ে কর এড়ানোর চেষ্টা করেন—এই বাস্তবতায় সরকারের পক্ষে একটি ন্যূনতম কর ব্যবস্থা রাখা অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ন্যূনতম বিকল্প কর (Alternative Minimum Tax) বা টার্নওভার-ভিত্তিক ন্যূনতম কর ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অগ্রিম বা ন্যূনতম করের হার কত হওয়া উচিত। এটি এমন একটি সহনীয় মাত্রায় রাখা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃতপক্ষে লোকসানে থাকা বা সামান্য মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর তা অসহনীয় বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। ১ শতাংশ হার—বিশেষত যেসব ব্যবসায় মুনাফার হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেমন মুদি ব্যবসা, পাইকারি বিক্রয়, নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা—তাদের জন্য কার্যত প্রকৃত মুনাফার একটি বড় অংশ কর হিসেবে চলে যাওয়ার শামিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো লোকসানেও কর দিতে হবে, যা ন্যায়বিচারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপর প্রভাব
এই বর্ধিত হারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা (SME)। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনামূলক বেশি মুনাফার হার ও সক্ষমতা থাকলেও, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায়শই সীমিত মূলধন, কম মুনাফার মার্জিন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার সংগ্রাম করেন। এমন একটি খাতের উপর টার্নওভারের ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর আরোপ করা মানে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।
দেশের অর্থনীতিতে SME খাতের অবদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এর ভূমিকা বিবেচনায় নিলে, এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে, ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের (formalization) পরিবর্তে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ব্যবসা ঠেলে দিতে পারে, এবং সামগ্রিকভাবে রাজস্ব আদায়ের যে মূল লক্ষ্য, তাও ব্যাহত হতে পারে।

করনীতিতে ভারসাম্যের প্রয়োজন
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য, এবং এনবিআরের এই প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলার সুযোগ নেই। তবে রাজস্ব আদায়ের পথ হিসেবে যদি এমন একটি ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয় যা মুনাফার সাথে সামঞ্জস্যহীন এবং করদাতার প্রকৃত সক্ষমতা বিবেচনা করে না, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে করদাতা ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রস্তাব করা যায়—টার্নওভার ট্যাক্সের হার পুনর্বিবেচনা করে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, অথবা খাতভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণ করা, যাতে কম মুনাফার মার্জিনের ব্যবসাগুলো অসহনীয় করের বোঝায় না পড়ে। পাশাপাশি, প্রকৃত লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ন্যূনতম কর থেকে অব্যাহতি বা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা যেতে পারে।

উপসংহার
আয়কর আইনের মূল দর্শন হলো আয়ের উপর কর আরোপ—এই নীতি থেকে সরে গিয়ে টার্নওভারের উপর উচ্চ হারে ন্যূনতম কর আরোপ করা ন্যায়বিচারের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেই বলা যায়, ১ শতাংশ হারের এই ন্যূনতম টার্নওভার ট্যাক্স বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ভারসাম্যহীন ও কষ্টকর বিধান। নীতিনির্ধারকদের উচিত এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে একটি সহনীয়, ন্যায়সঙ্গত ও ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করা—যাতে রাজস্ব আদায়ও নিশ্চিত হয়, আবার ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার সক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ থাকে।

লেখক: আইনজীবী, হাইকোর্ট বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট; সিইও, লোকমান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস

আপনার মতামত জানতে চাই
আপনি কি মনে করেন, ১% turnover-based minimum tax ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহনীয়? নাকি এর হার ও কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন?

#আয়কর #আয়করআইন #অর্থআইন২০২৬ #টার্নওভারট্যাক্স

 #রিভিশন_বনাম_আপিল (ধারা ২৮৫ বনাম ধারা ২৮৬)বিষয় রিভিশন (ধারা ২৮৫) আপিল (ধারা ২৮৬)কে শুনবেন? কমিশনার অব ট্যাক্সেস কর কমি...
09/08/2026

#রিভিশন_বনাম_আপিল (ধারা ২৮৫ বনাম ধারা ২৮৬)

বিষয় রিভিশন (ধারা ২৮৫) আপিল (ধারা ২৮৬)

কে শুনবেন?
কমিশনার অব ট্যাক্সেস কর কমিশনার (আপিল)

প্রকৃতি
প্রশাসনিক প্রতিকার (Administrative Remedy) বিচারিক/আধা-বিচারিক প্রতিকার (Quasi-judicial Remedy)

কার বিরুদ্ধে?
অধীনস্থ কর কর্মকর্তার আদেশ আইনে আপিলযোগ্য আদেশ

কে আবেদন করতে পারে?
শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করদাতা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি (আইন অনুযায়ী)

কমিশনার কী করতে পারেন?
করদাতার অনুকূলে সংশোধন করতে পারেন, কিন্তু করদাতার ক্ষতি করে আদেশ দিতে পারেন না
আপিল কর্তৃপক্ষ আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন
---

কখন রিভিশনে যাবেন?

