Human Law Icon

Human Law Icon প্রচলিত আইন ও প্রতিকার সম্পর্কে জানত?

06/05/2023

টিআইএন কী কাজে লাগে
১. ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে

২. গাড়ির মালিক হতে

৩. সিটি করপোরেশনের অঞ্চলে থাকা কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন রেজিস্ট্রেশন করতে

৪. ক্রেডিট কার্ড পেতে

৫. কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনতে

৬. নিজের কোম্পানি নিবন্ধন করতে

৭. কোনো পণ্য আমদানির লাইসেন্স নিতে

৮. মুক্ত পেশাজীবী যেমন হিসাবরক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের পেশার চর্চা করতে

৯. নির্বাচনে প্রার্থী হতে

১০. ব্যবসায়িক সমিতি বা কোনো নিবন্ধিত সংগঠনের সদস্য হতে

১১. সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দরপত্রে অংশ নিতে এবং রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে গাড়ি দিতে।

টিআইএন থাকার প্রথম সুবিধা হচ্ছে, আপনি ট্যাক্স প্রদানকারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন।
টিআইএন থাকার প্রথম সুবিধা হচ্ছে, আপনি ট্যাক্স প্রদানকারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন।
টিআইএন থাকার সুবিধা
টিআইএন থাকার প্রথম সুবিধা হচ্ছে, আপনি ট্যাক্স প্রদানকারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। এরপর আপনার আয়ের সীমায় কর দেবেন, যে টাকা দিয়ে সরকার দেশ চালাবে। অনেক আগে যখন আয়কর বা মূল্য সংযোজন করের মতো বিষয়গুলো ছিল না। সরকার জমি থেকে খাজনা আদায় করত, তাই দিয়ে দেশের রাস্তা তৈরি, স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি সেবা চলত। কিন্তু এখন মানুষের আয়ের বৈচিত্র্যের কারণে সরকারকে আয়করের মাধ্যমে দেশ চালানোর অর্থ সংগ্রহ করতে হয়।

টিআইএন নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে আপনি গর্বিত করদাতা হবেন। এ ছাড়া টিআইএন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার থাকলে ব্যাংক আপনার গচ্ছিত অর্থ থেকে ১০ শতাংশ কর কাটবে, যদি না থাকে তবে কাটা যাবে ১৫ শতাংশ। ধরুন, এর মধ্যে আপনি কোথাও থেকে কোনো উপহার বা পুরস্কারের অর্থ পেলেন, যা ব্যাংকের মাধ্যমে আপনাকে দেওয়া হলো, সে ক্ষেত্রেও টিআইএনধারীরা ১০ শতাংশ কর কেটে অর্থ হাতে পাবেন, আর যাঁদের টিআইএন নেই, তাঁদের কাটা হবে ১৫ শতাংশ।

এমনিতে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন প্রয়োজন হয় না; তবে আপনি যদি ব্যাংকঋণ নেন, তবে টিআইএন থাকতেই হবে। সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পেশাজীবী বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে, যার কোনোটাই টিআইএন ছাড়া পাওয়া সম্ভব না।

টিআইএন করা খুবই সহজ একটি কাজ। এর জন্য কোনো অফিসে যাওয়া লাগে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফরম পাওয়া যাবে। এরপর মুঠোফোন নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র, সদ্য তোলা এক কপি ছবি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলে ঘরে বসেই ই-টিআইএন নাম্বার পাওয়া যাবে।
কারা টিআইএন সার্টিফিকেট নেবেন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আপনি যদি মাসে ১৬ হাজার টাকার সমান অর্থ আয় করেন, তবে আপনার টিআইএন থাকা আবশ্যক। এমনিতে পুরুষদের বছরে তিন লাখ, সব বয়সের নারী এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিক সাড়ে তিন লাখ এবং প্রতিবন্ধীদের বছরে সাড়ে চার লাখ টাকার ওপরে আয় না হলে কর দিতে হয় না। এর ওপর আয় হলে কর দেওয়া বাধ্যতামূলক।
যদি আপনি করসীমার নিচে থাকেন, তবে টিআইএন দেখিয়ে শূন্য বিবরণী জমা দিতে হয়। যদিও টিআইএন প্রয়োজন হয়, এমন কোনো ক্ষেত্র আপনার থাকে, যেমন গাড়ির মালিকানা বা কোনো সংগঠনের সদস্যপদ, তাহলে করযোগ্য আয় না থাকলেও টিআইএন সার্টিফিকেট থাকতেই হবে।

