Advocate Tania Akter Resme

Advocate Tania Akter Resme ADVOCATE ⚖️✅

24/05/2026

- টাকা ধার দেওয়ার কোনো লিখিত ডকুমেন্ট বা চুক্তিপত্র না থাকলেও আইনিভাবে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে...

এক্ষেত্রে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:

১. প্রমাণ সংগ্রহ করুন: সরাসরি চুক্তিপত্র না থাকলেও বিকল্প প্রমাণগুলো গুছিয়ে নিন।

যেমন: ব্যাংকিং লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) এর স্টেটমেন্ট। টাকা লেনদেন বা পাওনা স্বীকার করার বিষয়ে কোনো মেসেজ (SMS/WhatsApp/Messenger)। টাকা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন এমন কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য। টাকা চাওয়ার পর তিনি যদি কিছুটা সময় চেয়ে থাকেন, তবে সেই ফোনালাপের রেকর্ড।

২. লিগ্যাল নোটিশ পাঠান: একজন আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এতে টাকার পরিমাণ এবং পরিশোধের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করুন। অনেক সময় আইনি নোটিশ পাওয়ার পর দেনাদার টাকা ফেরত দিয়ে দেন।

৩. সালিশ বা স্থানীয় মিমাংসা: স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/মেম্বারের মাধ্যমে সালিশের আয়োজন করতে পারেন। সেখানে পাওনা স্বীকার করলে সেটি লিখিত আকারে রাখার চেষ্টা করুন।

৪. সিভিল স্যুট বা দেওয়ানি মামলা: যদি অন্য কোনো উপায়ে কাজ না হয়, তবে 'মানি রিকভারি স্যুট' (Money Recovery Suit) বা টাকা আদায়ের মামলা করা যায়। আপনার কাছে থাকা মেসেজ, সাক্ষী বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট তখন আদালতে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

৫. জিডি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা: যদি দেনাদার টাকা নিয়ে অস্বীকার করেন বা প্রতারণা করেন, তবে থানায় জিডি বা আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা করার সুযোগ থাকে।

আইনিটিপস: ভবিষ্যতে যে কাউকেই টাকা ধার দেওয়ার সময় অন্তত একটি সাধারণ স্ট্যাম্প পেপারে সই বা একটি চেক সিকিউরিটি হিসেবে রাখার চেষ্টা করবেন।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত , ময়মনসিংহ।।
Email- [email protected]

 #আজকেই_ফাঁসি_চান_তো_শুনুন_তবেফৌজদারি মামলার ধাপ সমূহ -১। ঘটনা২। সুরতহাল প্রতিবেদন ৩। মামলা দায়ের৪। আসামী গ্রেপ্তার ৫। আ...
24/05/2026

#আজকেই_ফাঁসি_চান_তো_শুনুন_তবে
ফৌজদারি মামলার ধাপ সমূহ -

১। ঘটনা
২। সুরতহাল প্রতিবেদন
৩। মামলা দায়ের
৪। আসামী গ্রেপ্তার
৫। আসামীর দোষস্বীকার (১৬৪)
৬। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
৭। ডিএনএ প্রতিবেদন
৮। ঘটনাস্থল পরিদর্শন
৯। আলামত
১০। জব্দ-তালিকা
১১। খসড়া মানচিত্র
১২। খসড়া মানচিত্রের সূচি
১৩। খসড়া মানচিত্রের সূচির ব্যাখ্যা
১৪। ১৬১ ধারার জবানবন্দি
১৫। ১৭০ ধারার মুচলেকা
১৬। পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন
==
১৭। আমলে গ্রহণ
১৮। চার্জ গঠন
১৯। সাক্ষীর জবানবন্দি
২০। সাক্ষীর জেরা
২১। যুক্তিতর্ক
২২। সাজার রায়
==
২৩। হাইকোর্টে আপীল
২৪। হাইকোর্টে শুনানি
২৫। হাইকোর্টের রায়ে সাজা বহাল
==
২৬। আপীল বিভাগে আপীল
২৭। আপীল বিভাগে শুনানি
২৮। আপীল বিভাগের রায়ে সাজা বহাল
==
২৯। আপীল বিভাগে রিভিউ
৩০। আপীল বিভাগে রিভিউ'র শুনানি
৩১। আপীল বিভাগে রিভিউ'র রায়ে সাজা বহাল
==
৩২। রাষ্ট্রপতির নিকট সাজা মওকুফের প্রার্থনা
৩৩। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মওকুফের প্রার্থনা নামঞ্জুর
==
৩৪। এরপর, হ্যাঁ এরপরই কেবল রায় কার্যকর।

