07/08/2026
পাওনা টাকা আদায়ের আইনগত উপায় কী?
কোনো ব্যক্তির কাছে আপনার পাওনা টাকা থাকলে প্রথমেই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি বা মুরব্বিদের মাধ্যমে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আলোচনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়।
যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হয়, তাহলে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে দেনাদারকে একটি আইনি নোটিশ (Legal Notice) পাঠানো যেতে পারে। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এরপরও পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে দেওয়ানি আদালতে মানি স্যুট (Money Suit) দায়ের করে পাওনা টাকা আদায়ের দাবি করা যায়। এটি চুক্তিভিত্তিক পাওনা, ধার দেওয়া অর্থ বা অন্যান্য বৈধ আর্থিক দাবির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনগত প্রতিকার।
যদি পাওনা টাকার বিপরীতে দেওয়া চেক ব্যাংক কর্তৃক অপর্যাপ্ত তহবিল বা আইনসিদ্ধ অন্য কোনো কারণে প্রত্যাখ্যাত (Dishonour) হয়, তাহলে Negotiable Instruments Act, 1881-এর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী মামলা করা যায়। তবে এ ধরনের মামলায় আইন নির্ধারিত নোটিশ ও সময়সীমা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, যদি শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে টাকা গ্রহণ করা হয়ে থাকে বা বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়, তাহলে ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৬ (Criminal Breach of Trust) অথবা ধারা ৪২০ (Cheating and Dishonestly Inducing Delivery of Property)-এর অধীনে ফৌজদারি মামলা করা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র পাওনা টাকা পরিশোধ না করলেই ৪০৬ বা ৪২০ ধারা প্রযোজ্য হয় না; প্রতারণা বা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের উপাদান থাকতে হবে।
তাই পাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি ও প্রাপ্ত প্রমাণ অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আইনি জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।