09/11/2023
তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো অপরাধ সংঘটন করলে সেটাই সাইবার ক্রাইম বা অপরাধ। এক কথায় অনলাইন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধই সাইবার ক্রাইম।
সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম এর নমুনা-
১। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির শিকার: Facebook, youtube, whatsapp, instagram, IMO সহ যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন :
* সাইবার বুলিং- কেউ যদি অনলাইনে আপনাকে অহেতুক জ্বালাতন করে এবং আপনার সম্মানহানি করার চেষ্টা করে অথবা অনলাইনে যেকোনো উপায়েই হোক কেউ যদি আপনাকে উত্যক্ত করে তাহলে তা সাইবার বুলিং হিসেবে স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে তা যদি অনলাইনে হয় তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
* মানহানি - আপনার আর আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য কেউ যদি উঠে পড়ে লাগে এবং সেক্ষেত্রে তা যদি অনলাইনে হয় তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
* আইডি হ্যাক- আপনার ফেসবুক আইডি কেউ যদি হ্যাক করে থাকে আর আপনার ব্যক্তিগত ছবি আর কথোপকথন অনলাইনে ছেড়ে দেবে বলে যদি হুমকি প্রদান করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর জন্য তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
* সেক্সুয়ালি এবিউজ- কেউ যদি অনলাইনে আপনার ছবি দিয়ে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইডি খুলে, আপনার ছবি ব্যবহার করে কোনো পোস্ট প্রদান করে। আপনার ছবির সাথে অন্য ছবি জোড়া লাগিয়ে বিতর্কিত কিছু বানোয়াট খবর প্রকাশ করে, আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর জন্য তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
* হ্যাকিং- অনলাইনে ডাটা বা তথ্য অনুমতিবিহীন চুরি, ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় হ্যাকিং। এতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুন্ন হয়।
এই সকল অপরাধগুলো নিম্নরূপ হতে পারে-
সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া,
# যেকোনো সামাজিক মাধ্যমে ফেইক আইডি খুলে জ্বালাতন করা বা করে অর্থ দাবি,
# সামাজিক মাধ্যমের আইডি, ইমেইল, ওয়েব সাইট ইত্যাদি হ্যাক করা,
# বিভিন্ন পর্নো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ধারণ করা ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া
# ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান ও হয়রানি করা,
# কাউকে শারিরীক নির্যাতন বা মারধর করে তার ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া,
# কোনো কিশোরী বা যুবতী বা নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তার ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া,
# অনলাইনে ইকমার্সের নামে ভুয়া পেইজ খুলে খারাপ পণ্য বিক্রির নামে হয়রানি করা,
# অনলাইনে পরিচিত হয়ে অনলাইন অর্থ লেনদেন করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়া,
# ভুয়া বিকাশ নম্বর থেকে ফোন করে লটারির কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করা,
# ভুয়া পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা,
# ভুয়া বিকাশের এসএমএস দিয়ে গ্রাহককে দিয়েই অভিনব কায়দায় প্রতারণা।
# অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট আর এটিএম কার্ডের ডিটেইলস চুরি করে অর্থ চুরি,
# অনলাইনে স্প্যামিং এবং গণ রিপোর্ট,
# অনলাইনে বিভিন্ন সেলেব্রেটি বা যেকোনো মানুষের নামে ভুয়া তথ্য ছড়ানো,
** সাইবার অপরাধ বা ক্রাইমে আক্রান্ত হয়ে গেলে আপনার করণীয় :
এই বিষয়ে আপনি দুই ভাবে প্রতিকার পেতে পারেন-
১। থানায় মাধ্যমে মামলা করে অথবা
২। সরাসরি সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করে।
থানায় মামলা করার ক্ষেত্রে করণীয়-
আপনার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণগুলো (Audio,Video, Screen shot, SMS, Whatspp, Messenger সহ যাবতীয় সবকিছু) সংগ্রহ করুন। তারপর আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে সব কিছু খুলে বলুন। তিনি আপনাকে আন্তরিকভাবে সহায়তা করবেন ইনশাআল্লাহ।
বি:দ্র: থানায় মামলা কিংবা জিডি করতে সরকারি কোনো ফি নাই।
থানায় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার সাধারণত মামলা গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু কোনো কারণে যদি থানায় মামলা গ্রহণ করতে না চাইলে বিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে সরাসরি সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করতে পারেন।
বি:দ্র: সারা দেশে একটি মাত্র সাইবার ট্রাইবুনাল রয়েছে। যাহা ঢাকায় অবস্থিত।
# যেকোনো ধরনের আইনী সহায়তার প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে পারেন।
মুহাম্মদ মহীউদ্দীন
এডভোকেট
01711-068609