এই ধাপ গুলো অনেক সময় দেখা যায় বছরের পর বছর লেগে যায় আবার কিছু আলোচিত মামলা অনেক কম সময়েও নিষ্পত্তি হয়। ১-১৬ ধাপ চাইলে ১ মাসেও শেষ করার সম্ভব, ১৭-২২ ও ১ মাসেও রায় প্রচার করা সম্ভব।

শিশু রামিসার মামলায় ১-১৬ ধাপ শেষ।

অ্যাডভোকেট তানিয়া আক্তার রেশমী
জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ময়মনসিংহ।।

20/12/2025

ওয়ারিশ সনদ বা উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যা নিশ্চিত করে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারী কারা। এই সনদ দুইভাবে জারি করা হয়, যা নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করতে চান:

১. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে (সাধারণ ব্যবহারের জন্য)সাধারণত সম্পত্তি ভাগ-বন্টন, নামজারি (Mutation), এবং বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি কাজে প্রমাণের জন্য এই সনদ ব্যবহার করা হয়। এটি পেতে নিম্নলিখিত স্থানে যোগাযোগ করতে হবে:

পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন এলাকায়:
মেয়র/কাউন্সিলর অফিস: প্রথমে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (বা সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর) অথবা মেয়রের কার্যালয় থেকে আবেদন করতে হবে।
কাউন্সিলর বা মেয়র যাচাই-বাছাই শেষে এই সনদ জারি করেন।

পল্লী এলাকা (ইউনিয়ন পরিষদ):
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
চেয়ারম্যান এটি যাচাই করেন এবং স্বাক্ষরিত সনদ জারি করেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সাধারণত যা লাগে):
1. আবেদনকারীর পরিচয়পত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন)।
2. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate)।
3. আবেদনপত্রে সকল ওয়ারিশের নাম, ঠিকানা ও সম্পর্ক উল্লেখ।
4. অন্যান্য ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনপত্রের ফটোকপি।
5. স্থানীয় ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ (ক্ষেত্রবিশেষে)।

২. আদালত থেকে (বিশেষত টাকা বা মূল্যবান বস্তুর জন্য)যখন মৃত ব্যক্তির ব্যাংকে জমানো টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা অন্যান্য মূল্যবান সিকিউরিটিজ দাবি করার প্রয়োজন হয়, তখন আদালতের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) বা এডমিনিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (Administration Certificate) নিতে হয়।

কোথায় পাওয়া যায়: সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা জজ আদালতে (District Judge Court) আবেদন করতে হয়।
পদ্ধতি:
আবেদনকারীকে জেলা জজ আদালতে লিখিত দরখাস্ত পেশ করতে হবে।
আদালত সাধারণত ৩ মাস মেয়াদে সনদ জারি করার অনুমতি (Probate) দেন।
প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া, আবেদন যাচাই এবং শুনানির পর আদালত এই সনদ জারি করেন।
এটি পেতে সাধারণত বেশি সময় লাগে এবং আইনি প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল।

মূল পার্থক্য:| বৈশিষ্ট্য | স্থানীয় সরকারের সনদ (চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর) | আদালত থেকে প্রাপ্ত সনদ (Succession Certificate)

