23/01/2026
রাজধানী ঢাকার বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সম্প্রতি (জানুয়ারি ২০২৬) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মূলত 'বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১' কার্যকর করার লক্ষে এই নির্দেশিকাগুলো দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাড়িভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত নিয়ম
* দুই বছরের আগে ভাড়া বৃদ্ধি নয়: চুক্তি হওয়ার পর প্রথম দুই বছরের মধ্যে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না।
* ভাড়া বৃদ্ধির সময়: ভাড়া বাড়াতে হলে তা কেবল অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে করা যাবে।
* ভাড়া নির্ধারণের সীমা: বার্ষিক মোট ভাড়া সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫% এর বেশি হতে পারবে না।
২. অগ্রিম ভাড়া ও চুক্তি
* অগ্রিম ভাড়ার সীমা: বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় মালিক সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ মাসের সমপরিমাণ টাকা অগ্রিম বা জামানত হিসেবে নিতে পারবেন। এর বেশি দাবি করা আইনত দণ্ডনীয়।
* লিখিত চুক্তি: প্রতিটি ভাড়াটিয়ার সাথে বাড়ির মালিকের একটি স্পষ্ট লিখিত চুক্তি থাকতে হবে, যেখানে ভাড়া, শর্তাবলি এবং অগ্রিম ভাড়ার তথ্য উল্লেখ থাকবে।
৩. ভাড়াটিয়ার অধিকার ও সুবিধা
* ছাদ ও মেইন গেটের চাবি: নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রয়োজনে (যেমন: ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ড) ব্যবহারের জন্য ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই ভবনের মূল গেট এবং ছাদের চাবি দিতে হবে।
* রসিদ প্রদান: ভাড়া পরিশোধের পর বাড়িওয়ালাকে অবশ্যই স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ দিতে হবে এবং ভাড়াটিয়াকে তা সংগ্রহ করতে হবে।
* পরিষেবা নিশ্চিতকরণ: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করা এবং বাড়ি বসবাসের উপযোগী রাখা মালিকের দায়িত্ব।
৪. উচ্ছেদ ও বিরোধ নিষ্পত্তি
* উচ্ছেদ প্রক্রিয়া: ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে প্রথমে মৌখিক সতর্কতা দিতে হবে। এরপরও কাজ না হলে বকেয়া পরিশোধের জন্য এবং বাড়ি ছাড়ার জন্য ২ মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
* বিরোধ সমাধান: এলাকায় কোনো সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের নিয়ে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে সমাধান না হলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে জানানো যাবে।
একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভাড়াটিয়াকেও প্রতি মাসের ভাড়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।