অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ

অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ অ্যাডভোকেট,
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কুড়িগ্রাম।

পাওয়ার অফ এটর্নি আইন, ২০১২
03/09/2026

পাওয়ার অফ এটর্নি আইন, ২০১২

12/07/2026

ফৌজদারি কার্যবিধি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ​(অধ্যাদেশ নং ৪১, ২০২৫
​ধারা- ১: সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
​এই আইনটির নাম "Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025" এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

​ধারা- ২: ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বেত্রাঘাত বাতিল (৩২ ধারা সংশোধন)
​প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: জরিমানার ক্ষমতা ১০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা করা হয়েছে।
​দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: জরিমানার ক্ষমতা ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা করা হয়েছে।
​তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: জরিমানার ক্ষমতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা করা হয়েছে।
​বেত্রাঘাত বিলোপ: ফৌজদারি আইন থেকে 'Whipping' বা বেত্রাঘাত করার শাস্তির বিধানটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

​ধারা- ৩: গ্রেফতারের পদ্ধতি ও অধিকার সম্পর্কিত নতুন বিধান (নতুন ধারা ৪৬এ, ৪৬বি, ৪৬সি, ৪৬ডি এবং ৪৬ই সন্নিবেশ)
​৪৬এ (গ্রেফতারের নিয়ম): গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নিজের নাম লেখা দৃশ্যমান পরিচয়পত্র পরতে হবে এবং আসামিকে তা দেখাতে হবে। একটি 'মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট' (গ্রেফতারি মেমো) তৈরি করতে হবে, যেখানে আসামির পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর এবং আসামির নিজের স্বাক্ষর থাকবে। আসামিকে বাসার বাইরে থেকে গ্রেফতার করা হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবার বা মনোনীত বন্ধুকে গ্রেফতারের স্থান ও হেফাজতের জায়গা জানাতে হবে। আসামির শরীরে আঘাত থাকলে সরকারি ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা ও মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। আসামি চাইলে গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবীর পরামর্শ নিতে বা আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে পারবেন।
​৪৬বি (তথ্য সংরক্ষণ): গ্রেফতারের তথ্য সরকারি রেজিস্টার ও ওই থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) তাৎক্ষণিকভাবে লিখতে হবে। আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশী চাইলে পুলিশ এই তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে।
​৪৬সি (তথ্য প্রদর্শন): প্রতিটি থানা ও জেলার সদর দপ্তরে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার নিচে নন, এমন একজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দিতে হবে এবং এই তথ্য ডিজিটাল ফর্মে প্রদর্শন করতে হবে।
​৪৬ডি (স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা): পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার যথাযথ যত্ন নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব।
​৪৬ই (ডাক্তারি পরীক্ষা): গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি অসুস্থ বা আহত হলে দ্রুত সরকারি মেডিকেল অফিসার বা রেজিস্টার্ড ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। নারী আসামির ক্ষেত্রে নারী ডাক্তার বা নার্সের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আসামি গুরুতর অসুস্থ হলে সশরীরে হাজির না করে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা যাবে।

​ধারা- ৪: জব্দতালিকা বা সিজার লিস্ট (৫১ ধারা সংশোধন)
​আসামির কাছ থেকে কোনো কিছু জব্দ করা হলে সাক্ষীর সামনে একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং তার একটি কপি আসামি বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে প্রদান করতে হবে।

​ধারা- ৫: বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট শর্ত (৫৪ ধারা সংশোধন)
​পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে যদি নিচের ১১টি কারণের কোনোটি থাকেঃ
১। পুলিশের সামনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হলে।
২। ৭ বছর বা তার কম শাস্তির অপরাধের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলে; তবে পুলিশকে বিশ্বাস করতে হবে যে গ্রেফতার জরুরি।
৩। ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকলে।
৪। কারও কাছে বৈধ কারণ ছাড়া ঘর ভাঙার বা চুরির সরঞ্জাম থাকলে।
৫। সরকার বা আইন দ্বারা ঘোষিত পলাতক অপরাধী হলে।
৬। কারও কাছে চোরাই মাল পাওয়া গেলে।
৭। পুলিশের আইনি কাজে বাধা দিলে বা আইনি হেফাজত থেকে পালালে।
৮। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী থেকে পালানো সদস্য (deserter) হলে।
৯। দেশের বাইরে এমন অপরাধ করলে, যা দেশে করলে শাস্তিযোগ্য হতো এবং তা প্রত্যর্পণযোগ্য হলে।
১০। মুক্তি পাওয়া কয়েদি ৫৬৫(৩) ধারার নিয়ম ভাঙলে।
১১। অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে গ্রেফতারের বৈধ लिखित অনুরোধ (রিকুইজিশন) আসলে।