প্রাপ্তির স্থান | ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন | জেলা জজ আদালত |
ব্যবহার | জমি-জমা সংক্রান্ত কাজ (নামজারি, বন্টন), সাধারণ কাজে | ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি উত্তোলনের জন্য |
জটিলতা | কম জটিল ও দ্রুত পাওয়া যায় | বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ |

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত , মময়মনসিংহ।।

29/11/2025

# যদি কোনো স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ চান, তাহলে তাঁর সেই অধিকার রয়েছে। কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটিতে যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি সরাসরি স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। আর ১৮ নম্বর কলামে যদি কোনো ক্ষমতা না দেওয়া থাকে, তাহলে আদালতে যেতে হয়। স্ত্রীর তালাকের ক্ষমতা না থাকলে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে তালাকের ডিক্রি নিতে হয়।

তবে মুসলিম শরীয়া অনুযায়ী তালাকের বৈধতা শুধুমাত্র স্বামীর। স্ত্রী সেই ক্ষেত্রে সেপারেশন, দেনমোহর আদায় এবং ভরণপোষণের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

07/11/2025

মুসলিম ফারায়েজ নীতিঃ
১। স্ত্রীর দুই অবস্থাঃ
(ক) মৃত স্বামীর সন্তান না থাকলে ১/৪,
( খ) আর সন্তান থাকলে স্ত্রী ১/৮ অংশ পাবে।

২। স্বামীর দুই অবস্থাঃ
(ক) স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান না থাকলে ১/২,
( খ) আর থাকলে ১/৪ অংশ পাবে।

৩। কন্যার তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র কন্যা থাকলে ১/২ ,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাইবে,
(গ) পুত্র কন্যা একসাথে থাকলে ২:১ অনুপাতে পাবে।

৪। পিতার তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র বা পুরুষ শ্রেনী বর্তমানে থাকলে ১/৬ অংশ পাবে,
(খ) পুরুষ শ্রেনি না থাকলে এবং কন্যা বা পৌত্রী বা মহিলা শ্রেনী বর্তমানে থাকলে( ১/৬+অবশিষ্ট) অংশ পাবে,
(গ)পুরুষ বা মহিলা শ্রেনী বর্তমানে না থাকলে অবশিষ্ট সকল অংশ পাবে।

৫। মায়ের তিন অবস্থাঃ
(ক) মৃত্যু ব্যক্তির সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ পাবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির যদি কোন সন্তান না থাকে বা ভাইবোন ২ জনের কম থাকলে ১/৩ অংশ পাইবে,
(গ) স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পিতা মাতা উভয়ে থাকলে , মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ পাবে।

৬। বৈপিত্রীয় ভাইবোনদের তিন অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র বৈপিত্রীয় ভাইবোন থাকলে ১/৬ অংশ
(খ) একাধিক থাকলে ১/৩ অংশ পাবে
(গ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুত্র বা পৌত্র,পিতা বা দাদা থাকলে বঞ্ছিত হবে।

[Advocate Tania Akter Resme]
৭। পৌত্রীগনের ছয় অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র পৌত্রী থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা থাকে তাহলে পৌত্রীগন ১/৬ অংশ পাইবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক কন্যা থাকে তাহলে পৌত্রীগন বঞ্ছিত হবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যক্তির পৌত্রী ও পৌত্র একই সাথে থাকলে অংশীদার হবে,
(চ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির পুত্র থাকে তাহলে পৌত্রীগন বঞ্ছিত হইবে।

৮। সহোদরা বোনদের পাঁচ অবস্থাঃ
(ক) একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকলে ১/২,
( খ) একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবে,
(গ) সহোদরা বোনের সাথে সহোদরা ভাই থাকলে আসাবা হবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র কন্যা বা পৌত্রী থাকে তাহলে সহোদরা বোনগন ১/৬ অংশ পাইবে। একাধিক কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য কোন ওয়ারিশ না থাকলে অংশীদার হবে,
(ঙ) মৃত্যু ব্যাক্তির পুরুষ শ্রেনীর ওয়ারিশ থাকলে সহোদরা বোনগন বঞ্ছিত হবে।

