Ibn akand Law & Associates 01711921416

Ibn akand Law & Associates 01711921416 Ibn akand law & Associates

ঢাকা অফিস
বাড়ী ১২ রোড ৩৩ সেক্টর ৭ উত্তরা ঢাকা
মোবা- ০১৭১১৩৩৭০১৯

ময়মনসিংহ অফিস
০১৭১১৩৩৭০১৯

07/01/2025
অভিনন্দন !  সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
29/12/2021

অভিনন্দন !
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

10/12/2021

আর্টিকেল
রীট (Writ) বিষয়ক সহজ আলোচনা
রীট কি? রীটের উৎপত্তি হয়েছে কোথা থেকে? রীট পিটিশন (Writ Petition) কি? রীট জারীর এখতিয়ার কোন আদালতের? রীটের প্রকারভেদ কিংবাএবং হাইকোর্ট বিভাগ স্ব-উদ্যোগে [suo motu] রীট জারি করতে পারে কিনা? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের আলোচনা। এছাড়া রীট সম্পর্কিত বিখ্যাত মামলাসহ সরকারি কর্মচারী চাকরি হারালে রিট করতে পারেন কি-না এসব বিষয়ে সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি।
রীট [Writ] রীট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত আদেশ। সর্বপ্রথম রীট (Writ) শব্দটির উৎপত্তি হয় বৃটেনে। বৃটেনের রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা অফিসারদেরকে নিজ নিজ কার্যাবলী পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোন অবৈধ কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য রীট জারী করত। পরবর্তীতে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণে ও কাজে সংক্ষুব্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা বিশেষাধিকারবলে তার অফিসারদের উপর রীট জারি করত। এক কথায় রীট হল এমন এক আদেশ যার মাধ্যমে আদালত কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হত বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে।
রীট পিটিশন (Writ Petition) সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য যে পিটিশন দায়ের করে, তা রীট পিটিশন নামে পরিচিত। সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন (আবেদন) দায়ের করতে পারে। রীট পিটিশন দায়ের করা একটি মৌলিক অধিকার। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অথবা তার পক্ষে কোন ব্যক্তি অধিকারবলে (as of right) রীট পিটিশন দায়ের করতে পারে। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য আদালত ৫ ধরনের আদেশ দিতে পারেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দেওয়া এই ৫ ধরনের আদেশকে রীট আদেশ বলা হয়ে থাকে।
রীট জারীর এখতিয়ার সংবিধান শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগকে একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। আদি এখতিয়ার মানে বিচারিক আদালত হিসেবে যে এখতিয়ার প্রয়োগ করা হয়। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে তা রীট এখতিয়ার নামে পরিচিত।
রীটের প্রকারভেদ বাংলাদেশ সংবিধানে পাঁচ ধরনের রীটের কথা বলা আছে। যথা:
(১) Writ of Habeas Corpus (হেবিয়াস কর্পাস)
(২) Writ of Mandamus (ম্যান্ডামাস)
(৩) Writ of Prohibition (প্রহিবিসন)
(৪) Writ of Certiorari ( ছারসিওরারি)
(৫) Writ of Quo Warranto (কুয়া ওয়ারেন্টো)
(১) বন্দী প্রদর্শন রীট (Writ of Habeas Corpus): যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রীট পিটিশন দায়ের করা যায়। কোন ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কেউ আটক করলে কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানার জন্য বন্দীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ আটককারীকে যে আদেশ দিয়ে থাকেন তাকে বন্দী প্রদর্শন রীট বলে। অবৈধভাবে কাউকে যেন আটক করা না হয়, সেজন্য বন্দী প্রদর্শন রীট জারী করা হয়। তাছাড়া নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করার জন্য ও এই রীট জারী করা হয়।
(২) হুকুম জারী রীট (Writ of Mandamus): হুকুম জারী রীটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতকে আইনগত দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিতে পারে। তার মানে কোন অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় বা অস্বীকার করে তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে উক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে বাধ্য করে তাকে হুকুম জারী রীট বলে। হুকুম জারী রীটের আরেক নাম পরমাদেশ রীট।
(৩) নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of Prohibition): এই রীটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাইব্যুনাল কিংবা আদালতকে বেআইনী কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ দিতে পারে। বৃটেনে নিষেধাজ্ঞামূলক রীটকে বিচার বিভাগীয় রীট বলা হয়। কারণ এই রীট শুধু মাত্র কোন বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যায়। যেমন- আইন কমিশনকে আধা-বিচার বিভাগীয় সংস্থা বলা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে নিষেধাজ্ঞামূলক রীটকে আর বিচার বিভাগীয় রীট বলা যায় না। কারণ ইহা বর্তমানে বাংলাদেশে যেকোন ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যায়।
(৪) উৎপ্রেষণ রীট (Writ of Certiorari): অধস্তন আদালত ক্ষমতা বহির্ভূত কোন কাজ করেছে কিনা তা তদারকি করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এই রীট জারী করা হয়। কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল,ব্যক্তি বা সংস্থা যদি তার আইনগত ক্ষমতাকে লংঘন করে কিংবা principle of natural justice যদি ভঙ্গ করে তবে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত কাজ নাকচ করে দেয় তাকে উৎপ্রেষণ রীট বলে।
