02/05/2026
এক ভদ্রমহিলা অস্ট্রেলিয়া যাবেন, পড়তে।
উনার ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হবে। ভিসা এজেন্সি উনাকে এক ব্যাংকারের নাম্বার দিলো।
উনি ব্যাংকারকে হোয়াটসঅ্যাপে নক দিলেন। ব্যাংকার উনাকে আপু আপু করে ভাসিয়ে দিলো।
ব্যাংকার উনাকে বললো ৫৪ লাখ টাকার সলভেন্সি দেখাতে উনাকে ২৭০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে।
মহিলা ব্যাংকারের কাছে খরচের ব্যাপারে ধারণা চাইলেন। ব্যাংকার বললো, প্রতি মাসে ১৫,০০০/- খরচ হবে। এর পাশাপাশি, সরকারের চার্জ আছে বছরে ১০,০০০/-
মহিলা আশ্বস্ত হলেন।
মহিলা কাগজপত্র দিলেন, বাবাকে নিয়ে শাখায় গেলেন। ব্যাংকার বাবার সই-স্বাক্ষর নিলো। একাউন্টে ২৭০,০০০/- টাকা জমা নিলো।
সেদিন রাতে ব্যাংকার মহিলাকে জানালো, পরদিনই মহিলার এফডি হয়ে যাবে। তবে, আর্জেন্ট বেসিসে কাজটা করার জন্য ২৩,০০০/- খরচ লাগবে।
মহিলা ২৩,০০০/- ব্যাংকারের বিকাশ একাউন্টে পাঠিয়ে দিলেন।
ব্যাংকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ে দিলো। মহিলা সেগুলো এম্বেসিতে জমা দিয়ে দিলেন।
ভিসা প্রসেস চলতে লাগলো।
ছয় মাস পরে ব্যাংকার আবার মহিলাকে ফোন দিলো। বললো, লোন রিনিউ করতে হবে। ১০,০০০/- খরচ লাগবে।
মহিলা ১০,০০০/- ব্যাংকারের বিকাশে পাঠিয়ে দিলেন।
এর দুইমাস পর এক শুভদিনে, শুভক্ষণে মহিলার ভিসা চলে এলো। মহিলা তো খুশিতে আটখানা।
মহিলা কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে ব্যাংকারকে নক দিলেন, একাউন্ট ক্লোজ করতে চান।
ব্যাংকার একাউন্ট ক্লোজ করে উনাকে বললো, আপু, একাউন্ট ক্লোজ হয়ে গেছে।
এবার মহিলা বললেন, কতো টাকা খরচ হলো, ভাইয়া?
ব্যাংকার একটা স্টেটমেন্ট পাঠালো- মহিলার বাবার নামের একটা সেভিংস একাউন্টে ১৩,০০০/- আছে।
মহিলার তো মাথায় হাত!
উনি হিসাব করেছিলেন, ৮ মাসে ১২০,০০০ (১৫,০০০*৮) আর সরকারের চার্জ ১০,০০০; মোট ১৩০,০০০/- খরচ হবে। এখন দেখেন, খরচ হয়ে গেছে ২৫৭,০০০/-
মহিলা ব্যাখ্যা চাইলেন ব্যাংকারের কাছে।
ব্যাংকার এবার তার নখদন্ত বের করে ফেললো।
মহিলার প্রবাসী হাজবেন্ড ফোন দিলেন ব্যাংকারের কাছে, ব্যাংকার উলটো উনাকে হুমকি দিয়ে দিলো- দেশে থাকা পরিবারকে দেখে নেবে!
নিরুপায় হয়ে মহিলা গেলেন শাখায়। এইবার, ব্যাংকার মহিলাকে দেখে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো!
সে মহিলাকে হুমকি দিলো, অস্ট্রেলিয়ার এম্বেসিতে মেইল করে জানিয়ে দেবে যে, মহিলা লোন করে ফেইক এফডিআর দেখিয়েছেন। মহিলার ভিসা রিজেক্ট হয়ে যাবে, তিনি পারমামেন্টলি রেড ফ্ল্যাগড হয়ে যাবেন।
মহিলার তো মাথা খারাপ!
