16/06/2026
ভুয়া বা জাল দলিল বাতিলের জন্য কোথায় এবং কত দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়? / জানুন / শেয়ার করুন / কপি করা থেকে বিরত থাকুন।
ভুয়া বা জাল দলিল বাতিলের জন্য মামলা করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। নিচে এর নিয়ম ও সময়সীমা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
১. মামলা কোথায় করবেন?
জাল দলিল বাতিলের জন্য আপনাকে দেওয়ানি আদালতে (Civil Court) মামলা করতে হবে।
জমির মূল্য অনুযায়ী আদালত: জমির দাম (ভ্যালুয়েশন) অনুযায়ী মামলার আদালত নির্ধারিত হয়। জমির দাম যদি নির্দিষ্ট সীমার নিচে থাকে, তবে তা সহকারী জজ আদালতে এবং জমির দাম বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করতে হয়।
এলাকাভিত্তিক: যে এলাকায় জমিটি অবস্থিত, সেই এলাকার অধিক্ষেত্রাধীন দেওয়ানি আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হয়।
২. মামলার ধরন বা প্রতিকার
জাল দলিল বাতিলের জন্য আপনাকে মূলত 'দলিল বাতিলের মামলা' (Suit for Cancellation of Document) করতে হবে। এর সাথে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যুক্ত থাকে:
স্বত্ব ঘোষণার মামলা: অর্থাৎ আপনি জমির প্রকৃত মালিক—এটি আদালত কর্তৃক ঘোষণা করা।
স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: বিবাদী যেন আপনার জমিতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞার আবেদন।
দখল পুনরুদ্ধার: যদি তারা জবরদখল করে থাকে, তবে দখল উদ্ধারের আবেদন।
৩. মামলা করার সময়সীমা (Limitation)
লিমিটেশন অ্যাক্ট বা তামাদি আইন অনুযায়ী, জাল দলিল বাতিলের জন্য মামলা করার সময়সীমা হলো—দলিলটি সম্পর্কে জানার পর ৩ বছরের মধ্যে।
বিবরণ: তামাদি আইনের ৯১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দলিল বাতিল বা রদ করার জন্য দাবি উত্থাপন করতে হলে দলিলটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়।
বিশেষ সতর্কতা: আপনি যদি কোনো দলিল সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানেন কিন্তু ৩ বছরের বেশি সময় পার হয়ে যায়, তবে মামলা করা আইনিভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জাল দলিল সম্পর্কে জানার সাথে সাথে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
৪. মামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জাল দলিলের কপি: রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জাল দলিলের একটি সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে হবে।
মালিকানার প্রমাণ: আপনার কাছে থাকা আসল দলিল, খতিয়ান, মিউটেশন (নামজারি) পর্চা এবং ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদের কপি।
সাক্ষ্য-প্রমাণ: কেন দলিলটি জাল বা ভুয়া—তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ বা স্বাক্ষী।
বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রয়োজনে হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ বা দলিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বা মতামত।
কিছু জরুরি পরামর্শ:
১. সরাসরি আইনজীবীর পরামর্শ: জাল দলিল বাতিলের মামলা অত্যন্ত জটিল। তাই একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে মামলার আরজি (Plaint) তৈরি করুন।
২. রেজিস্ট্রি অফিস পরিদর্শন: সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখুন দলিলটি আসলে রেজিস্ট্রি বইতে আছে কি না, নাকি পুরোটাই বানোয়াট। যদি ভলিউম বইতে না থাকে, তবে সেটি 'ভুয়া দলিল' হিসেবে গণ্য হবে, যা প্রমাণ করা সহজ।
৩. ফৌজদারি মামলা (যদি প্রযোজ্য হয়): দলিলটি যদি সই-জাল বা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়, তবে আপনি দলিল বাতিলের দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি থানায় বা আদালতে ফৌজদারি মামলাও (জালিয়াতির অভিযোগে) দায়ের করতে পারেন।
৪. নামজারি যাচাই: আপনার নামে জমির নামজারি বা মিউটেশন থাকলে তা জাল দলিল বাতিলের মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় শক্তি বা প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
সতর্কতা: জাল দলিল বাতিলের মামলায় আদালতের রায় পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই মামলার চলাকালীন সময়ে বিবাদী যেন জমিটি পুনরায় হাতবদল করতে না পারে, সেজন্য 'নিষেধাজ্ঞা' (Injunction) চেয়ে আবেদনের প্রতি আইনজীবীকে গুরুত্ব দিতে বলবেন।
অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান
আইনজীবী ও লেখক।
ঢাকা জজ কোর্ট চেম্বারঃ ২০/এ রাজার দেউরি, রুম নং ৩০২, কোতয়ালী ঢাকা।
হাইকোর্ট চেম্বার : ২১৬ এনেক্স হল রুম, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বিল্ডিং, ঢাকা-১০০০।
করপোরেট চেম্বার : ১৪ পুরানা পলটন, দার- উস- সালাম আরকেড, ৮ম তলা, রুম নং ২/১, ঢাকা ১০০০।
হোয়াটসঅ্যাপ ০১৮৩৪৫৩৩৮৮৯