টিআইএন কীভাবে করবেন
টিআইএন করা খুবই সহজ একটি কাজ। এর জন্য কোনো অফিসে যাওয়া লাগে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফরম পাওয়া যাবে। এরপর মুঠোফোন নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র, সদ্য তোলা এক কপি ছবি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলে ঘরে বসেই ই-টিআইএন নাম্বার পাওয়া যাবে। এমনকি যাঁদের আগে টিআইএন নাম্বার নেওয়া ছিল, তাঁরাও পুরোনো নাম্বার দিয়ে টিআইএন পেতে পারেন। এই সার্টিফিকেট সংরক্ষণ করতে হবে।

সাকসেশন সার্টিফিকেট কী:সাকসেশন সার্টিফিকেট হচ্ছে মৃত ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংকে জমানো টাকা, কোম্পানীর শেয়ার, ডিবে...
26/04/2023

সাকসেশন সার্টিফিকেট কী:

সাকসেশন সার্টিফিকেট হচ্ছে মৃত ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংকে জমানো টাকা, কোম্পানীর শেয়ার, ডিবেঞ্চার, রয়্যালটি সর্বোপরি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার প্রমাণ করার প্রমাণপত্র। সাধারণত নিজেকে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তারাধিকার প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজন হয় এই ডকুমেন্টের। সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ এর ধারা ৩৭০-৩৮৯ এ সাকসেশন সার্টিফিকেট এর ব্যপারে বলা আছে। এই আইনে সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহনের জন্য আবেদনের কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করা নেই।

কীভাবে সংগ্রহ করবেন:

সার্টিফিকেটটি পাবার জন্য জেলা জজ এর আদালতে যথাযথ কাগজপত্র সহ আবেদন করতে হয়। এ আবেদনে অবশ্যই মৃত ব্যাক্তির মৃত্যুর সময়, বাসস্থান, সব বৈধ উত্তরাধিকার, ঋণ এবং সম্পত্তি যে জন্য সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে তার সস্পূর্ণ বিবরণ থাকতে হয়।

যে সকল কাগজপত্র সরবরাহ করতে হবে:

সাকসেশন সার্টিফিকেট পাবার জন্য চেয়ারম্যান বা কমিশনার এর কাছ থেকে ওয়ারিশিয়ান সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা চেয়ারম্যান অফিস বা কমিশনারের কাছ থেকে প্রয়াত ব্যক্তির মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করুন। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে যে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে, সে মর্মেও একটি প্রত্যয়নপত্র লাগবে। মৃত ব্যক্তি যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সেখান থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করুন। এছাড়া, মৃত ব্যক্তি কোন ব্যাংকে কত টাকা রেখে গেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে তার একটি সনদ বা ব্যালেন্স কনফারমেশন লেটার ওঠাতে হবে। এই সমস্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে একজন দক্ষ লিগ্যাল এক্সপার্ট কিংবা আইনজীবীর সহায়তা নিন এবং তাকে সমস্ত ডকুমেন্ট সরবরাহ করুন। এছাড়া আবেদনকারী, মৃত ব্যক্তিসহ সকল ওয়ারিশদের ভোটার আইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপিও সরবরাহ করা ভাল। কেননা এই সকল কাগজপত্রাদি আইনজীবী আবেদনের সাথে আদালতে দাখিল করবেন।