নোট: নিষেধাজ্ঞামূলক রীট ও উৎপ্রেষণ রীটের মধ্যে পার্থক্য আছে। যখন কোন কর্তৃপক্ষ বেআইনী কাজ করেনি কিন্তু করতে উদ্যত হচ্ছে তখন নিষেধাজ্ঞামূলক রীট জারী করা হয়। আর যেখানে কোন কর্তৃপক্ষ বেআইনী কাজ করে ফেলেছে সেখানে উৎপ্রেষণ রীট জারী করা হয়। তার মানে নিষেধাজ্ঞামূলক রীট হল প্রতিরোধক (Preventive) আর উৎপ্রেষণ রীট হল সংশোধক (Curative)। নিষেধাজ্ঞামূলক রীট ক্ষমতা বহির্ভূত কাজকে শুরুতেই বাধা প্রদান করে। আর Writ of Certiorari এর উদ্দেশ্য হল ক্ষমতা বহির্ভূত কাজকে বাতিল বা নাকচ করে দেয়া।
(৫) কারণ দর্শাও রীট (Writ of Quo Warranto): কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন সরকারী পদ দাবী করে, যে পদের যোগ্যতা তার নেই অথবা অবৈধভাবে যদি কোন সরকারী পদ দখল করে বসে থাকে, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে তার পদ দখলের বা দাবীর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে থাকে তাকে কারণ দর্শাও রীট বলে। এই রীটের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সরকারী পদ দাবীর বৈধতা অনুসন্ধান করে। সরকারী পদের দাবী অবৈধ প্রমাণিত হলে উচ্চ আদালত তাকে পদচ্যুত করার নির্দেশ দিতে পারে। একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন। কারণ দর্শাও রীট যেকোন ব্যক্তি করতে পারে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সংক্ষুব্ধ (aggrieved) হবার প্রয়োজন নেই। দাবীকৃত সরকারী পদটি অবশ্যই সংবিধান বা আইন দ্বারা সৃষ্ট পদ হতে হবে।
নোট: তিন ধরনের রীট একমাত্র সংক্ষুব্ধ (aggrieved) ব্যক্তি করতে পারে। অন্য কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষ হয়ে এই তিন ধরণের রীট করতে পারে না। রীটের নামগুলো হল হুকুমজারী রীট, নিষেধাজ্ঞামূলক রীট এবং উৎপ্রেষণ রীট। এই তিনটি রীট একমাত্র সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিই করতে পারে। অপরদিকে বন্দী প্রদর্শন রীট এবং কারণ দর্শাও রীট যেকোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে হতে পারে। এই দুইটি রীট করতে কোন ব্যক্তিকে সংক্ষুব্ধ হবার প্রয়োজন নেই।
হাইকোর্ট বিভাগের স্ব-উদ্যোগে [suo motu] রীট জারির এখতিয়ার কোন পত্র বা তথ্যে বা সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগের স্ব-উদ্যোগে [suo motu] রীট জারি করার এখতিয়ার সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে বলা নেই। তবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ The Supreme Court of Bangladesh (High Court Division) Rules,1973 এর ১০ বিধি অনুযায়ী কোন পত্র বা তথ্যে বা সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে স্ব-উদ্যোগে [suo motu] রীট জারি করতে পারে। এটাকে হাইকোর্ট বিভাগের Epistolary Jurisdiction বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই জনগণের মারাত্মক ক্ষতি হতে যাচ্ছে বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হতে হবে। Tayeeb vs Bangladesh (২০১৫) মামলায় আপীল বিভাগ মতামত দেন, কারো মৌলিক অধিকার লংঘন হলে হাইকোর্ট বিভাগ স্ব-উদ্যোগে [Suo motu] রীট জারী করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে great public importance থাকতে হবে। সংবাদপত্রের রিপোর্ট, কোন তথ্যকে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এক্ষেত্রে রীট এপ্লিকেশন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রীট সম্পর্কিত বিখ্যাত মামলা
*মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ (১৯৯৬) এই মামলা ফ্যাপ-২০ (পরিবেশ বিষয়ক) মামলা নামেও পরিচিত। এই মামলার রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনস্বার্থমূলক মামলা (Public Interest Litigation) করার আনুষ্ঠানিক দ্বার খুলে যায়। আপীল বিভাগ এই মামলায় বলেন- “Aggrieved Person” কথাটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে অর্থাৎ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বুঝায় না বরং এটা জনসাধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত। তার মানে “Aggrieved Person” বলতে জোটবদ্ধ বা সমষ্টিগত ব্যক্তিকেও বুঝায়। *মোখলেছুর রহমান বনাম বাংলাদেশ [২৬ DLR ১৯৭৪,(AD)৪৪] রীটের জন্য আবেদন প্রসঙ্গে “সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি” কথাটি এই মামলায় উদারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবেদনকারী ব্যক্তি কাজী মুখলেছুর রহমান বাংলাদেশের বেড়ুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন না। হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটিকে অসময়োচিত (Pre-mature) বলে খারিজ করে দেন। আপীল বিভাগ আবেদনকারীর আবেদন করার যোগ্যতাকে [লোকাস স্ট্যান্ডি(Locus Standi) বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি] বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বৈধতা দেয়।
চাকুরী থেকে অপসারিত একজন সরকারী কর্মচারী তার অপসারণের বিরুদ্ধে রীট দায়ের করতে পারে কিনা? নিয়ম অনুযায়ী সরকারী চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি করে থাকেন। চাকুরী থেকে অপসারিত একজন সরকারী কর্মচারী ইচ্ছা করলে তার অপসারণের বিরুদ্ধে উৎপ্রেষণ রীট (Writ of Certiorari) দায়ের করতে পারেন। এই রীটের মূল কথা হলো, কোন অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তি তার আইনগত ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করে কিংবা স্বাভাবিক ন্যায়-নীতি ভঙ্গ করে তবে হাইকোর্ট বিভাগে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। এই ধরনের আবেদনের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগ অপসারণ আদেশ বৈধ কিনা তা যাচাই করে দেখতে পারেন। সরকারী কর্মকর্তাকে যদি অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়ে থাকে তাহলে উক্ত অপসারণ আদেশকে হাইকোর্ট বিভাগ অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন।
রীট সম্পর্কে একটা সামগ্রিক আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এই আলোচনা থেকে আপনারা কিছুটা উপকৃত হলেও আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।