​শর্তঃ নিবর্তনমূলক আটক (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) আইনের অধীনে এই ধারায় কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

​ধারা- ৬: গ্রেফতারের কারণ অবহিতকরণ (নতুন ধারা ৫৪এ সন্নিবেশ)
​বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের সময় পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিকভাবে জানাবে।

​ধারা- ৭: পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (নতুন ধারা ৫৭এ সন্নিবেশ)
​গ্রেফতারের আইনি বিধান পুলিশ ঠিকমতো পালন করেছে কিনা, ম্যাজিস্ট্রেট তা যাচাই করবেন। অবহেলা বা আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।

​ধারা- ৮ ও ৯: সমন জারির আধুনিকায়ন (৬৯ ও ৭০ ধারা সংশোধন)
​সমন এখন কাগজের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও (এসএমএস, ভয়েস কল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজ বা ই-মেইল) পাঠানো যাবে। পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক 'পুরুষ' সদস্যের বদলে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য সমন গ্রহণ করতে পারবেন।

​ধারা- ১০: রিমান্ড বা পুলিশ হেফাজত (১৬৭ ধারা সংশোধন)
​আসামিকে সর্বমোট ১৫ দিনের বেশি পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ডে) রাখা যাবে না। এরপর তাকে বিচারিক হেফাজতে (জেলে) পাঠাতে হবে।
​তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাহীন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারবেন না।
​রিমান্ডে দেওয়ার আগে আসামিকে সরকারি ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।
​রিমান্ড শেষে শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেবেন এবং নির্যাতনের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

​ধারা- ১১: শোন অ্যারেস্ট ও বেআইনি আটক (নতুন ধারা ১৬৭এ সন্নিবেশ)
​অন্য মামলায় জেলে থাকা কাউকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখাতে হলে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে, কেস ডায়েরি দেখাতে হবে এবং তার বক্তব্য শুনতে হবে। নিবর্তনমূলক আটক (বিনা বিচারে আটক) উদ্দেশ্যে কাউকে গ্রেফতার করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট জেলে পাঠানোর আদেশ দেবেন না। পুলিশের বেআইনি কাজের প্রমাণ পেলে ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধির ২২০ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

​ধারা- ১২: তদন্তের সময়সীমা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (নতুন ধারা ১৭৩বি সন্নিবেশ)
​মামলার তদন্ত ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। যৌক্তিক কারণে ম্যাজিস্ট্রেট সময় বাড়াতে পারবেন।
​তদন্ত কর্মকর্তা যদি ইচ্ছাকৃত অবহেলা করেন, বা কাউকে বাঁচাতে প্রমাণ নষ্ট করেন, তবে আদালত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।
​সুবিচারের স্বার্থে আদালত চাইলে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে আসামির বদলে 'সাক্ষী' হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

​ধারা- ১৩: ভাষাগত পরিবর্তন (২৪৭ ধারা সংশোধন)
​নালিশি মামলার ক্ষেত্রে "If the summons has been issued on complaint, and upon" এর জায়গায় "In a case instituted upon complaint, if on" শব্দগুচ্ছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

​ধারা- ১৪: মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার ক্ষতিপূরণ (২৫০ ধারা সংশোধন)
​মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীকে জরিমানা করতে বাধ্য থাকবেন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ:
​১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা;
​৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা;
​১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা এবং
​সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকার জায়গায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা করা হয়েছে।

​ধারা- ১৫ ও ১৬: সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়াল (২৬০ ও নতুন ধারা ২৬৪এ)
​সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে আর্থিক এখতিয়ার ১০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে। সম্ভব হলে একই দিনে চার্জ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামিকে পরীক্ষা ও রায় ঘোষণা সম্পন্ন করতে হবে।

