22/09/2026
বর্তমান সময়ে শিশু কিশোরদের বখে যাওয়ার অন্যতম কারণ এর মধ্যে একটা হল নাটক সিনেমা। প্রতিটা মানুষ পড়ে যত না শিখে তার চেয়ে বেশি শিখে, দেখে। এখনকার নাটক সিনেমা বেশিরভাগই গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড প্রেম ভালোবাসা, বড় ভাই, এলাকার বড় হেডম, গ্যাংস্টার, মারামারি, মাদক এসব নিয়ে। সিনেমাতে মারামারি করা মদ খাওয়া সিগারেট খাওয়া এগুলো খুব কুলনেস হিসাবে প্রকাশ করে। জোশ একটা লাইফ। এখন স্বাভাবিকভাবেই 6 থেকে 17 বছর বয়স এর বাচ্চারা যখন এসব দেখে তাদের মধ্যে অন্যরকম একটা শরীর গরম কাজ করে।
অ্যানিমেহলিক হবার কারণে ছোটবেলা থেকে আমি খুব এনিমে দেখতাম। আমার অ্যাকশন এবং ফ্যান্টাসি ধরনের এনিমে ভালো লাগে। সুপার পাওয়ার দেখলে মনে হতো ইস আমার যদি এমন পাওয়ার থাকতো আমি এই করতাম ওই করতাম। কিন্তু এনিমে গুলো শুধুমাত্রই অবাস্তব। যার কারনে যতই মনে হোক এই সুপার পাওয়ার দিয়ে সেই করে ফেলব এগুলো হবে না। ম্যাজিক্যাল ডোরেমি, নারুত, পোকেমন, ড্রাগন বল জি, বে ব্লেড এগুলা দেখে নিজেকে সুপার সাইয়ান ফিল হইতো। কিন্তু তখন বাস্তব বিষয় নিয়ে সিনেমায় চলত মিনা কার্টুন। তখনকার দিনে নাটক সিনেমাগুলো বেশিরভাগই ছিল পরিবার ভিত্তিক। বড়দের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি স্নেহ, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা দায়িত্ববোধ, বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা এসব নিয়ে। দিপু নাম্বার টু, আমার বন্ধু রাশেদ, আগুনের পরশমণি, দূরত্ব এসব সিনেমায় মানুষের বাস্তব জীবন এবং দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান নিয়ে বানানো হতো। আর এখনকার বানানো একটা ভালো বলিউড সিনেমা নাই। আর বলিউড থেকেই তো আসে আমাদের দেশের প্রডিউসারদের আইডিয়া কারণ তাদের নিজেদের কোন আইডিয়া নাই। কিসব মাদক খাওয়া মদ খাওয়া মারামারি মহিলা বাজি এসব নিয়ে সিনেমা বানায়। আর এগুলোকে খুব কুল লাইফ হিসাবে প্রকাশ করে। মানুষ মেরে ফেলতেছে মদ খাইতেছে পুলিশ ধরতে পারতেছে না তারপরে পুলিশের সাথেও সেই মারামারি হইতেছে যখন এসব একটা উঠতি বয়সের বাচ্চারা দেখে তাদের মনে এগুলো অন্যরকম ভাবে বিকশিত হয়। আর এসব থেকেই জন্ম হয় 'কিশোর gang' এর।
দেখবেন এই কিশোর গেংদের প্যাটার্ন সেই সিনেমায় দেখানো উগ্র নায়ক গুলোর মতন। এখন এই উগ্র গুলা যখন সিনেমায় নায়ক হয় তখন সবার তো নায়কই হইতে মন চাবে। মাইর খাওয়া পুলিশ অফিসার তো হইতে মন চাবে না। আগের দিনের সিনেমায় মারামারি শেষে পুলিশ আসত আসামিরা ভয়ে সারেন্ডার করে চলে যেত আর এখনকার সিনেমায় পুলিশ আসে, পুলিশের সাথে উগ্র নায়কগুলা মারামারি করে।
ছোটবেলায় মনে হতো আমার যদি একটা পিকাচু থাকতো তাহলে আমার সাথে যে খারাপ আচরণ করছে তাকে পিকাচুর thunderbolt দিয়ে মাটিতে শোয়ায় দিতাম। কিন্তু পিকাচু তো বাস্তবে এক্সিস্ট করে না। কিন্তু এইসব অস্ত্র মাদক এগুলো বাস্তব জীবনে এক্সিষ্ট করে। তাই এখনকার পোলাপান এসব নিজেরা করতে চায়। খুব দ্রুত বেগে বাইক চালানো মানুষকে মেরে ফেলা সিনেমায় যেমন কোন বিষয় না তারা বাস্তবেও এটাকে কোন বিষয় মনে করে না। কারণ সিনেমাতে তো দেখছেন নায়কই এমন। তারা সিনেমা এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনা।
কিন্তু একটা জিনিস আমার মাথায় আসে না দিপু নাম্বার টু দেখে বড় হওয়া জেনারেশন কিভাবে এই মারামারি খুনাখুনি ধরনের সিনেমা বানায়। কেন তাদের মাথায় পরিবার, দায়িত্বশীলতা, বন্ধুত্বের ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এসব সংক্রান্ত স্ক্রিপ্ট মাথায় আসে না। এই জেনারেশন টা এমন ক্র্যাকড হয়ে গেল কিভাবে।
আমাদের এখন সিনেমা বানানো উচিত বাস্তব সংক্রান্ত।
ঈদে যদি পাঁচটা মুভি রিলিজ হয় তার মধ্যে তিনটা থাকে মারামারি আর দুইটা থাকে কোন মেয়েকে কোন ছেলে ভালোবাসে এই রিলেটেড। ভালোবাসা প্রেম পিরিতি ছাড়া সিনেমাই নাই।
অনেকের মনে হতে পারে নাটক সিনেমা দেখে রিক্রিয়েশন হবে এখানেও শিক্ষনীয় ঢুকানোর কি আছে। আছে কারণ শুরুতেই বলেছি মানুষ দেখে শিখতে ভালোবাসে তাই সে যা দেখে সেটাই তার মধ্যে অনুভব করতে চায়।
তাই মিডিয়া প্রডিউসারদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা এই কিশোর সমাজকে ভালো করার জন্য, ভালো পথে রাখা এবং আনার জন্য শিক্ষনীয় মুভি বানান। যে মুভি দেখে বাচ্চাদের মনে পরিবার এর প্রতি দায়িত্বশীলতা, ভালোবাসা এবং অপরাধ যারা করে তাদের কি শাস্তি হয় ও অপরাধীদেরকে সমাজে কিভাবে দেখা হয় সেগুলো তুলে ধরেন। ঈদে যদি পাঁচটা সিনেমা বের হয় তার মধ্যে অন্তত দুইটা সিনেমা যেন থাকে যেগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আদর্শ শিক্ষনিয়।
#কিশোর #পরিবার #বন্ধু #দায়িত্ব