10/12/2021

রিট কি (What is Writ) ? জেনে নিন রিট মামলার A টু Z
=====================================
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদঅনুযায়ী কারো মৌলিক লঙ্গিত হলে হাইকোর্টতা বলবত করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে যা হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার নামে পরিচিত ।

রিট (Writ) শব্দের অর্থ হল আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বিধান বা আদেশ। রিটের উৎপত্তি ও বিকাশ ইংল্যান্ডে। প্রথমে রিট ছিল রাজকীয় বিশেষাধিকার(royal prerogative)। রাজা বা রানী বিচারের নির্ধারক হিসাবে(fountain of justice) হিসাবে রিট জারী করতে পারত।

একমাত্র রাজা বা রানীর রিট জারী করার অধিকার ছিল বলে একে প্রথমে বিশেষাধিকার রিট বলা হত।রাজা বা রানী তাদের কর্মচারী বা অফিসারদের কার্যবালি পালনে বাধ্য করার জন্য বা কোন অবৈধ কাজ হতে বিরত রাখার জন্য রিট জারী করতেন।

পরবর্তিকালে রাজা বা রানীর এই বিশেষাধিকার নাগরিকদের অধিকারে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণ ও কাজে ক্ষুদ্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা বা রানী তাদের বিশেষ অধিকার বলে রিট জারী করত। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তি কালে রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসাবে ইংল্যান্ডে দুধরনের আদলত গঠিত হয় যেমন, চ্যান্সারী আদালত (court of chancery) এবং কিংস বেঞ্চ (kings bench) এসব আদালত নাগরিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রীট জারী করত।

