04/08/2026
১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী নারী ও পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করার বিষয়ে আজ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী সকল যোগ্য নারী ও পুরুষ নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রবর্তনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিকট একটি "Notice Demanding Justice" প্রেরণ করেছেন।
নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব , শিক্ষা সচিব , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব , রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সামরিক সচিব , যুব ও ক্রীড়া সচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC), বাংলাদেশ স্কাউট, পুলিশ সদর দপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার এবং দেশের সকল জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি সুসংগঠিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অধিকারী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কোস্ট গার্ড, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)-এর মতো প্রতিষ্ঠিত বাহিনী দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করছে। এই বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করেছেন। তাঁদের প্রশিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত করে জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে অধিক কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করা সম্ভব।
নোটিশে দেশের জনমিতিক বাস্তবতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ। এই বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর একটি বড় অংশ এখনো এমন কোনো সমন্বিত জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নেই, যা তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, শারীরিক সক্ষমতা, দুর্যোগ মোকাবিলা দক্ষতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।
আরও বলা হয়েছে যে, বিশ্বের বহু সার্বভৌম রাষ্ট্র ইতোমধ্যেই নিজ নিজ আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ বা জাতীয় সেবা ব্যবস্থা চালু করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এ ধরনের কর্মসূচি কেবল জাতীয় প্রতিরক্ষাই নয়, বরং নাগরিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশে National Service Ordinance, 1970 বিদ্যমান রয়েছে, যা জাতীয় সেবা সম্পর্কিত একটি আইনগত ভিত্তি প্রদান করে। বর্তমান জাতীয় প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে এই আইনকে আধুনিকায়ন করে নারী ও পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি প্রশিক্ষিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সে কারণে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী যোগ্য নারী ও পুরুষ নাগরিকদের জন্য ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর লক্ষ্যে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; বরং এটি হবে একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ, দলগত কাজের মানসিকতা, আত্মনির্ভরতা এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতা বিকাশ করা হবে।
এছাড়াও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পাইলট প্রকল্প, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা, মানসম্মত পাঠ্যক্রম, যোগ্য প্রশিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ আবাসন, শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সনদ প্রদান এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক তদারকির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী তরুণ-তরুণীরা দেশের জন্য একটি দক্ষ ও প্রস্তুত রিজার্ভ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে উদ্ধার অভিযান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় তাঁরা সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাগরিকরা প্রয়োজনে জনস্বাস্থ্য সংকট, মানবিক দুর্যোগ, রক্তদান কর্মসূচি, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবামূলক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি বা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংবিধান ও আইনের আওতায়, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে, তাঁরা আইনসম্মত প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের একটি সুসংগঠিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের বিদ্যমান সশস্ত্র বাহিনী বা অন্যান্য শৃঙ্খলাবাহিনীর আইনগত দায়িত্বের বিকল্প নয়; বরং তাদের সক্ষমতাকে পরিপূরক হিসেবে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি জাতীয় প্রস্তুতি, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করবে।
নোটিশে বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বৃহৎ যুব জনসংখ্যা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এবং National Service Ordinance, 1970-এ বিদ্যমান আইনগত ভিত্তির আলোকে জনস্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের ওপর সংবিধান ও আইন মেনে চলা, শৃঙ্খলা রক্ষা, জনদায়িত্ব পালন এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের সাংবিধানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই সাংবিধানিক মূল্যবোধ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে নোটিশে মত প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনগত সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, দুর্যোগ ও জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এই কর্মসূচি সেই সাংবিধানিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত কর্মসূচি সংবিধানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে, সমতা, মানবিক মর্যাদা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণকারীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত।
নোটিশে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নাগরিক পর্যায়ে যে সম্ভাব্য সুফল অর্জিত হতে পারে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• ব্যক্তিগত জীবনে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি।
• শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তা উন্নয়ন।
• নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বৃদ্ধি।
• আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরশীলতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন।
• সময় ব্যবস্থাপনা ও লক্ষ্যনির্ভর কর্মপরিকল্পনা তৈরির দক্ষতা বিকাশ।
• নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জরুরি সেবা এবং অন্যান্য পেশায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি।
• ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবহার এবং মৌলিক লজিস্টিক পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মসূচি সমাজে বহুমাত্রিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
• দেশপ্রেম, জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক চেতনার বিকাশ।
• শৃঙ্খলাবদ্ধ যুবসমাজ গঠন।
• মাদক, সহিংসতা ও অপরাধে যুবসম্পৃক্ততা হ্রাসে সহায়তা।
• দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
• ভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি।
• নাগরিক দায়িত্ব, স্বেচ্ছাসেবা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে উৎসাহ সৃষ্টি।
• প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবসমাজকে ইতিবাচক সামাজিক আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু হলে দেশের জন্য বহুমাত্রিক কৌশলগত সুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে প্রশিক্ষিত রিজার্ভ জনশক্তি গঠন।
• নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর সহায়ক একটি দক্ষ রিজার্ভ ফোর্স তৈরি।
• জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।
• সামরিক ও অসামরিক উভয় ধরনের হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
• দুর্যোগপ্রবণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তির অংশগ্রহণ।
• সম্ভাব্য বৈদেশিক হুমকির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা।
• আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, দক্ষ ও প্রস্তুত যুবসমাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করা।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং জাতীয় দায়িত্ববোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ও জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাগরিকরা দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে সাড়া দিয়ে বেসামরিক প্রশাসনের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হবেন এবং দেশের সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবেন।
