Advocate M Hasan

Advocate M Hasan Advocate | Judge Court, Dhaka. Mobile : +880 1711-973300
E-mail : [email protected]

28/08/2026
30/07/2026

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশই মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।

আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে।

বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সাথে সাথে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।

হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।

বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে।

কিভাবে জমির নামজারী বা Mutation করতে হয়?বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জমি বা ভূমির নামজারি (Mutation) করার প্রক্রিয়া এখন অনেক...
21/07/2026

কিভাবে জমির নামজারী বা Mutation করতে হয়?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জমি বা ভূমির নামজারি (Mutation) করার প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই সহজ এবং সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক।
নামজারি করার সম্পূর্ণ নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো:

​১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ
​অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের প্রয়োজনীয় নথিগুলোর স্ক্যান কপি বা ছবি (PDF/JPEG Format) রেডি রাখতে হবে:

​মালিকানার সনদ: সর্বশেষে সম্পাদিত দলিল (সাব-কবলা, হেবা, বণ্টননামা ইত্যাদি)।
​খতিয়ান (যদি থাকে): সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস/সিটি জরিপ খতিয়ানের কপি।
​হস্তান্তর দলিল ও রেকর্ডের চেইন: মূল মালিক থেকে কীভাবে মালিকানা হস্তান্তরিত হয়েছে তার ধারাবাহিক কপি (যেমন: বায়া দলিল)।
​ওয়ারিশান সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): জমি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয়, তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর সনদ।
​অন্যান্য: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

​২. অনলাইনে আবেদন দাখিল।

​১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি পোর্টাল mutation.land.gov.bd-এ যান।

২. আবেদন ফরম পূরণ:
​আপনার জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং জমির বিবরণ (দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও জমির পরিমাণ) সঠিকভা‌বে দিন।

​আবেদনকারী ও দাতার তথ্য এবং NID অনুযায়ী সঠিক নাম ও তথ্য পূরণ করুন।

৩. কাগজপত্র আপলোড: প্রস্তুত রাখা স্ক্যান কপিগুলো আবেদন ফরমে সংযুক্ত করুন।

৪. আবেদন ফি পরিশোধ: আবেদন করার সময় প্রাথমিক ফি (সাধারণত ৭০ টাকা) আবেদন বাবদ ২০ টাকা এবং নোটিশ জারী বাবদ ৫০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং (Bkash, Nagad, Rocket ইত্যাদি) বা কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

৫. আবেদন ট্র্যাকিং নম্বর: ফি পরিশোধ সফল হলে একটি আবেদন আইডি/ট্র্যাকিং নম্বর সহ ট্র্যাকিং স্লিপ দেওয়া হবে। এটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

​৩. আবেদন প্রক্রিয়া ও শুনানি (Hearing)
​যাচাই-বাছাই: আবেদন জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সরেজমিনে ও নথিপত্র যাচাই করে প্রতিবেদন দেবেন।

​শুনানির নোটিশ: তথ্য সঠিক থাকলে অ্যাসিল্যান্ড (AC Land) অফিস থেকে শুনানির জন্য আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে SMS পাঠানো হবে।

​শুনানিতে অংশ নেওয়া: নির্ধারিত তারিখে মূল কাগজপত্র সহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land Office) উপস্থিত হয়ে শুনানি শেষ করতে হবে।
​৪. চূড়ান্ত ফি ও খতিয়ান সংগ্রহ
​অনুমোদন: শুনানি সফল হলে অ্যাসিল্যান্ড নামজারি মঞ্জুর করবেন।

​মঞ্জুরি ফি প্রদান: অনুমোদন পাওয়ার পর অনলাইনে চূড়ান্ত ফি (যেমন: খতিয়ান ফি ও ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ ফি বাবদ মোট ১,১০০ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।

​ই-খতিয়ান ডাউনলোড: চূড়ান্ত ফি জমা দেওয়ার পর পোর্টাল থেকে সরাসরি অনলাইন ই-খতিয়ান (E-Khatian) এবং ডি-সি-আর (DCR) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে।