বাংলাদেশের সংবিধান হাইকোর্ট বিভাগকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে। সেটি হল রিট জারীর এখতিয়ার। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের এই এখতিয়ারকে রিট জারীর এখতিয়ার বলে। অর্থাৎ রিট শুধু মাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জারী করতে পারে। কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত অধিকারবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মৌলিক অধিকার বলবত করার জন্য কতিপয় আদেশ নির্দেশ জারী করতে পারে, তাকে রিট বলে।

রিট ৫ প্রকারঃ
বন্দী প্রদর্শন রিট,
পরমাদেশ বা হুকুমজারি রিট,
নিষেধাজ্ঞামুলক রিট,
উৎপ্রেষণ রিট ও
কারণ দর্শাও রিট ।

আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমুহ বলবৎ করার জন্যে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তারমানে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে কতিপয় মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ বা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা নাগরিক হিসেবে আমি আপনি সবাই সমানভাবে ভোগ করার অধিকার রাখি।

কি আছে সেসব মৌলিক অধিকারের তালিকায়? মৌলিক অধিকারগুলো জেনে নেয়া যাক। অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সবাই সমান আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। অর্থাৎ এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের মধ্যে আইনের সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যখনই কেউ আইনের সাম্য নষ্ট করেন তার বিরুদ্ধে এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, অন্তত কেতাবি অর্থে।

অনুচ্ছেদ ২৮, সকল ধর্ম, বর্ণ, নারী পুরুষ ও জন্মস্থান ভেদে রাষ্ট্র যেন বৈষম্য না করতে পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ২৯, সরকারী পদে নিয়োগ লাভে সকল নাগরিকের সাম্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩১, সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া ব্যতীত কোন নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ পুলিশ চাইলেই যে কাউকে তুলে নিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়া শুরু না করে কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারবে না।

অনুচ্ছেদ ৩২, যথাযথ আইনই প্রক্রিয়া ছাড়া কোন নাগরিকের ব্যক্তি ও জীবনের স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।

অনুচ্ছেদ ৩৩, এখানে ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে রক্ষাকবচ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের কারণ যথাশীঘ্র উল্লেখ না করে আটক রাখতে পারবে না এবং তাকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। তাছাড়া, আটকের পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করবে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য। তবে যদি তাকে কোন নিবর্তন মূলক আইনে আটক করা হয় বা সেই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের শত্রু হয় তবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। এটি সংবিধানের মূল ধারার সাথে সাংঘর্ষিক হলেও নিবর্তন মূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। কেনইবা এই স্ববিরোধীতা?

অনুচ্ছেদ ৩৪, এর মাধ্যমে বাধ্যতামুলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ জোর করে কাউকে দিয়ে শ্রম আদায় করতে পারবে না। এই অনুচ্ছেদে দুটি ব্যতিক্রম আছে- যেমন শ্রম যদি কারাভোগের অংশ হয় তাহলে বাধ্যতামূলক শ্রম আদায় করা যাবে আর দ্বিতীয়টি হল যদি জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তা আবশ্যক মনে হয়। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মনে করবে বাধ্যতামুলক শ্রম জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রয়োজন তা কোথাও উল্লেখ নেই। এখানে আইনের অস্পষ্টতা রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৫, এর মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধের বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে যদি কোন কাজ অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে তাহলে পরবর্তীতে নতুন আইন করে সেই কাজকে অপরাধ হিসেবে সজ্ঞায়িত করে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। একে আমরা ইংরেজিতে বলি “রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট”, এই নিয়ম পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে। একই অনুচ্ছেদের ২ নং উপ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার অভিযোগের মাধ্যমে বিচার ও দণ্ড দেয়া যাবে না। অর্থাৎ কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির একবারই বিচার হবে। এই অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এতে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ “রিমান্ড” নামক ভয়ানক পদ্ধতির মাধ্যমে যেসব স্বীকারোক্তি আদায় করেন এবং সেসব স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? আইনের এই সাংঘর্ষিক অবস্থান বজায় রেখেই চলছে আমাদের ফৌজদারি শাসন ব্যবস্থা।

অনুচ্ছেদ ৩৬, এতে নাগরিকের আইনসংগত ভাবে বসবাস ও চলাফেরার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৭, এতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সভা সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৮, এর মাধ্যমে আইনসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংগঠন করার অধিকার দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৩৯, এর মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৪০, এর মাধ্যমে পেশা বা বৃত্তি নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪১, এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিধান করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৪২, এর মাধ্যমে সম্পত্তির উপর নাগরিকের অধিকার এবং সেই সম্পত্তি রাষ্ট্র যেন বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ ও দখল করতে না পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৪৩, এর মাধ্যমে আইনগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের গৃহে প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিরাপত্তাসহ চিঠিপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার দেয়া হয়েছে।

