Advocate ।। আইনজীবী ।।

Advocate ।। আইনজীবী ।। To ensure the rights of the citizen of Bangladesh and to give them knowledge about how to establish the rights which they have.

The Code of Civil Procedure (Amendment)
08/05/2025

The Code of Civil Procedure (Amendment)

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন
19/09/2023

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

20/07/2023

১৬ বছরের মেয়ে বিয়ে দেওয়ার বিশেষ বিধানের
A to Z:The Child Marriage Restraint Act 2017এর১৯ ধারার বিশেষ বিধান টি পর্যালোচনায়।
বিশেষ বিধানের আওতায় বিয়ের অনুমতি দিতে ১৯ ধারায় অনেকগুলো শর্ত আরোপ করা হয়েছেঃ
১. আদালতের নির্দেশ (court’s order) থাকতে হবে।
২. বাবা মা অথবা অভিভাবকের সম্মতি (consent of parents or guardians) থাকতে হবে।
৩. অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে (for the highest interest of the minor) হতে হবে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা এর ১৭ বিধি অনুযায়ী বিশেষ বিধান প্রয়োগে কোর্টে দুইপক্ষকে যৌথভাবে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে পারবেন উভয়পক্ষের
ক. পিতামাতা, খ. আইনগত অভিভাবক, গ. অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাত্রপাত্রী সহ উভয়পক্ষ।

এমন আবেদন পাওয়ার পর কোর্ট আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যাচাই কমিটির কাছে প্রেরণ করবেন। ইউএনও এর সভাপতিত্বে ৭ সদস্যের যাচাই কমিটি আবেদিত বিয়ের বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে আবেদন যাচাইয়ে কমিটিকে ২ টি মানদন্ড বিবেচনায় নিতে হবে।

১. বিয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে হবে।
২. বিয়েটা হবে সর্বশেষ বিকল্প অর্থাৎ আর কোন বিকল্প (Option) হাতে নেই।
এছাড়া এই কমিটি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিয়ে না হওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারবে। সেগুলো হলো- বিয়েটি
ক. জোরপূর্বক হলে, খ. ধর্ষণ, অপহরণ বা জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কারনে হলে,
৩. এ সংক্রান্তে মামলা বিচারাধীন থাকলে।
কোর্ট কমিটির সুপারিশ পেয়ে সন্তুষ্ট হলে বিয়ের অনুমতি দিবেন, বা নামঞ্জুর করবেন অথবা পুনরায় তদন্ত করাবেন, এমনকি কমিটিকে আদালতে উপস্থিত করিয়ে বক্তব্য শুনবেন।

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই বিশেষ বিধানের আওতায় বিয়ের অনুমতি পাওয়া সহজ নয়। কোর্ট অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করবে। দুইপক্ষের যৌথ আবেদন হতে হবে, কোর্ট সাথে সাথে অনুমতি দিবে না, একটা কমিটি সত্যতা যাচাই করে সুপারিশ করবে, তারপর কোর্ট আইন ও বিধির শর্ত পূরণ হলেই এই বিশেষ বিধান প্রয়োগ করে অপ্রাপ্তের বিয়ের অনুমতি দিবে।

একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া উচিত। এই ২০১৭ সনের আইন এবং পরের ২০১৮ সনের বিধিতে কোথাও কোন আদালত এমন অনুমতি দিবে তা বলা হয়নি। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধি একত্রে পড়লে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে, এ বিষয়ে যথাপোযুক্ত ফোরাম হলো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী। কেননা বিধিতে কয়েকটি ফরম সংযুক্ত আছে যেখানে ‘বিচারিক আদালত’ ও মোবাইল কোর্ট পৃথক ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯ ধারা ও ২য় তপসীলের ৮ম কলাম মতে, offense under other laws নীতিতে ২ বছর পর্যন্ত শাস্তিযোগ্য হওয়ায় এ আইনের অধীন অপরাধের বিচার ও তদন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করবেন। এ আইনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য এবং অ-আপোষযোগ্য। আইনের ৪, ৫ ধারা ও ১৫ বিধি মতে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা ঘটনা হতে ২ বছর।
মজার বিষয় হলো, আদালত (জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রসী) বাল্যবিবাহ ঠেকাতে প্রয়োজনে বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারবে। মামলার নিষ্পত্তি হবে ২ ভাবে-
১. বিচারে খালাস বা শাস্তি, ২. মুচলেকা সম্পাদন। মুচলেকার ক্ষেত্রে শর্ত হলো, বিয়েটি সম্পাদন হয়নি এবং বলতে হবে, ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহ নিরোধে তৎপর থাকবে। অত্র আইনের কোন অপরাধ সংগঠিত হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর পাশাপাশি মোবাইল কোর্টও তাৎক্ষণিকভাবে ও স্বীকারোক্তি ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ৬ ও ৭ ধারার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে শাস্তি দিতে পারবে, তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে পারবে না, সেক্ষেত্রে বিচার ও শাস্তি হবে শিশু আদালতে।

আগে বিয়ের ক্ষেত্রে এভিডেভিড করে বয়স কম দেখিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ককে বিয়ে দেওয়া হতো। এখন বয়স প্রমাণে এমন এভিডেভিড এর সুযোগ নেই। বৈধ কাগজপত্র হিসেবে
ক. জন্ম নিবন্ধন সনদ, খ. জাতীয় পরিচয় পত্র, গ. এসএসসি সার্টিফিকেট, ঘ. জেএসসি সার্টিফিকেট, ঙ. পিইসি সার্টিফিকেট এবং চ. পাসপোর্ট বিবেচনায় নেওয়া যাবে।
বয়স প্রমাণে এই কাগজপত্রগুলো সুনির্দিষ্ট করায় এখন প্রতারণার সুযোগ কমে এসেছে।
সমাজ ও বাস্তবতায় বিশেষ বিধান এর প্রয়োজনীয়তা ছিল। আর, এর অপব্যবহার যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে আইন প্রণেতাগণ অনেকগুলো নিরাপত্তা স্তর রেখেছেন।

হাবীবুল্লাহ হাবীব,এডভোকেট,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

26/05/2023
গত ০৪/০৪/২০২৩ইং তারিখে গঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনজীবী সমিতি পূর্ণাঙ্গ রুপ নেয়।এতে সভাপতি হিসেবে এড. রাশেদুল হক এবং ...
04/04/2023

গত ০৪/০৪/২০২৩ইং তারিখে গঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনজীবী সমিতি পূর্ণাঙ্গ রুপ নেয়।
এতে সভাপতি হিসেবে এড. রাশেদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এড. শেখ মোঃ হাবিবুল্লাহ হাবিব নির্বাচিত হন।

সবাইকে অভিনন্দন

06/07/2022

সাকসেশন সার্টিফিকেট কি এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট আইনের রেফারেন্স সহ বিস্তারিত আলোচনা।

সাকসেশন সার্টিফিকেট হচ্ছে মৃত ব্যাক্তির ব্যাংকে জমানো টাকা, কোম্পানীর শেয়ার, ডিবেঞ্চার, রয়্যালটি সর্বোপরি মৃত ব্যাক্তির সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকার প্রমান করার প্রমাণপত্র।
উত্তরাধিকারী আইন, ১৯২৫ এর ৩৭০-৩৮৯ ধারা সমূহে সাকসেশন সার্টিফিকেট এর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ধারাঃ ৩৭২( ৩ ) “ মৃত পাওনাদারের নিকট দেয় কোন দেনা বা দেনা সমূহ বিষয়ে কিংবা তার কোন অংশ বিষয়ে উক্ত সার্টিফিকেটের জন্য দরখাস্ত করা যাইবে ” ।
অনেক সময় দেখা যায়, কোন ব্যক্তি মারা গেছেন, মৃত্যুকালে কোন ব্যাংকে টাকা রেখে গেছেন, কিন্তু, কোন প্রকার নমিনী করে যাননি, আবার দেখা যায় কাউকে নমিনী করা হয়ে থাকলেও অন্য ওয়ারিশদের বাঁধার কারণে ব্যাংক কাউকে টাকা দিচ্ছেন না। সেই কারণে সাকশেসন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন দেখা দেয়। আবার হয়ত এমনও হতে পারে যে, মৃত ব্যক্তি ঋণ রেখে গেছেন এই ঋণ কোন অংশীদার কত % পরিশোধ করবেন এজন্য সাকশেসন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। আবার হয়ত দেখা যায় কোন কোম্পানীতে শেয়ার রেখে গেছেন সেক্ষেত্রে কোন ওয়ারিশ কতটুকু শেয়ারের মালিক হবেন মর্মে সাকশেসন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

নিম্নে ধারাবাহিকভাবে সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো.....

১। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমা দায়ের করতে হয় কোন আইনের কোন ধারা মোতাবেক?

সাকসেশন সার্টিফিকেট মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে উত্তরাধিকারী আইন, ১৯২৫ এর ৩৭৪ ধারা মোতাবেক।
কিন্তু অত্র আইনের ৩৭২ ধারা মোতাবেক দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর বিধান অনুযায়ী আরজি আকারে দাখিল করতে হবে।

২। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?

এই আইনে জেলা জজকে এখতিয়ার দেওয়া হয়ে থাকলেও জেলা জজ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সাধারণত এ ক্ষমতা অন্য কোন আদালতকে প্রদান করে থাকেন। জেলা জজ তার একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন সেটা হচ্ছে যুগ্ম জেলা জজ (ডেলিগেটেড জজ)।

৩। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমায় বাদী/বিবাদী কে হবেন ?

এই মোকদ্দমার সকল ওয়ারিশ মিলে একত্রে করতে পারেন আবার কোন ওয়ারিশ যদি একত্রে দরখাস্ত না করেন তাহলে যারা একত্রে দরখাস্ত করতে ইচ্ছুক নন তাদের প্রতিপক্ষ করতে হয়।

৪। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমায় বিবাদী কর্তৃক আপত্তি দাখিলের সময়সীমা?

আদালত মৃত ব্যক্তির নিকট আত্বীয়দের নোটিশ প্রদান করে কারো কোন দাবি/আপত্তি আছে কিনা তা জেনে নিয়ে থাকেন। কারো কোন আপত্তি থাকলে এই সময় আপত্তি দাখিল করা যায়। কারো কোন আপত্তি না থাকলে আদালত আবেদনকারীর অনুকূলে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে। কারো কোন আপত্তি থাকলে দেড় মাস সময়ের মধ্যে আপত্তি দাখিল করা যায়। কারো কোন আপত্তি না থাকলে অথবা আপত্তি থাকলে তা শুনানির পর আদলত আবেদনকারীর অনকুলে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে। সাধারণত সাকসেশন সার্টিফিকেট পেতে তিন-চার মাস সময় লাগে।

৫। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমার আরজিতে কি কি বিষষ উল্লেখ করতে হয়?

অত্র আইনরে ৩৭২( ১ ) ধারা বিধান অনুযায়ী, দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে দরখাস্তকারীর দ্বারা বা পক্ষে স্বাক্ষরিত এবং প্রত্যায়িত আরজির মাধ্যমে উক্ত সার্টিফিকেটের দরখাস্ত করিতে হইবে। দরখাস্তের জন্য বাদীর দ্বারা বা পক্ষে আরজি স্বাক্ষরিত এবং প্রত্যায়িত হইবে এবং উহাতে নিম্ন লিখিত বিবরণাদির উল্লেখ থাকিবে,
যথাঃ
( ক ) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময়,

( খ ) মৃত্যুর সময়ে মৃত ব্যক্তির সাধারণ বাসস্থান এবং উক্ত বাসস্থান যে জজের নিকট দরখাস্ত করা হয় ঐ জজের স্থানীয় এখতিয়ারে না থাকিলে উক্ত সীমার মধ্যে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি,

( গ ) মৃত ব্যক্তির পরিবার বা অন্যান্য নিকট আত্মীয় এবং তাহাদের নিজ নিজ বাসস্থান সমূহ,

( ঘ) আরজি দাখিলকারী যে অধিকার দাবী করেন,

( ঙ) সার্টিফিকেট মঞ্জুরে কিংবা উহা মঞ্জুর করা হইলে উহার বৈধতার ক্ষেত্রে ৩৭০ ধারা বা এই আইনের কোন বিধানাবলী বা অন্য কোন আইনে কোন প্রতিবন্ধকতার অনুপস্থিতি, এবং

( চ ) দরখাস্তকৃত সার্টিফিকেট বিষয়ে দেনা এবং সিকিউরিটিজ।

৬। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমা দায়েরে প্রয়োজনীয় দলিলের বিবরণ:-

ক. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদপত্র (Death Certificate)।

খ. ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কমিশনার প্রদত্ত পরিচয়পত্র/নাগরিকত্বের সনদ।

গ. শেয়ার সার্টিফিকেট/ রয়্যালিটি প্রমাণপত্র/ ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমার স্লিপ ইত্যাদি।

৭। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমার কোর্ট ফি কোন আইনের বিধান মোতাবেক নির্ধারিত হয় এবং কত টাকার কোর্ট ফি দিতে হয়?

কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে কোর্ট ফিস আইন, ১৮৭০ এর ১ম তফসিলের ১১ দফা মোতাবেক নিম্নলিখিত হারে ‌-
১) মোকদ্দমার মূল্য মান ২০ হাজার টাকার অধিক হয় কিন্তু এক লক্ষ টাকার অধিক নয় সেক্ষেত্রে ১% হারে কোর্ট ফি দিতে হবে।
বিঃদ্রঃ ১-২০,০০০ টাকার মধ্যে কোন কোর্ট ফিস দিতে হবে না।
২) মোকদ্দমার মূল্যমান ১ লক্ষ টাকার অধিক হয় সেক্ষেত্রে হতে ২% হারে কোর্ট ফি দিতে হয়।
৩) +১৫% ভ্যাট।
কোর্ট ফিস আইন, ১৮৭০ এর ৩৫এ ধারায় ১৫% ভ্যাট এবং কোর্ট ফিস আইন, ১৮৭০ এর ১ম তফসিলের টেবল বি এর ২ দফা মোতাবেক সর্বোচ্চ ৪০,০০০টাকা=৪৬,০০০/-টাকা।
কোর্ট ফিস আইন, ১৮৭০ এর ১ম তফসিলের টেবল বি এর ১ দফায় ম্যানি স্যুট মোকদ্দমার কথা বলা হয়েছে এবং ২ দফায় অন্য সকল দেওয়ানী মোকদ্দমা কথা বলা হয়েছে।
উত্তরাধীকারী আইন, ১৯২৫ এর ৩৭২ ধারা+কোর্ট ফিস আইন, ১৮৭০ এর ১ম তফসিলের টেবল এ এর ১১ দফা বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় ১% অথবা ২% কোর্ট ফিস+এর উপর ১৫% ভ্যাট যা সর্বোচ্চ ৪৬,০০০টাকা।

৮। সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণের তামাদীকাল:

সাকসেশন সার্টিফিকেট এর আরজি দাখিলের কোন নির্দিষ্ট তামাদীকাল নেই।

৯। সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দমার আপিল / মোকদ্দমা প্রত্যাহারের বিধানাবলী:

সাকসেশন সার্টিফিকেট এর মোকদ্দামার রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ কর্তৃক আপিল দায়ের করতে পারবেন উত্তরাধীকারী আইন, ১৯২৫ এর ৩৮৪ ধারা মোতাবেক শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগে এবং উক্ত মোকদ্দামার আরজি প্রত্যাহারের বিধান রয়েছে পারবেন উত্তরাধীকারী আইন, ১৯২৫ এর ৩৮৩ ধারায়।

