অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ

অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ, Lawyer & Law Firm, Dhaka.

সতর্কীকরণ নোটিশ
09/06/2026

সতর্কীকরণ নোটিশ

বাংলাদেশে দণ্ডবিধির আওতায় মানহানির অপরাধ, এর সংজ্ঞা, শাস্তি এবং এর আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হ...
08/06/2026

বাংলাদেশে দণ্ডবিধির আওতায় মানহানির অপরাধ, এর সংজ্ঞা, শাস্তি এবং এর আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৯ থেকে ৫০২ ধারায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। নিচে এই ধারাগুলো এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
​১. ধারা ৪৯৯: মানহানি (Defamation) এর সংজ্ঞা:
​দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির সুনাম বা সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা এমন সম্ভাবনা আছে জেনেও কোনো মিথ্যা অপবাদ প্রচার করেন, তবে তাকে মানহানি বলা হয়।
​মানহানি কিভাবে সংঘটিত হতে পারে? মানহানি নানাভাবে হতে পারে, যেমন:
​মুখের কথার মাধ্যমে: কাউকে নিয়ে কোনো কথা বলা, যা তার সুনাম নষ্ট করতে পারে।
​লিখিতভাবে: কোনো চিঠি, মেসেজ বা পোস্টে কাউকে নিয়ে অপবাদ দেওয়া।
​চিহ্ন বা দৃশ্যমান প্রতীকের মাধ্যমে: কার্টুন বা ছবির মাধ্যমে কাউকে অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা।
​২. ব্যতিক্রম: সব সমালোচনা কিন্তু মানহানি নয়:
​সব সমালোচনা কিন্তু মানহানি হিসেবে গণ্য হয় না। কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনাকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন:
​আদালতের রায়ের ওপর মন্তব্য করা: আদালতের কোনো রায়ের ওপর যুক্তিপূর্ণ আলোচনা বা সমালোচনা করা মানহানি নয়।
​সরকারি কর্মচারীর কাজের সমালোচনা করা: সরকারি কর্মচারীদের কাজের সমালোচনা করা, যদি তা জনস্বার্থে হয়, তবে তা মানহানি নয়।
​জনস্বার্থে সত্য কথা প্রকাশ করা: জনস্বার্থে সত্য কথা প্রকাশ করা মানহানি হিসেবে গণ্য হয় না, এমনকি যদি তা কারো সুনাম নষ্ট করে।
​৩. ধারা ৫০০: মানহানির শাস্তি:
​মানহানির অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়। এই শাস্তির পরিমাণ হচ্ছে:
​সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা
​অর্থদণ্ড, অথবা
​উভয় দণ্ড।
​৪. ধারা ৫০১ ও ৫০২: মানহানিকর বিষয় ছাপানো বা বিক্রি:
​ধারা ৫০১: যদি কেউ জানেন যে কোনো তথ্য মানহানিকর, তবুও সেটি কোনো পত্রিকা বা বইয়ে ছাপান, তবে তার শাস্তিও ৫০০ ধারার মতো (২ বছর জেল/জরিমানা)।
​ধারা ৫০২: মানহানিকর লেখা সংবলিত কোনো বই বা কাগজ বিক্রি করাও একটি অপরাধ, যার শাস্তিও একই।
​৫. একটি সহজ উদাহরণ:
​ধরা যাক, 'ক' একজন সৎ ব্যবসায়ী। 'খ' তার সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে ফেসবুক বা লোকসমাজে রটিয়ে দিল যে, 'ক' একজন চোর এবং সে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে (অথচ কথাটি মিথ্যা)। এক্ষেত্রে 'খ' জেনে-বুঝেই 'ক'-এর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
​এই ক্ষেত্রে 'ক' যদি আদালতে মামলা করেন এবং প্রমাণ করতে পারেন যে তথ্যটি মিথ্যা ছিল, তবে 'খ'-এর ৫০০ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
​৬. গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
​মামলা কে করতে পারে? মানহানির মামলা কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারেন যার মানহানি হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন মৃত ব্যক্তির মানহানি হলে তার পরিবার) মামলা করা যায়।
​ডিজিটাল মাধ্যম: বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব বা অনলাইনে মানহানি করলে দণ্ডবিধির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইন (পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার প্রক্রিয়া ও শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
​মৃত ব্যক্তির মানহানি: কোনো মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন কিছু বলা যা জীবিত থাকলে তার মানহানি হতো, সেটিও এই আইনের আওতায় অপরাধ।

অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ
জেলা ও দায়রা জজ আদালত,ঢাকা

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা #রামিসা হত্যা মামলাটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন দ্রুত বিচার মাম...
07/06/2026