লিগ্যাল সাপোর্ট
সমস্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে একজন দক্ষ লিগ্যাল এক্সপার্ট কিংবা আইনজীবীর সহায়তা নিন
যিনি আবেদন করতে পারবেন
মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রত্যেকে কিংবা তাদের পক্ষে যিনি প্রপার্টি বুঝে নেবেন, তিনি আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সাকসেশন মামলা জেলা জজ আদালত বা জেলা জজের মনোনীত অন্য কোনো আদালত নিষ্পত্তি করেন। ঢাকায় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে এ সনদ-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কাজেই ঢাকার ক্ষেত্রে তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা দায়ের করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে একটি হলফনামা দিতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—

১। তিনি মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে কী হন

২। মৃত ব্যক্তির এ টাকা কাউকে দান বা উইল করে যাননি

৩। উইলের জন্য কোনো প্রবেট বা লেটার অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দরখাস্ত দাখিল করে যাননি

৪। তাঁকে অন্য উত্তরাধিকারীরা টাকা তোলার ক্ষমতা দান করেছেন।

এক্ষেত্রে, মৃত ব্যক্তির টাকার হিসাবের বিবরণও তফসিল আকারে দিতে হবে।

আদালতে আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ে আদালত আবেদনকারীর জবানবন্দি নেবেন এবং সকল তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন। এসময়, আদালত মৃত ব্যক্তির নিকট আত্বীয়দের নোটিশ প্রদান করে কারো কোন দাবি/আপত্তি আছে কিনা তা জেনে নিয়ে থাকেন। কারো কোন আপত্তি থাকলে এই সময়েই সেই আপত্তি দাখিল করতে হয়। কারো কোন আপত্তি না থাকলে আদালত আবেদনকারীর পক্ষেই সাকসেশন সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন।

কত টাকা খরচ হতে পারে:

আদালতে সাকসেশন মামলা দায়ের করার পর আদালত উত্তারাধিকার সনদের আবেদন মঞ্জুর করলে কোর্ট ফি দাখিল করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যাংক থেকে কত টাকা ওঠানোর জন্য আবেদন করছেন, তার ভিত্তিতে কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়। আইনজীবির ফি ব্যাতিত দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনো কোর্ট ফি দিতে হয় না। কিন্তু ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত এক শতাংশ কোর্ট ফি দিতে হয়। আবার এক লাখ এক টাকা থেকে যে কোনো পরিমাণ অর্থের ওপর দুই শতাংশ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। কোর্ট ফি জমা দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ে আদালত থেকে সনদ ইস্যু করা হয়।

আইনি পরামর্শ ও প্রয়োজনেঃ
চেম্বারঃ
এডঃ আতিকুল ইসলাম আতিক
জজ কোট ঢাকা
কেরানীগঞ্জ, রোহিতপুর
মোবাইলঃ ০১৮১৭১০১৫০২