​বিশেষ দ্রষ্টব্য: নামজারি প্রক্রিয়ায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সহায়তা না নিয়ে সরাসরি সরকারি পোর্টালে আবেদন করা নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।

#নামজারী

16/07/2026

জমি খরিদ করার পর অবশ্যই আপনার মালিকানাধীন জমি দ্রুত নামজারী করে নিবেন।

16/07/2026

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা। - (রাজস্ব শাখা)।

16/07/2026

বাটোয়ারা মোকদ্দমা (যা আইনগতভাবে বণ্টন মামলা বা Partition Suit নামে পরিচিত) হলো যৌথ সম্পত্তির মালিকানার অবসান ঘটিয়ে নিজের সুনির্দিষ্ট অংশ বা হিস্যা বুঝে নেওয়ার জন্য আদালতে দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলা।

​সহজ কথায়, যখন কোনো সম্পত্তি (জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি) একাধিক ব্যক্তির নামে যৌথভাবে থাকে এবং অংশীদারদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সম্পত্তিটি ভাগ করা সম্ভব হয় না, তখন আদালতের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিজের অংশ আলাদা করার জন্য এই মামলা করতে হয়।

​বাটোয়ারা মোকদ্দমা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে দেওয়া হলো:

​১. কেন এই মামলা করা হয়?
​উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি: পৈত্রিক বা যৌথ সম্পত্তি যখন অংশীদারদের (ওয়ারিশদের) মধ্যে কে কোন অংশ পাবেন, তা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
​সমঝোতার অভাব: শরিক বা অংশীদাররা যদি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে জমি বন্টন করতে রাজি না হন।
​হিস্যা সুনির্দিষ্ট করা: নিজের প্রাপ্য অংশ কাগজে-কলমে এবং বাস্তবে বুঝে নিয়ে একক মালিকানা বা নামজারি (Mutated) করার জন্য।

​২. কারা এই মামলা করতে পারেন?
​সম্পত্তির যেকোনো বৈধ অংশীদার বা সহ-শরিক (Co-sharer) এই মামলা দায়ের করতে পারেন। মামলায় সব অংশীদারকে পক্ষভুক্ত (বাদী বা বিবাদী হিসেবে) করা বাধ্যতামূলক, যাতে সবার উপস্থিতিতে চূড়ান্ত বন্টন সম্ভব হয়।

​৩. মামলার দুটি প্রধান ধাপ
​আদালতে বাটোয়ারা মামলা সাধারণত দুটি ডিক্রির মাধ্যমে শেষ হয়:

​প্রাথমিক ডিক্রি (Preliminary Decree): এই ধাপে আদালত যাচাই করেন যে সম্পত্তিটিতে বাদীর কতটুকু অংশ বা হিস্যা পাওয়ার আইনি অধিকার আছে। আদালত অংশ নিশ্চিত করে এই ডিক্রি দেন।

​চূড়ান্ত ডিক্রি (Final Decree): প্রাথমিক ডিক্রির পর আদালত একজন কমিশনার (Advocate Commissioner) নিয়োগ করেন। কমিশনার সরেজমিনে (জমিতে গিয়ে) মাপজোখ করে সাহাম (আলাদা অংশ) বণ্টন করেন এবং আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত চূড়ান্ত ডিক্রি বা রায় দেন।

​৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
​এই মামলা করার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত নথিপত্রগুলোর প্রয়োজন হয়:
​সম্পত্তির মালিকানার দলিল (যেমন: সাব-কবলা, হেবা বা বন্টননামা দলিল)।
​সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস/সিটি জরিপের খতিয়ান/পর্চা।
​ওয়ারিশ কায়েম সনদ বা উত্তরাধিকার সনদ (যদি সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়)।
​নামজারি (মিউটেশন) খতিয়ান এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদ (যদি থাকে)।

​একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: আদালতে মামলা করার আগে অংশীদারদের মধ্যে একটি রেজিস্টার্ড 'আপস-বণ্টননামা দলিল' (Amicable Partition Deed) করার চেষ্টা করা সবচেয়ে ভালো। এতে সময় এবং অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। সেটি সম্ভব না হলেই কেবল শেষ পদক্ষেপ হিসেবে বাটোয়ারা মোকদ্দমার আশ্রয় নেওয়া উচিত।

