02/06/2026
মিথ্যা আশ্বাস, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, আইন কী বলে? এদের পার্থক্য কোথায়?
📌বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ এবং ৪২০ ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
♐প্রতারণা (Cheating) সংক্রান্ত অপরাধ ও তার শাস্তি নিয়ে আলোচনা-
প্রতারণা সংক্রান্ত অপরাধের মামলায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ৪২০ ধারা।
৪২০ ধারার মূল বিষয় হলো প্রতারণা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে প্ররোচিত করা।
📌 ৪২০ ধারার উপাদানসমূহ (Ingredients of Section 420)-
১. প্রতারণা থাকতে হবে।(Cheating) – ধারা ৪১৫ অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত। ( এই পোস্টের কমেন্টে প্রতারণার সংজ্ঞা দেওয়া আছে, পড়ে নিবেন)
২. প্রতারণার ফলে কেউ অর্থ বা সম্পত্তি হস্তান্তর করেছে।
৩. প্রতারণাটি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে হয়েছে।
📍সহজ উদাহরণ:
🔷ভুয়া পরিচয় ও ঋণ
🔷চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা
🔷মানি রিসিট বা জাল নোট
🔷ব্যবসার নামে বিনিয়োগ প্রতারণা
🔷অনলাইন ও ডিজিটাল স্ক্যাম
🔷ব্যাংক লোনের নামে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে টাকা নেওয়া।
🔷কেউ যদি আপনাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেয় (যেমন চাকরি দেওয়ার কথা বলে/ বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে টাকা নেয়) – এবং পরে প্রতিশ্রুতি পালন না করে, তাহলে সেটা ৪২০ ধারায় পড়তে পারে। এমনকি ৪০৬ ধারাও আসতে পারে বিশেষ ক্ষেত্রে।
🔷নকল দলিল দেখিয়ে জমি বিক্রি করা। যেমন -
“জমি বিক্রির সময় “ক”জানতেন যে জমির দলিল ভুয়া, তবুও তিনি “খ” কে মিথ্যা বলে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলেন এবং জমিটি “খ” এর নামে লিখে দিলেন। এখানে “ক” ৪২০ ধারায় অপরাধী।”
📌 তবে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো যে, শুধুমাত্র ব্যবসায়িক লেনদেন, অংশীদারী কারবার বা পার্টনারশিপ ব্যবসা থেকে উদ্ভূত কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে ৪২০/৪০৬ ধারার মামলা চলে না।( বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম সাপেক্ষে)
⛔শাস্তি: সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অবশ্যই অর্থদণ্ড (জরিমানা)।
📌প্রয়োজনীয় প্রমাণ:
⚡যে ব্যক্তি প্রতারণা করেছে, তার ইচ্ছাকৃত প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হবে
⚡প্রতারণার কারণে যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার ক্ষতির তথ্য
⚡চুক্তিপত্র, লেনদেনের রসিদ, সাক্ষ্যপ্রমাণ, অডিও/ভিডিও, মোবাইল চ্যাটিং ইত্যাদি।
এবার আলোচনা করি, অপরাধ মূলক বিশ্বাসভঙ্গের বিষয়ে-
🔰দণ্ডবিধি,১৮৬০ এর ৪০৫ ধারা অনুযায়ী,
যদি কেউ কোনো বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পত্তি গ্রহণ করে এবং পরে সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। মামলা দায়ের করতে হলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে:
🔷অভিযুক্তের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস সম্পর্ক ছিল।
🔷সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন।
📌সহজ উদাহরণ:
🔷আমানত বা ধার নেওয়া সম্পত্তি আত্মসাৎ
🔷চাকরিরত অবস্থায় তছরুপ
🔷আমানত বা ধার নেওয়া সম্পত্তি আত্মসাৎ
🔷ভাড়াটে বা ঠিকাদারের অনিয়ম
🔷স্ত্রীর গহনা বা স্ত্রীধন আত্মসাৎ:
📌অপরাধ মূলক বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তির কথা বলা হয়েছে ৪০৬ ধারায়। শাস্তি= ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়ই হতে পারে।
✅ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-
১) ৪০৬ এবং ৪২০ ধারার মামলা কি একই ধরনের অপরাধ?
উত্তর: না, অপরাধের প্রকৃতি ভিন্ন। ৪০৬ ধারা হলো বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) আর ৪২০ ধারা হলো প্রতারণা (Cheating)। তবে অনেক সময় দুটি অপরাধ একে অপরের সাথে জড়িত থাকতে পারে, যেমন – একজন ব্যক্তি বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করল।
২)মিথ্যা ৪০৬/৪২০ মামলা হলে কী করব?
উত্তর: যদি আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা ৪০৬ বা ৪২০ ধারায় মামলা হয়, তাহলে:
অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী আদালতে জামিনের আবেদন করুন।মামলার নথিপত্র এবং আপনার নির্দোষিতার প্রমাণ (যদি থাকে) সংগ্রহ করুন এবং আইনজীবীর কাছে উপস্থাপন করুন।
✅ প্রতারণা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ জেনে রাখুন!
প্রাথমিক পদক্ষেপ- প্রথমে প্রতারণার ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে এবং সম্ভাব্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে:
🔷প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির নাম, পরিচয় ও ঠিকানা।
🔷ঘটনা সময়, স্থান ও পরিস্থিত
🔷চুক্তি, ইমেইল, মেসেজ, রসিদ, অন্যান্য নথিপত্র নিয়ে
📌 উল্লেখিত প্রস্তুতি নিয়ে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।
আরো বিস্তারিত জানতে -
রেজাউল করিম
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
ফোন - 01750135424