রিভিশন উপযুক্ত যখন—

১. ভুলটি স্পষ্ট ও সহজে সংশোধনযোগ্য

যেমন—

ভুল হিসাব

ভুল আইনের প্রয়োগ

স্পষ্ট তথ্যগত ভুল

উদাহরণ: আপনার ক্লায়েন্টের ব্যাংক সুদের আয় ৫ লাখ টাকা। DCT ভুলবশত ৫০ লাখ ধরে কর নির্ধারণ করেছেন। এটি স্পষ্ট ভুল। এখানে রিভিশনই দ্রুত সমাধান হতে পারে।

---

২. কমিশনারের প্রশাসনিক পর্যায়েই সমাধান সম্ভব:

যদি মনে হয় কমিশনার রেকর্ড দেখেই ভুলটি বুঝবেন, তাহলে আপিলে না গিয়ে রিভিশন ভালো।
---

৩. সময় ও খরচ কমাতে চান

রিভিশন সাধারণত কম আনুষ্ঠানিক, কম ব্যয়বহুল এবং দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে।
---

৪. করদাতার অবস্থান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি কম

ধারা ২৮৫ অনুযায়ী কমিশনার করদাতার বিরুদ্ধে আরও প্রতিকূল আদেশ দিতে পারেন না।

এটি রিভিশনের একটি বড় সুবিধা।
---

কখন আপিলে যাবেন?

আপিল করা উচিত যখন—

১. আইনি প্রশ্ন (Question of Law) আছে

যেমন—

কোনো ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে বিরোধ

নতুন আইনি প্রশ্ন

আইনের ভিন্ন ব্যাখ্যা
---

২. প্রমাণ (Evidence) নিয়ে বিরোধ আছে

যেমন—

ব্যয় গ্রহণ করা হবে কি না

হিসাবপত্র গ্রহণযোগ্য কি না

সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন
---

৩. বড় অঙ্কের কর বিরোধ

যদি কয়েক কোটি টাকার কর বিরোধ থাকে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপিলই নিরাপদ পথ।
---

৪. ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে যেতে হতে পারে

আপিলের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক রেকর্ড তৈরি হয়, যা পরবর্তী পর্যায়ে সহায়ক।
---

বাস্তব উদাহরণ

উদাহরণ–১

কর নির্ধারণ: ২০ লাখ টাকা

ভুল: গণনায় ভুল করে ২ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়েছে।

সঠিক পথ → Revision
---

উদাহরণ–২

DCT একটি ব্যয় সম্পূর্ণ বাতিল করেছেন।

আপনি বলছেন—
> ধারা অনুযায়ী এই ব্যয় আইনসিদ্ধ।

DCT বলছেন—
> নয়।

এটি আইনি ব্যাখ্যার বিষয়।

সঠিক পথ → Appeal
---

উদাহরণ–৩

DCT শুনানির সুযোগ না দিয়ে একতরফা (Ex parte) আদেশ দিয়েছেন।

যদি শুধু শুনানির সুযোগ না দেওয়া বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি (procedural irregularity) নিয়ে অভিযোগ থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে Revision কার্যকর হতে পারে। তবে যদি এর সঙ্গে কর নির্ধারণের বৈধতা নিয়েও বিস্তৃত বিরোধ থাকে, তাহলে Appeal অধিক উপযুক্ত হতে পারে।
---

কোনটা বেশি ভালো?

এর একক উত্তর নেই।

Revision ভালো যখন—

দ্রুত সমাধান চান।

ভুলটি স্পষ্ট।

কমিশনারের পর্যায়েই সমাধান সম্ভব।

দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ায় যেতে চান না।

Appeal ভালো যখন—

বড় অঙ্কের কর বিরোধ।

জটিল আইনি প্রশ্ন।

প্রমাণ নিয়ে বিরোধ।

ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
---

একজন আইনজীবী হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ

প্রথমে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন—

1. ভুলটি কি স্পষ্ট ও অনস্বীকার্য? → হ্যাঁ হলে Revision বিবেচনা করুন।

2. আইনের ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নিয়ে বিরোধ আছে? → Appeal করুন।