মোঃ করমুল্লাহ্
আইনজীবী,
চট্টগ্রাম জজ আদালত।

অর্থ আইন, ২০২২ অনুযায়ী স্ট্যাম্প সিডিউলের হার
02/07/2022

অর্থ আইন, ২০২২ অনুযায়ী স্ট্যাম্প সিডিউলের হার

29/03/2022

নিজের জমি রক্ষায় পুরাতন দলিলের ব্যবহৃত শব্দের অর্থ জানুনঃ

১) মৌজা 👉 গ্রাম।

২) জে.এল নং 👉 মৌজা নং/গ্রাম নম্বর।

৩) ফর্দ 👉 দলিলের পাতা।

৪) খং 👉 খতিয়ান।

৫) সাবেক 👉 আগের/পূর্বের বুজায়

৬) হাল 👉 বর্তমান।

৭) বং 👉 বাহক, অর্থাৎ যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লিখে।

৮) নিং 👉 নিরক্ষর।

৯) গং 👉 আরো অংশীদার আছে।

১০) সাং 👉 সাকিন/গ্রাম।

১১) তঞ্চকতা 👉 প্রতারণা।

১২) সনাক্তকারী 👉 যিনি বিক্রেতাকে চিনে।

১৩) এজমালী 👉 যৌথ।

১৪) মুসাবিদা 👉 দলিল লেখক।

১৫) পর্চা 👉 বুঝারতের সময় প্রাথমিক খতিয়ানের যে নকল দেওয়া হয় তাকে পর্চা বলে।

১৬) বাস্তু 👉 বসত ভিটা।

১৭) বাটোয়ারা 👉 বন্টন।

১৮) বায়া 👉 বিক্রেতা।

১৯) মং 👉 মবলগ/মোট

২০) মবলক 👉 মোট।

২১) এওয়াজ 👉 সমপরিমাণ কোন কিছু বদলে সমপরিমাণ কোন কিছু বদল করাকে এওয়াজ বলে।

২২) হিস্যা 👉 অংশ।

২৩) একুনে 👉 যোগফল।

২৪) জরিপ 👉 পরিমাণ।

২৫) এজমালী 👉 কোনো ভূমি বা জোতের একাধিক শরীক থাকিলে তাহাকে এজমালী সম্পত্তি বা এজমালী জোত বলে।

২৬) চৌহদ্দি 👉 সীমানা।

২৭) সিট 👉 নকশার অংশ বা মৌজার অংশের নকশাকে সিট বলে।

২৮) দাখিলা 👉 খাজনার রশিদ।

২৯) নক্সা 👉 ম্যাপ।

৩০) নল 👉 জমি পরিমাপের নিমিত্তে তৈরী অংশ দণ্ড।

৩১) নাল 👉 চাষাবাদের উপযোগী ভূমি।

৩২) পিং 👉 পিতা।

৩৩) জং 👉 স্বামী।

৩৪) দাগ নং 👉 জমির নম্বর।

৩৫) এতদ্বার্থে 👉 এতকিছুর পর।

৩৬) স্বজ্ঞানে 👉 নিজের বুঝ মতে।

৩৭) সমূদয় 👉 সব কিছু।

৩৮) ইয়াদিকৃত 👉 পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করিলাম।

৩৯) পত্র মিদং 👉 পত্রের মাধ্যমে।

৪০) বিং 👉 বিস্তারিত।

৪১) দং 👉 দখলকার।

৪২) পত্তন 👉 সাময়িক বন্দোবস্ত।

৪৩) বদল সূত্র 👉 এক জমি দিয়া অন্য জমি গ্রহণ করা।

৪৪) মৌকুফ 👉 মাপ।

৪৫) দিশারী রেখা 👉 দিকনির্দেশনা।

৪৬) হেবা বিল এওয়াজ 👉 কোন জিনিসের পরিবর্তে ভূমি/জমি দান করাকে হেবা বিল এওয়াজ বলে।

৪৭) বাটা দাগ 👉 কাটা দাগ এটি ভগ্নাংশ আকারে থাকে, যার উপরের সংখ্যা আগের দাগ এবং নিচের সংখ্যা এই দাগের বাটা।

৪৮) অধুনা 👉 বর্তমান।

৪৯) রোক 👉 নগদ।

৫০) ভায়া 👉 বিক্রেতার পূর্বের ক্রয়কৃত দলিল।

৫১) দান সূত্র 👉 কোনো ভূমি দলিল মূলে দান করিলে দান গ্রহণকারী দান সূত্রে ভূমির মালিক বলিয়া গন্য হয়।

৫২) দাখিল খারিজ 👉 কোনো জোতের ভূমি ও জমা হইতে কতেকাংশ ভূমির খরিদ্দার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাক্তিকে পৃথকভাবে নাম জারি করিয়া দিলে তাহাকে দাখিল খারিজ বলে।

৫৩) তফসিল 👉 তালিকা, কোনো দলিলের নিম্নভাগে লিখিত সম্পত্তির তালিকাকে তফসিল বলে।

৫৪) খারিজ 👉 যখন কোনো সরকার বা জমিদার কোনো প্রজাকে তাহার অংশীদারের জমা হইতে পৃথকভাবে খাজনা দিবার অনুমতি দেন তখন তাহাকে খারিজ বলে।

৫৫) খতিয়ান 👉 প্রত্যেক মৌজার এক বা একাধিক ভূমির জন্য একত্রে যে রেকর্ড সৃষ্টি করা হয় তাহাকে খাতিয়ান বলা হয়। খতিয়ানে তৌজি নম্বর, পরগনার নাম, জে.এল বা গ্রামের নাম, খতিয়ান নম্বর, স্বত্ত্বের বিবরণ মালিকের নাম, তাহার পিতা ও গ্রামের নাম, দাগ নম্বর, প্রত্যেক দাগের উত্তর সীমানা, ভূমির প্রকার অর্থাৎ (ডাঙ্গা, ধানী, ডোবা, পতিত, গর্ত, হালট, ইত্যাদি) দখলকারের নাম, ভূমির ষোল আনা পরিমাণ, হিস্যা ও হিস্যা মত পরিমাণ একর লিখিত থাকে।

৫৬) জরিপ 👉 সাধারণত কর নির্ধারণ ভিত্তিতেই এই সার্ভে করা হইয়া থাকে।

৫৭) এওয়াজ সূত্র 👉সমপরিমাণ কোনো ভূমি বা জিনিসের বদলে সমপরিমাণ কোনো ভূমি বা জিনিস প্রাপ্ত হইলে তাহাকে এওয়াজ সূত্রে প্রাপ্ত বলা হয় ইহাকে বদল সূত্রও বলে।

৫৮) অছিয়তনামা 👉 যদি কোনো ব্যাক্তি মৃত্যুর পূর্বে তাহার ওয়ারিশ বা আত্বীয় স্বজনকে তার স্থাবর- অস্থাবর সম্পত্তির বাটোয়ারা সম্পর্কে দলিল মূলে কোনো নির্দেশ দিয়া যান তবে তাহাকে অছিয়তনামা বলে। মৃত্যুর পর উক্ত অছিয়ত প্রবলের জন্য জেলা জজ সাহেব হইতে অনুমতি লইতে হয় হিন্দু ধর্মে উহাকে উইল বলে।

৫৯) তফসিল 👉 বিক্রিত জমির তালিকা।

৬০) নামজারী 👉 অন্যান্য অংশীদার থেকে নিজের নাম খতিয়ানে খোলাকে নামজারী বলে।

৬১) অধীনস্থ স্বত্ত্ব 👉 উপরিস্থিত স্বত্ব বা জমিদারী স্বত্বের অধীনে কোনো স্বত্ত্ব সৃষ্টি করিলে তাহাকে অধীনস্থ স্বত্ত্ব বা নীচস্থ স্বত্ত্ব বলে।