17/08/2016

বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার
প্রতিটি দেশের সংবিধানেই মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট। তৃতীয় ভাগের শুরুতে অর্থাৎ ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না। আর যদি করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ ইচ্ছা করলেই মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।
আইনের দৃষ্টিতে সমতা
সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে নাগরিকদের কীভাবে দেখা হয়, সে বিষয়ে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইনের দৃষ্টিতে প্রতিটি নাগরিক সমান।
অবস্থানগত কারণে বৈষম্য
ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বাসস্থান বা পেশাগত কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। মৌলিক এ অধিকারের বিষয়ে সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে অধিকার
২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সবার সমান সুযোগ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার
রাষ্ট্রের যেকোনো নাগরিকের আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার আছে উল্লেখ করে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না যাতে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পদের ক্ষতি হয়।
বিনা বিচারে আটক
কোনো ব্যক্তিকে আটক করা নিয়ে নির্দেশনা আছে ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে। এতে বলা হয়েছে, বিনা কারণে কাউকে আটক করা যাবে না। কোনো কারণে কাউকে আটক করা হলে, সেটির কারণ জানিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কোনো অবস্থায় তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় হাজতে রাখা যাবে না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্শ্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আটক ব্যক্তিকে হাজির করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
জোরপূর্বক শ্রম
ফৌজদারি অপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামি না হলে অথবা জনগণের বৃহৎ স্বার্থে আবশ্যক না হলে কাউকে জোর করে কোনো কাজ করানো যাবে না। এ বিষয়টি বলা হয়েছে ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে।
বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ
কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার অবশ্যই ওই সময়ে প্রচলিত আইনে করতে হবে বলে ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। এক অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না।
এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার রয়েছে। কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না।
সমাবেশ, সংঘটন ও চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ ছাড়া দেশের যেকোনো স্থানে অবাধ চলাফেরার, দেশত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতা রয়েছে নাগরিকদের। ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়গুলোর উল্লেখ করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদগুলোতে জনস্বাস্থ্য ও জনশৃঙ্খলার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো সমাবেশ বা সংগঠনের অধিকার প্রতিটি নাগরিকেরই রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা রয়েছে। ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবাদক্ষেত্রগুলোতেও এ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা
যেকোনো নাগরিক আইন অনুযায়ী যেকোনো কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বাছাই করতে পারবে বলে ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা
প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে বলে ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, কাউকে জবরদস্তি করে কোনো ধর্ম পালনে বা পাঠদানে বাধ্য করা যাবে না।
সম্পত্তির অধিকার
আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিক সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর করতে পারবে বলে ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
গৃহ ও যোগাযোগের অধিকার
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের নিজ গৃহে নিরাপত্তা লাভের অধিকার থাকবে। ৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়টির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নাগরিকদের চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হলে করণীয়
যে কোনো কারণে মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২(১) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের মাধ্যমে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবেশদূষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নদীদূষণ, নির্মাণের ফলে শব্দদূষণ...
13/08/2016