16/07/2026

একজন আইনজীবী অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেন। বিচারক একজন দায়রা জজ। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আইনজীবীর মনে হলো, তদন্তে এমন কোনো উপাদান নেই যা দিয়ে অভিযোগ গঠন করা যায়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন অব্যাহতির আবেদন করবেন।

কিন্তু তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এলো।

যেহেতু বিচারক দায়রা জজ, তাহলে কি অব্যাহতির আবেদন দায়রা মামলার বিধান অনুযায়ী হবে?
নাকি অন্য কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে দেখতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে।
প্রথম ধাপ: Special Powers Act কী বলছে?
The Special Powers Act, 1974-এর Section 27(4) স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেয়:

“A Special Tribunal trying an offence under this Act shall try such offence summarily and in trying such offence such Special Tribunal shall follow the procedure laid down in the Code for summary trial of summons cases.”

অর্থাৎ, বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে মামলার বিচার করতে হবে summary trial পদ্ধতিতে এবং সেই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত summons case-এর summary trial-এর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আইন বিচারকের পদমর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়নি; বরং বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপ: Summary Trial-এর পদ্ধতি কোথায়?

এবার আসতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 262-এ।

Section 262 অনুযায়ী:
“In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed…”
অর্থাৎ, summary trial পরিচালনার ক্ষেত্রে Chapter XX-এর বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: Chapter XX-এ কী আছে?
Criminal Procedure Code-এর Chapter XX গঠিত হয়েছে Section 241 থেকে Section 250 পর্যন্ত ধারাসমূহ নিয়ে।

এই অধ্যায়েই রয়েছে Section 241A, যা আদালতকে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে, যদি অভিযোগ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকে।

আইনের যৌক্তিক ফলাফল যেহেতু—

১. Special Powers Act-এর Section 27(4) summary trial বাধ্যতামূলক করেছে;

২. CrPC-এর Section 262 summary trial-এর জন্য Chapter XX অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে;

৩. Chapter XX-এর অন্তর্ভুক্ত Section 241A অব্যাহতির বিধান প্রদান করেছে;

সেহেতু অস্ত্র মামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হোক, বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট হোন বা দায়রা জজ হোন, অব্যাহতির আবেদন দাখিল করতে হবে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 241A অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায় :

১. H.M. Ershad Vs. The State (45 DLR 534)
এই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, মামলাটি যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়, তখন চার্জ গঠনের বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে সমন মামলার অধ্যায় অর্থাৎ Section 241A-এর পদ্ধতিই অনুসরণযোগ্য। বিচারকের পদমর্যাদা উচ্চতর হলেও বিশেষ আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ দায়রা পদ্ধতির (Section 265C) প্রয়োগ এখানে বার (Barred) বা রহিত হয়ে যায়।

২. Md. Sirajul Islam and others Vs. The State (2005 / 22 BLC (AD) 141) বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সমগোত্রীয় অন্যান্য বিশেষ আদালতের বিচার কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপিল বিভাগের এই মামলাটিতে এটি প্রতিফলিত হয়েছে যে— যেখানে বিশেষ বিধান বা সংক্ষিপ্ত বিচারপতির নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে, সেখানে চার্জ শুনানির দিনে আসামিরা Section 241A CrPC-এর অধীনেই অব্যাহতির আবেদন দাখিল করবেন।

ফৌজদারি রিভিশন এখতিয়ারের অসংখ্য নজিরে (যেমন- AKMM Saleh vs State 45 DLR 386) দেখা যায়, যখনই কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের চার্জ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ৫৬১এ (561A) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashing) বা রিভিশন করা হয়, তখন উচ্চ আদালত দেখেন যে নিম্ন আদালতে ২৪১এ (241A) ধারার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কিনা।

অনেক সময় আদালতের বিচারকের পদবী দেখে আইনজীবীরা বিভ্রান্ত হন। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আদালতের নাম নয়, বরং আইন দ্বারা নির্ধারিত বিচার-পদ্ধতি।