৬২) আলামত 👉 ম্যাপের মধ্যে গাছপালা, বাড়ীঘর, মন্দির, মসজিদ, গোরস্থান, জলভূমি, ইত্যাদি বুঝাইবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে আলামত বলে।

৬৩) আমলনামা 👉 কোনো ব্যক্তি অন্যের নিকট হইতে কোনো ভূমি নিলাম বা খোস – খরিদ করিয়া ভূমিতে দখল লওয়ার যে দলিল প্রাপ্ত হয় তাহাকে আমনামা বলে।

৬৪) আসলি 👉 মূল ভূমি।

৬৫) আধি 👉 উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক ভূমির মালিক, অর্ধেক প্রজায় রাখিলে তাহাকে আধি বা বর্গ বলে।

৬৬) ইজারা 👉 ঠিকা। নির্দিষ্ট খাজনায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তালুক বা মহলাদির বন্দোবস্ত দেওয়া বা নেওয়া।

৬৭) ইয়াদদন্ত 👉 স্মারকলিপি।

৬৮) ইন্তেহার 👉 ঘোষণাপত্র।

৬৯) এস্টেট 👉 ১৭৯৩ সালে সরকার বাহাদুর যে সমস্ত মহাল স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দিয়াছেন তাহাদিগকে জমিদারী বা এস্টেট বলে।

৭০) ওয়াকফ 👉 ধর্মীয় কাজের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে উৎসর্গকৃত সম্পত্তি।

৭১) কিত্তা 👉 চারিটি আইন দ্বারা বেষ্টিত ভূমি খন্ডকে এক একটি কিত্তা বা পট বলে।

৭২) কিস্তোয়ার জরিপ 👉 গ্রামের অন্তর্গত জমিগুলো কিত্তা কিত্তা করে জরিপ করার নাম কিস্তোয়ার

৭৩) কিস্তি 👉 নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী টাকা দিবার অঙ্গীকার বা ব্যবস্থা।

৭৪) কায়েম স্বত্ত্ব 👉 চিরস্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমিকে কায়েম স্বত্ত্ব বলে।

৭৫) কবুলিয়ত 👉 মালিকের বরাবরে স্বীকারোক্তি করিয়া কোনো দলিল দিলে তাহাকে বকুলিয়ত বলে। কবুলিয়াত নানা প্রকার। যথা- রায়তি, দর রায়তি, কোর্ফা ও আদি বর্গা কবুলিয়াত।

৭৬) কটকোবালা 👉 সুদের পরিবর্তে মহাজনের দখলে জমি দিয়া টাকা কর্জ করত: যে দলিল দেওয়া হয় তাহাকে কটকোবালা বল।

৭৭) কান্দা 👉 উচ্চ ভূমি। গোবামের সন্নিকটস্থ ভূমিকেও কান্দা বলে।

৭৮) কিসমত 👉 মৌজার অংশকে কিসমত বলে।

৭৯) কোলা ভূমি 👉 বসত বাড়ীর সংলগ্ন নাল জমিকে কোলা ভূমি বলে।

৮০) কোল 👉 নদীর কোনো ছোট অংশ তাহার প্রধান স্রোতের সহিত বা হইতে সংযুক্ত হইয়া গেলে তাহাকে কোল বলে।

৮১) খানাপুরী 👉 প্রাথমিক স্বত্ত্ব লিপি। ইহা রেকর্ড অব রাইটস তৈরির ধাপ। খসড়া ও খতিয়ানের কলাম বা ঘর পূরণ করাই ইহার কাজ।

৮২) খামার 👉 ভূম্যধিকারী খাস দখলীয় ভূমিকে খামার, খাস-খামার, নিজ জোত বা কমত বলে।

৮৩) খাইখন্দক 👉 ডোবগর্ত, খাল, নালা ইত্যাদি চাষের অযোগ্য ভূমিকে খাইখন্দক বলে।

৮৪) খিরাজ 👉 কর, খাজনা।

৮৫) খানে খোদাঃ মসজিদ।

৮৬) খসড়াঃ জমির মোটামুটি বর্ণনা।

৮৭) গর বন্দোবস্তিঃ যে জমির কোনো বন্দোবস্ত দেওয়া হয় নাই।

৮৮) গরলায়েক পতিতঃ খাল, নালা, তীরচর, ঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি অনাবাদি ভূমিকে গরলায়েক পতিত বলে।

৮৯) গির্বিঃ বন্ধক।

৯০) চক 👉 থক বসত ম্যাপের এক একটি পটকে চক বলে।

৯১) জমা বন্দী 👉 খাজনার তালিকা।

৯২) চাকরাণ 👉 জমিদার বাড়ীর কাজ-কর্ম নির্বাহ করণার্থে ভোগ-দখল করিবার নিমিত্তে যে জমি দেওয়া হয় তাহাকে চাকরাণ বলে।

৯৩) চাঁদা 👉 জরিপ কার্যে নির্দিষ্ট করা স্টেশনকে চাঁদা বলে।

৯৪) চটান 👉 বাড়ীর সন্নিকটস্থ উচ্চ পতিত স্থানকে চটান বলে।

৯৫) চালা 👉 উচ্চ আবাদি ভূমি (পুকুরের পাড় ইত্যাদি)

৯৬) চর 👉 পলিমাটি গঠিত ভূমি।

৯৭) জবর-দখল 👉 জোরপূর্বক দখল।

৯৮) জমা 👉 এক বা একাধিক ভূমির জন্য একত্রে যে খাজনা দেওয়া হয় তাহাকে এক একটি জমা বলে।

৯৯) জোত 👉 এক প্রকার প্রজাস্বত্ত্ব।

১০০) জজিরা 👉 নাব্য নদীতে যে দ্বীপ গঠিত হয় তাহাকে জজিরা বলে।

১০১) জায়সুদী 👉 হস্তান্তরকরণ ক্ষমতা ব্যতীত কিয়ং কালের জন্য বন্ধক। অর্থাৎ মহাজনের নিকট বন্ধক দিয়া যদি এই মর্মে টাকা কর্জ করা যায়, যে যতদিন পর্যন্ত আসল টাকা পরিশোধ না হইবে ততদিন পর্যন্ত মহাজন উক্ত জমি ভোগ-দখল করিতে থাকিবেন, তবে তাহাকে জায়সুরি বলে।

১০২) জালি 👉 এক প্রকার ধান যাহা জলাভূমিতে জন্মে।

১০৩) টেক 👉 নদী ভগ্নস্থান ভরাট হইয়া যে পয়স্তি উৎপন্ন হয় তাহাকে টেক বলে।

১০৪) টাভার্স 👉 ঘের জরিপ।

১০৫) ঠিকা রায়ত 👉 নির্দিষ্ট মেয়াদে সাময়িকভাবে দখলকারকে ঠিক রায়ত বলে অথবা যে রায়তের কোনো দখলি স্বত্ত্ব নেই।

১০৬) ঢোল সহরত 👉 কোনো ক্রোক, নিলাম ইস্তেহার বা দখলি পরওয়ানা সরজমিনে ঢোল পিটাইয়া জারি করাকে ঢোল সহরত বলে।

১০৭) তামিল 👉 আদেশ মোতাবেক রেকর্ড সংশোধন করা।

১০৮) তামাদি 👉 খাজনা আদায় করার নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হইলে তাহাকে তামাদি বলে।

১০৯) তুদাবন্দী 👉 সীমানা নির্দেশ।

১১০) তহশিল 👉 খাজনাদি আয়ের নিমিত্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে তহশিল বলে।