3. আমি কি শুধু দ্রুত প্রশাসনিক সংশোধন চাই, নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারিক সিদ্ধান্ত চাই? → প্রথমটি হলে Revision, দ্বিতীয়টি হলে Appeal।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ধারা ২৮৫ ও ২৮৬ প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে: যদি কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়ে যায় বা আপিলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তাহলে একই বিষয়ে সাধারণভাবে রিভিশনের সুযোগ থাকে না। তাই শুরুতেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি—আপনি কি প্রশাসনিক প্রতিকার (Revision) নেবেন, নাকি বিচারিক প্রতিকার (Appeal) গ্রহণ করবেন।

05/08/2026

শৈশবের বর্ষাকালীন দুরন্তপনা! মনে হচ্ছিল নিজেই নেমে পড়ি।

আয়কর কী? — রহিম স্যারের প্রশ্নের উত্তর"সরকার আমার টাকা কেটে নিল কেন?"রহিম উদ্দিন একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রায় প...
05/08/2026

আয়কর কী? — রহিম স্যারের প্রশ্নের উত্তর

"সরকার আমার টাকা কেটে নিল কেন?"

রহিম উদ্দিন একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রায় পনেরো বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। মাসের শেষ কর্মদিবসে তিনি বেতনের এসএমএস পেলেন। মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ল।

— "আরে! আমার বেতনের টাকা তো কম এসেছে!"

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বললেন,

— "দেখো তো, সরকার আবার কী কারণে টাকা কেটে নিল!"

স্ত্রীও বিষয়টি বুঝতে পারলেন না।

পরদিন সকালে স্কুলে গিয়ে সহকর্মী করিম স্যারকে বিষয়টি বললেন।

করিম স্যার হেসে বললেন,

— "ওটা আয়কর কেটেছে।"

রহিম স্যার অবাক হয়ে বললেন,

— "আয়কর? আমি তো কোনো অপরাধ করিনি! সরকার আমার টাকা কাটবে কেন?"

করিম স্যার বললেন,

— "না ভাই, এটা কোনো শাস্তি নয়। এটি একজন নাগরিকের দায়িত্ব।"

রহিম স্যার আরও কৌতূহলী হয়ে উঠলেন।

— "তাহলে আয়কর আসলে কী?"

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের এই বইয়ের যাত্রা।

---

আয়কর কী?

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে—

আপনি যখন আইন অনুযায়ী করযোগ্য আয় করেন, তখন সেই আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ রাষ্ট্রকে প্রদান করাকে আয়কর বলা হয়।

অর্থাৎ, আপনি যা উপার্জন করেন তার সব টাকা সরকার নিয়ে নেয় না। বরং আইনে নির্ধারিত সীমার বেশি আয় হলে, সেই আয়ের একটি অংশ দেশের উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রকে দিতে হয়।

---

রাষ্ট্র আয়কর নেয় কেন?

ধরুন, আপনার গ্রামের রাস্তা ভেঙে গেছে।

নতুন একটি সরকারি হাসপাতাল তৈরি হলো।

আপনার সন্তান সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকার ত্রাণ পাঠাচ্ছে।

পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করছে।

আদালত বিচার করছে।

এসব কাজের জন্য অর্থ কোথা থেকে আসে?

এর একটি বড় উৎস হলো জনগণের দেওয়া কর।

অর্থাৎ, জনগণ কর দেয়—রাষ্ট্র সেই অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করে।

এ কারণেই অনেক দেশে বলা হয়—

"কর শুধু অর্থ নয়, এটি নাগরিকের অংশগ্রহণ।"

---

একটি ছোট উদাহরণ

ধরুন, একটি গ্রামের ১০০ জন মিলে একটি রাস্তা তৈরি করবে।

প্রত্যেকে যদি সামান্য করে টাকা দেয়, তাহলে খুব সহজেই রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে।

কিন্তু কেউ যদি টাকা না দেয়, তাহলে রাস্তা আর তৈরি হবে না।

রাষ্ট্রও অনেকটা এমনভাবেই পরিচালিত হয়।

---

সবাই কি আয়কর দেয়?

না।

বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিককে আয়কর দিতে হয় না।

শুধু যাদের আয় আইনে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে অথবা যাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদেরই প্রয়োজনীয় কর প্রদান বা রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

তাই "সবাই কর দেয়"—এই ধারণাটি সঠিক নয়।

---

আয়কর আর ভ্যাট কি একই জিনিস?