এবার আসি রিট নিয়ে মূল আলোচনায়। আগেই বলেছি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ মহামান্য হাইকোর্ট-কে কতিপয় ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দিয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে অনুচ্ছেদটি হুবহু তুলে দেয়া হল-

“অনুচ্ছেদ ১০২(১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।

(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন; অথবা
(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে- (অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন।”
উপরের অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়- হাইকোর্ট বিভাগ এমন কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন যেখানে অন্য কোন আইনের মাধ্যমে কোন প্রকার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার আইনী প্রতিকার লাভের জন্য সর্বনিম্ন এক্তিয়ারাধীন আদালতে অভিযোগ দায়ের করবেন। যদি তিনি নিম্নআদালত সমুহের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হন তবে তিনি উপরের আদালতে যাবেন।

অতএব দেখা যায়, সাধারণত হাইকোর্ট অভিযোগ দায়ের করার জন্য প্রাথমিক আদালত নয়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে হাইকোর্ট প্রাথমিক বা বিশেষ অধিক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। তেমনই একটি অধিক্ষেত্র হল এই রিট।

অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ) অনুসারে, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্ট, প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আইন বহির্ভূত কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য আদেশ দেয়া হয়।

পক্ষান্তরে, এই অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশ আইনের দ্বারা তাঁর করণীয় কার্য করবার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে পারে। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নির্দেশনার সহাবস্থান রয়েছে এই অনুচ্ছেদে যা দুটি স্পষ্ট ক্ষেত্র নির্দেশ করে যাতে হাইকোর্ট তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। উদাহারণ স্বরূপ ধরা যাক- আপনি গ্রামে থাকেন, সেখানে সরকার নতুন রাস্তা বানাতে চায়। সেজন্য জমি অধিগ্রহণ করা দরকার।

সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মূল কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি কমিশনার। তিনি প্রত্যাশী সংস্থার কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর ভুমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ভুমি অধিগ্রহণের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে তাদেরকে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ৩ ধারা মোতাবেক নোটিশ প্রদান করবেন। সেই নোটিশ পাওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তা শুনবেন এবং সেসব আপত্তি নিষ্পত্তি করে তিনি উক্ত আইনের ৭ ধারায় ক্ষতিপূরণ গ্রহনের জন্য নোটিশ প্রদান করে ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। দেখা গেল- আপনি ৩ ধারার নোটিশ পাননি। যেসব প্রক্রিয়ায় নোটিশ জারি করার কথা আইনে বলা হয়েছে তা মোটেও অনুসরণ করা হয়নি। আপনি সরাসরি ৭ ধারার নোটিশ পেলেন। এটি নিশ্চয়ই সুনির্দিষ্ট আইনের লঙ্ঘন। এখন বোঝা দরকার এতে কোন মৌলিক আইনটি ভঙ্গ হয়েছে? এক্ষেত্রে প্রধানত ভুমি অধিগ্রহণ আইন এবং সে সাথে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৪২ নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে, যা ১০২(২)(ক)(অ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

এর পরে আছে, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ), যাতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে
রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হয়েছে বা গৃহীত হয়েছে ও তাঁর কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট আদেশ দিতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারীর আইন বহির্ভূত কাজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) অনুসারে, যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করে কোন ব্যক্তিকে আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে প্রহরায় আটক রাখা হয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন। এটি সাধারণত বেআইনি আটকাদেশের বিরুদ্ধে নাগরিকের রক্ষাকবচ। কিন্তু নানান অজুহাতে বেআইনি আটক বন্ধ হয়নি। এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এক অব্যর্থ অস্ত্র বিধায়, আমাদের দেশের রাজনীতির গুণগত মান পরিবর্তন না হলে এর ব্যবহার কখনো বন্ধ হবে বলেও মনে হয় না।

অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে- হাইকোর্ট বিভাগ, কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলে বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত আছেন বলে দাবী করছেন, তা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

উপরের আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় বেশ স্পষ্ট, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-(আ) এর অধীনে আবেদন করতে গেলে কোন ব্যক্তির নিজের সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-(আ) এর অধীনে যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টের নিকট আবেদন করতে পারবেন।