৯। বৈমাত্রিয় বোনদের সাত অবস্থাঃ
(ক) যদি মৃত্যু ব্যাক্তির সহোদরা বোন না থাকে ও একজন মাত্র বৈমাত্রিয় বোন থাকলে ১/২,
(খ)একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবে,
(গ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একজন মাত্র সহোদরা বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোন ১/৬ অংশ পাবে,
(ঘ) যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে তাহলে বৈমাত্রিয় বোনগণ বঞ্ছিত হবে,
(ঙ)যদি মৃত্যু ব্যক্তির একাধিক সহোদরা বোন থাকে এবং বৈমাত্রিয় বোনের সাথে বৈমাত্রিয় ভাই থাকলে একএে অংশীদার হবে।
(চ) মৃত্যু ব্যাক্তির কন্যা বা পৌত্রী থাকলে এবং অন্য কোন ওয়ারিশ না থাকলে বৈমাত্রিয় বোনগণ অবশিষ্ট অংশ পাবে,
(ছ) মৃত্যু ব্যক্তির পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে বৈমাত্রিয় বোনগন বঞ্ছিত হবে।

১০। দাদী নানীর ২ অবস্থাঃ
(ক) পিতৃ বা মাতৃ সম্পর্কের এক বা একাধিক যাহাই হোক ১/৬ অংশ পাবে,
(খ) মৃত্যু ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকলে বঞ্ছিত হইবে। তবে পিতা জীবিত থাকলে দাদী বঞ্ছিত।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

03/09/2025

বাটোয়ারা মামলা (ভাগাভাগি সংক্রান্ত মামলা) করার জন্য বেশ কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। তবে সাধারণত দলিলের ফটোকপি দিয়েও মামলা করা সম্ভব, তবে আদালত পরবর্তী সময়ে আসল দলিল বা কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারে। নিচে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

বাটোয়ারা মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:
1. দলিল (ফটোকপি বা আসল): জমির মালিকানা প্রমাণ করার জন্য জমির দলিল প্রয়োজন।
• ফটোকপি দিয়ে মামলা করা যায়, তবে পরবর্তী সময়ে আসল দলিল জমা দিতে হবে।
2. খতিয়ান: জমির হাল খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান জমা দিতে হবে।
3. দাগ ও পর্চা: জমির দাগ নম্বর এবং পর্চার কপি প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন।
4. দাখিলা (খাজনা রশিদ): খাজনা পরিশোধের রশিদ জমি ব্যবহারকারী হিসাবে আপনার অধিকার দেখানোর জন্য প্রয়োজন।
5. জমির ম্যাপ (নকশা): জমির সঠিক নকশা বা ম্যাপ দিলে মামলা প্রক্রিয়া সহজ হয়।
6. ন্যাশনাল আইডি কার্ড (NID): আবেদনকারী এবং জমির মালিকের পরিচয় প্রমাণ করার জন্য NID বা অন্যান্য পরিচয়পত্র।
7. উইল বা ওয়ারিশ সনদ: যদি জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন।
8. অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র: যে কোনো নোটিশ, আগের কোনো মামলা বা সমঝোতা কাগজপত্র।

# কোর্ট ফি:
বাটোয়ারা মামলার জন্য নির্ধারিত কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। জমির মূল্যের ওপর নির্ভর করে এই ফি নির্ধারণ হয়।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

25/08/2025

বাবার রেখে যাওয়ার সম্পত্তিতে ছেলেমেয়েদের অংশীদারিত্ব-
ইসলামী শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, বাবা বা স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের অংশীদারিত্বের কিছু নিয়ম রয়েছে।।

