02/01/2026
রেজিষ্ট্রেশন আইন-১৯০৮ এর সংশোধন, ২০২৬।
রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর মাধ্যমে ১৯০৮ সালের মূল রেজিস্ট্রেশন আইনে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে এই পরিবর্তনগুলো পূর্বের আইনের সাথে তুলনা করে প্যারাগ্রাফ আকারে বর্ণনা করা হলো:
ডিজিটাল নিবন্ধন ও ই-রেজিস্ট্রেশন: পুরানো আইনে দলিল নিবন্ধনের জন্য সশরীরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। ২০২৬ সালের নতুন এই সংশোধনীর মাধ্যমে আইনে ৭৭এ (77A) ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ডিজিটাল নিবন্ধন বা ই-রেজিস্ট্রেশনকে পূর্ণ আইনি বৈধতা দিয়েছে। এখন থেকে সরকার অনুমোদিত বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে দলিল পেশ, গ্রহণ এবং নিবন্ধন করা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষ সশরীরে উপস্থিত না হয়েও দ্রুততার সাথে জমি নিবন্ধন করতে পারবেন।
সময়সীমা ও আপিল নিষ্পত্তি: পূর্বের আইনে দলিল সম্পাদন বা নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপের জন্য যে সময়সীমা ছিল, তা এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ধারা ১৭এ-তে উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৬০ দিন করা হয়েছে এবং ধারা ২৬-এর অধীনে ৪ মাসের সময়সীমাকে ৬ মাসে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মামলা দীর্ঘায়িত হতো। এখন নতুন বিধান অনুযায়ী, নিবন্ধকের নিকট করা আপিল ৪৫ দিনের মধ্যে এবং অন্যান্য আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই নিষ্পত্তি করতে হবে।
দান ও হেবা দলিলের অন্তর্ভুক্তিকরণ: আগে ধারা ৫২এ মূলত জমি বিক্রয়ের (Sale) ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিত। নতুন সংশোধনীতে বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী 'হেবা ঘোষণা' এবং হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী 'দান ঘোষণা' শব্দগুলো দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে বিক্রয় দলিলের মতো দান বা হেবা দলিলের ক্ষেত্রেও একই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং দলিলে বিক্রেতার পাশাপাশি 'দাতা' (Donor) শব্দটি আইনত স্বীকৃত হবে।
কর্মকর্তার জবাবদিহিতা ও ফি আদায়: পুরানো আইনে কম ফি বা ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সরাসরি শাস্তির বিষয়টি এতোটা কঠোর ছিল না। তবে নতুন সংশোধনীর ধারা ৬৮ অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মকর্তা পরিদর্শনকালে ভুল বা কম ফি নিয়ে দলিল নিবন্ধন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা 'অসদাচরণ' (Misconduct) হিসেবে গণ্য হবে। এই অনাদায়ী অর্থ বা রাজস্বের ক্ষতি সরাসরি ওই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে। এছাড়া ধারা ৮০ অনুযায়ী, দলিল পেশ করার সময় যাবতীয় ফি, ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই সংশোধনীটি ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সহায়ক হবে।
Advocate Selim Md Selim Hossain