​ধারা- ১৭: পলাতক আসামির বিজ্ঞপ্তি (৩৩৯বি ধারা সংশোধন)
​পলাতক আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য জাতীয় বাংলা পত্রিকার পাশাপাশি আদালত, জেলা প্রশাসক বা পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে।

​ধারা- ১৮: আপোষ-মীমাংসা (৩৪৫ ধারা সংশোধন)
​দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা (বেআইনি সমাবেশ) এখন আপোষযোগ্য করা হয়েছে। আদালত চাইলে আপোষযোগ্য মামলাগুলোতে উভয় পক্ষকে লিগ্যাল এইড অফিসার, আইনজীবী বা নিজেদের মধ্যে আপোষ করার সুযোগ করে দিতে পারবেন এবং চুক্তিপত্র সংরক্ষণ করে আদেশ দেবেন।

​ধারা- ১৯ ও ২০: বেত্রাঘাত বিলোপ (৩৯০-৩৯৬ ধারা সংশোধন)
​ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে বেত্রাঘাত বা চাবুক মারার (Whipping) শাস্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

​ধারা- ২১ ও ২২: আপিলের অযোগ্য জরিমানা (৪১৩ ও ৪১৪ ধারা সংশোধন)
​যেসব ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না, এমন জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে।

​ধারা- ২৩ ও ২৪: জামিন ও ডিজিটাল বন্ড (৪৯৬ ও ৪৯৯ ধারা সংশোধন)
​জামিন দেওয়ার সময় আদালত আসামির পালানো ঠেকাতে বা ভালো আচরণের জন্য যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আসামিরা আদালতের অনুমতি নিয়ে অনলাইনেও জামিননামা (Bail bond) দাখিল করতে পারবেন, যা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে যাচাই করা হবে।

​ধারা- ২৫: আসামির হাজিরা মওকুফ (৫৪০এ ধারা সংশোধন)
​তদন্ত পর্যায়ে আসামি জামিনে থাকলে এবং তার আইনজীবী উপস্থিত থাকলে, ম্যাজিস্ট্রেট যুক্তিসঙ্গত কারণে আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করতে পারবেন।

​ধারা- ২৬: সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা (৫৪৪ ধারা সংশোধন)
​মামলার বাদী, ভুক্তভোগী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য আদালত যেকোনো পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবেন।

​ধারা ২৭: দ্বিতীয় তফসিলের সংশোধন (SCHEDULE II)
​দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারাকে আপোষযোগ্য (Compoundable) এবং ১৪৪ ধারাকে আপোষ-অযোগ্য (Not Compoundable) করা হয়েছে।
​দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারার (গুরুতর আঘাত) ক্ষেত্রে সমনের বদলে ওয়ারেন্ট ইস্যু হবে এবং এটি জামিন-অযোগ্য (Not bailable) অপরাধ বলে গণ্য হবে।

​ধারা ২৮: নতুন ফর্ম সংযোজন (SCHEDULE V, Form IA)
​তফসিলে গ্রেফতারের একটি আদর্শ 'মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট' ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। এতে আসামির নাম, পরিচয়, এনআইডি, গ্রেফতারের কারণ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, সাক্ষীর স্বাক্ষর এবং গ্রেফতারকারী কর্মকর্তার বিস্তারিত তথ্য লেখার নির্ধারিত ছক রয়েছে।