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবেশদূষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নদীদূষণ, নির্মাণের ফলে শব্দদূষণ, বায়ু চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ পরিবেশদূষণে আক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্তরা জানে না, এর বিরুদ্ধে কীভাবে প্রতিকার চাইতে হবে? এ বিষয়ে আইন ও পৃথক আদালত থাকা সত্ত্বেও ধারণা না থাকায় প্রতিকার চাইতে পারেন না। নিচে কী কী কাজ পরিবেশদূষণের আওতায় পড়বে এবং কীভাবে প্রতিকার চাইতে হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো :
ঘটনা-১
মেহেদী হাসান একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। থাকেন রাজধানীর মগবাজার এলাকায়। তিনি যে বাসায় থাকেন, তার পাশে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে তিন মাস ধরে। দিন-রাত চলছে এই কাজ। ফলে প্রচুর শব্দ তৈরি হচ্ছে আশপাশে। দিনে মেহেদী হাসান সাহেব অফিসে থাকেন, তাই দিনের বেলার এই শব্দদূষণ তাঁকে সহ্য করতে হয় না। কিন্তু সন্ধ্যার পরও রাত ৩টা পর্যন্ত অনবরত কাজ চলে এই ভবনে। মেহেদী হাসান সাহেব জানেন না, রাতের বেলায়ও নির্মাণকাজ করা এবং শব্দদূষণ তৈরি আইনত অপরাধ। এবং তিনি জানেন না, কীভাবে এই অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।
ঘটনা-২
সিরাজনগর গ্রামের অধিবাসীরা পার্শ্ববর্তী হাঁড়িধোয়া নদীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকায় নদীর পানি ফুটিয়ে পান করেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও গ্রামবাসী নদীর পানিতে গোসল করেন, কাপড়চোপড় ধুয়ে থাকেন এবং এই পানিতেই গোসলের কাজ সারেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে হাঁড়িধোয়া পানি এসব কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীর তীরঘেঁষে একটি ডাইংমিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কারখানা থেকে প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য এসে পড়ছে নদীর পানিতে। পানি খাওয়া দূরের কথা, নদীর পানিতে সাঁতার কাটাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সিরাজনগর গ্রামের অধিবাসীরা এখন কী করবেন? তাঁরা কি ডাইং মিলটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবেন?
পরিবেশ আইনে বিচার
দেশের পরিবেশ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলার বিচারের জন্য ২০১০ সালে প্রণীত হয়েছে পরিবেশ আদালত আইন। এ আইনে পরিবেশ-সংক্রান্ত যেকোনো মামলার বিচারের জন্য তিন ধরনের আদালত প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। প্রথমত. স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দ্বিতীয়ত. পরিবেশ আদালত ও তৃতীয়ত. পরিবেশ আপিল আদালত।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও বিচার
পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০-এর ৫ ধারা অনুসারে, দেশের প্রতিটি জেলায় পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য একটি বা তার বেশি স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রয়েছে। একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর নিয়মিত অন্য কাজের পাশাপাশি পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করেন। প্রথমে নিকটবর্তী থানায় এজাহার দায়ের করে মামলার কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। থানায় মামলা গ্রহণ না করলে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এজাহার দায়ের করার পর অভিযোগটির তদন্ত করে এ আদালতের কাছে জমা দেওয়া হলে তবেই মামলার বিচার শুরু হবে। যেসব মামলার বিচারের ক্ষমতা এ আদালতের নেই, সেসব মামলা আমলে নিয়ে এ আদালত তাঁর বিচারের জন্য ঊর্ধ্বতন পরিবেশ আদালতে প্রেরণ করেন।
এ আদালতের বিচারক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে পারবেন। মামলা দায়েরের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে আইনের ৬ ধারায়।
পরিবেশ আদালতে বিচার
পরিবেশ আইনের ৪ ধারামতে, প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক পরিবেশ আদালত রয়েছে। যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারককে এ আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি তাঁর দৈনন্দিন কাজের অতিরিক্ত হিসেবে কিংবা নিবিড়ভাবে কেবল পরিবেশ-সংক্রান্ত মামলার বিচার করবেন । এ আদালত দুই ধরনের মামলার বিচার করবে।
প্রথমত, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে যেসব মামলা পরিবেশ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে সেগুলো; দ্বিতীয়ত, ক্ষতিপূরণের জন্য কোনো দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা, যা কোনো নাগরিক সরাসরি এ আদালতে দায়ের করেছেন।
পরিবেশ আপিল আদালতে বিচার
পরিবেশ আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ পরিবেশ আপিল আদালতে তার আপত্তি উত্থাপন করে আপিল করতে পারবেন। সারা দেশে এক বা একাধিক আপিল আদালত প্রতিষ্ঠা করতে পারে সরকার। জেলা জজ বা দায়রা জজ পর্যায়ের কেউ এ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিবেশ আদালতের আইন
২০১০ সালের পরিবেশ আদালত আইনটি প্রণয়ন করার আগে ২০০০ সালের একটি পরিবেশ আদালত আইন কার্যকর ছিল। সে আইনে সরাসরি কোনো নাগরিক পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতেন না। সংক্ষুব্ধ নাগরিক প্রথমত পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতেন। এর পর মহাপরিচালক প্রয়োজন বোধ করলে ওই বিষয়টিকে আদালতে নিয়ে যেতেন। কিন্তু নতুন আইনে নাগরিককে বিশেষ বিশেষ অবস্থায় সরাসরি মামলা দায়েরের অধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যেকোনো মামলা গ্রহণ করবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। সুতরাং নাগরিকের প্রথম দায়িত্ব হলো পরিবেশ-সংক্রান্ত বিষয় প্রতিকারের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের দ্বারস্থ হওয়া। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরে কোনো নাগরিক আবেদন করার পরও যদি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, সে ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সরাসরি আদালতের সহায়তা চাইতে পারেন। আদালত তাঁর আবেদন গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে মামলাটি বিচারের জন্য আমলে নিতে কিংবা পরিদর্শক তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
আদালতে বিচার হয় যেভাবে
পরিবেশ আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—দুই ধরনের মামলা করা যায়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫সহ অন্য বিভিন্ন পরিবেশ আইনে পরিবেশ-সংক্রান্ত অপরাধের সংজ্ঞা ও সাজার বর্ণনা দেওয়া আছে। সেসব অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতে যে মামলা করা হবে, সেগুলো হবে ফৌজদারি। আর পরিবেশের ক্ষতি করার অপরাধে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারেন। এ ধরনের মামলা হবে দেওয়ানি প্রকৃতির। ফৌজদারি প্রকৃতির মামলার বিচারে ফৌজদারি কার্যবিধি আর দেওয়ানি প্রকৃতির মামলার বিচারে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করা হবে।
পরিবেশ আদালতের সমস্যা
আইন অনুসারে দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও বর্তমানে সাকল্যে মাত্র তিনটি পরিবেশ আদালত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে কাজ করছে। পরিবেশ আপিল আদালত রয়েছে ঢাকায় একটি। দেশের সর্বত্র পরিবেশদূষণ দারুণভাবে বৃদ্ধি পেলেও আইন প্রণয়নের পাঁচ বছর পরও জেলায় জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপিত হয়নি। যে তিনটি আদালত কাজ করছে, সেখানে তৈরি হয়েছে প্রচণ্ড মামলাজট। জনবল স্বল্পতা, পরিবেশ অধিদপ্তরের অসহযোগিতা ইত্যাদি কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন ছাড়া এখন পর্যন্ত আদালত মামলা নিতে চায় না বলে লোকজন এখানে মামলা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিকরা এখনো ঠিকমতো জানে না যে, পরিবেশদূষণের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।