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা
#রামিসা হত্যা মামলাটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন দ্রুত বিচার মামলার উদাহরণ।
#মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
★১৯ মে ২০২৬: ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
★২০ মে ২০২৬: রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
★২৪ মে ২০২৬: পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।
★১ জুন ২০২৬: আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
★২ জুন ২০২৬: সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
★৪ জুন ২০২৬: যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
★৭ জুন ২০২৬: রায় ঘোষণা করা হয়।
#অর্থাৎ, মামলা দায়ের থেকে রায় পর্যন্ত মাত্র ১৮-১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
#মামলার রায়: আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং সহযোগী আসামি স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা।
#এই মৃত্যুদন্ডের রায় কি অবিলম্বে কার্যকর?
উত্তর না! মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয় না।
★সাধারণত পরবর্তী ধাপগুলো হলো:
১.ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে।
২.হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনবে।
৩.প্রয়োজনে আপিল বিভাগে আপিল হবে।
৪.রিভিউ আবেদন হতে পারে।
৫.রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা যেতে পারে।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়।
#তবে মামলাটি দায়েরের মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় দ্রুত বিচারের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

⚖️ বাবা-মা যদি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে: আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী আপনার করণীয় ⚖️মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি...
04/06/2026

⚖️ বাবা-মা যদি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে: আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী আপনার করণীয় ⚖️
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি শরিয়াহ নির্ধারিত নিয়মে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা, আবেগ বা সামাজিক রীতির কোনো প্রাধান্য নেই—সম্পূর্ণ বিষয়টি আইন ও শরিয়াহ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।
📌 প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা জরুরি:
অনেক সময় “বঞ্চিত করা” বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি উইল, হেবা (দান), বা নামজারি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হয়ে থাকে। তাই প্রথমে আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
🔹 বণ্টনের পূর্বশর্ত (অবশ্য পালনীয়):
সম্পত্তি বণ্টনের আগে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হয়—
১. দাফন-কাফনের খরচ
২. মৃত ব্যক্তির বৈধ ঋণ পরিশোধ
৩. স্ত্রী/দেনমোহর (অপরিশোধিত থাকলে)
এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়।
🔹 ওয়ারিশ বঞ্চনা সম্পর্কে আইনগত অবস্থান:
মৃত্যুর পর কোনো বৈধ ওয়ারিশকে সম্পূর্ণভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। মুখে ঘোষণা বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা আইনগতভাবে কার্যকর নয়।
🔹 মেয়ে সন্তানের অধিকার:
মেয়ে সন্তানও শরিয়াহ ও আইন অনুযায়ী বৈধ ওয়ারিশ। সাধারণ নিয়মে ছেলে সন্তান মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়, তবে মেয়েকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
🔹 উইল (Wasiyat) সংক্রান্ত বিধান:
ওয়ারিশদের সম্মতি ছাড়া উইল সাধারণত মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বাকি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়।
🔹 হেবা (দান) এর বৈধতা:
হেবা বৈধ হতে হলে তিনটি শর্ত অপরিহার্য—
১. দাতার ঘোষণা
২. গ্রহীতার গ্রহণ
৩. বাস্তব দখল হস্তান্তর
শুধু দলিল বা মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়।
📌 আপনি যদি বঞ্চিত হয়ে থাকেন, করণীয় কী?
✔️ বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit):
সম্পত্তি বণ্টন না হলে বা আপনাকে বাদ দিলে দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে নিজের আইনগত অংশ দাবি করতে পারেন।
✔️ নামজারি/রেকর্ড সংশোধন:
ভুল বা একতরফা নামজারি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন করা যায়।
✔️ ফৌজদারি ব্যবস্থা:
জাল দলিল, প্রতারণা বা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা করা যেতে পারে।
⚖️
উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন একটি সুনির্দিষ্ট আইন ও শরিয়াহভিত্তিক প্রক্রিয়া। তাই বিষয়টি আবেগ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নয়, বরং আইনগত কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত হয়।
📌 জটিলতা এড়াতে এবং নিজের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করা সর্বোত্তম।





02/06/2026
01/06/2026

♦️ব্যাংকের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারায় ব্যাংক লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে এবং মামলা করে দিয়েছে। এখন আপনার করণীয়ঃ

✅সমন পাওয়া মাত্র আইনজীবী নিয়োগ করুন। ​মামলা হলে ঘাবড়ে না গিয়ে একজন দক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিন। হাজিরা না দিলে আপনার নামে 'ওয়ারেন্ট' হতে পারে।

