08/08/2024
যদিও বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তার নীতি প্রয়োগ অসাংবিধানিক। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নীতির প্রয়োগ করা যাবে। এই নীতিগুলি প্রায়শই একটি নতুন সরকারকে বৈধতা প্রদান করার জন্য ব্যবহার করা হয় যা অতিরিক্ত সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় আসে।
প্রয়োজনীয়তার নীতি (Doctrine of Necessity): এই নীতি বলে যে বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যা সাধারণত অবৈধ হবে, কিন্তু সেগুলি যদি আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা বা জনকল্যাণ রক্ষার জন্য করা হয় তবে সেগুলি বৈধ হতে পারে। এই নীতির মূল ভিত্তি হলো, প্রয়োজন আইনের তোয়াক্কা করে না।
কার্যকারিতার নীতি (Doctrine of Efficacy): এই নীতি নির্দেশ করে যে একটি সরকার যা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা যে উপায়েই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যদি এটি স্থিতিশীলতা ও শাসন নিশ্চিত করতে পারে তবে তাকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
স্টেট বনাম দোসো (১৯৫৮) মামলায় তৎকালীন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনিরের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয়তার নীতি প্রয়োগ করে। আদালত রায়ে বলা হয় যে যেহেতু নতুন সরকার কার্যকরভাবে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থন পেয়েছে, তাই তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। আদালত যুক্তি দেয় যে একটি সফল বিপ্লব বা সামরিক অভ্যুত্থান একটি নতুন আইনি শৃঙ্খলা তৈরি করে।
মূলত এই মামলা উপমহাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যে নতুন সরকারগুলি যা অতিরিক্ত সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় আসে তাদের স্বীকৃতি প্রদান করা উচিত, স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আইনি ধারাবাহিকতার উপরে গুরুত্ব দেয়।
এছাড়াও নুসরাত ভুট্টো বনাম স্টেট (১৯৭৭): পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি আনোয়ার-উল-হকের অধীনে, আবারও সামরিক দখলকে বৈধতা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়তার নীতি প্রয়োগ করে। আদালত যুক্তি দেয় যে সামরিক সরকার আরও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করতে এবং রাষ্ট্রের মসৃণ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ছিল।
এদিকে আমাদের বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(২) এ বলা হয়েছে, 'This Constitution is the solemn expression of the will of the people.' অর্থাৎ এখানে জনগণের ইচ্ছা অগ্রাধিকার পাবে।
কাজেই দেশের আপামর জনগণের ইচ্ছায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা বা জনকল্যাণ রক্ষার কোন বিকল্প নাই। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে সাংবিধানিক যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে আশাকরছি এই দুইটি নীতির মাধ্যমে সেটাকে দূর করা সম্ভব।