১১১) তলবানা 👉 সমন জারির সময় পিয়নকে প্রদত্ত ফিস।

১১২) তলববাকী 👉 বকেয়া খাজনা আদায়ের কিস্তি।

১১৩) তালুক 👉 নিম্নস্থ স্বত্ত্ব।

১১৪) তরমিমঃ শুদ্ধকরণ।

১১৫) তরতিব 👉 শৃংখলা।

১১৬) তৌজি 👉 ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তীয় ভূমির জন্য কালেক্টরীতে যে রেজিষ্ট্রী বই থাকে তাহাকে তৌজি বলে। প্রত্যেক তৌজির ক্রমিক নম্বর থাকে। জমিদারের অধীন প্রজার জোতকেও তৌজি বলা হয়।

🔸১১৭) দিয়ারা 👉 পলিমাটি দ্বারা গঠিত চর।

১১৮) দর পত্তনী 👉 পত্তনীর অধীন।

১১৯) দখলী স্বত্ত্ব বিশিষ্ট প্রজা 👉 দখলদার হিসেবে যে প্রজার স্বত্ত্ব আছে।

১২০) দশসালা বন্দোবস্ত 👉 দশ বৎসরের মেয়াদে বন্দোবস্ত দেওয়াকে দশসালা বন্দোবস্ত বলে।

১২১) দিয়ারা 👉 পলিমাটি দ্বারা গঠিত চর।

১২২) দাগ নম্বর 👉মৌজা নকশায় প্রত্যেক প্লটের যে সিরিয়াল নম্বর বসান হয়,তাহাকে দাগ নম্বর বলে।

১২৩) দরবস্ত 👉 সমুদয়।

১২৪) নথি 👉 রেকর্ড।

১২৫) দেবোত্তর 👉 দেবতাদিগকে প্রদত্ত নিষ্কর ভূমি।

১২৬) দেবিচর 👉 যে সকল বালুচর সাধারণ জোয়ারের পানিতে ডুবিয়া যায় তাহাদিগকে দেবিচর বলে।

১২৭) দিঘলি 👉 নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা আদায়কারী একপ্রকার প্রজা।

১২৮) নক্সা ভাওড়ন 👉 পূর্ব জরিপ অনুসারে গ্রামের সীমাগুলো এখন আর ঠিক মতো পাওয়া যায় না। ফলে সীমানা লইয়া প্রায়ই জমিদারের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। পূর্বের ফিল্ডবুক অনুসারে প্রত্যেক লাইনের মাপ ও বিয়ারিং লইয়া, লাইনটি প্রথমে যেখানে যেভাবে ছিল, তা চিহ্নিত করিয়া, কোন জমি কোন মৌজার অন্তর্গত,তাহা ঠিক করার নামই,নক্সা ভাওড়ান বা রিলেইং বাউন্ডারীজ।

১২৯) নামজারী 👉 ভূম্যধিকারী সরকারের সাবেক নামের পরিবর্তে খরিদ্দার অথবা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম রেজিস্ট্রী করাকে নামজারী বলে।

🔸১৩০) নাম খারিজ বা জমা খারিজ 👉 ১৬ আনা জোতার মোট জমা হইতে নামজারীকৃত ওয়ারিশ বা খরিদ্দারের দখলীয় জমির জমা ১৬ আনা জোতার জমার হার অনুসারে জাম ভাগ করিয়া দিয়া পৃথক জমা সৃষ্টি করাকে নাম খারিজ বা জাম খারিজ বলে।

24/03/2022

আজকে আলোচনা করব নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের অধীনে মামলা দায়ের করলে, মামলা চলাকালীন সময়ে বিজ্ঞ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করতে পারেন কিনা?

উত্তরঃ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালগুলিকে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীনে বিবেচনা করা 'দেওয়ানী আদালত' হিসাবে গণ্য করা যায় না এবং সেই কারণে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালগুলি নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য যোগ্য নয়।
বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের এখতিয়ার ছাড়াই কাজ করেছে। আদেশ ৩৯ বিধি ১ অথবা দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারা, 31 DLR 120, 38 DLR 262।

একটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সামনে একটি কার্যধারায়, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দ্বারা বিচার করা নির্বাচনী বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯-এর বিধানগুলির কোন প্রয়োগ নেই । 27 DLR 388, AIR 2016 SC 92।
স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এর ৪৫ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সীমিত উদ্দেশ্যে একটি দেওয়ানি আদালত।

দেওয়ানি আদালত না হওয়ায় নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের কোনো ক্ষমতা ছিল না। আদেশ ৩৯, বিধি ১ বা দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৪ ধারা। স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষভাবে নির্বাচনী পিটিশনে প্রতিকার নির্ধারণ করে উভয় প্রতিকারই ঘোষণামূলক।

নির্বাচনী পিটিশনের বিষয়বস্তু সংরক্ষণের জন্য আবার নিষেধাজ্ঞার আদেশের প্রয়োজন নেই। ৪১ ডিএলআর ৪৪।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর সকল কার্যক্রম স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর ৯৩ বিধি এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ১০৮ ধারামোতাবেক রহিত করা হয়েছে।

বর্তমানে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে হবে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর ৫৯ বিধি এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ২২ মোতাবেক।
বর্তমান আইনেও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উপরোক্ত আলোচনা প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি।

মোঃ করমুল্লাহ
আইনজীবী,
চট্টগ্রাম জজ আদালত।

23/03/2022

১)সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগন। তাই,রাষ্ট্রপরিচালনার দায়ভার ও জনগণের। কিন্তু,সকল জনগন একসাথে রাষ্ট্রপরিচালনায় সরাসরি অংশ নিতে পারে না।তাই,প্রতিনিধিত্বের সহায়তা নিতে হয়।সাধারনত,কারো পক্ষে কেউ কাজ করলে সেই কাজকে প্রতিনিধিত্ব বা রিপ্রেজেন্টেশন বলা হয়।

বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব বা রিপ্রেজেন্টেশন প্রধানত দুই ধরনের।
১)ডিরেক্ট রিপ্রেজেন্টেশন যেমন,সংসদ সদস্য।এরা জনগণের ডিরেক্ট প্রতিনিধি।
২)ইন্ডিরেক্ট রিপ্রেজেন্টেশন যেমন,মহিলা সংসদ সদস্য।

আবার,ইন্ডিরেক্ট কে দুইভাগ করা যায়।
১)সাধারন-যেমন,রাষ্ট্রপতির নির্বাচন।
২)আনুপাতিক-যেমন,মহিলা সদস্য
২)
এবার একটু বিস্তারিত জানা যাক।

সরাসরি প্রতিনিধিত্বে(এমপি নির্বাচনে) বাংলাদেশে প্রতিনিধি নির্বাচনের যে পদ্ধতি চালু আছে তাকে বলা হয় এফপিটিপি।এই পদ্ধতি একটা দর্শনকে ফলো করে।তা হলো;Winner takes all.উদাহরন হিসেবে বলা যায় আপনার আসনে দুইজন প্রার্থী।একজন পেলেন ৫১% ভোট।আরেকজন পেলেন ৪৯%!৫১ যে পেয়েছে উনি উইনার হবে এবং ৪৯% ভোট যে পেয়েছে তার কোন মুল্য নেই।এই ৫১% ভোটকে বলা হয় পপুলার মেজরিটি ভোট।