সাধারণত, ছেলে সন্তানের চেয়ে মেয়ে সন্তান সম্পত্তির অর্ধেক অংশ পেয়ে থাকে। তবে, একাধিক মেয়ে সন্তান থাকলে এবং ছেলে সন্তান না থাকলে, তারা মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ অংশ পেয়ে থাকে।

- নিচে কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হলো:

১) একমাত্র কন্যা সন্তান:
যদি কোন ব্যক্তি মারা যান এবং তার শুধুমাত্র একজন কন্যা সন্তান থাকে, তবে সে তার পিতার সম্পত্তির অর্ধেক অংশ পাবে।।

২) একাধিক কন্যা সন্তান:
যদি একাধিক কন্যা সন্তান থাকে এবং কোন ছেলে সন্তান না থাকে, তবে তারা সকলে মিলে মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ অংশ পাবে।।

৩) ছেলে ও মেয়ে সন্তান:
যদি ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তান থাকে, তবে সাধারণভাবে ছেলে সন্তান মেয়ে সন্তানের দ্বিগুণ অংশ পাবে। অর্থাৎ, ছেলের এক ভাগ, মেয়ের এক ভাগের অর্ধেক অংশ পাবে।।

৪) স্ত্রীর অংশ:যদি কোন ব্যক্তি মারা যান এবং তার স্ত্রী থাকেন, তবে তার স্ত্রী সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ পাবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ (১/৮) এবং যদি সন্তান না থাকে তবে এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ পাবেন।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

30/06/2025

মিথ্যা নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা: একজন পুরুষের করণীয় ও আইনি প্রতিকার‌:

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। তবে এসব আইনের অপব্যবহার অনেক সময় নিরপরাধ পুরুষ ও তার পরিবারকে ভয়াবহ হয়রানির শিকার করে। বিশেষ করে, মিথ্যা নারী নির্যাতন বা যৌতুকের মামলা দিয়ে সামাজিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।

এই লেখায় আমরা দেখবো—
১. কোন কোন আইন দিয়ে পুরুষরা প্রতিকার পেতে পারেন
২. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ৭ ধারা কিভাবে ব্যবহার করা যায়
৩. বাস্তব মামলা, কোর্টের রায় ও পত্রিকার খবর
৪. এবং সচেতনতামূলক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

প্রধান প্রযোজ্য আইনসমূহ:

1. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)
2. দণ্ডবিধি ১৮৬০ (Penal Code)
3. ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (CrPC)
4. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (প্রয়োজনে)

আইনের অপব্যবহার:

অনেক সময় দেখা যায়, একজন নারী পারিবারিক বিরোধের জেরে মিথ্যা নারী নির্যাতন বা যৌতুক মামলা দিয়ে স্বামী ও তার পরিবারকে ফাঁসিয়ে দেন।
কিন্তু যদি এটা প্রমাণ হয় যে অভিযোগটি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাহলে আইনেই সেই নারী বা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

- আইনি প্রতিকার ও করণীয় (Step-by-Step):

১. জামিনের আবেদন (Section 498 CrPC):

i) মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে প্রথম কাজ হলো জামিনের আবেদন করা।
ii) প্রয়োজন হলে হাইকোর্টে রুল জারি করে জামিন চাওয়া যায়।

২. মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে প্রতিকার:
i) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ – ধারা ১৭:

এই ধারা অনুযায়ী,

"কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা মিথ্যা অভিযোগ করেন বা মিথ্যা তথ্য দেন, তাহলে তিনি অনধিক ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।"

- এটা একটি শাস্তিমূলক ধারা, যা পুরুষ বা যে কেউ মিথ্যা মামলার শিকার হলে প্রয়োগ করতে পারেন।

ii) দণ্ডবিধির ধারা ২১১:

- উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করলে, এই ধারায় মামলা করা যায়।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল।

iii) দণ্ডবিধি ৫০০-৫০২: মানহানির মামলা

- যদি সামাজিকভাবে সম্মানহানি হয়, তাহলে মানহানির মামলার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব।