26/06/2026

"বিবাহ বিচ্ছেদ না হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো স্ত্রী 'আইনসঙ্গত কারণে' (Legal Cause) ব্যতীত স্বেচ্ছায় স্বামীর গৃহত্যাগ করেন এবং পিত্রালয়ে বসবাস করেন, তবে তিনি স্বামীর নিকট হতে কোনো ভরণপোষণ (Maintenance) পাওয়ার অধিকারী হবেন না।"
​এই আইনি নীতির প্রেক্ষাপট ও এর বিভিন্ন দিক নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
​ #ভরণপোষণ (Maintenance) সংক্রান্ত সাধারণ নিয়ম
​মুসলিম আইন অনুযায়ী, বিবাহ বলবৎ থাকাকালীন স্ত্রীর ভরণপোষণ বা খোরপোশ জোগানো স্বামীর একটি অন্যতম প্রধান আইনি এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে বসবাস করেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকেন, তবে স্বামী তাঁকে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার খরচ দিতে বাধ্য।
​ #আইনসঙ্গত কারণ ছাড়া গৃহত্যাগের আইনি প্রভাব (Nashizah)
​ইসলামী আইন এবং বাংলাদেশের পারিবারিক আইন অনুযায়ী, কোনো স্ত্রী যদি কোনো যৌক্তিক বা আইনসঙ্গত কারণ ছাড়াই স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকার করেন বা স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়ি গিয়ে অবস্থান করেন, তবে আইনগত পরিভাষায় তাঁকে 'নাশিজাহ' (অবাধ্য বা আইন অমান্যকারী স্ত্রী) হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
​উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত (20 BLC 524) এটিই নিশ্চিত করে যে, স্বামী যদি তাঁর বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকেন, অথচ স্ত্রী কোনো সুনির্দিষ্ট ও বৈধ কারণ ছাড়া আলাদা থাকেন, তবে তিনি স্বামীর কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন না।
​ #আইনসঙ্গত কারণ' (Legal Cause) বলতে কী বোঝায়?
​আদালতের এই নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, "আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত" গৃহত্যাগ করলে ভরণপোষণ পাওয়া যাবে না। এর অর্থ হলো, স্ত্রীর যদি আলাদা থাকার পেছনে কোনো যৌক্তিক বা আইনগত কারণ থাকে, তবে তিনি পিত্রালয়ে বা আলাদা থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। আইনসঙ্গত কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
​ক্রুরতা বা নির্যাতন: স্বামী বা স্বামীর পরিবারের লোকজনের দ্বারা স্ত্রী যদি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
#দেনমোহর পরিশোধ না করা: স্ত্রীর দেনমোহর (Prompt Dower) দাবি করা সত্ত্বেও স্বামী যদি তা পরিশোধ না করেন, তবে দেনমোহর আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকার এবং একই সাথে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
​অন্যত্র বিয়ে বা উপপত্নী রাখা: স্বামী যদি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বা অন্য কোনো নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখেন।
​বাসস্থানের নিরাপত্তা না থাকা: স্বামী যদি স্ত্রীকে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক বাসস্থান দিতে ব্যর্থ হন বা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।


#আইনটি একতরফাভাবে স্ত্রীর অধিকার হরণ করে না, বরং এটি বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অধিকার ও দায়িত্বের একটি ভারসাম্য তৈরি করে। স্ত্রী যদি কোনো অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার না হয়েও কেবল নিজের ইচ্ছায় বৈবাহিক বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে চলেন, তবেই তিনি ভরণপোষণের আইনি অধিকার হারাবেন। তবে নির্যাতনের শিকার হলে বা দেনমোহর না পেলে আলাদা থাকলেও তিনি অবশ্যই ভরণপোষণ পাবেন।

03/06/2026

এক জন আইনজীবী অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন। বিচারক একজন দায়রা জজ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আইনজীবীর মনে হলো, তদন্তে এমন কোনো উপাদান নেই যা দিয়ে অভিযোগ গঠন করা যায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অব্যাহতির আবেদন করবেন।

কিন্তু তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো।

যেহেতু বিচারক দায়রা জজ, তাহলে কি অব্যাহতির আবেদন দায়রা মামলার বিধান অনুযায়ী হবে?
নাকি অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে দেখতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে।

প্রথম ধাপ: Special Powers Act কী বলছে?
The Special Powers Act, 1974-এর Section 27(4) স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়:

“A Special Tribunal trying an offence under this Act shall try such offence summarily and in trying such offence such Special Tribunal shall follow the procedure laid down in the Code for summary trial of summons cases.”

অর্থাৎ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে মামলার বিচার করতে হবে summary trial পদ্ধতিতে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত summons case-এর summary trial-এর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আইন বিচারকের পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়নি; বরং বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: Summary Trial-এর পদ্ধতি কোথায়?

