01/09/2024
গনতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে একটি ভারসাম্যপুর্ণ ক্ষমতার সাংবিধানিক কাঠামো অত্যাবশ্যক। মোটাদাগে নিম্নোক্ত সাংবিধানিক সংস্কারসমুহ আবশ্যক-
১। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীপরিষদ; একক প্রধানমন্ত্রী নয়।
২। দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না;
৩। নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হবেন সংসদনেতা (Leader of the House)। সংসদনেতা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী হবেন দলের আস্থাভাজন যেকোন "নির্বাচিত" সংসদ সদস্য;
৪। জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষে বসবেন- শুধুমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ। আর উচ্চকক্ষে বসবেন সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার সম্মানিত প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গ যারা অনিবার্চিত ও রাষ্টপতি কতৃক নিযুক্ত হবেন। যেমন-মুক্তিযোদ্ধা; নারী; আদিবাসী; প্রতিবন্ধী; পেশাজীবী ইত্যাদি।
৫। অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন করে "অর্থবিল" ও "অনাস্থা প্রস্তাব" ব্যতীত দলের সাংসদেরা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবে না;
৬। সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা।
৭। সুপ্রিমকোর্টের বিচারকসহ অপরাপর সাংবিধানিক পদধারীদের অপসারনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা।
৮। আপীলবিভাগের মাননীয় বিচারপতিগনকে বিচারকার্য ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কোন দায়িত্ব অর্পন করা যাবে না। যেমন- বিভিন্ন সার্চ কমিটি, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি বা জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ইত্যাদি।
৯। সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগন অবসরগ্রহনের পর সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়া ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত হতে পারবেন না।
১০। নিম্নআদালতের বিচারকরা সরাসরি সুপ্রিমকোর্টের অধীনে ও নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। তাদের পদায়ন, বদলী, পদোন্নতি, ছুটিমন্জরি, শৃঙ্খলা শুধুমাত্র সুপ্রিমকোর্টের একক কতৃত্বে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। আইন মন্ত্রণালয় শুধু সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবেন।
১১। ফৌজদারি মামলার জন্য প্রসিকিউশন সার্ভিস ও অন্যান্য সকল মামলার জন্য এটর্নী সার্ভিসের প্রতিষ্ঠা।
১২। বিচারবিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরনের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষে একজন সাবেক প্রধানবিচানপতির নেতৃত্বে Parliamentary Committee for Judiciary গঠন। সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে সবাই বাধ্য।