31/07/2026
৩৮ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি রোধে এনবিআরের নজরে ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান!
রাজস্ব ফাঁকির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্ক্যানারে আসতে যাচ্ছে, যেখান থেকে বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে বাড়তি ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ১০ লাখ টাকার বেশি মাসিক লেনদেন রয়েছে এবং রাজস্বের জন্য জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তথা ফাঁকির প্রবণতা বেশি রয়েছে—মূলত এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহে থাকা তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তবে মূল নজর থাকবে মাঝারি আকারের ব্যবসা ও বড় ভ্যাটদাতাদের ওপর।
এ তালিকায় থাকতে পারে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন ধরণের কেনাকাটা করে—যাদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয়ভাবে বিক্রি বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসহ ভ্যাট নিবন্ধিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
এ ধরনের প্রায় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাদের ফাঁকি উদ্ঘাটনের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে বাড়তি ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে চায় এনবিআরের ভ্যাট উইং।
এর বাইরে বড় আকারের ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বছরে ১ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট দেয় – এমন ২ হাজার প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি উদ্ঘাটনেও বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। এসব করদাতার থেকে স্বাভাবিক আদায়কৃত ভ্যাটের বাইরে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে চায় এনবিআর।
সব মিলিয়ে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটনের মাধ্যমে বাড়তি ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। এর বাইরে আরো কিছু ফাঁকি উদ্ঘাটনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বাড়তি আরো তিন হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার এনবিআরে অনুষ্ঠিত এক সভায়, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফাঁকি উদ্ঘাটনের মাধ্যমে বাড়তি এ ভ্যাট আদায়ের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে এনবিআর।