বিচার প্রার্থনামূলক আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা সামরিক মৌলিক দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি ও ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি পরিচালনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা পরিচালনা এবং অন্যান্য কর্মমুখী দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবসমাজ সাধারণত অধিক দায়িত্বশীল, আত্মনিয়ন্ত্রিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এর ফলে অপরাধপ্রবণতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সহিংস আচরণ হ্রাস পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌম স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় বিশেষ আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করার সাংবিধানিক ক্ষমতা ধারণ করে। এই প্রেক্ষাপটে একটি আইনসম্মত ও সুসংগঠিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রবর্তনের বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে বলে নোটিশে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়াও যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব বিকাশের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি জাতীয় সামরিক প্রস্তুতি কর্মসূচির সহায়ক ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, National Service Ordinance, 1970 বাংলাদেশের জাতীয় সেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
নোটিশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ৩-এ নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকদের জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণের দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ৪-এ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণ স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে এবং ধারা ৬-এ জাতীয় সেবা সম্পন্নকারীদের নিয়ে একটি National Service Reserve গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত রিজার্ভ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
এছাড়া ধারা ১১-এ এমন ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা জাতীয় সেবার জন্য নিবন্ধন করার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা পালন করেননি। নোটিশে এই বিধানগুলোকে একটি আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্ভাব্য আইনগত ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, Junior Cadet Corps Act, 1953-এর ধারা ১১ অনুযায়ী ক্যাডেটদের নির্ধারিত সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিধান রয়েছে এবং ধারা ১২ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই বিধানগুলো বাংলাদেশের আইন কাঠামোর মধ্যে সামরিকধর্মী প্রশিক্ষণের পূর্ববর্তী আইনগত স্বীকৃতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, ১৯৭০ সালের National Service Ordinance মূলত পুরুষ নাগরিকদের জন্য প্রণীত ছিল। বর্তমান সময়ের সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় প্রয়োজনের আলোকে নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে নোটিশে মত প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, মনোসামাজিক সহায়তা এবং প্রশিক্ষণকালীন কল্যাণমূলক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, একটি বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
• জনগণের ইতিবাচক সমর্থন ও অংশগ্রহণ;
• পর্যাপ্ত অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা;
• সংবিধানসম্মত, মানবাধিকারসম্মত এবং পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো।
নোটিশে মত প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই মৌলিক পূর্বশর্তগুলো নিশ্চিত করা গেলে কর্মসূচিটি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের বহু দেশ বর্তমানে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ বা সামরিক সেবা ব্যবস্থা অনুসরণ করছে। উদাহরণ হিসেবে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, রাশিয়া, বেলারুশ, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইসরায়েল, ইরান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কিউবা, মেক্সিকো, মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রচলিত মডেলের উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশ বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী-নির্ভর ব্যবস্থা অনুসরণ করছে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু হলে সরকার বহুমাত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা অর্জন করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
• জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও সুসংহত করা;
• প্রশিক্ষিত বেসামরিক রিজার্ভ বাহিনী গঠন;
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবায় দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধি;
• আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক জনবল সৃষ্টি;
• যুবসমাজের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি;
• জাতীয় ঐক্য, নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জোরদার করা;
• বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা।
নোটিশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিদ্যমান সক্রিয় জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের বর্তমান সামরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা এবং সদস্য দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। নোটিশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)-এর বিদ্যমান সাংগঠনিক সক্ষমতার উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এই মানবসম্পদকে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি জাতীয় প্রশিক্ষণ কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রের জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই সক্ষমতা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জনমিতিক কাঠামো এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অনুকূল। সেখানে সরকারি আদমশুমারি ও জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এই বিশাল যুবশক্তিকে পরিকল্পিতভাবে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা জাতীয় উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের বহু সার্বভৌম রাষ্ট্র বর্তমানে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। মূল নোটিশে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ব্রাজিল, সাইপ্রাস, মিশর, এস্তোনিয়া, গ্রিস, ইরান, ইসরায়েল, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিথুয়ানিয়া, মরক্কো, নরওয়ে, কাতার, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, ভিয়েতনাম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডসহ মোট ৬৫টি দেশের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বয়সসীমা ও প্রশিক্ষণের মেয়াদের তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। নোটিশে এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একটি তুলনামূলক রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয়, বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কেবল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নয়; বরং জাতীয় শৃঙ্খলা, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সংহতি, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব সাংবিধানিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
নোটিশে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান জনসংখ্যাগত শক্তি, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, National Service Ordinance, 1970-এর আইনগত ভিত্তি এবং বিভিন্ন দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রবর্তনের বিষয়টি এখন একটি যৌক্তিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিগত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের একটি কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশকে দুর্যোগ, মানবিক সংকট এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে অধিক প্রস্তুত ও সমন্বিতভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা প্রদান করতে পারে। একই সঙ্গে এটি নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।
নোটিশে উপস্থাপিত তথ্য, পরিসংখ্যান, আইনগত ভিত্তি, আন্তর্জাতিক তুলনা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যুক্তিগুলোর আলোকে নোটিশ প্রেরণকারী মত প্রকাশ করেছেন যে, যোগ্য তরুণ নাগরিকদের জন্য একটি সমন্বিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী যোগ্য নারী ও পুরুষ নাগরিকদের জন্য একটি উপযুক্ত আইনগত কাঠামোর অধীনে সমন্বিত বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রবর্তনের বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
নোটিশে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যে, নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা হোক:
• বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের সামগ্রিক নীতিমালা;
• বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক রোডম্যাপ;
• প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামো;
• প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি;
• বাজেট, অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ পরিকল্পনা;
• সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তবায়ন কাঠামো।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে, নোটিশ প্রেরণকারী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করবেন। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমে এই নোটিশের একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই আইনি নোটিশে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিদ্যমান আইন, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া
অ্যাডভোকেট, আপিল বিভাগ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
মোবাইল: ০১৭১৫-৮১৯৪৫৭, ০১৭১১-৪২৮৫২৭