12/09/2026
ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে এত ব্যয়বহুল লড়াই কেন?
একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানী ভাতা মাত্র ৮ হাজার টাকা। এই আট হাজার টাকার মধ্যে সরকার থেকে পায় ৩৬০০/- টাকা, বাকিটা পরিষদের আয় থেকে নিতে হয়। মাসিক ৮ হাজার টাকা হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মোট সম্মানী ভাতা দাঁড়ায় সর্বসাকুল্যে চার লাখ আশি হাজার টাকা। এখন প্রশ্ন হলো—চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচনে কোটি টাকা ব্যয় করেন কেন? আম-জনতা, কিছু বুঝলেন কি?
১/১১-এর সময় ফখরুদ্দিন আহমদের সরকারের আমলে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত একটি দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে আমি বলেছিলাম—
“এই পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মধ্যে কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন—আমি চুরি করি না, আমি চোর নই; আমি দুর্নীতি করি না, আমি দুর্নীতিবাজ নই?”
কেউ আমার সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি।
পাঁচ বছরের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ঠিকাদারের ভূমিকায় ইউনিয়ন পরিষদে আসেন; বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ সর্বনিম্ন ব্যয়ে বাস্তবায়ন করে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করেন।
সময় এখন পরিবর্তনের। পুরোনো রাজনৈতিক ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সৎ, শিক্ষিত, প্রগতিশীল, উদ্যমী ও যোগ্য ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করুন—যাদের নিয়ে গর্ব করা যায়। সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। আপনার ভোট আপনার অধিকার ও সম্পদ। সেই ভোট যেন কারও কোটি টাকার বিনিয়োগের মুনাফা আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।