11/08/2016

ফৌজদারি মামলার একটা বড় অংশের কার্যক্রম শুরু হয় থানায় এজাহার দায়েরের মধ্য দিয়ে। আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কোনো নাগরিক থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কোনো কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থানায় মামলা নিতে না চাইলে সংক্ষুব্ধ নাগরিক কী করবেন? সে বিষয়টি তুলে ধরে হলো।
থানায় মামলা
অপরাধ সংঘটনের পর বিচারপ্রার্থীর প্রথম কাজ হলো থানায় মামলা দায়ের করা। এর পর মামলা তদন্তের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারকাজ। পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালীদের চাপে থানার পুলিশ মামলা নিতে চায় না। মামলার বাদী তুলনামূলক দুর্বল হলে থানার পুলিশ এ ধরনের আচরণ করে থাকে বলে অভিযোগ শোনা যায়।
দৃশ্যপট-১
নিজে একজন নারী ও পুলিশ সদস্য। তিনি গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন অপর এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, যিনি তাঁর সাবেক স্বামী। পুলিশ হওয়া সত্ত্বেও ধর্ষণের মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ তা নেয়নি। গত ১১ জুন রাজধানীতে এমনই এক ঘটনা ঘটে।
দৃশ্যপট-২
রেহানাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত তারই সহপাঠী অর্ণব। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে রেহানাকে বাজে প্রস্তাব দেয় অর্ণব। প্রতিবাদ করলে অন্য সহপাঠীদের সামনে তার শ্লীলতাহানি করে বসে অর্ণব। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রেহানা অভিমান করে আত্মহত্যা করে বসে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিষয়টি বর্ণনা করে একটি মামলা করে। মৃত্যুর আগে রেহানা নিজের সুইসাইড নোটে এই পরিণতির জন্য অর্ণবকে দায়ী করে। রেহানার বাবা-মা থানায় গিয়ে এ সুইসাইড নোটটি আমলে নিয়ে অর্ণবকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ তা আমলে নিতে গড়িমসি করে। অর্ণবের বাবা স্থানীয়ভাবে প্রতাপশালী হওয়ায়, আগে থেকেই তিনি থানাকে হাতে রেখেছিলেন। অন্যদিকে নিজের আদরের মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না দেখে রেহানার বাবা-মা ভেঙে পড়েন।
প্রতিকার কী?
এ রকম অবস্থায় আইনের বিধান কী? পুলিশ যদি মামলা নিতে নাই চায়, সে ক্ষেত্রে তাদের বাধ্য করার মতো কোনো সুযোগ আছে কি? হ্যাঁ, চারটি উপায়ে পুলিশের নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধে ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার প্রতিকার পেতে পারেন। পর্যায়ক্রমে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা
থানায় পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে একজন ভালো আইনজীবীর পরামর্শক্রমে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মামলা করলে আদালতে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলাটি রুজুপূর্বক তদন্তের নির্দেশ দেবে এবং আদালতের এ নির্দেশ মানতে বাধ্য। অন্যসব পন্থার মধ্যে এটি সহজতর এবং এতে সময় কম অপচয় হবে, অর্থনীতিক ঝুঁকিও কমবে।
হাইকোর্টে মামলা
দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হলো থানা পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিকার চাওয়া যায়। রিট আবেদনে ভিকটিম বা তার পরিবার থানায় মামলা দায়েরের অনুমতি প্রদান ও আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ প্রার্থনা করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করলে পুলিশ রায় মানতে বাধ্য।
মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ
পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে প্রতিকার চাওয়ার তৃতীয় মাধ্যম হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া বেসরকারি মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ দেওয়া যায়। বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও মানবিক বিষয়গুলো মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন করলে তাঁরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
মামলার পদ্ধতি
নালিশি মামলার ক্ষেত্রে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ প্রথমেই মামলা শুরু করে না। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে মামলা পরিচালনা করবেন। তাই নালিশি মামলার ক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ দায়ের করে পরবর্তী শুনানির দিন যদি সংশ্লিষ্ট বাদী আদালতে হাজির না হয় কিংবা ঘটনা তদন্তের যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হয়, তবে ম্যাজিস্টেট মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন। অভিযোগকারী চাইলে এর বিরুদ্ধে জজ আদালতে বা হাইকোর্টে যেতে পারেন।
করণীয়
পুলিশ থানায় কখনো মামলা নিতে না চাইলে বিচলিত হয়ে নিজেকে অসহায় ভাবার কোনো কারণ নেই। আইনানুযায়ী যে কেউই এ রকম পরিস্থিতিতে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে নালিশি মামলা করে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। তবে আমাদের দেশের বাস্তবতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থীরা থানায় আইনের আশ্রয় না পেলে পুলিশকে এড়িয়ে অজ্ঞতা, দীনতা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার দরুন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তাই এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠেীর জন্য সরকারের আইনি সহায়তা প্রদান কর্মসূচিও ব্যাপক পরিসরে বাড়লে উপকার পাবে সাধারণ মানুষ।

