16/09/2025
****অনলাইন প্রতারণা****
মিসেস সাবরিনা অনেকদিন ধরে একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার ইচ্ছে করছিলেন। একদিন ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে চোখে পড়ল একটি অনলাইন পেজের বিজ্ঞাপন। দাম বাজারের চেয়ে কিছুটা কম, সাথে আকর্ষণীয় অফারও দেওয়া ছিল। পেইজের অ্যাডমিন বললেন—“বুকিং কনফার্ম করতে হলে অগ্রিম টাকা পাঠাতে হবে।”
সাবরিনা ভেবেছিলেন এমন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেওয়া মানে নিশ্চয়ই নিরাপদ তাই তিনি বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিলেন। দিন যায়, সপ্তাহ যায় কিন্তু ফোন আর আসে না। ধীরে ধীরে সাবিনা বুঝতে পারলেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
👉এখন তার কি করণীয় এবং আইনগত সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার আছে কিনা ?
আজকের দিনে এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। কেউ জামাকাপড় অর্ডার করে পাচ্ছেন না, কেউ অগ্রিম টাকা দিয়ে আসবাবপত্র পাচ্ছেন না, আবার কেউ চাকরির অফারে টাকা দিয়ে সব হারাচ্ছেন। কিন্তু আশার কথা হলো এখন আর এ ধরনের প্রতারণা চুপ করে মেনে নেওয়ার দিন শেষ।
বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যকর হয়েছে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, যা অনলাইনে প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রচার বা ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই আইনের আওতায় অপরাধীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড—উভয় শাস্তিই দেওয়া সম্ভব।
এছাড়া দণ্ডবিধির ধারা ৪২০ (Cheating) অনুযায়ী প্রতারণার মামলা করা যায়। যদি বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয় তবে ধারা ৪০৬ (Criminal Breach of Trust) প্রযোজ্য হয়। একইসাথে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ ব্যবহার করে প্রতারকের কাছ থেকে টাকা ফেরত আদায়ের সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট-এ সরাসরি অনলাইনে অভিযোগ জানানো যায়, অথবা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দায়ের করা যাবে, এসব জায়গায় যদি কোন কারনে মামলা না গ্রহণ করেন তাহলে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।
সাবরিনার ঘটনা আলাদা কিছু নয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারও হয়তো অর্ডার করা পণ্য আসে না, কারও আসে ভাঙা বা নকল জিনিস, কারও আবার অগ্রিম টাকা নিয়েই বিক্রেতা উধাও হয়ে যায়। অনেকেই লজ্জা বা ঝামেলার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে—অভিযোগ না করলে প্রতারক আরও সাহসী হয়ে ওঠে এবং নতুন নতুন ভুক্তভোগী তৈরি হয়।
👉এই ঘটনা আপনার সাথে ঘটলে আপনার করণীয় কী?
প্রথমত, সব প্রমাণ সংরক্ষণ করুন টাকা পাঠানোর রিসিট, চ্যাট বা কল রেকর্ড, ফেসবুক পেজের লিংক। এরপরে থানায় অথবা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট-এ অভিযোগ দায়ের করেন তারা কোন কারনে অভিযোগ গ্রহণ না করিলে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে সরাসরি আদালতে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ মামলা দায়ের করুন।
👉শেষকথা
আপনারা সাবরিনার মতো অনেকেই টাকা দিয়ে পণ্য পাননি, কিংবা টাকা ফেরতও পাননি। হয়তো অনেকেই চুপচাপ মেনে নিয়েছেন—কিন্তু এতে প্রতারকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এখন সময় এসেছে আইন ব্যবহার করে ন্যায্য প্রতিকার পাওয়ার।
মনে রাখবেন, চুপ থাকলে প্রতারণা বাড়বে, অভিযোগ করলে প্রতারণা কমবে।
নিজেকে রক্ষা করুন, অন্যকেও রক্ষা করুন।
Al MAHAMUD RAJIB
যোগাযোগ: 01675881964
www.ainbisharod.com