অস্ত্র মামলায় Special Tribunal যখন summary procedure অনুসরণ করে বিচার পরিচালনা করে, তখন অব্যাহতির প্রশ্নেও সেই একই পদ্ধতির অংশ হিসেবে CrPC-এর Section 241A-ই প্রযোজ্য হবে।

অতএব, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে গঠিত হলেও অস্ত্র মামলায় অব্যাহতির দরখাস্ত The Code of Criminal Procedure, 1898-এর 241A ধারার অধীনেই দাখিল করতে হবে।

16/07/2026

হয়রানি মূলক চেকের মামলা থেকে বাঁচবেন যেভাবেঃ

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (Negotiable Instruments Act, 1881)-এর ১৩৮ ধারায় চেকে স্বাক্ষর থাকলেই আসামির সাজা এখন আর নিশ্চিত নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ বেশ কিছু যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে—চেক ডিজঅনার মামলার ক্ষেত্রে কেবল চেক উপস্থাপনই যথেষ্ট নয়, বরং এর পেছনের লেনদেনের বৈধতা এবং সত্যতা প্রমাণ করা বাদীর জন্য বাধ্যতামূলক।

উচ্চ আদালতের এমন কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিচে তুলে ধরা হলো, যা ফাঁকা বা জামানতের চেকের মামলায় আসামির খালাস পাওয়ার পথ সুগম করেছে:

১. খণ্ডনযোগ্য অনুমান (Rebuttable Presumption)
যদিও এন.আই অ্যাক্টের ১৩৯ ধারায় বলা আছে, চেক থাকা মানেই ধরে নেওয়া হবে দেনা আছে। কিন্তু উচ্চ আদালত বলছেন, এটি একটি ‘খণ্ডনযোগ্য অনুমান’। আসামি যদি যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ বা পারিপার্শ্বিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে, চেকটি সিকিউরিটি হিসেবে ছিল বা হারিয়ে গিয়েছিল এবং কোনো বাস্তব লেনদেন হয়নি, তবে তিনি খালাস পাবেন।

নজির: মোঃ আবুল কাহের শাহিন বনাম ইমরান রশিদ এবং অন্যান্য, ২৫ বিএলসি (এডি), ১১৫।

২. বাদীর আর্থিক সামর্থ্য ও উৎসের প্রমাণ
বাদী চেকে উল্লেখিত বড় অঙ্কের টাকা আসামিকে দেওয়ার সামর্থ্য রাখতেন কি না, সেটি এখন আদালতের বড় বিবেচ্য বিষয়। নগদ টাকা দিয়ে থাকলে তার আয়ের উৎস এবং ইনকাম ট্যাক্স (Income Tax) ফাইলে সেই টাকার উল্লেখ আছে কি না, তা যাচাই করা হতে পারে। কোনো লিখিত চুক্তিপত্র বা বিশ্বস্ত সাক্ষী ছাড়া শুধু চেকের ওপর ভিত্তি করে মামলা হলে, আদালত আসামিকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ (Benefit of Doubt) বা সন্দেহের সুবিধা দিয়ে খালাস দিতে পারেন।

৩. মহাজনি ঋণ ও সুদের কারবার
অনেক সময় মক্কেলকে বা ঋণগ্রহীতাকে চাপে ফেলে অথবা অবৈধ সুদের ব্যবসার বিপরীতে ব্ল্যাঙ্ক (ফাঁকা) চেক লিখে নেওয়া হয়। বাদী যদি আদালতে বৈধ লেনদেন বা টাকা হস্তান্তরের অকাট্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে আদালত একে “পাওনা টাকার অস্তিত্বহীনতা” হিসেবে গণ্য করবেন এবং আসামি দণ্ড পাবেন না।

নজির: ৬৪ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৪২০।

৪. জামানত বা সিকিউরিটি চেক
ব্যবসা বা অন্য কোনো চুক্তির জামানত (Security) হিসেবে চেক দেওয়া হলে এবং সেই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত না হলে, চেক ডিজঅনার হলেও ১৩৮ ধারায় সাজা দেওয়া যাবে না।