12/11/2015

বিবাহের ৫টি আবশ্যক উপাদান: ১. প্রস্তাব(offer) ২. সম্মতি( Acceptance) 3. সাক্ষ(witness). ৪. মোহরানা(Dower) 5.রেজিস্টার (Registration). বিবাহের গুরুত্ব: মুসলিম আইনে বিবাহের গুরুত্ব কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে. ১. আইন গত ভাবে ২. সামাজিক ভাবে ৩. ধরমই দিক থেকে.

11/11/2015

মুসলিম পারিবারিক আইনের ১৯৬১ এর ১২(১)(ক) ধারা অনুসারে একজন মুসলিম নাবালক এর বিবাহ নিশিদ্দ করা হয়েছে. বাল্য বিবাহ আইনে এর বিধান মতে পুরুষ এর খেত্রে ২১ বছর এবং নারির খেত্রে ১৮ বছর পুরন না হয় সে খেত্রে উক্ত নারি পুরুষ বিবাহ করার যোজ্ঞ হবেনা. কারন তাদের উক্ত শর্ত পুরুন না করাই তাহাদের বিবাহ বাতিল হইবে.

10/11/2015

মুসলিম উত্তরাধীকার আইন সুন্নী:

মির্ত ব্যক্তির দাফন ব্যয়, রীন পরিশোধ এবং উইল বা অসিয়াত এর অঙ্কস প্রদানের পর যে সম্পত্তি থাকবে তা জীবিত অঙ্কশীদারগনকে প্রদান করিতে হইবে।

মাতা: ১/৬. পিতা: ১/৬ স্ত্রী: ১/৮ বা ১/৪ সামি ১/৪ বা ১/২

পুত্র কন্যার ২ভাগ পাবে. ১ কন্যা থাকলে ১/২ একাধিক কন্যা থাকলে ২/৩.

06/11/2015

Address

Dhaka
1310

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Human Law Icon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share