✅আইন অনুযায়ী ADR বা আপোষ-মীমাংসার সুযোগ নিন। বিচার শুরুর আগে আদালত ADR (Alternative Dispute Resolution) বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দেয়।

✅​আপনার আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে ব্যাংকে গিয়ে লিখিতভাবে সুদ মওকুফের আবেদন করুন। ব্যাংক ম্যানেজারকে বলুন, আপনি মূল টাকা (Principal Amount) পরিশোধ করতে চান। অনেক সময় ব্যাংক লস রিকভারি করতে সুদ কমিয়ে দেয়।

✅'টোকেন মানি' জমা দিয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করুন।
​শুধু মুখে না বলে কিছু টাকা (যেমন ১০-২০ হাজার টাকা) ব্যাংকে জমা দিয়ে জমার রসিদ টি ম্যানেজারের কাছে নিয়ে যান। এতে ব্যাংক বুঝবে আপনি লোন শোধ করতে আগ্রহী, ফলে মামলা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

✅​টাকা পুরোপুরি শোধ করার পর ব্যাংক থেকে অবশ্যই 'Non-Liability Certificate' (NLC) সংগ্রহ করুন। এছাড়া আপনার নাম যেন CIB তালিকা থেকে ক্লিয়ার করে দেওয়া হয় এবং আদালত থেকে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়, তা নিশ্চিত করুন।

​⛔ মনে রাখবেন, ব্যাংক মামলা করে টাকা আদায়ের জন্য, আপনাকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। তাই কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্বামী বা স্ত্রী তালাক যেই দিক না কেন, আইনানুসারে নোটিশ প্রদান বাধ্যতামূলক।..................................এবং...........
23/05/2026

স্বামী বা স্ত্রী তালাক যেই দিক না কেন, আইনানুসারে নোটিশ প্রদান বাধ্যতামূলক।
..................................এবং.................................
​যেখানে স্ত্রী নিজেই স্বামীকে তালাক দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছেন, সেখানে জোরপূর্বক তাকে স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া বা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের রায় কার্যকর করা আইনত ভুল এবং বলবৎ অযোগ্য।
Reference:
DLR 51 (HD) 512.
BLD 20 (HD) 159.
MLR 5 (HD) 81.

মামলার পটভূমি:
​বিবাহ ও বিচ্ছেদ: ১৯৭৮ সালের ১ অক্টোবর শেরইন আক্তার (আবেদনকারী বা স্ত্রী) এবং মোঃ ইসমাইল (বিবাদী বা স্বামী) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল ৩৫,০০০ টাকা। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে ১৯৯১ সালের ৫ জানুয়ারি স্ত্রী তার অর্পিত তালাকের অধিকার (তালাক-ই-তৌফিজ) প্রয়োগ করে স্বামীকে তালাক দেন।

​নোটিশ সংক্রান্ত জটিলতা:
তালাকের নোটিশটি যেখানে বিবাহ রেজিস্ট্রি হয়েছিল অর্থাৎ কুমিল্লার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু স্ত্রী তা না করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠান এবং একটি অনুলিপি (কপি) স্বামীকে দেন। স্বামী ওই সময় ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় থাকতেন।

​নিম্ন আদালতের রায়:
স্বামী (মোঃ ইসমাইল) ১৯৯১ সালে ফ্যামিলি কোর্টে এই তালাককে অবৈধ দাবি করে এবং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করেন। ফ্যামিলি কোর্ট এবং পরবর্তীতে অধস্তন জজ আদালত (Subordinate Judge) উভয় আদালতই স্বামীর পক্ষে রায় দেন। নিম্ন আদালতগুলোর যুক্তি ছিল— নোটিশ সঠিক জায়গায় (কুমিল্লার ইউনিয়ন পরিষদে) পাঠানো হয়নি, তাই তালাকটি বৈধ হয়নি এবং স্বামী দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকারী।

​হাইকোর্ট বিভাগের আইনি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত:

​অধস্তন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্ত্রী হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই চূড়ান্ত রায় দেন, যেখানে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের প্রধান আইনি সিদ্ধান্তগুলো নিম্নরূপ:-

​ক. নোটিশের মূল উদ্দেশ্য এবং গ্রহণযোগ্যতা
​মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭(১) ও ৮ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী তালাক দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এই মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট 'নেলী জামান বনাম গিয়াসউদ্দিন' মামলার নজির টেনে বলেন:
​নোটিশ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী যেন জানতে পারেন যে তার স্ত্রী তালাকের অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রয়োজনে যেন সালিশি কাউন্সিল গঠন করে আপিল বা মীমাংসার চেষ্টা করা যায়।
​যেহেতু স্বামী নোটিশের অনুলিপি পেয়েছেন এবং তিনি স্পষ্টভাবে জানতেন যে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন, তাই নোটিশ প্রেরণে সামান্য প্রশাসনিক ত্রুটি (কুমিল্লার বদলে ঢাকায় পাঠানো) থাকলেও তালাকটি অকার্যকর হয়ে যায় না। সাব-সেকশন (১) এর মূল উদ্দেশ্য এখানে বাস্তবায়িত হয়েছে।