এবার আসতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 262-এ।

Section 262 অনুযায়ী:
“In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed…”
অর্থাৎ, summary trial পরিচালনার ক্ষেত্রে Chapter XX-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: Chapter XX-এ কী আছে?
Criminal Procedure Code-এর Chapter XX গঠিত হয়েছে Section 241 থেকে Section 250 পর্যন্ত ধারাসমূহ নিয়ে।

এই অধ্যায়েই রয়েছে Section 241A, যা আদালতকে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি অভিযোগ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকে।

আইনের যৌক্তিক ফলাফল যেহেতু—

১. Special Powers Act-এর Section 27(4) summary trial বাধ্যতামূলক করেছে;

২. CrPC-এর Section 262 summary trial-এর জন্য Chapter XX অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে;

৩. Chapter XX-এর অন্তর্ভুক্ত Section 241A অব্যাহতির বিধান প্রদান করেছে;

সেহেতু অস্ত্র মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হোক, বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট হোন বা দায়রা জজ হোন, অব্যাহতির আবেদন দাখিল করতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 241A অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় :

১. H.M. Ershad Vs. The State (45 DLR 534)
এই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটি যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তখন চার্জ গঠনের বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে সমন মামলার অধ্যায় অর্থাৎ Section 241A-এর পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য। বিচারকের পদমর্যাদা উচ্চতর হলেও বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ দায়রা পদ্ধতির (Section 265C) প্রয়োগ এখানে বার (Barred) বা রহিত হয়ে যায়।

২. Md. Sirajul Islam and others Vs. The State (2005 / 22 BLC (AD) 141) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সমগোত্রীয় অন্যান্য বিশেষ আদালতের বিচার কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপিল বিভাগের এই মামলাটিতে এটি প্রতিফলিত হয়েছে যে— যেখানে বিশেষ বিধান বা সংক্ষিপ্ত বিচারপতির নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে, সেখানে চার্জ শুনানির দিনে আসামিরা Section 241A CrPC-এর অধীনেই অব্যাহতির আবেদন দাখিল করবেন।

ফৌজদারি রিভিশন এখতিয়ারের অসংখ্য নজিরে (যেমন- AKMM Saleh vs State 45 DLR 386) দেখা যায়, যখনই কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৫৬১এ (561A) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashing) বা রিভিশন করা হয়, তখন উচ্চ আদালত দেখেন যে নিম্ন আদালতে ২৪১এ (241A) ধারার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কিনা।

অনেক সময় আদালতের বিচারকের পদবী দেখে আইনজীবীরা বিভ্রান্ত হন। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালতের নাম নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত বিচার-পদ্ধতি।

অস্ত্র মামলায় Special Tribunal যখন summary procedure অনুসরণ করে বিচার পরিচালনা করে, তখন অব্যাহতির প্রশ্নেও সেই একই পদ্ধতির অংশ হিসেবে CrPC-এর Section 241A-ই প্রযোজ্য হবে।

অতএব, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে গঠিত হলেও অস্ত্র মামলায় অব্যাহতির দরখাস্ত The Code of Criminal Procedure, 1898-এর 241A ধারার অধীনেই দাখিল করতে হবে।.

31/05/2026

অর্পিত সম্পত্তির ইতিহাস মূলত দেশভাগের সময়কাল থেকে শুরু হয়েছে। ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার 'ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলস' জারি করে। এর অধীনে যারা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন, তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিকে 'শত্রু সম্পত্তি' বা এনিমি প্রপার্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

দেশ স্বাধীনের পর, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে এর নাম পরিবর্তন করে রাখে 'অর্পিত সম্পত্তি' বা ভিপি বা ভেস্টেট প্রপার্টি। অর্থাৎ, এই সম্পত্তিগুলোর মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকারের ওপর অর্পিত হয়।

আইনি জটিলতা ও অবস্থা বিচারে
প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা তাদের পৈতৃক ভিটা ফিরে পাচ্ছিলেন না। এই সমস্যা নিরসনে সরকার 'অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন' পাস করে।

এই আইনের অধীনে সম্পত্তিকে দুটি তফসিলে ভাগ করা হয়েছে:

তার মধ্যে প্রথমে রয়েছে 'ক' তফসিল ভুক্ত সম্পত্তি: যা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য সাধারণত অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়। তবে, যদি সম্পত্তিটি আইনত ভুলভাবে ‘ক’ তালিকাভুক্ত করা হয়, তবে হাইকোর্ট বিভাগে ১০২ ধারা অনুযায়ী রিট পিটিশন দায়ের করে অবমুক্তির প্রতিকার চাওয়া সম্ভব।

