26/05/2026
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র সাম্প্রতিক চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংকিং খাত, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে জনমত তৈরি হয়েছে। সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।
সমালোচকদের দাবি, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেসব ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানো হলে জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল ও বৃহৎ আমানতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা এবং নীতিগত বৈধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটাও বাস্তবতা যে, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়; বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং আন্দোলন, মধ্যবিত্ত আমানতকারী সমাজ এবং একটি বৃহৎ আদর্শিক জনগোষ্ঠীর আবেগ ও আস্থার সাথেও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ব্যাংকটির প্রাথমিক বিকাশে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের আমানত সংগ্রহ, নিবেদিত জনশক্তির শ্রম এবং শরিয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক চিন্তার বড় ভূমিকা ছিল—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে এটিও সত্য যে, গত এক দশকে ব্যাংকটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে। এস আলম গ্রুপের প্রভাব বিস্তারের পর ব্যাংকটির তারল্য সংকট, বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স দুর্বলতা এবং গ্রাহক আস্থার অবনতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনেক গ্রাহক সময়মতো আমানত উত্তোলনে সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বিভিন্ন মহল ইসলামী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কিছু ধর্মভিত্তিক ও সামাজিক মহল প্রকাশ্যে আমানত ধরে রাখার আহ্বান দেওয়ায় ব্যাংকটির স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে মানুষের প্রশ্নগুলোকে “রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং আস্থার প্রশ্ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো হলো—
• ব্যাংকের পরিচালনায় রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত প্রভাব কমানো
• যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নিশ্চিত করা
• আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া
• বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা
• ইসলামী ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা
কারণ একটি দেশের অর্থনীতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং পেশাগতভাবে পরিচালিত হয়।