পপুলার মেজরিটি ভোটকে অনেক দেশ ত্রুটিপূর্ণ মনে করেন।তাই,বিকল্প পদ্ধতি ভাবছে।তা হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।এই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে আর্টিকেল ৬৫(৩) এ বলা আছে।মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য প্রতিনিধিত্ব হবে আনুপাতিক।এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিদেরকে নির্বাচিত করার জন্য সারা বিশ্বে দুইটা প্রসেস আছে।একটা টা "একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট" আরেকটা মিশ্র মেম্বার প্রতিনিধি ভোট।বাংলাদেশে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট ফলো করা হয়।
প্রশ্ন আসে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব কি?
সংবিধান অনুসারে বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এই ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনি এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে তাকে কোনও দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক মহিলা সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সেক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে।
যেমন,উহাদরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জাতীয় পার্টি সংসদে ২২টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির ৪টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা। ৫০÷৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২*০.১৬৬৭= ৩.৬৭।
সুতারাং বিএনপি পাবে মাত্র একটি। কেননা,তারা আসন পেয়েছে ৫ টি।এই প্রক্রিয়া কে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বলে।
বিএনপি আনুপাতিক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে রুমিন ফারহানাকে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট কি?
উপরের উদাহরনে,বিএনপি আনুপাতিক ভাবে আসন পেয়েছেন একটি।সেখানে প্রার্থী ও দিয়েছেন একজন।তা হলো রুমিন ফারহানা।বিএনপি যদি ঐ এক আসনে দুটো প্রার্থী দিত তখন আসত একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের কথা।ধরা যাক,আনুপাতিক আসনে তিনজন প্রার্থী দেয়া হলোএমপি হতে প্রত্যেক কে একশ মার্কস পেতে হবে।এই মার্কস দিবে সাংসদ রা।রুমিন ফারহানা মনে করুন ১১০ মার্কস পেল।তার,প্রতিদ্বন্দ্বী ৮০ মার্কস পেল।রুমিনএকশ মার্কস নিয়ে এমপি হয়ে যাবে।আর বাকি ১০ মার্কস প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম্বারে এড হবে।এভাবে ভোট হস্তান্তর হওয়ার প্রক্রিয়া কে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট বলে।
৩)বাংলাদেশের ইতিহাসে আনুপাতিক আসনে কখনো দ্বৈত বা দুজন প্রার্থী নির্বাচন করে নি।তাই,একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট হয় নি।

মহীউদ্দীন মাহমুদ

27/02/2022

হেবা

28/01/2022

অর্থঋণ আদালতে মামলা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিচার পদ্ধতি

বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। আইনটির ৩ ধারার ক্ষমতাবলে অন্যসব আইনের তুলনায় এ আইনটির প্রাধান্য রয়েছে। আবার ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর যতটুকু অংশ এ আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, ঠিক ততটুকুই এ আইনের অধীনে মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় এক বা একাধিক অর্থ ঋণ আদালত আছে। যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সাধারণত অর্থ ঋণ আদালতের বিচার কাজ করে থাকেন। সরকার এসব বিচার কাজ করার জন্য ২০০৩ সালে অর্থ ঋণ আদালত আইন প্রণয়ন করে। আইনানুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় সম্পর্কিত যাবতীয় মামলা এ আদালতে দায়ের করতে হয়।

অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর অধীনে মামলা, মধ্যস্থতা ও বিচারের কিছু কিছু ক্ষেত্রের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে, আর যেসব ক্ষেত্রে বিচার পদ্ধতির বর্ণনা পাওয়া যায় না সেই ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি প্রয়োগ করা হয়।

মামলা দায়েরের নিয়মঃ মামলার বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালত আইনের ধারা ৮(১) অনুযায়ী আরজি দাখিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। এ ধরনের মামলার আরজিতে উপস্থাপন করতে হবে : বাদী-বিবাদীর নাম, ঠিকানা, কর্মস্থল, বাসস্থানের ঠিকানা, দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত সব ঘটনা, কোর্ট ফি প্রদানের উদ্দেশ্যে মামলার মূল্যমান, আদালতের এখতিয়ার আছে এ মর্মে বিবরণ এবং প্রার্থিত প্রতিকার। অন্যদিকে ওই আরজিতে দুটি তফসিল থাকবে।

প্রথম তফসিলে থাকবে বিবাদীকে প্রদত্ত মূল ঋণ অথবা বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ; স্বাভাবিক সুদ/মুনাফা/ভাড়া হিসেবে আরোপিত টাকার পরিমাণ; দণ্ড সুদ হিসেবে আরোপিত টাকার পরিমাণ; অন্যান্য বিষয় বাবদ বিবাদীর ওপর আরোপিত টাকার পরিমাণ; মামলা দায়েরের আগ পর্যন্ত প্রণীত শেষ হিসাবমতে বিবাদী কর্তৃক বাদীর আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা পাওনা পরিশোধ বাবদে জমাকৃত টাকার পরিমাণ; বাদী কর্তৃক প্রদত্ত ও ধার্য মোট এবং বিবাদী কর্তৃক পরিশোধিত মোট টাকার তুলনামূলক অবস্থান।

দ্বিতীয় তফসিলে থাকবে, ওইসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যা বন্ধক বা জামানত রেখে বিবাদী ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। সে সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ ও আর্থিক মূল্য সেখানে উল্লেখ করতে হবে এবং প্রত্যাশিত প্রতিকার চেয়ে একটি হলফনামা লিখে প্রদত্ত ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতের বিচারক বরাবর এ মামলাটি দাখিল করা যাবে। সেই সঙ্গে মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। আরজিটি যথাযথ হলে অর্থঋণ মামলা হিসেবে নির্ধারিত রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যেসব জেলায় এরকম আদালত নেই সেখানে যুগ্ম জেলা জজের আদালতে দাখিল করতে হবে ধারা ৪(৩) অনুসারে এবং দাখিলকৃত আরজি যথাযথ হলে আদালতের রেজিস্ট্রার নির্ধারিত নিবন্ধন বইতে ক্রমানুসারে তা অন্তর্ভুক্ত করবেন।

মনে রাখতে হবে, এ আইনের মাধ্যমে গঠিত মামলায় বাদী ও বিবাদী নিজেদের আরজী-জবাবে (Pleadings) তাদের দাবির সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য অথবা দলিল উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে আদালত সঙ্গত কারণ ও খরচ প্রদান ছাড়াই ওই সাক্ষ্য ও দলিল গ্রহণ না-ও করতে পারে। সুতরাং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব সাক্ষ্য ও দলিলপত্রাদি সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে যেসব সাক্ষ্য অথবা দলিল বাদী অথবা বিবাদীর কাছে মজুদ নেই, সেসব সাক্ষ্য ও দলিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও আরজিতে উল্লেখ করতে হবে। কারণ এই আইনের ৬(৪) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে এ ধারার উপধারা ২ ও ৩ বিধান অনুযায়ী সংযুক্ত হলফনামাই মৌলিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং আদালত চাইলে কোনো মামলার এরকম হলফনামাযুক্ত আরজি বা লিখিত জবাব ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি বিশ্লেষণ করে এবং কোনো সাক্ষীকে পরীক্ষা করা ছাড়াই একতরফাভাবে রায় বা আদেশ প্রদান করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, যে ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়, সে ক্ষেত্রে বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই মামলা দায়েরের পূর্বে ধারা ১২ এর বিধান সাপেক্ষে বন্ধককৃত সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রয়ের চেষ্টা করতে হবে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে ১২(৩) ধারায়। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিবাদীর কাছ থেকে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে অথবা অস্থাবর সম্পত্তি দায়বদ্ধ রেখে ঋণ প্রদান করলে এবং বন্ধক প্রদান বা দায়বদ্ধ রাখার সময় বন্ধকি বা দায়বদ্ধ সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়ে থাকলে, তা বিক্রি না করে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় না করে অথবা বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ না হয়ে এই আইনের অধীনে অর্থঋণ আদালতে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।’ অর্থাৎ যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কোনো সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা দিয়ে কোনো সম্পত্তি বন্ধক দেয়া হয়, তাহলে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই সম্পত্তি বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় করার চেষ্টা করবে। এতেও যদি ঋণ না মেটে কিংবা সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করে যদি প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়, কেবল তখনই অর্থঋণ আদালত মামলা দায়ের করা যাবে।

