02/06/2026
# ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও গঠনতন্ত্র থেকে অধ্যবধি # ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (Islami Bank Bangladesh Limited) ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
ব্যাংকটি ৩০ মার্চ, ১৯৮৩ থেকে দেশের প্রথম সুদমুক্ত ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ছিল একটি যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি।
এর প্রধান উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনটি পক্ষ:
১. বাংলাদেশী উদ্যোক্তা
২. বাংলাদেশ সরকার
৩. বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসমূহ: এর মধ্যে ছিল ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
ব্যাংকের শুরুর দিকে এর পরিশোধিত মূলধন ছিলো প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এই টাকার ৭০% বিদেশী উদ্যোক্তারা জোগান দেন, স্থানীয় উদ্যোক্তারা দেন ৩০%।
বাংলাদেশের যেসব মানুষ এবং প্রতিষ্ঠান এই ব্যাংকের উদ্যোক্তা ছিলেন, তারা হলেন-
১. আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক লস্কর
২. আলহাজ্ব মফিজুর রহমান
৩. ব্যারিস্টার তমিজুল হক
৪. আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ
৫. আলহাজ্ব মোঃ শফিউদ্দিন দেওয়ান
৬. আলহাজ্ব মোহাম্মদ বশির উদ্দিন
৭. আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসাইন
৮. জনাব নাসির উদ্দিন আহমেদ
৯. জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন
১০. জনাব মোহাম্মদ মালেক মিনার
১১. জনাব জাকি উদ্দিন আহমেদ
১২. আলহাজ্ব এম এ রাশেদ চৌধুরী
১৩. জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার
১৪. জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
১৫. জনাব সিরাজউদ্দৌলা
১৬. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান
১৭. ইবনে সিনা ট্রাস্ট
১৮. বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
১৯. ইসলামিক ইকোনোমিক্স রিসার্চ ব্যুরো
এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন বিদেশী উদ্যোক্তার তালিকা নিম্নরুপ:
| ক্রমিক | প্রতিষ্ঠানের নাম | দেশ |
| ১ | ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) | সৌদি আরব |
| ২ | দুবাই ইসলামিক ব্যাংক | সংযুক্ত আরব আমিরাত |
| ৩ | কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস (KFH) | কুয়েত |
| ৪ | আল-রাজি কোম্পানি ফর কারেন্সি এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কমার্স | সৌদি আরব |
| ৫ | বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক | বাহরাইন |
| ৬ | জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক | জর্ডান |
| ৭ | আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সি | সৌদি আরব |
| ৮ | দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি | কুয়েত |
| ৯ | ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং এস. এ. | লুক্সেমবার্গ |
| ১০ | কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় | কুয়েত |
| ১১ | শেখ আহমেদ সালাহ জমজুম | সৌদি আরব |
| ১২ | ফুয়াদ আব্দুলহামিদ আল-খতিব | সৌদি আরব |
| ১৩ | ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি অফ গাল্ফ (IICG) | বাহরাইন |
ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করে এসেছে।
১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ ঘোষণা করে।
১৯৯০ সালে ব্যাংকটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ব্যাংক হিসেবে বিশ্বের সেরা ১,০০০ ব্যাংকের তালিকায় প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সুপরিচিত ব্যাংকিং ও আর্থিক ম্যাগাজিন 'দি ব্যাংকার' (The Banker), যা 'ফাইনান্সিয়াল টাইমস' গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, এই তালিকাটি প্রকাশ করে।
এরপর থেকে, ইসলামী ব্যাংক এই তালিকায় তার অবস্থান ধরে রেখেছে এবং তারা টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই তালিকায় নিজেদের স্থান বজায় রেখেছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে ইসলামি ব্যাংকের প্রদত্ত লভ্যাংশ নিম্নরুপ:
Bonus Issue (Stock Dividend)
10% 2013, 17% 2012, 25% 2011, 35% 2010, 20% 2009, 30% 2008, 25% 2007,10% 2006, 25% 2005, 20% 2004, 20% 2003
Cash Dividend
10% 2023, 10% 2022, 10% 2021, 10% 2020,10% 2019, 10% 2018, 10% 2017, 10% 2016, 20% 2015
(২০০৩ সালের আগের ডাটা খুঁজে পাইনি, কেউ সংগ্রহ করে দিলে এড করে দেবো)
১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই ব্যাংক বাংলাদেশের সর্বাধিক রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকটি ৬১২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে!
