28/07/2026
🇯🇵 জাপানে কেন প্রায় কখনও গাড়ির হর্ন শোনা যায় না?
প্রথমবার জাপানে আসা অনেক বিদেশির কাছে একটি বিষয় বেশ অবাক করার মতো লাগে।
রাস্তায় প্রচুর গাড়ি।
শহরগুলো ভীষণ ব্যস্ত।
প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ গাড়ি চালাচ্ছেন।
তবুও…
প্রায় কোথাও গাড়ির হর্ন শোনা যায় না।
যেসব দেশে চালকেরা রাগ, অধৈর্যতা বা সামনে থাকা গাড়িকে সরানোর জন্য প্রায়ই হর্ন ব্যবহার করেন, সেখান থেকে আসা মানুষের কাছে এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
অনেক বিদেশির মনে প্রশ্ন জাগে—
“সবাই এত শান্ত কেন? কেউ হর্ন বাজাচ্ছে না!”
জাপানে হর্ন সাধারণত রাগ প্রকাশের জন্য নয়, বরং নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়।
যেমন, সামনে কোনো বিপদ থাকলে বা কাউকে সতর্ক করার প্রয়োজন হলে সংক্ষেপে হর্ন বাজানো হতে পারে। কিন্তু কেউ ধীরে গাড়ি চালাচ্ছে বা ভুল করেছে বলে বিরক্তি প্রকাশের জন্য হর্ন বাজানো খুবই বিরল।
এর পেছনে রয়েছে জাপানি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ—“অন্যের অসুবিধার কারণ না হওয়া” (迷惑をかけない / Meiwaku wo kakenai)।
অনেক জাপানি চালক মনে করেন,
“হয়তো লোকটি ভুল করে ফেলেছে। আমি হর্ন বাজিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে চাই না।”
তাই রাগ প্রকাশের বদলে তারা ধৈর্য ধরতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
অবশ্যই এর মানে এই নয় যে জাপানি চালকেরা কখনও বিরক্ত হন না। যানজটে সবারই বিরক্ত লাগে।
তবে সেই বিরক্তি প্রকাশের ধরনটা ভিন্ন।
অনেক দেশে যানজট মানেই একের পর এক হর্নের শব্দ।
একজন হর্ন বাজায়,
আরেকজন তার জবাব দেয়,
তারপর পুরো রাস্তা যেন হর্নের কোলাহলে ভরে যায়।
কিন্তু জাপানে যানজটের চিত্রটা ভিন্ন।
মানুষ শান্তভাবে গাড়িতে বসে অপেক্ষা করেন, কেউ গান শোনেন, কেউ সামনে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। অযথা হর্ন বাজিয়ে অন্যকে বিরক্ত করার প্রবণতা খুব কম।
আরেকটি বিষয় বিদেশিদের নজরে আসে—জাপানি চালকেরা ভুল করলে প্রায়ই হাত তুলে ক্ষমা চেয়ে নেন।
যদি ভুলবশত অন্য গাড়ির পথ আটকে যায় বা লেনে ঢুকতে একটু দেরি হয়, তাহলে ছোট্ট একটি হাত নাড়ার মাধ্যমে “দুঃখিত” জানান। এই ছোট্ট সৌজন্যপূর্ণ আচরণ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়াতে সাহায্য করে।
অবশ্যই জাপান কোনো নিখুঁত দেশ নয়। এখানেও দুর্ঘটনা ঘটে, অধৈর্য চালক আছেন এবং মতবিরোধও হয়।
তবুও সামগ্রিকভাবে একটি বিষয় স্পষ্ট—
জাপানে গাড়ি চালানো শুধু নিজের গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয় নয়, বরং অন্যদের সঙ্গে একই রাস্তা সম্মান ও ধৈর্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ারও বিষয়।
নীরব রাস্তা, ধৈর্যশীল চালক এবং অপ্রয়োজনীয় হর্নের অনুপস্থিতি জাপানি সংস্কৃতির একটি গভীর দিককে তুলে ধরে।
কখনও কখনও সম্মান প্রকাশ পায় আমরা কী করি, তা দিয়ে নয়—বরং কী করা থেকে বিরত থাকি, তা দিয়েই।
জাপানের রাস্তায় এই নীরবতা কোনো শূন্যতা নয়।
এটি এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে লাখো মানুষ প্রতিদিন একে অপরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলার চেষ্টা করেন।
সূত্র : Horiguchi Mia — feeling sad in Japan.