এছাড়া, আরও একটি বিষয় পরিস্কার করে বোঝা দরকার তা হল- কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রিট মামলা চলে না। প্রতিপক্ষ হতে হবে রাষ্ট্র কিংবা তার কোন অঙ্গে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী।

আমাদের সংবিধান মূলত ব্রিটেন, ভারত ও মালয়েশিয়ার সংবিধানের আদলে রচনা করা হয়েছে। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি কতটা সঠিক বা কার্যকর সেপ্রশ্ন ভিন্ন, কিন্তু এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহের যথাযথ সংরক্ষণ হচ্ছে কিনা সেটিই দেখার বিষয়। যেহেতু ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তাই, কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যদি আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে তাহলে, আপনি রিট মামলা দায়ের করতে পারবেন না।

আপনাকে যেতে হবে, দেওয়ানী আদালতে, যার দীর্ঘ প্রক্রিয়া আমদের কেবল নিরুৎসাহিতই করে না, বিচার প্রক্রিয়ার অসাড়তাও নির্দেশ করে। ধরে নেয়া যাক- আপনি একটি প্রাইভেট মেডিকেলে ডাক্তার হিসেবে কর্মরত আছেন। আপনি ৫ বছর সুনামের সাথে কাজ করার পর, ম্যানেজমেন্ট যদি কোন কারণে আপনার উপর ক্ষিপ্ত হন, তাহলে কোন প্রকার কারণ প্রদর্শন ছাড়াই আপনাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার মনে হতেই পারে, এটি যদি সরকারী মেডিকেলে হয় তাহলে কি হবে? সহজ উত্তর তিনি রিট করার সুযোগ পাবেন, যার ফলাফল মোটামুটিভাবে দ্রুত। সাম্যের নামে এই অসাম্য কেন, তার উত্তর আমার জানা নেই।

উপরের আলোচনাটি মূলত সংবিধানের আলোকে রিট মামলার করার বিধান বিষয়ে সীমাবদ্ধ। এতে যৌক্তিক বিশ্লেষণ তেমন একটা নেই। রিট মামলা করতে পারার বিধান আর এর মাধ্যমে সত্যিকারের প্রতিকার পাওয়া এক বিষয় নয়। বর্তমানে সাধারণের স্বার্থে এর ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহারও করা হচ্ছে। উদাহারণ হিসেবে ধরা যাক, সুন্দরবনের রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে অক্টোবর মাসে দায়সারাভাবে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়।

আপাত দৃষ্টিতে এই রিট মামলা দায়ের করার পেছনে বৃহৎ জনগণের স্বার্থ মনে করা হলেও দেখা যায় মামলাটি করার পূর্বে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তার প্রভাব সম্পর্কে কোন প্রকার গবেষণা করা হয়নি। ফলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি। শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে এর ভবিষ্যৎ। এতে যারা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করে আসছিলেন তাদের পক্ষ থেকে মামলা করার সুযোগটি নষ্ট হয়ে গেল। কেননা, একই বিষয়ে দুটি মামলা চলতে পারে না (যদি ভিন্ন কোন প্রতিকার চাওয়া না হয়)।

অনেক সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতাসীন সরকারগুলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন না ঘটিয়ে রাজনৈতিক বিচারে প্রজাতন্ত্রের কার্যাদি নির্বাহ করার কারণে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটছে। বিগত পাঁচ বছরে কিংবা তারও আগের পাঁচ বছরে, কি পরিমাণ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও,এস,ডি, বা কাজবিহীন অবস্থায় পাঁচটি বছর জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করেছেন তা থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে। নির্বাচন আসন্ন এবং পরবর্তী সরকার আসার পর এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা যায়। এছাড়াও, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলো তাদের কার্য নির্বাহ করার সময় অনেকক্ষেত্রে এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্বই হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধার দেখভাল করা সেখানে রাষ্ট্র নিপীড়কের ভুমিকা নেয়ার ফলে আদালতের কাছে সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর গত্যান্তর থাকে না।