এর পরে রয়েছে খ' তফসিল ভুক্ত সম্পত্তি যেটি বর্তমানে সরকার অবমুক্ত করে দিয়েছে। খ তফসিল ভুক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য এস এ রেকর্ডীয় মালিক হতে বর্তমান মালিক পর্যন্ত ধারাবাহিক দলিলাদি প্রদান স্বাপেক্ষে নামজারির মাধ্যমে পরিত্রাণ পেতে পারেন।

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে আইন সংশোধন হলেও বর্তমানে কিন্তু কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে ট্রাইবুনালে মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতা: মামলা গুলো নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।

এর পরে সঠিক দলিলাদি না থাকায় প্রমাণপত্রের অভাবে অনেকে মালিকানা প্রমাণ করতে পারছে না।

অর্পিত সম্পত্তির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রয়োজন:

ভূমি ব্যবস্থাপনার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন।

ট্রাইব্যুনালের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

প্রকৃত মালিকদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি করা।
ভূমি মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে যে আইনি জটিলতা কয়েক দশক ধরে চলছে, তার স্থায়ী ও মানবিক সমাধান জরুরি। আমরা আশা করি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকরা তাদের অধিকার ফিরে পাবেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না।

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব কাবিননামা সংগ্রহ করা অতীব প্রয়োজন। কাবিননামা কোন কোন কাজে প্রয়োজন সেটা আমি আপনাদে...
24/05/2026

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব কাবিননামা সংগ্রহ করা অতীব প্রয়োজন। কাবিননামা কোন কোন কাজে প্রয়োজন সেটা আমি আপনাদের সংক্ষিপ্ত আকারে জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব:

#বিয়ের পর আইনি নিরাপত্তা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাবিননামা বা নিকাহনামা সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক ও অত্যন্ত জরুরি। এটি মূলত মুসলিম বিবাহের একটি প্রধান লিখিত চুক্তিপত্র, যা বিভিন্ন আইনি ও দাপ্তরিক কাজে অপরিহার্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

#বিবাহের বৈধতার দলিল:
মুখে বিয়ে সম্পন্ন হলেও কাবিননামা ছাড়া আদালতের কাছে বিবাহের কোনো লিখিত বা আইনি ভিত্তি থাকে না।সুতরাং মামলা করতে অবশ্যই কাবিননামা লাগবে।
#প্রতারণা রোধ:
স্বামী বা স্ত্রীর পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন করা বা হঠাৎ বিয়ে অস্বীকার করার মতো জালিয়াতি প্রতিরোধ করে।

#তালাকের অধিকার (তালাক-ই-তৌফিজ): কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার (তালাক দেওয়ার ক্ষমতা হস্তান্তর) দেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ থাকে। এই অধিকার ব্যবহারের জন্য মূল কাবিননামার প্রয়োজন হয়।

#ভরণপোষণ দাবি:
দাম্পত্য জীবনে কোনো কলহ বা বিচ্ছেদ হলে স্ত্রীর ভরণপোষণ ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহার করা যায়।

#পাসপোর্ট ও ভিসা:
বিয়ের পর পাসপোর্টে স্বামীর নাম যুক্ত করা বা বিদেশে স্থায়ী/অস্থায়ী ভিসার আবেদনের জন্য কাবিননামার সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

#যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট:
স্বামী-স্ত্রীর যৌথ ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে কাবিননামার প্রয়োজন হয়।

#পারিবারিক ভিসা ও ইমিগ্রেশন:
জীবনসঙ্গীকে অন্য কোনো দেশে স্পন্সর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটি অন্যতম প্রধান প্রাথমিক শর্ত।

#উত্তরাধিকার ও সন্তানের বৈধতা:-
স্বামীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি এবং পেনশনের বৈধ অংশীদারিত্ব দাবি করার জন্য স্ত্রীর এই কাগজের প্রয়োজন হয়।

#সন্তানের বৈধতা:
সন্তানের জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং স্কুলে ভর্তির সময় বাবা-মায়ের বৈধ সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে এটি ভূমিকা রাখে।

#বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ:-
মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী কোনো পুরুষ প্রথম স্ত্রীর বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি নিতে হয়। কাবিননামা থাকলে অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার বিরুদ্ধে সহজেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
#বহুবিবাহ #কাবিননামা #অ্যাডভোকেট

17/05/2026

" সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়:
বাবার অধিকার এবং সন্তানের কল্যাণ সন্তান কার কাছে থাকবে? মা না বাবা? নাকি দাদা-দাদি নাকি নানা-নানি?এই চিরচেনা লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে হাইকোর্ট একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছে (Md. Ahsan Ul Monir Vs. Dr. Md. Fakhrul Islam, 15 SCOB [2021] HCD 87)। এই রায়টি আমাদের পারিবারিক আইন ও সন্তানের কাস্টডি সংক্রান্ত বিচারিক ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রায়ের মূল বিষয়বস্তুসমূহ বিশ্লেষণ:
১.সন্তানের কল্যাণই সর্বোচ্চ প্রাধান্য (Best Interest of the Child):
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে মা বা বাবার অধিকারের চেয়ে বড় কথা হলো—সন্তান কার কাছে থাকলে তার শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ সবচেয়ে ভালো হবে। একে বলা হয়ParamountConsideration'।
২ বাবা হলেন স্বভাবজাত অভিভাবক (Natural Guardian):
গার্ডিয়ান এন্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০-এর ধারা ১৭ ও ২৫ অনুযায়ী, বাবা হলেন সন্তানের প্রাকৃতিক ও আইনগত অভিভাবক। যদি বাবা নৈতিকভাবে স্খলিত না হন বা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর না হন, তবে তাকে অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৩ হিজানাত (Hizanat) এবং ৭ বছর বয়সের নিয়ম: মুসলিম আইন অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের বয়স ৭ বছর পূর্ণ হলে তার কাস্টডি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাবা আইনগতভাবে অগ্রাধিকার পান। এই মামলায় শিশুটির বয়স ৭ বছরের বেশি হওয়ায় আদালত বাবার অধিকারকে সমুন্নত রেখেছেন।
৪.শিশুর শিখিয়েদেওয়া'জবানবন্দি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: অনেক সময় দেখা যায়, শিশু যার কাছে বড় হচ্ছে (যেমন নানা-নানি), তারা শিশুকে বাবার বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়ে দেয়। হাইকোর্ট এই মামলায় পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, শিশুটি তার বাবার সাথে থাকতে চায় না বলে যে জবানবন্দি দিয়েছে, তা মূলত 'Tutored' বা শিখিয়ে দেওয়া কথা হতে পারে। তাই শিশুর সব ইচ্ছাই চূড়ান্ত নয় যদি তা তার দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণের পরিপন্থী হয়।
৫.ফৌজদারি মামলার প্রভাব:
বাবার বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি মামলা (যেমন:
আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা নারী নির্যাতন) থাকে এবং তিনি যদি আদালত থেকে খালাস পান, তবে সেই মামলা তার কাস্টডি পাওয়ার পথে কোনো বাধা হতে পারবে না।
৬.সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: আদালত দেখেছেন, বাবা পেশায় একজন ডাক্তার এবং দাদা-দাদি শিক্ষিত ও সচ্ছল। তাই শিশুর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য বাবার কাছে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

দেওয়ানি মুকদ্দমার মূল্যায়ন ও কোর্ট ফির তালিকা।
16/05/2026

দেওয়ানি মুকদ্দমার মূল্যায়ন ও কোর্ট ফির তালিকা।

42 DLR 26 পৃষ্ঠায় প্রকাশিত মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ কী কী কারণে একটি হত্যা মামলায় আসামির সাজা বাতিল করে আসামিকে খাল...
15/05/2026

42 DLR 26 পৃষ্ঠায় প্রকাশিত মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ কী কী কারণে একটি হত্যা মামলায় আসামির সাজা বাতিল করে আসামিকে খালাস দিয়েছেন ।

 প্রসিকিউশনের দুর্বলতা কী ছিলো?

 ডিফেন্স লইয়ারের গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কী ছিলো?

Address

Nageswari
5660

Telephone

+8801770766166

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ:

Shortcuts

Share