এই আইনে বিবাদী মূল ঋণ গ্রহীতা কিংবা ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা এবং তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টরকেও বিবাদী শ্রেণিভুক্ত করে মামলা করতে হবে। অর্থাৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূল ঋণগ্রহীতার (Principal debtor) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সময় তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা (Third party mortgagor) বা তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টর (Third party guarantor) ঋণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে, তাদেরকেও পক্ষ করতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ‘এহতেশামুল হক বনাম রাষ্ট্র’ এবং অন্যান্য মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১১.১১.২০১২ তারিখে মন্তব্য করে, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ সালের ১৩৮ ধারার মামলার পাশাপাশি অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

সমন জারিঃ বিবাদী বা বিবাদীদের প্রতি সমন জারি করতে হবে। এই আইনের ৭ ধারায় সরাসরি, বিকল্প পদ্ধতি এবং অতিরিক্ত সমন জারির বিধান বর্ণিত আছে। অর্থাৎ আদালত অথবা ব্যক্তিগতভাবে সমন পাঠানো যাবে। বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি আদালতের মাধ্যমে সমন পাঠাতে চায়, সে ক্ষেত্রে আদালতের রেজিস্ট্রার নির্ধারিত নিবন্ধন বইয়ের ক্রমানুসারে তা প্রেরণ করবেন এবং আদালত কর্তৃক সমন ইস্যুর ১৫ দিনের মধ্যে জারি না হয়ে ফেরত এলে আদালত তার পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ-৫ নিয়ম-২০-এর বিধান অনুযায়ী সমন জারি করবে।

ব্যক্তিগতভাবে হলে এ আইনের ৭(১) ধারার অতিরিক্ত বিধান হিসেবে বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে নিজ খরচে নোটিশ জারি করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে আদালতের জারিকারক কর্তৃক সমন জারিকরণের প্রথমোক্ত অতিরিক্ত ব্যবস্থাটিও কার্যকর হবে। বর্তমানে সমন পাঠানোর জন্য এ আইনের ৭(১) ধারার ক্ষমতাবলে অনেক পত্রিকায় সমন লক্ষ্য করা যায়।

সমন জারির পর, বিবাদীগণ ৯ ধারা অনুসারে ও ১০ ধারায় বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করবে এবং মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। বিবাদী লিখিত জবাবের সঙ্গে দালিলিক প্রমাণাদি এবং সেই সঙ্গে একটি হলফনামা দাখিল করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদী লিখিত জবাব প্রদান না করে তাহলে একতরফাভাবে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১১ ধারা অনুসারে লিখিত জবাবের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জবাব দাখিল করতে পারবে, কিন্তু বিবাদীর অতিরিক্ত জবাব দাখিলের কোনো সুযোগ নেই।

১৩(১) ধারা অনুসারে লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত উভয়পক্ষকে মৌখিক শুনানি শেষে কিংবা তাদের অনুপস্থিতিতে মামলার বিচার্য বিষয় গঠন করবে। আর বিচার্য বিষয় না থাকলে আদালত অবিলম্বে রায় প্রদান করবে। এছাড়াও মামলার শুনানীর জন্য ধার্য কোনো তারিখে যদি বিবাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকে অথবা মামলা শুনানীর পর্যায়ে আদালত যদি তাকে প্রয়োজন মতো উপস্থিত না পায় তাহলে এক্ষেত্রে আদালত সে মামলা একতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি করতে পারে।

বিকল্প বিরোধ-নিষ্পত্তিঃ অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ সালের ৫ম অধ্যায়ে বৈঠক ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ-নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিবাদী উপস্থিত হলে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই আইনের ২২ ধারায়।

উক্ত আইনের ২২ ধারায় বলা আছে যে, মামলায় বিবাদী পক্ষ লিখিত বক্তব্য পেশ করার পর আদালত ধারা ২৪-এর বিধানসাপেক্ষে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে, মামলাটি, নিযুক্ত আইনজীবীগণ কিংবা আইনজীবী নিযুক্ত না হয়ে থাকে তাহলে পক্ষগণের নিকট প্রেরণ করবেন।উক্ত প্রেরিত মামলায় নিযুক্ত আইনজীবীগণ মামলার পক্ষগণের সহিত পরামর্শক্রমে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অপর একজন আইনজীবী, যিনি কোন পক্ষ কর্তৃক নিয়োজিত নয় অথবা কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অথবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তিকে মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিযুক্ত করতে পারবে; তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত হবার অযোগ্য হবে। মধ্যস্থতার কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যস্থতার পর মধ্যস্থতাকারী মধ্যস্থতার বিবরণ সম্বলিত একটি রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে।

আদালত, যে তারিখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদেশ প্রদান করবে, সেই তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যদি না আদালত উভয় পক্ষ কতৃর্ক লিখিত দরখাস্ত দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়, অথবা কারণ উল্লেখপূর্বক স্বীয় উদ্যোগে, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করবে।

এ ধরনের কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা বা মধ্যস্থতা হয়ে থাকে তাহলে বিরোধ নিষ্পত্তির শর্তাবলি অন্তর্ভূক্ত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে এবং মধ্যস্থতাকারী ও আইনজীবীদের তা সত্যায়িত করতে হবে। ঐ সমঝোতা বা মধ্যস্থতার চুক্তির ভিত্তিতে আদালত একটি আদেশ বা ডিক্রী জারী করবেন। এই ধারার অধীন মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোন মামলার নিষ্পত্তির আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোন আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাবে না। এই ধারার অধীন কোন মামলার বিরোধ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, তাহলে আদালত কালেক্টরের নিকট হতে আরজির উপর প্রদত্ত সমুদয় কোর্ট ফি ফেরত প্রদানের লক্ষ্যে বাদীর অনুকূলে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে এবং ইহার ভিত্তিতে বাদী প্রদত্ত কোর্ট ফি ফেরত পাবার অধিকারী হবে।

এছাড়াও ৩৮ এবং ৪৪ক ধারাতেও জারির পর্যায়ে এবং আপীল, রিভিশনের যেকোনো পর্যায়ে মধ্যস্থার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধানের সুযোগ রয়েছে।

এই আইনের ৩৮ ধারায় বলা আছে যে, এই আইনের অধীন অর্থ ঋণ আদালত মামলায় প্রদত্ত ডিক্রীর ধারাবাহিকতায় জারী কার্যক্রম অব্যাহত থাকার যে কোন পর্যায়ে পক্ষগণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে জারী মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করে আদালতকে অবহিত করতে পারবে এবং নিষ্পত্তির বিষয়ে আদালত সন্তুষ্ট হলে, আদালত উক্ত জারী মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার আদেশ প্রদান করবে।

এই আইনের ৪৪ক ধারায় বর্নিত আছে যে, আপীল বা রিভিশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকার যে কোন পর্যায়ে পক্ষগণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপীল বা রিভিশন মামলার বিষয়বস্তু নিষ্পত্তি করে আদালতকে অবহিত করতে পারবেন। আদালত উক্ত ধারার অধীন অবহিত হলে এবং নিষ্পত্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে, উক্ত আপীল বা রিভিশন মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করিয়া আদেশ প্রদান করবেন। এই ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মধ্যস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবাদীকে সমান সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা আইনটিকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলায় যদি নিজের পক্ষে ডিক্রি পায় তাহলে আদালতের আদেশক্রমে বন্ধকি সম্পত্তি ধারা ৩৩ অনুযায়ী নিলামে বিক্রির মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণের অর্থ সমন্বয় করতে পারবে বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

আর যদি মধ্যস্থতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়াস ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত মধ্যস্থতা কার্যক্রমের পূর্ববর্তী অবস্থান হতে মামলার শুনানীর কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারবেন।