যে কারণে বর্তমানে মামলার সংখ্যা যেখানে পৌঁছেছে তার চূড়ান্ত নিস্পত্তি হতে সময় লাগবে অন্তত আগামী দশটি বছর। তাহলে মামলা করে কি লাভ হয়? এই ভাবনাটি মামলা দায়ের করার পূর্বের ভাবনা। এর সাথে মামলা দায়ের, পরিচালনা ও অপরাপর প্রক্রিয়া যুক্ত আছে। আপনি কি চান এবং কি পেতে পারেন তার ধারনার উপরই এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভরশীল। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এখানে কিছুটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রথমত জানা দরকার, রিট মামলা দায়ের করার পর প্রথম শুনানির দিন কি আদেশ বা নির্দেশ পাওয়া যায় এবং সেটির আলাদা কোন গুরুত্ব আছে কি না? রিট মামলার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রিট মামলা করার পেছনে কারণ থাকে প্রাথমিক শুনানির দিনই যেন অপর পক্ষের কোন কাজের বিরুদ্ধে রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়। “রুল” হল “কারণ দর্শানো নোটিশের” আদালতি ভাষা। দরুন আপনি শুধু মাত্র “রুল” পেলেন প্রাথমিক শুনানির দিন। তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার মামলাটি মূলত ঝুলে গেল। এই মামলা সকল নোটিশ জারি করার পর চূড়ান্ত শুনানির জন্য তৈরি হতে সময় লাগবে এবং যে পরিমাণ মামলা বিভিন্ন কোর্টের তালিকায় এখন চূড়ান্ত শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ আছে তাতে, কোন কোর্ট নতুন কোন মামলা নিতে আগ্রহী হবেন কিনা সন্দেহ। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চূড়ান্ত শুনানি না হওয়ার কারণে অনেক সময় মামলা করার মূল উদ্দেশ্যই হারিয়ে যায়। যেমন ধরুন, আপনি কোন এক সরকারী বিভাগে কর্মরত আছেন।

নিয়ম অনুযায়ী আপনার পদোন্নতি হবার কথা, অথচ আপনাকে পদোন্নতি না দিয়ে আপনার পরের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিকে পদোন্নতি দিয়ে দিল। আপনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট মামলা দায়ের করলেন, আপনি সেই নিয়োগের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেলেন না, কেবল “রুল” পেলেন। মামলাটি ঝুলে রইল। ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ডিপার্টমেন্ট আপনাকেও পদোন্নতি দিল। এক্ষেত্রে ধরে নেয়া যাক, আইন আছে যে, একই বছরের মধ্যে যদি পদোন্নতি হয় তবে আপনার সিনিয়রিটি বজায় থাকবে। তাহলে আপনার রিট মামলা করার আর কোন প্রয়োজনীয়তা থাকে না। এক্ষেত্রে আদালতে আবেদনকারীর এবং রাষ্ট্রের যে ব্যয় তা পুরোটাই নেতিবাচক ব্যয়।

তবে রিট মামলার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান পাওয়ার তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করতে হয় “মাজদার হোসেন” মামলার কথা, যার মাধ্যমে আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়, তাছাড়াও সাম্প্রতিক কালে এমন অসংখ্য মামলার নজির আছে যার মাধ্যমে দেশে অনেক সমস্যার যুগান্তকারী সমাধান পাওয়া গেছে। সেসব নিয়ে পরে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল।

ছোট্ট করে একটু বলে নেয়া দরকার- আদালতের কোন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ যদি কেউ ভঙ্গ করেন তাহলে কি হবে? এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার জন্য নতুন করে একটি মামলা হয় আদেশ/নির্দেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে, তাতে আদালত মামলার বিষয়বস্তুর আলোকে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক আদেশ দিতে পারেন। এসব মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমাধান হচ্ছে ভুল স্বীকার করে শর্তহীন ক্ষমা চাওয়া। অভিযোগের কোন একটি বিষয়ে যদি আপনি আপত্তি করেন তবে সেই মামলা উভরপক্ষের শুনানির মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথমোক্ত সমাধানই বেছে নিতে দেখা যায়।

রিট বিষয়টি অনেক বিস্তৃত একটি আইনী বিধান। এত স্বল্প পরিসরে এর পূর্ণ আলোচনা সম্ভব নয়। কিন্তু সাধারণ পাঠক কিছুটা ধারণা অন্তত এই লেখার মাধ্যমে পেতে পারেন, যা আরও জানার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে।

10/12/2021

মানুষকে সুষ্ঠু, স্বাধীন এবং সুশৃংখলভাবে পরিচালনার জন্য যে নিয়ম-কানুন তৈরি করা হয় তাকে আইন বলে। আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ Law যা Lag নামক শব্দ থেকে উদ্ভূত। Lag এর আভিধানিক অর্থ স্থির, অপরিবর্তনীয় এবং যা সর্বত্র সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইন হলো সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক বলবৎযোগ্য বিধান, যা সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়