তার খরচ হয়ে গেছে দ্বিগুন টাকা।
তার বাবার নামে সেভিংস একাউন্টে শুধু ২৭০,০০০/- জমা হয়েছে। তিনি বিকাশে দুই দফায় যে ৩৩,০০০/- পাঠিয়েছেন, সেই টাকা ব্যাংকার আত্মসাৎ করে ফেলেছে...।
মহিলা আশা করে বসে ছিলেন, ব্যাংক থেকে ১৪০,০০০/- ফেরত পাবেন। সেটা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গেলে প্রথম মাসের খরচটা চালানো যাবে।
এই ভোগান্তির গল্পটা বাস্তব। গোপনীয়তার স্বার্থে নাম পরিচয় প্রকাশ করলাম না।
বাংলাদেশের মানুষ কেমন পিশাচ, বোঝেন!
ব্যাংক বিশ্বাসের ব্যবসা করে। বিদেশে পড়তে যাবার জন্য সাহায্য চেয়ে একজন ব্যাংকারের কাছে এসেছে।
সে সিস্টেমে গ্রাহকের টাকাপয়সা আত্মসাৎ করে ফেলেছে! আর, এই সার্ভিস সম্পর্কে নিজের জ্ঞান না থাকার কারণে গ্রাহকের আরও অনেক টাকার ক্ষতি করে ফেলেছে।
গ্রাহকের এফডিআর ছিলো তিন মাসের। প্রথমবার গ্রাহক এফডিআর এর পুরো ইন্টারেস্ট পেয়েছেন। এরপরে এফডিআর রিনিউ হয়েছে। ছয় মাস পরে গ্রাহক এফডিআর এর ইন্টারেস্ট পেয়েছেন আবার। লোনের ইন্টারেস্ট দেবার পর উনার নীট এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিলো।
কিন্তু, সাড়ে ৮ মাস পরে ব্যাংকার যখন গ্রাহকের এফডিআর ভাঙিয়ে ফেলেছে, এফডিআর প্রিম্যাচিউর এনক্যাশ করার কারণে এক টাকাও ইন্টারেস্ট পাননি গ্রাহক। লোনের ইন্টারেস্ট পাই-পাই করে দিতে হয়েছে।
ব্যাংকারের এই অজ্ঞানতা কিংবা অসাবধানতার কারণে গ্রাহকের অনেকগুলো টাকা নষ্ট হয়েছে।
আমি নিজে এক-দেড়শো মানুষের ব্যাংক সলভেন্সিতে সাহায্য করেছি।
প্রত্যেক গ্রাহককে খুঁটিনাটি বুঝিয়ে তারপর তার জন্য সুবিধাজনক শাখায় পাঠিয়েছি। ডকুমেন্টস এর চেকলিস্ট দিয়েছি। শাখার ম্যানেজারকে সবিস্তারে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি।
গ্রাহককে বিস্তারিত সব বুঝিয়েছি। সময়ে সময়ে স্টেটমেন্ট আর সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
গ্রাহকের প্রতিটি টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা করতে বলেছি। মেয়াদ শেষে তিনটা একাউন্ট (সেভিংস, এফডিআর, লোন) এর বিস্তারিত স্টেটমেন্ট দিয়েছি।
আমার কাছে যারা একবার সেবা নিয়েছেন, তারা এখন তাদের পরিচিতদের রেফার করছেন আমার কাছে।
ব্যাংকের এই সার্ভিস কিছুটা আনইথিক্যাল- এটা আমি খুব ভালো করে বুঝি। ব্যাংক এমন একজনকে টাকা আছে- সার্টিফিকেট দিচ্ছে, যার আসলে টাকা নেই।
কিন্তু, এই ছোট একটা অনিয়ম করে আমরা ব্যাংকাররা একটা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে পারছি। সে ওখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের পরিবারকে সাপোর্ট দেবে- এরকম ভেবে সান্তনা পাই।
এই ঘটনা জানার পর আমার যে জিদ লেগেছে!
ভেবেছি, এই সার্ভিস দেওয়াই বন্ধ করে দেবো।
পরে মাথা ঠান্ডা হলো। ভাবলাম, আমি যদি এই সার্ভিস দেওয়া বন্ধ করি, তাহলে নিরুপায় মানুষগুলো নিশ্চয়ই এরকম ফ্রডের কাছে যাবে।
তাই, সলভেন্সি দেখানোর সলিউশন আমি আরও বেশি করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
(C)
আপনার কিংবা আপনার পরিচিত কারও যদি এরকম সার্ভিস প্রয়োজন হয়, আমাদের NU Global সাথে যোগাযোগ করুন।