একদম নয়।

ধরুন—

আপনি চাকরি করে বেতন পেলেন।

এই বেতনের উপর যে কর দিতে হতে পারে, সেটি আয়কর।

অন্যদিকে, আপনি বাজারে গিয়ে একটি ফ্রিজ কিনলেন।

ফ্রিজ কেনার সময় মূল্যের সঙ্গে যে ভ্যাট যুক্ত হতে পারে, সেটি ভ্যাট।

অর্থাৎ—

আয়ের উপর কর হলো আয়কর।

পণ্য বা সেবার ভোগের উপর কর হলো ভ্যাট।

---

একজন সৎ করদাতার সম্মান

একজন সৎ করদাতা শুধু নিজের আইনগত দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি দেশের উন্নয়নেরও অংশীদার হন।

তিনি জানেন—

"আমি যে কর দিচ্ছি, সেই অর্থ দিয়ে হয়তো একটি স্কুলে নতুন ভবন তৈরি হবে, একটি সেতু নির্মিত হবে, অথবা কোনো অসহায় মানুষ চিকিৎসা সহায়তা পাবে।"

এই সচেতনতাই একজন নাগরিককে দায়িত্বশীল করে তোলে।

---

আইন কী বলে?

বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩-এ করযোগ্য আয়, করদাতা, কর নির্ধারণ, রিটার্ন দাখিল এবং কর পরিশোধের বিধান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এই বইয়ে আমরা সেই আইনকে কঠিন ভাষায় নয়, সহজ ভাষায় বুঝব।

---

মনে রাখবেন

✔ আয়কর কোনো জরিমানা নয়।

✔ আয়কর রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান অর্থের উৎস।

✔ সবার আয়কর দিতে হয় না।

✔ করযোগ্য আয় হলে আইন অনুযায়ী কর দিতে হয়।

✔ একজন সৎ করদাতা দেশের উন্নয়নের অংশীদার।

---

নিজের জ্ঞান যাচাই করুন

১. আয়কর কী?

২. রাষ্ট্র আয়কর কেন গ্রহণ করে?

৩. সবাই কি আয়কর দেয়?

৪. আয়কর ও ভ্যাটের মধ্যে পার্থক্য কী?

৫. একজন সৎ করদাতার ভূমিকা কী?

---

পরবর্তী অধ্যায়

"কর, শুল্ক ও ভ্যাট—এরা কি সবাই একই পরিবারের সদস্য?"

পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা খুব সহজ ভাষায় বুঝব—প্রত্যক্ষ কর, পরোক্ষ কর, আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কী।

📢 ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫% কর রেয়াত!জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের সময়মতো আয়কর র...
02/08/2026

📢 ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫% কর রেয়াত!

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে।

✅ যারা ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন এবং রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য কর পরিশোধ করবেন, তারা পরিশোধযোগ্য করের ৫% (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা) পর্যন্ত কর প্রণোদনা (Tax Rebate) পাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:

🔹 ১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর:
➡️ ৫% কর প্রণোদনা (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা)।

🔹 ১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বর:
➡️ কোনো কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

🔹 ১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চ:
➡️ বিলম্বে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে—পরিশোধযোগ্য করের ১% বা ১,০০০ টাকা, যেটি বেশি।

🔹 ১ এপ্রিল – ৩০ জুন:
➡️ অতিরিক্ত কর হবে ৫% বা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি।

💻 ই-রিটার্ন দাখিল করা যাবে: www.etaxnbr.gov.bd

📌 তাই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়াতে এবং কর প্রণোদনার সুবিধা নিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন।

— অ্যাডভোকেট মোঃ লোকমান হোসেন
Advocate, Supreme Court of Bangladesh
Income Tax | VAT | Company Law

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে...
23/07/2026

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন সাবমিট করলে প্রদেয় করের উপর ৫% বা ২৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন।

📢 করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা | এনবিআরের নতুন নির্দেশনাজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, উৎসে কর (TDS)...
19/07/2026

📢 করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা | এনবিআরের নতুন নির্দেশনা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, উৎসে কর (TDS) সঠিকভাবে কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪৭ অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা প্রয়োজনে— ✅ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে পারবেন। ✅ হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। ✅ কম্পিউটার, সার্ভার ও ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই করতে পারবেন। ✅ প্রয়োজন হলে নথিপত্র বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবেন। ✅ নথির কপি সংগ্রহ করে তাতে শনাক্তকরণ সিল বা চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: এই কার্যক্রমে বাধা প্রদান বা অসহযোগিতা করলে আইন অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে।

👉 তাই সকল করদাতা, প্রতিষ্ঠান এবং উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে—

উৎসে কর যথাযথভাবে কর্তন করুন।

নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা দিন।

সকল হিসাব ও নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন।

আইন মেনে চলুন, কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করুন। 🇧🇩

Address

28/C, Segunbagicha (1st Floor)
Ramna
1000

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 22:00

Telephone

+8801712754247

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Learning with Lokman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Learning with Lokman:

Shortcuts

Share