15/11/2021

বিবাহ বিচ্ছেদ ঠেকাতে বিয়ের আগে করণীয়।।

বিয়ের আগে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
বিয়ের মাধ্যমে দু’জনের মধ্যে আত্মার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তবে দাম্পত্য বিভিন্ন কারণে সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা কিংবা রোগব্যাধির কারণে অনেক সময় বিয়ের পর দু’জনের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

বিয়ের আগেই যদি কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায় তাহলে আর দ্বিধা-দন্দ্বের মধ্যে থাকতে হয় না। এ কারণে বিয়ের আগে হবু বর ও কনের কয়েকটি মেডিকেল পরীক্ষা করা জরুরি। জেনে নিন কোন পরীক্ষাগুলো করবেন-

এইচআইভি

বিয়ের আগে হবু বর ও কনের এইচআইভি পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে রক্ত, শরীরের সিরাম নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা রোধকারী ভাইরাসের উপস্থিতি জানা যায়।

এইচআইভি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এই ভাইরাস শরীরে থাকলে তার থেকে এইডস পর্যন্ত হতে পারে। অনেকেই আগে থেকে শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পান না।

ফলে ওই ব্যক্তি যৌন সম্পর্ক করলে তা সঙ্গীর শরীরে এমনকি গর্ভের সন্তানেরও হতে পারে এইডস। যদি হবু বর বা কনের কারও এইচআইভি সংক্রমণ থাকলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কয়েকবার ভাবা উচিত।

নারীর ওভারি পরীক্ষা

বর্তমানে অনেক নারীই বেশি বয়সে বিয়ে করেন। আবার অনেক নারীদের জীবনযাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন। অনেকেই এখন ধূমপান, মদ্যপান বা অন্যান্য নেশায় আসক্ত। তাই বিয়ের আগে নারীরর ওভারি টেস্ট করানো একান্ত প্রয়োজন।

ওভারিতে সমস্যা থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণু তৈরির পরিমাণ কমতে শুরু থাকে। তাই বিয়ের পর সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে।

বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা

ভবিষ্যতে সন্তান হবে কি না তা জানতে হবু বর ও কনে দু’জনারই বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এই পরীক্ষা করলে পুরুষের শুক্রাণুর স্থিতি ও কাউন্ট কতটা আছে তা জানা যায়। সময় থাকতে থাকতে এর চিকিৎসাও করা যায়।

জেনেটিক টেস্ট

বিয়ের আগে হবু বর ও কনে উভয়েরই জেনেটিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এই পরীক্ষা করলে জানা যাবে আপনার হবু সঙ্গীর কোনো জিনঘটিত সমস্যা আছে কি না।

এসটিডি পরীক্ষা

নারী-পুরুষ উভয়েরই এসটিডি বা যৌন রোগের পরীক্ষা করা উচিত। বিয়ের আগে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক থাকলে এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যায়।

রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা

হবু বর ও কনের রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে গর্ভাবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে বিয়ের আগে দু’জনেরই আরএইচ ফ্যাক্টর একই হওয়া দরকার।

ব্লাড ডিসঅর্ডার পরীক্ষা

বিয়ের আগে নারীর ব্লাড ডিসঅর্ডার পরীক্ষা করানো উচিত। এই পরীক্ষা করালে জানা যাবে হবু কনে রক্তাল্পতায় ভুগছেন কি না। কারণ সন্তান ধারণের জন্য শরীরে রক্তের পরিমাণ ঠিক থাকা দরকার।

থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা

বিয়ের আগে হবু বর ও কনের থ্যালাসেমিয়ার পরীক্ষাও জরুরি। দু’জনের মধ্যে একজনের শরীরেও যদি এই রোগ থাকে তাহলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা

একটি সুখী দাম্পত্য জীবন গড়তে দু’জনকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। বর্তমানে অনেকেই মানসিক নানা সমস্যায় ভোগেন।

কেউ হয়তো অতিরিক্ত রাগ করেন, আবার কারও সন্দেহপ্রবণতা বেশি, হঠাৎ হতাশ হয়ে পড়া, অবসন্নতা ইত্যাদি সমস্যা মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।

তাই বিয়ের পর ঝামেলা এড়াতে আগেই সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানুন পরীক্ষার মাধ্যমে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Address

House-12 Road/33 Sector-7 Uttara
Dhaka
1230

Telephone

01711921416

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ibn akand Law & Associates 01711921416 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ibn akand Law & Associates 01711921416:

Share