৩. জেনারেল ডায়েরি (GD) ও Counter Case:

- ঘটনা ঘটার পরপরই থানায় জিডি করে রাখুন।
- নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন এবং সম্ভাব্য হুমকি উল্লেখ করুন।

৪. ডিজিটাল সাক্ষ্য সংরক্ষণ:

- সকল চ্যাট, কল রেকর্ড, ভিডিও, ভয়েস ক্লিপ ইত্যাদি নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।
- এগুলো মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৫. হাইকোর্টে রিট আবেদন (Writ):

- যদি মামলা গঠনে ত্রুটি থাকে বা হয়রানিমূলক হয়, তাহলে হাইকোর্টে রিট দিয়ে মামলা বাতিল করা যায়।

বাস্তব মামলা ও কোর্টের পর্যবেক্ষণ:

Case Reference:

State vs. Md. Shahidul Islam, 69 DLR (HCD) 123 (2017)
হাইকোর্ট বলেন:

"নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যেমন প্রয়োগযোগ্য, তেমন এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও আদালতের দৃষ্টি রাখা জরুরি।"

Ariful Islam vs. The State (2020)
মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত বলেন—শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ধরা যায় না।

পত্রিকার সংবাদ ও বাস্তব উদাহরণ:

প্রথম আলো (২০২২):
এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। বিচার শেষে প্রমাণ হয় অভিযোগটি ভিত্তিহীন। আদালত তাকে ‘ভুয়া মামলা দায়েরকারী’ হিসেবে দণ্ড দেন।

ঢাকা টাইমস রিপোর্ট (২০২১):
মিরপুরের এক নারী যৌতুক মামলা করেন। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে স্বামী মানহানির মামলা করেন এবং আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন।

নারায়ণগঞ্জ (২০২১):
নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় নারীকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়, কারণ প্রমাণিত হয় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন।

সচেতনতামূলক পরামর্শ:

✔️ আইন যেমন অপরাধীর বিরুদ্ধে, তেমনি নিরপরাধের পক্ষে।
✔️ প্রতিটি পদক্ষেপে অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণ করুন।
✔️ কেবল অভিযোগ খারিজ হলেই ৭ ধারা প্রযোজ্য হয় না—ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে।
✔️ কোনভাবেই উত্তেজিত হয়ে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না—সবসময় আইনানুগ পথে চলুন।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন নারীকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হলেও, এর অপব্যবহারও এখন এক বাস্তবতা। একজন পুরুষ যদি মিথ্যা মামলার শিকার হন, তাহলে হতাশ না হয়ে আইনানুগ পথে ন্যায্য প্রতিকার নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নারী ও পুরুষ—উভয়ের জন্য আইনের সমান ব্যবহারই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

আপনার বা আপনার পরিচিত কারো যদি এমন সমস্যায় পড়তে হয়, দয়া করে একজন দক্ষ আইনজীবীর সহায়তা নিন এবং আইনি প্রমাণাদি আগে থেকেই সুরক্ষিত রাখুন।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

29/05/2025

হিন্দু আইনে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিয়ম:

হিন্দু আইনে দুই ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু আছে:

(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি (খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।
বাংলাদেশে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ আইন অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী।