২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় বিদেশী উদ্যোক্তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ছিল।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (IBBL) মোট শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো বা শেয়ার ধারণের বিন্যাস (মোট শেয়ারের শতকরা হিসাবে) ছিল:
| শেয়ারহোল্ডার ক্যাটাগরি | মোট শেয়ারের শতকরা হার (%) |
| বিদেশী উদ্যোক্তা/শেয়ারহোল্ডার | ৬২.৯৬% |
| স্থানীয় উদ্যোক্তা/শেয়ারহোল্ডার | ৫.০৯% |
| ইনস্টিটিউশনাল (প্রতিষ্ঠান) | ১৮.৮৬% |
| সাধারণ বিনিয়োগকারী (পাবলিক) | ১৩.০৯% |
| মোট | ১০০.০০% |
২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত বিদেশী উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোই ব্যাংকটির শেয়ারের ৬২.৯৬% বা দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি অংশীদার ছিল।
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামভিত্তিক এস. আলম গ্রুপ জোরপূর্বক বিভিন্ন দেশী-বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
এর ফলে শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে এবং বিদেশী অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোয় ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের শেষে বিশাল পরিবর্তন আসে।
মূলত ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এস. আলম গ্রুপ-এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিবর্তন শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্ব দৃঢ় হয়।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখের শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ার হোল্ডিং প্যাটার্ন (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী) নিম্নরূপ:
| শেয়ারহোল্ডার ক্যাটাগরি | মোট শেয়ারের শতকরা হার (%) | মন্তব্য |
| স্পন্সর / পরিচালক (Sponsor/Director) | ৩১.৭৫% | এই অংশে দেশীয় নতুন স্পন্সর ও পরিচালকদের শেয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা ২০১৬ সালে ছিল মাত্র ৫.০৯%। |
| প্রতিষ্ঠান (Institute/Local) | ৫১.৪৮% | স্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান (যেমন, মার্চেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড) এবং মূলত ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণকারী দেশীয় কর্পোরেট/হোল্ডিং কোম্পানির অংশ। |
| বিদেশী (Foreign) | ১৪.৮১% | এটি ২০১৬ সালের ৬২.৯৬% থেকে অনেক কমে এসেছে, যা বিদেশী উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির ইঙ্গিত দেয়। |
| সাধারণ বিনিয়োগকারী (Public) | ১.৯৬% | সাধারণ জনগণের হাতে থাকা শেয়ারের অংশ। |
| মোট | ১০০.০০% | |
প্রধান পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ (২০১৬ বনাম ২০২৩)
| ক্যাটাগরি | ২০১৬ সালের শেষে (%) | ২০২৩ সালের শেষে (%) | পরিবর্তন |
| বিদেশী উদ্যোক্তা | ৬২.৯৬% | ১৪.৮১% | ভীষণভাবে হ্রাস (-৪৮.১৫%) |
| স্পন্সর / পরিচালক | ৫.০৯% | ৩১.৭৫% | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি (+২৬.৬৬%) |
| প্রতিষ্ঠান (স্থানীয়) | ১৮.৮৬% | ৫১.৪৮% | ব্যাপক বৃদ্ধি (+৩২.৬২%) |
এই পরিসংখ্যান দেখায় যে, সাত বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ বিদেশী উদ্যোক্তাদের হাত থেকে মূলত দেশীয় স্পন্সর এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর (যারা একত্রে প্রায় ৮৩.২৩% শেয়ার ধারণ করে) হাতে চলে এসেছে।
এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য মালিকানা পরিবর্তনের উদাহরণ। একই সাথে এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠান লুটেরও একটি উদাহরণ, যার জুড়ি খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।
ইসলামি ব্যাংকের মালিকানা এবং ইতিহাস নিয়ে অনেকেই পাছা দিয়ে ঠেলেন। তাদের হয়ে একটু পড়াশোনা করলাম।
পুনশ্চঃ এই লেখায় ইসলামি ব্যাংকের বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের যে তালিকা দেয়া হয়েছিলো, সেটায় অল্প কিছু তথ্যবিভ্রাট ছিলো। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে তালিকাটি সংশোধন করা হয়েছে। ( তথ্য সংগৃহীত) # আমি চাই সরকার ইসলামী ব্যাংককে তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনুক এবং যেকোনো দলীয় মুক্তকরণ করুক।এবং ইসলামী ব্যাংক হোক সবার সর্বসাধারণের।কোন দলীয় ছত্রছায়ায় পরিচালিত হোক একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে আমরা ইসলামী ব্যাংকে দেখতে চাই না,কোন দলের আর্থিক পরিচালনার মাধ্যম হতে না পারে সেই দৃষ্টি যাতে থাকে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের।শুধু তাই না এস আলম গ্রুপ যে অনিয়ম করেছে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে,নামে বেনামে যেই লোন নিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করেছে তার সুস্থ নিরপেক্ষ তদন্ত করে, এস আলম গ্রুপ কে আইনের আওতায় এনে,প্রয়োজনে নতুন বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার হস্তান্তর করে ব্যাংকে নতুন রূপদান করুন সেই প্রত্যাশা করি # ।