12/01/2026
আল বদর, আল শামস (রাজাকার ব্যতীত) এই দেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী ছিল মুক্তিবাহিনী।
সেনাবাহিনীর সকল সদস্য কিন্তু যুদ্ধ করে না, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, মেডিক্যাল ডিভিশন, সিগন্যাল কোর, সাপ্লাই কোর এরা কিন্তু যুদ্ধ করে না।
যুদ্ধ করে সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন, আর্টিলারি ডিভিশন, এই দুইটি কোর সরাসরি শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে বা শত্রুকে আক্রমণ করে, কিন্তু বাকি চারটি কোর পদাতিক কোর এবং আর্টিলারি ডিভিশন কে যুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক হয়, সহযোগিতা করে।
যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, যুদ্ধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম তৈরি করে সহযোগিতা করে।
মেডিক্যাল কোর আহত সৈন্যদের চিকিৎসার মাধ্যমে সহায়তা করে।
সিগন্যাল কোর শত্রুপক্ষের গতিবিধি, আক্রমণের জন্য নির্দেশনা, বার্তা আদান প্রদানে সহযোগিতা করে।
সাপ্লাই কোর যুদ্ধের জন্য সৈন্যদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, গোলাবারুদ, রসদ সাপ্লাই দিয়ে সহযোগিতা করে।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে একটি সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ছিল ঠিক সেনাবাহিনীর কোরের মতো। মুক্তিবাহিনী পাক আর্মির বিরুদ্ধে গেরিলা বাহিনী গঠন করে লড়াই করেছিলো, এই গেরিলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলো মুক্তিপাগল সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী, যদি জনগনের সাথে গেরিলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা না থাকে তবে কখনোই কোন গেরিলা বাহিনী কোন লড়াইয়ে সফল হতে পারবে না।
গেরিলা আর জনগনের সম্পর্ক হতে হবে জল আর মাছের মতো।
একটি ছাড়া আরেকটি অপূরক।
আমরা যদি উদাহরণ টানি তবে, শেখ মুজিবকে হত্যার পর কাদেরীয়া বাহিনী (বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, দেশের বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় কাদের সিদ্দিকির গেরিলা যুদ্ধাদের সাথে কিন্তু সেনাবাহিনীর লড়াই ও হয়েছে, কিন্তু গেরিলাদের হারতে হয়েছে, এবং অনেক গেরিলা যুদ্ধাকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যার একটাই কারন ছিলো, জনগণের অসহযোগীতা।
মুজিব বাহিনী বা কাদের সিদ্দীকির গেরিলা বাহিনীকে এই দেশের জনগন প্রত্যাখান করেছিলো।
অন্যদিকে স্বাধীনতার যুদ্ধে একটি প্রশিক্ষিত চৌকস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আধা সামরিক বাহিনী গেরিলারা প্রতিটি অপারেশনে সাফল্য পেয়েছে, এর পিছনে যদি আমরা কারন খুজি দেখবো এই দেশের জনগন গেরিলাদের সরাসরি সহযোগিতা করেছে। কেউ খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছে, কেউ বিনা পয়সায় নৌকা পার করে দিয়েছে, কেউ পাকিস্তান আর্মির ক্যাম্প ও স্যৈন্যদের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে সহযোগিতা করেছে।
কেউ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছে।
মুক্তি পাগল বাঙ্গালীর অসিম সাহসিকতা আর সহযোগিতার ফসল আমাদের একাত্তরের স্বাধীনতা।
বিখ্যাত গীতিকার ও সুরকার খান আতাউর রহমানের ভাষায় বলতে চাই -
"হয়তোবা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবে না।
বড়ো বড়ো লোকেদের ভীড়ে, জ্ঞানী আর গুণীদের আসরে,
তোমাদের কথা কেউ কবে না...
তবু এই বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা
তোমাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।"
লিখেছেন,
অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান (রঞ্জু)