নিম্নে মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১। পুত্র

২। পুত্রের পুত্র

৩। পুত্রের পুত্রের পুত্র

৪। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।

৫। কন্যা

৬। কন্যার পুত্র

৭। পিতা

৮। মাতা

৯। ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।

১০। ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র

১১। ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।

১২। বোনের পুত্র

১৩। পিতার পিতা

১৪। পিতার মাতা

১৫। পিতার ভাই

১৬। পিতার ভাইয়ের পুত্র

১৭। পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

১৮। পিতার বোনের পুত্র

১৯। পিতার পিতার পিতা

২০। পিতার পিতার মাতা

২১। পিতার পিতার ভাই

২২। পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

২৩। পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

২৪। পিতার পিসির পুত্র

২৫। পুত্রের কন্যার পুত্র

২৬। পুত্রের পুত্রের কন্যার পুত্র

২৭। ভাইয়ের কন্যার পুত্র

২৮। ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

২৯। খুড়ার কন্যার পুত্র

৩০। খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র

৩১। পিতার খুড়ার কন্যার পুত্র

৩২। পিতার খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র

৩৩। মাতার পিতা (নানা)

৩৪। মাতার ভাই (মামা)

৩৫। মাতার ভাইয়ের পুত্র (মামার পুত্র)

৩৬। মাতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র (মামার পুত্রের পুত্র)

৩৭। মাতার বোনের পুত্র (মাসির পুত্র)

৩৮। মাতার পিতার পিতা

৩৯। মাতার পিতার ভাই

৪০। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

৪১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

৪২। মাতার পিতার বোনের পুত্রের পুত্র

৪৩। মাতার পিতার পিতার পিতা

৪৪। মাতার পিতার পিতার ভাই।

৪৫। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

৪৬। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

৪৭। মাতার পিতার পিতার বোনের পুত্র

৪৮। মাতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৪৯। মাতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

৫০। মাতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৫১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

৫২। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৫৩। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র


মোট ৫৩টি শ্রেণির মধ্যে মহিলা শ্রেণী ৫ টি।

১। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী (তালিকায় যার স্থান ৪র্থ)।

২। কন্যা (তালিকায় যার স্থান ৫ম)।

৩। মাতা (তালিকায় যার স্থান ৮ম)।

৪। পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ১৪ তম)।

৫। পিতার পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ২০ তম)।

এই ৫ শ্রেণীর মহিলা কোন সম্পত্তি পেলেও সীমিত কিছু শর্ত (যেমন- মৃতের শ্রাদ্ধ) ছাড়া তা হস্তান্তর করতে পারে না। তারা মুলত জীবনস্বত্ব ভোগ করতে পারে। তাদের মৃতুর পর সম্পত্তি পুর্ব মালিকের কাছে ফিরে যাবে, যা নিকটস্থ উত্তরাধিকারী পাবে। কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী সম্পত্তি না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে সম্পত্তি বারবার মৃত মুল মালিকের কাছে ফিরে যাবে।

১ থেকে ৪ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত কেউ জীবিত না থাকলে (৫ নম্বর ক্রমিকের) কন্যা সম্পত্তি পাবে। কন্যাদের মধ্যে কুমারী কন্যার দাবী অগ্রগণ্য, এর পর পুত্রবতী বা পুত্র সম্ভবা কন্যাদের দাবী। কন্যা উত্তরাধিকার সুত্রে সম্পত্তি পেলে তার মৃত্যুতে তার পুত্র সন্তান সম্পত্তি পাবে। তবে কন্যার পুত্র না থাকলে পুত্রের পুত্র কোন সম্পত্তি পাবে না।

এক বা একাধিক পুত্র থাকলে তারাই সমুদয় সম্পত্তি পাবে। নিকটবর্তী পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে পরবর্তীরা সম্পত্তি পাবে না, যেমন পুত্র থাকলে পুত্রের-পুত্র সম্পত্তি পাবে না।

মৃত ব্যক্তির পুত্র ও স্ত্রী থাকলে, স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে স্ত্রীর অংশ স্ত্রীদের মধ্যে তুলাংশে বন্টন হবে। স্ত্রী যেরূপ অংশ পাবে, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী বা পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রীও অনুরূপ অংশ পাবে।

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের সময় অংশীদারদের মধ্যে যদি কোন অংশীদার মারা যায়, তবে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারগণ ওয়ারিশ হবে।

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করেন। তার মৃত্যর পর উক্ত সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়।

