24/08/2026
জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে 'বায়নানামা' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক চুক্তি। অনেকেই মনে করেন, শুধু নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে রাখলেই বায়নানামা আইনিভাবে সুরক্ষিত হয়ে যায়। বাস্তবে আইনি বিধান কিন্তু ভিন্ন।
২০০৪ সালের আইনি সংশোধনী (যা ১ জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর) অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির বায়নানামা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে The Registration Act, 1908-এর ১৭ক ধারা, The Transfer of Property Act, 1882-এর ৫৪ক ধারা এবং The Specific Relief Act, 1877-এর ২১ক ধারা-তে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। আইনি প্রতিকার পেতে হলে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি:
১. বায়নানামা সম্পাদনের তারিখ থেকে অবশ্যই ৬০ দিনের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
২. বায়নানামায় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ থাকতে হবে। সময় উল্লেখ না থাকলে আইন অনুযায়ী এটি ৬ মাস হিসেবে গণ্য হবে।
৩. বায়নানামা লিখিত ও রেজিস্ট্রি করা না হলে, বিক্রেতা পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আপনি দেওয়ানি আদালতে 'চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎকরণ' মামলা করার অধিকার হারাবেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলা দায়ের করার সময় চুক্তির বাকি টাকা আদালতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৪. বায়নানামার শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রতিকার চেয়ে ১ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করতে হবে। এই ১ বছরের সময়কাল গণনা শুরু হবে চুক্তিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট তারিখ থেকে, আর চুক্তিতে নির্দিষ্ট তারিখ না থাকলে, বিক্রেতা যেদিন থেকে চুক্তি পালনে অস্বীকৃতি জানাবেন, সেদিন থেকে।
জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি এড়াতে সঠিক সময়ে বায়নানামা রেজিস্ট্রি নিশ্চিত করুন। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টেস্ এ দেওয়া আমাদের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন।
Advice@legal advice