​খ. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে
​হাইকোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক ও মানবিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন:
​"যেখানে স্ত্রী নিজেই স্বামীকে তালাক দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছেন, সেখানে জোরপূর্বক তাকে স্বামীর ঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া বা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের রায় কার্যকর করা আইনত ভুল এবং বলবৎ অযোগ্য।"

​আদালত উল্লেখ করেন যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে স্বামীর সাথে সংসার করতে বাধ্য করা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ এবং ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

​চূড়ান্ত ফলাফল:

​তালাক বৈধ:
হাইকোর্ট ঘোষণা করেন যে, আবেদনকারী (স্ত্রী) কর্তৃক প্রদত্ত তালাক-ই-তৌফিজ সম্পূর্ণ বৈধ এবং কার্যকর হয়েছে।

​মামলা খারিজ:
নিম্ন আদালতের দেওয়া "দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার"-এর ডিক্রিটি বাতিল করা হয় এবং স্বামীর দায়ের করা মূল পারিবারিক মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়।

18/05/2026

বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে (Penal Code) মানহানি একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ। কোনো ব্যক্তির সুনাম বা সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু প্রচার করা বা বলা দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা থেকে ৫০২ ধারা পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে।
​নিচে এটি সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১. ধারা ৪৯৯: মানহানি (Defamation) এর সংজ্ঞা

​যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা এমন সম্ভাবনা আছে জেনেও—
​কথার মাধ্যমে (মুখে বলে),
​লিখিতভাবে (চিঠি, মেসেজ বা পোস্ট),
​বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান প্রতীকের মাধ্যমে (কার্টুন বা ছবি),
​কোনো মিথ্যা অপবাদ প্রচার করেন, তবে তাকে মানহানি বলা হয়।
​ব্যতিক্রম: সব সমালোচনা কিন্তু মানহানি নয়। যেমন: আদালতের রায়ের ওপর মন্তব্য করা, সরকারি কর্মচারীর কাজের সমালোচনা করা বা জনস্বার্থে সত্য কথা প্রকাশ করা মানহানি হিসেবে গণ্য হয় না।

​২. ধারা ৫০০: মানহানির শাস্তি

​মানহানির অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়।
​শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।

​৩. ধারা ৫০১ ও ৫০২: মানহানিকর বিষয় ছাপানো বা বিক্রি

​ধারা ৫০১:
যদি কেউ জানেন যে কোনো তথ্য মানহানিকর, তবুও সেটি কোনো পত্রিকা বা বইয়ে ছাপান, তবে তার শাস্তিও ৫০০ ধারার মতো (২ বছর জেল/জরিমানা)।

​ধারা ৫০২:
মানহানিকর লেখা সংবলিত কোনো বই বা কাগজ বিক্রি করাও একটি অপরাধ, যার শাস্তিও একই।

​৪. একটি সহজ উদাহরণ
​ধরা যাক, 'ক' একজন সৎ ব্যবসায়ী। 'খ' তার সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে ফেসবুক বা লোকসমাজে রটিয়ে দিল যে, 'ক' একজন চোর এবং সে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে (অথচ কথাটি মিথ্যা)।
​এখানে 'খ' জেনে-বুঝেই 'ক' এর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
​এক্ষেত্রে 'ক' যদি আদালতে মামলা করেন এবং প্রমাণ করতে পারেন যে তথ্যটি মিথ্যা ছিল, তবে 'খ'-এর ৫০০ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

​৫. গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
​মামলা কে করতে পারে? মানহানির মামলা কেবল সেই ব্যক্তিই করতে পারেন যার মানহানি হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন মৃত ব্যক্তির মানহানি হলে তার পরিবার) মামলা করা যায়।
​ডিজিটাল মাধ্যম: বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব বা অনলাইনে মানহানি করলে দণ্ডবিধির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইন (পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যার প্রক্রিয়া ও শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।
​মৃত ব্যক্তির মানহানি: কোনো মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন কিছু বলা যা জীবিত থাকলে তার মানহানি হতো, সেটিও এই আইনের আওতায় অপরাধ।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to অ্যাডভোকেট ইমরুল শেখ:

Share