৬। একমাত্র হিন্দু ধর্মে দত্তক পুত্র গ্রহনের বিধান আছে। তাই দত্তক পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের (১/৩) তিন ভাগের এক ভাগ পাবে।

৭। হিন্দু আইনে সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়।

৮। অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং হাবাগোবা পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দূরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধীগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। আইনের দৃষ্টিতে তাদেরকে মৃত হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বৈধ সন্তান, পিতামহ ও পিতামহীর উপর উত্তরাধিকারিত্ব বর্তায়।

৯। স্বামী অসতী স্ত্রী রেখে মারা গেলে, সেই অসতী স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি পাবে না। তবে বিধবা স্ত্রী আইন সঙ্গতভাবে সম্পত্তি পাওয়ার পর অসতী হলে প্রাপ্ত সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হবে না। অসতীত্বের কারনে মাতাও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়। তবে অসতীত্বের কারনে কোন নারী, স্ত্রী-লোকের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয় না।

১০। কোন হিন্দু লোক ধর্মান্তরিত হলে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়।

১১। হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।।

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

24/04/2025

আগাম জামিন প্রদান করার ক্ষেত্রে মহামান্য আপীল বিভাগের ১৬ টি নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা গুলো হল:

১. আসামীদের বিরুদ্ধে যে FIR টি lodge করা হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও সতর্কতার সাথে বিশ্লেষন করতে হবে।

২. অভিযোগের প্রকৃতি ও আসামীর ভূমিকা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হবে।
৩. আসামীকে আগাম জামিন প্রদান করলে পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে কিনা

৪. চরিত্র, আচরণ, জীবিকা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিতে হবে।

৫. Arrest টি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য করা হয়েছে কিনা। কারন Arrest এর সাথে সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্লেশ জড়িত থাকে। Arrest পরিবারের জন্য বিভিন্ন বিরুপ প্রভাব বয়ে আনে।

৬. দুটি অনুঘটকের মাঝে সমন্বয় সাধন করতে হবে। ১.প্রথমত, Arrest নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হতে হবে। দ্বিতীয়ত, লাঞ্চনা, অপমান ও অন্যায্য আটক প্রতিরোধ করতে হবে।

৭.বিশেষ ক্ষেত্রে আগাম জামিন প্রদান করতে যাবে। বিশেষ ক্ষেত্র গুলো proper discretion এর মাধ্যমে নির্ণয় করতে হবে।

৮. আগাম জামিন প্রদান করার সময় এটি বিবেচনায় নিতে হবে যে আগাম জামিন দিলে আসামী সাক্ষী Tamper করবেনা।

৯. আগাম জামিন প্রদানের সময় কোর্ট বিবেচনায় নিবে যে, আসামী সাক্ষীকে, প্রলোভন, জোর কিংবা তথ্য প্রদানে বাঁধা দিবেনা।

১০.হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা ইত্যাদি গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আগাম জামিন প্রদান করা যাবেনা।

১১. আগাম জামিন প্রদানের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ এ বিলোপ করা হয়েছে।

১২. অনির্দিষ্টকাল সময়ের জন্য আগাম জামিন প্রদান করা যাবেনা।

১৩. তদন্ত চলমান অবস্থায় আগাম জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে।

১৪. আগাম জামিন প্রদানের সময় আদালত আসামীকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশনা প্রদান করবে।

১৫.আগাম জামিন আট সপ্তাহের বেশি প্রদান করা যাবেনা। অভিযোগপত্র প্রদানের পর আগাম জামিন চলমান থাকবেনা।

১৬.আদালত যে কোন সময় আগাম জামিন বাতিল করতে পারে।

Ref: State vs Professor Dr. Morshed Hasan Khan and others.
71 DLR( AD)364

তানিয়া আক্তার রেশমী
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহ।।

Address

Mymensingh

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Tania Akter Resme posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Advocate Tania Akter Resme:

Share