তবে আদালত মৌখিক যুক্তিতর্ক শুনতে বাধ্য নন। যদি আদালত দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে এবং সাক্ষ্য প্রমাণ যাচাই বাছাই করে বা সমাপ্ত হবার দশ দিনের মধ্যে রায় প্রদান করার বিধান রয়েছে এই আইনের ১৬ ধারায়।

এই আইনের ১৬ ধারায় আরো বলা আছে যে, অর্থঋণ আদালতের রায়, আদেশ বা ডিক্রি চূড়ান্ত এবং এই রায়, আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। আদালতের আদেশ বা রায়ে ডিক্রিকৃত টাকা ৬০ দিনের মধ্যে যেকোনো একটা সময়সীমা নির্ধারণ করে তার মধ্যে পরিশোধের জন্য বিবাদীকে নির্দেশ প্রদান করবেন। এই আইনের ১৭ ধারায় মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যা বিবাদী হাজির হলে ৯০ দিন এবং হাজির না হলে ৩০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে যথাযথ কারণ থাকলে ৯০ দিনের সঙ্গে আরও ৩০ দিন যোগ করা যাবে।

একতরফা ডিক্রি প্রদান এবং রদের বিধান বর্ণিত হয়েছে ১৯ ধারায়। ডিক্রি জারির বিধান বর্ণিত হয়েছে ২৬ থেকে ৩৯ ধারায়।

অর্থঋণ মামলার ডিক্রি মূলত টাকা আদায়ের ডিক্রি। তবে এই ডিক্রি জারি সংক্রান্ত নিলাম, গ্রেফতার ও দেওয়ানি আটক ইত্যাদি বিষয়ে কিছু বিধানাবলি সংযোজন করা হয়েছে। ডিক্রি জারি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ এবং দেওয়ানি কার্যবিধির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে অর্থঋণ আদালত আইনই প্রাধান্য পাবে। অর্থঋণ আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি হয় টাকা আদায়ের জন্য এবং বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য।

বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম বিক্রির ডিক্রি জারি করা যাবে বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম বিক্রির মাধ্যমে এবং টাকার ডিক্রি জারি করা যায় দায়িককে দেওয়ানি কয়েদে আটক রাখার মাধ্যমে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রির মাধ্যমে বা উভয় পদ্ধতির মাধ্যমে। জারি মামলায় তৃতীয় পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের বিধান মতে দাবি সম্বলিত আবেদন পেশ করলে ৩২(২) ধারা অনুসারে ডিক্রির অনাদায়ী অংশের ১০% জমা প্রদান করলে ৩২ ধারার বিধান মতে আদালত বিবেচনা করলে এই আবেদন মিস মামলা হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত হবে।

অর্থঋণ আদালতের রায়, আদেশ বা ডিক্রি সকল বিবাদিগণের বিরুদ্ধে যৌথ ও পৃথকভাবে কার্যকর হবে। ডিক্রি জারির মামলা সব বিবাদি-দায়িকের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে পরিচালিত হবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। ডিক্রি জারির মাধ্যমে দাবি আদায় হওয়ার ক্ষেত্রে আদালত প্রথমে মূল ঋণ গ্রহীতার সম্পত্তি যতদূর সম্ভব আকৃষ্ট করবেন। মূল ঋণ গ্রহীতার সম্পত্তির পরও যদি দাবি আদায় না করা যায় তাহলে তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা ও তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টরের সম্পত্তি যতদূর সম্ভব আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা ও তৃতীয় পক্ষ গ্যারান্টর যদি দাবি পরিশোধ করে তাহলে ডিক্রি তাদের অনুকূলে স্থানান্তরিত হবে এবং তারা মূল ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে তা প্রয়োগ করতে পারবেন।

আপীল, রিভিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এই আইনের ৪১, ৪২ এবং ৪৩ ধারায় যথাক্রমে আপিল ও রিভিশনের বিধানাবলি বর্ণিত আছে।

আপীলঃ এই আইনের ধারা-৪১ অধীনে ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অপেক্ষা অধিক হয়, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগে, এবং যদি ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অথবা তদ্অপেক্ষা কম হয়, তাহলে জেলাজজ আদালতে আপীল দায়ের করতে হবে। আপীলকারী, ডিক্রীকৃত টাকার পরিমাণের ৫০% এর সমপরিমাণ টাকা আদালতে জমা করে আপীল দায়ের করতে হবে। তবে বিবাদী-দায়িক ইতিমধ্যে ১৯(৩) ধারার বিধান মতে ১০% (দশ শতাংশ) পরিমাণ টাকা নগদ অথবা জামানত হিসাবে জমা করে থাকলে, অত্র ধারার অধীনে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে উক্ত ১০% (দশ শতাংশ) টাকা উপরি-উল্লিখিত ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) টাকা হতে বাদ যাবে৷
তবে এক্ষেত্রে বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ধারার অধীনে কোন আপীল দায়ের করলে, তাকে উপরি-উল্লিখিত নিয়মে কোন টাকা বা জামানত জমা দান করতে হবে না৷

আপীল নিষ্পত্তির সময়সীমাঃ আপীল আদালত, আপীল গৃহীত হবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে আপীলটি নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে, আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করতে পারবে৷

রিভিশনঃ এই আইনের ধারা-৪২ অধীনে কোন আদালত, আপীলে প্রদত্ত রায় বা ডিক্রীর বিরুদ্ধে কোন রিভিশনের দরখাস্ত গ্রহণ করা যাবে না, যদি না দরখাস্তকারী, আপীল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা বহালকৃত ডিক্রীর টাকার ৭৫% এর সমপরিমাণ টাকা, আপীল দায়ের কালে দাখিলকৃত ৫০% টাকাসমেত, উক্ত পরিমাণ টাকার স্বীকৃতি স্বরূপে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা বাদীর দাবী স্বীকার না করলে জামানত স্বরূপে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা নগদায়নযোগ্য অন্য কোন বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে ডিক্রী প্রদানকারী আদালতে জমা করে উক্তরূপ জমার প্রমাণ দরখাস্তের সহিত আদালতে দাখিল করে৷
তবে বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে এই ধারার অধীনে রিভিশন দায়ের করলে, তাকে উপরি-উল্লিখিত নিয়মে কোন টাকা বা জামানত জমা বা দাখিল করতে হবে না৷

রিভিশন নিষ্পত্তির সময়সীমাঃ উচ্চতর আদালত, রিভিশনের দরখাস্ত গৃহীত হবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে ইহা নিষ্পত্তি করবে, এবং ৬০ (ষাট) দিবসের মধ্যে রিভিশন নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে, আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করতে পারবে।

সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে আপীলঃ এই আইনের ৪৩ ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক আপীল বা রিভিশনে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে আপীল দায়েরের জন্য ঋণ গ্রহীতা-বিবাদীকে আপীল বিভাগ অনুমতি প্রদান করার ক্ষেত্রে, সংগত মনে করলে, এই আইনের ৪২(১) ধারার অনুরূপ পদ্ধতিতে ডিক্রীকৃত টাকার অপরিশোধিত অবশিষ্টাংশের যে কোন পরিমাণ টাকা নগদ বাদী-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অথবা জামানতস্বরূপ ডিক্রী প্রদানকারী আদালতে জমাদান করার আদেশ প্রদান করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধ রীট মামলাঃ অর্থঋণ আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, সে ক্ষেত্রে রিট মামলা দায়ের করা যাবে।

দিবস গণনার ক্ষেত্রেঃ এই আইনের ৪৮ ধারার অধীনে দিবস গণনার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র বিচারকের কার্যদিবস গণনা করা হইবে এবং সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের কার্য দিবসও অনুরূপ গণনার অন্তর্ভুক্ত হইবে৷

লেখক: আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কুমিল্লা।

Address

Dhaka Judge Court
Dhaka
1100

Telephone

+8801816005051

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate ।। আইনজীবী ।। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Advocate ।। আইনজীবী ।।:

Share