নজির: আব্দুল আওয়াল বনাম রাষ্ট্র, ৬৩ ডিএলআর (আপিল বিভাগ), পৃষ্ঠা ৭২।

৫. প্রতিদানহীন চেক কার্যকর নয়
আইন অনুযায়ী, প্রতিদান (Consideration) বা কোনো বিনিময় মূল্য ছাড়া যেমন চুক্তি হয় না, তেমনি প্রতিদান ছাড়া কোনো হস্তান্তরযোগ্য দলিলও কার্যকর হয় না। মামলার বাদী যদি দেনা-পাওনা বা বৈধ লেনদেনের কোনো ভিত্তি প্রমাণ করতে না পারেন, তবে আসামি খালাস পাবেন।

নজির: লোকমান বনাম আয়ুব আলী এবং রাষ্ট্র, ৩৮ বিএলডি, পৃষ্ঠা ৬১৬-৬২০।

একটি জরুরি সতর্কতা
উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তগুলো মূলত ভুয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে সাধারণ মানুষকে আইনি সুরক্ষার জন্য। তবে মনে রাখতে হবে—যদি উভয় পক্ষের মধ্যে বৈধ চুক্তি থাকে এবং লেনদেনটি ব্যাংকিং চ্যানেল বা কোনো অকাট্য দালিলিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়, তবে চেক ডিজঅনারের শাস্তি (১ বছরের কারাদণ্ড ও চেকের অঙ্কের তিন গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড) আগের মতোই কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

লেখক: সিরাজ প্রামাণিক, আইনজীবী (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট), আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও গবেষক।
ই-মেইল: [email protected]

সৌজন্যেঃ lawyersclubbangladesh portal.

16/07/2026

কোম্পানি নিবন্ধনের নিয়মঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ওপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সরকারও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রণোদনা গ্রহণ করছে। কিন্তু বাস্তবে এখনও অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করলেও যথাযথ আইনি কাঠামোর গুরুত্ব উপলব্ধি করেন না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি হতে পারে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

বর্তমানে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক কাঠামোগুলোর একটি। ব্যবসার আইনি সুরক্ষা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাংকিং সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের জন্য অনেক উদ্যোক্তা এখন ব্যক্তিগত মালিকানা বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company) গঠনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে কোম্পানি নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (Companies Act, 1994) অনুযায়ী একটি কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয়। নিবন্ধনের পর কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা (Separate Legal Entity) লাভ করে এবং নিজ নামে সম্পদ অর্জন, চুক্তি সম্পাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

লিমিটেড কোম্পানি কী?
লিমিটেড কোম্পানি হলো এমন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের বিনিয়োগকৃত শেয়ারের পরিমাণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে কোম্পানির ব্যবসায়িক দায় বা ক্ষতির কারণে সাধারণত মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে না। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানি একটি জনপ্রিয় কাঠামো।

বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে: ১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company): নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অধিক উপযোগী ও বহুল ব্যবহৃত। ২. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company)

কেন লিমিটেড কোম্পানি করবেন?
স্বতন্ত্র আইনি সত্তা: কোম্পানি মালিকদের থেকে পৃথক একটি আইনি পরিচয় লাভ করে এবং নিজ নামে মামলা ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

সীমিত দায়ের সুবিধা: শেয়ারহোল্ডারদের দায় সাধারণত তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি: নিবন্ধিত কোম্পানির প্রতি ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা তুলনামূলক বেশি থাকে।

বিনিয়োগ সংগ্রহে সুবিধা: নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সহজেই দেবদূত বিনিয়োগকারী (Angel Investors) বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল যুক্ত করা যায়।

ব্যবসার ধারাবাহিকতা: পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তন বা মৃত্যুবরণ করলেও কোম্পানির কার্যক্রম ও অস্তিত্ব অব্যাহত থাকে।

কোম্পানি নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্য ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়:

পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট

পাসপোর্ট সাইজ ছবি

ই-টিআইএন (e-TIN) সনদ

নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানা (Registered Office Address)

