27/09/2026
গণপরিবহন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির চালকের অবহেলা/বেপরোয়া চালনার কারণে কোনো পথচারী আহত বা নিহত হলে দায় পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়—শুধু গাড়ির মালিকই সবসময় দায়ী, এমন নয়।
⚖️ আইন কী বলে?
১. চালকের ফৌজদারি দায়
চালক যদি বেপরোয়া বা অবহেলাভাবে গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে আহত করেন, তাহলে দণ্ডবিধির ধারা ২৭৯ প্রযোজ্য হতে পারে। �
Bangladesh Laws +1
আঘাত গুরুতর হলে ধারা ৩৩৭, ৩৩৮ বা ৩৩৮A প্রযোজ্য হতে পারে। �
Bangladesh Laws
আর অবহেলা/বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে মৃত্যু হলে দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪A/৩০৪B এবং সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী ফৌজদারি দায় সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমান আইনে গুরুতর আহত বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। �
Bangladesh Laws +1
২. ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলাদা
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫২ অনুযায়ী, কোনো মোটরযান থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় কেউ আহত, ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হয়ে মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারী আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ/চিকিৎসা খরচ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন। �
Bangladesh Laws
অর্থাৎ ফৌজদারি শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ—দুটি আলাদা বিষয়।
🚗 তাহলে মালিকের দায় কখন?
যদি প্রমাণ হয় যে দুর্ঘটনার জন্য চালকের অবহেলা দায়ী, তাহলে প্রথমত চালকের ফৌজদারি দায়ের প্রশ্ন আসে।
কিন্তু মালিকের ক্ষেত্রেও দায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে—যেমন গাড়ি পরিচালনায় মালিকের নিজস্ব অবহেলা, আইনবহির্ভূতভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া বা সংশ্লিষ্ট আইনগত দায়ের পরিস্থিতি থাকলে। তাই “গাড়িটি আমার নয়, চালক চালাচ্ছিল—তাই আমার কোনো দায় নেই”—এটি সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
🚌 গণপরিবহনের ক্ষেত্রে
বাস/মিনিবাস/অন্যান্য গণপরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য চালকের ফৌজদারি দায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি/পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার—দুটিই বিবেচনা করতে হবে। সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮-এর ৫২ ও ১০৫ ধারা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। �
Bangladesh Laws +1
সহজ কথায়:
চালকের অবহেলা → চালকের ফৌজদারি দায়
দুর্ঘটনায় আহত/মৃত্যু → আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অধিকার
মালিক/পরিবহনকারীর দায় → ঘটনার фак্ট ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে।