11/07/2026
⚠️ আপনার ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে কেউ ব্ল্যাকমেইল করছে? তাহলে আইনিভাবে আপনার করণীয় কী?
কেউ আপনার ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য আপনার অনুমতি ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে এবং সেগুলো প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে, তাহলে আইনিভাবে আপনি নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
প্রযোজ্য আইনে মামলা ঘটনার ধরন অনুযায়ী বাংলাদেশের:-
Cyber Security Act 2023, Po*******hy Control Act 2012 এবং Penal Code 1860-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা যেতে পারে।
কনটেন্ট অপসারণের আবেদন করুন:-
ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম বা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করে কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ করুন।
উদাহরণস্বরূপ:
অশ্লীল ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৮-এর অধীনে অভিযোগ হতে পারে।
অনলাইনে ভয়ভীতি, হয়রানি বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করলে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা হতে পারে।
অর্থ আদায় বা জবরদস্তির চেষ্টা থাকলে দণ্ডবিধির চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন-সংক্রান্ত ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রমাণ সংরক্ষণ করুন:-
১: মেসেজ, চ্যাট, কল রেকর্ড, স্ক্রিনশট, লিংক, আইডি, ফোন নম্বর ইত্যাদি সংরক্ষণ করুন। কোনো প্রমাণ মুছে ফেলবেন না।
২: ব্ল্যাকমেইলারের দাবি মেনে চলবেন না। টাকা বা অন্য কোনো সুবিধা প্রদান করলে ব্ল্যাকমেইল আরও বাড়তে পারে।
৩: নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে পারেন।
৪: যদি পুলিশ থানায় মামলা নিতে ওস্বীকৃতি জানায় তাহলে আপনি কোন আইনজীবী সহযোগিতা নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।
আদালতে মামলা করতে কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন নিম্নে উল্লেখ করা হলো:-
বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী আদালতে মামলা করতে গেলে সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো:
১: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধনের কপি।
২: ঘটনার বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ (কবে, কোথায়, কীভাবে ঘটনা ঘটেছে)।
৩: পর্নোগ্রাফিক ছবি, ভিডিও, অডিও, স্ক্রিনশট বা অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ।
৪: Facebook, Messenger, WhatsApp, Telegram, ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট চ্যাট, লিংক ও স্ক্রিনশট।
৫: অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য (যদি জানা থাকে)।সাক্ষী থাকলে তাদের নাম ও ঠিকানা।
৬: প্রয়োজনে ফরেনসিক বা ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের তথ্য।
৭: আইনজীবীর মাধ্যমে দাখিল করা হলে ভোকালতনামা (Vakalatnama) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আদালতের নথি।
বাংলাদেশের Cyber Security Act, 2023 অনুযায়ী আদালতে মামলা (অভিযোগ) করতে গেলে সাধারণত নিম্নোক্ত ডকুমেন্ট ও তথ্য প্রস্তুত রাখা ভালো:
১: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট/জন্মনিবন্ধনের কপি।
২: অভিযোগপত্র (পিটিশন/দরখাস্ত), যেখানে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে।ডিজিটাল প্রমাণ, যেমন:স্ক্রিনশট, চ্যাট/মেসেজের কপি ইমেইল ফেসবুক/হোয়াটসঅ্যাপ/অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা লিংক ছবি বা ভিডিও (যদি প্রাসঙ্গিক হয়) প্রমাণ সংরক্ষণের তথ্য (যেমন URL, তারিখ, সময়, প্রয়োজনে ডিভাইসের তথ্য)।
সাক্ষীর নাম-ঠিকানা (যদি কোনো সাক্ষী থাকে)।
অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় বা তথ্য (যদি জানা থাকে)।
৩: আইনজীবীর ওকালতনামা (যদি আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা করা হয়)।
৪: আদালত নির্ধারিত কোর্ট ফি বা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প (যেখানে প্রযোজ্য)।
আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন
চেম্বার ঠিকানা:
রুম নং ২১১ (২য় তলা), জাওয়াহের কমপ্লেক্স
কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালী, ঢাকা।
সৌজন্যে,
রেজাউল করিম
অ্যাডভোকেট
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা।
01750135424 (WhatsApp)