অনুমোদিত মূলধন (Authorised Capital) ও পরিশোধিত মূলধনের (Paid-up Capital) তথ্য

Memorandum of Association (MOA) ও Articles of Association (AOA)

সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর।

কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের প্রধান ধাপসমূহ
ধাপ ১- নামের ছাড়পত্র (Name Clearance) : RJSC-এর অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কোম্পানির জন্য একটি অনন্য ও প্রস্তাবিত নামের অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়। নাম অনুমোদিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
ধাপ ২- MOA ও AOA প্রস্তুতকরণ : MOA (Memorandum of Association): এতে কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি ও ব্যবসার ধরন উল্লেখ করা হয়। AOA (Articles of Association): এতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা, শেয়ার হস্তান্তর, বোর্ড সভা পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিধান নির্ধারণ করা হয়।
ধাপ ৩- অনলাইন আবেদন ও ফি প্রদান : RJSC-এর নির্ধারিত পোর্টালে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড করে মূলধন অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হয়।
ধাপ ৪ – যাচাই ও নিবন্ধন সনদ লাভ: RJSC কর্তৃপক্ষ দাখিলকৃত কাগজপত্র ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে Certificate of Incorporation (নিবন্ধন সনদ) ইস্যু করে। এর মাধ্যমে কোম্পানি আইনগতভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
নিবন্ধনের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয়
কোম্পানি ইনকর্পোরেশন হওয়ার পরপরই ব্যবসা শুরু করার জন্য নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে:

ট্রেড লাইসেন্স: সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোম্পানির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

টিআইএন (TIN) ও বিআইএন (BIN) নিবন্ধন: কোম্পানির নিজস্ব নামে ই-টিআইএন গ্রহণ করতে হবে এবং ভ্যাট (VAT) প্রযোজ্য হলে বিআইএন (BIN) নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ব্যাংক হিসাব: কোম্পানির নামে একটি পৃথক ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খুলে সকল আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা উচিত।

হিসাবরক্ষণ ও অডিট: কোম্পানি আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সঠিক হিসাব বই সংরক্ষণ ও প্রতি বছর লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা অডিট সম্পন্ন করতে হবে।

বার্ষিক রিটার্ন দাখিল: প্রতি বছর নিয়মিতভাবে RJSC-তে Annual Return (Schedule X), Shareholding সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য রিটার্ন ও নোটিশ দাখিল করতে হয়।

উদ্যোক্তাদের সাধারণ কিছু ভুল ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি
সতর্কতা: অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। বাস্তবে কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত আইনি বাধ্যবাধকতা বা কমপ্লায়েন্স (Compliance) বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত Annual Return দাখিল না করা, Tax ও VAT সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা অবহেলা করা, শেয়ার হস্তান্তরের নিয়ম অনুসরণ না করা কিংবা ভুল Object Clause ব্যবহার করার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা বা জরিমানা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে Financial Service, Microcredit, Investment, Fintech, Insurance, Education, Healthcare বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য RJSC নিবন্ধনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ লাইসেন্স বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ইত্যাদি) অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোম্পানি গঠনের পূর্বেই অভিজ্ঞ আইনজীবী বা করপোরেট কনসালট্যান্টের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

উপসংহার
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে শুধু ভালো পণ্য বা সেবা থাকলেই সফলতা নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও আইনসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি। একটি নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি ব্যবসাকে যেমন আইনি সুরক্ষা প্রদান করে, তেমনি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজারের কাছে প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি করে। তাই ব্যবসার শুরুতেই সঠিক আইনি কাঠামো নির্বাচন এবং পরবর্তীতে নিয়মিত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা একজন সচেতন উদ্যোক্তার অন্যতম দায়িত্ব। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই, স্বচ্ছ ও সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবসা গড়ে তুলতে লিমিটেড কোম্পানি কাঠামো নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

লেখক: হাসানুর রহমান।
অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা।

Address

Room No. 1109 (10th Floor), Annex Building No. 03 (Dhaka Bar Association), 15 Court House Street, Kotwali
Dhaka
1100

Telephone

+8801711231268

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate M Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Advocate M Hasan:

Shortcuts

Share