02/03/2026
পরকীয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত ভুল নয়; এটি একটি সামাজিক অপরাধে রূপ নেয় যখন এর ফলে একটি পরিবার ভেঙে যায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয় এবং একজন নির্দোষ মানুষ মানসিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। তাই পরকীয়ার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও কঠোর আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি।
নারী হোক বা পুরুষ—পরকীয়ায় জড়িত থাকলে উভয়ের জন্য সমান শাস্তির বিধান থাকতে হবে। ন্যায়বিচার কখনো লিঙ্গভিত্তিক হতে পারে না।
অসংখ্য ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে একজন মানুষ দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতন, অপমান ও অবহেলার শিকার হন। এই অব্যাহত মানসিক ও শারীরিক অশান্তি অনেককে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যদি প্রমাণিত হয় যে কারও আচরণ, নির্যাতন বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা একজন মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে, তবে সেটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা নয়, বরং গুরুতর অপরাধ হিসেবে কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনা উচিত। কারণ এটি নৈতিকভাবে একটি জীবনের বিনাশের সমান।
এছাড়া, পরকীয়ার কারণে একতরফা তালাক দিয়ে একজন নারী বা পুরুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। এ ধরনের একতরফা তালাকের ক্ষেত্রেও জবাবদিহিতা ও শাস্তির বিধান থাকা উচিত, যাতে কেউ নিজের দোষ ঢাকতে বা দায়িত্ব এড়াতে আইনকে ব্যবহার করতে না পারে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।