24/05/2026
রামিসার ঘটনাটার পর কিছু বোদ্ধা আইনজীবী ভাইলোগ দেখলাম খুব আইন কপচাচ্ছে ফেসবুকে। দোষ স্বীকার হলেই হবে না, ভলান্টারি হতে হবে আর টর্চার করে নেওয়া যাবে না। ভালো কথা। কিন্তু, কনফেশন যদি ঠিকঠাক থাকে এবং করবরেটিভ হয়, তাহলে এই কনফেশনের উপরেও সাজা দেওয়া যায়। এখন আগ বাড়িয়ে ভলান্টারি আর টর্চারের ইস্যু নিয়ে আসার মানে হলো সাধারণ মানুষকে পণ্ডিতি দেখানো। আমি দেখেছি যারা পড়ুয়া বুকিশ আইনজীবী, এদের মাথার উপরে একটা চিন্তার সিলিং দেওয়া থাকে। এরা আউট অফ দ্যা বক্স চিন্তা করতে পারে কম। বাট দ্যা ওয়ার্ল্ড ইজ বিওন্ড দ্যাট।
আপনি একাই আইন-কানুন কপচাবেন আর ভাববেন সাধারণ মানুষ এগুলো কিছুই বোঝে না। ট্রায়াল কোর্টে সাক্ষী-জেরা, যুক্তিতর্ক শেষে রায় হতে হবে। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট যেহেতু, সেটা নিয়ে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হতে হবে, আরও ৫/৭ বছর। তারপর যেহেতু উপরে আরও একটা কোর্ট আছে আর আপিল যেহেতু অধিকার, তাই ওই কোর্টেও আরও ৫/৭ বছর যেতে হবে। তারপর কমনওয়েলথ দেশ যেহেতু, প্রিভি কাউন্সিলে যেতে হবে। ওহ থুক্কু, দেশ তো এখন 'স্বাধীন'।
মানুষ চায় না কারো উপর জুলুম হোক, কিন্তু জুলুম ঠেকানোর নামে যুগের পর যুগ আইনের দোহাই দিয়ে আসামিকে শাস্তি না দিতে পারার সংস্কৃতি জনগণ ঠিকই বোঝে এবং তারা এর ভুক্তভোগী (ছবি দ্রষ্টব্য)।
ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জাস্টিস Lord Hewart বলেছিলেন, "Justice must not only be done, but must also be seen to be done"। আপনি নিজে নিজে শুধু আইন-কানুন বুঝে রায় দিলে হবে না; জনসাধারণেরও আইন-আদালতের উপর বিশ্বাস থাকতে হবে (Public Confidence), যে ন্যায়বিচার হয়েছে। এমনকি যদি আপনি সঠিক রায়ও দেন কিন্তু পাবলিক মনে করে আসলে জাস্টিস হয়নি, সেখানেও একটা কিন্তু থাকে।
আইনে রুল, এক্সেপশন থাকবেই। বাংলাদেশের মতো একটা ঘুষ-ভিত্তিক হাইলি ইনএফিসিয়েন্ট ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে ভুলের কোনো পরিসীমা নেই। আইনের ফাঁকফোকর ধরলে কোনো প্রকৃত আসামিকেই শাস্তি দেওয়া সম্ভব না। আবার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে প্রমাণ হতে হবে beyond reasonable doubt। অনেক একাডেমিক এটাকে ৯৯% বলে আখ্যায়িত করে। এছাড়াও অতিদীর্ঘ ও অতিবিলম্বিত বিচার ব্যবস্থা হওয়ায় আলামত নষ্টও হয়। দীর্ঘদিন কারাবাস জামিনের অন্যতম গ্রাউন্ড হওয়ায় জামিন পেয়ে আবারও অপরাধ করে। আবার মাথা বাঁচে না যে আসামির, কনডেম সেলে থাকার দোহাই দিয়ে যাবজ্জীবন হয়ে যায় তার। এ এক ছেরাবেড়া আইন ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, আইনজীবীরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার থেকে কিভাবে মামলা টিকিয়ে রাখা যায় আর আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসামিকে সুবিধা দেওয়া যায় সেটার দিকে বেশি মনোযোগী। ধরলে বলে, রায় তো দেবে কোর্ট, আমার কাজ তো প্লেস করা। কিন্তু জেনেশুনে একজন জালিমের পক্ষে মেধা-শ্রম কাজে লাগানোর পরকালীন জবাবদিহিতা ব্রিটিশদের শেখানো সিস্টেমে তারা খুঁজে পায় না। তাই কনফেশন যাই হোক, তারা একটা বেহুদা রিট্র্যাকশন অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে রাখে। যেখানে আল্লাহর আইন মাথার বদলে মাথা, সেখানে কিভাবে জাস্টিস সিস্টেমের খুঁত ধরে মাথা বাঁচানো যায়—এমনকি খালাস করলে অর্ধেক সম্পত্তিও লিখে নেয়।
যাই হোক, আর্গুমেন্ট থাকবেই। কেউ যদি বলে দোষ স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে শাস্তি দেন, এটাতে আগ বাড়িয়ে পণ্ডিতি না করাই ভালো। সেটা যে নন-ভলান্টারি এবং ফোর্সফুল হয়েছে সেটা আপনাকে কেউ বলেনি। তাই পণ্ডিতি না ফলিয়ে কিভাবে "Must be seen to be done" করা যায় সেটার উপরেই চোখ রাখা ভালো। আফটার অল, এন্ড রেজাল্ট ম্যাটার্স। সাধারণ মানুষ 'দোষ স্বীকারোক্তি' বলতে আইনসম্মতটাই বুঝিয়েছে, কারো উপর জুলুম করতে বলেনি। আবার মিডিয়া ট্রায়ালের দায়ে নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাক সেটাও তারা চায় না। চায় না অতি বিচার করতে গিয়ে অবিচার করতে, বছরের পর বছর ট্যাক্সের টাকায় dead man walking দেখতে।
❌ ১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা: দেড় যুগ পরও বিচার হয়নি সেই রসু খাঁর
https://rtvonline.com/law-order/382503