05/10/2026
বাদীকে অবশ্যই তার নিজের মামলা প্রমাণ করতে হবে। বিবাদীর defence দুর্বল বা প্রমাণিত না হলেও বাদী তার নিজের দাবির পক্ষে decree পাওয়ার অধিকারী হন না।
[𝟑𝟗 𝐃𝐋𝐑 (𝐀𝐃) 𝟐𝟑𝟕]
_______________________________
✅মামলার পটভূমি
রেসপন্ডেন্ট নং ১, অর্থাৎ বাদী, কুষ্টিয়ার দ্বিতীয় মুনসেফ আদালতে ১৯৭৪ সালে Title Suit No. 208 of 1974 দায়ের করেন।
বাদীর দাবি ছিল, C.S. Dag No. 1177-এর ০.৩৩ একর জমি মূল প্রজা নবীন চন্দ্র মণ্ডলের কাছ থেকে ১৩২৯ বি.এস.-এ রাধা প্রসন্ন বিশ্বাস গং বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৩৫৬ বি.এস.-এ উক্ত জমি বাদীর সঙ্গে বিনিময় করা হয় এবং ১১.১২.১৯৫৬ তারিখে এ সংক্রান্ত কোবালা দলিল সম্পাদিত হয়।
বাদী আরও দাবি করেন যে, বিবাদী নং ১ তার কাছ থেকে উক্ত জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছিলেন। কিন্তু ১৩৭৬ বি.এস.-এ বিবাদী ফসলের অংশ এবং জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাদীকে জমি থেকে বেদখল করেন।
অন্যদিকে, বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর স্বত্ব ও দখল অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি নিজেই নবীন চন্দ্র মণ্ডলের কাছ থেকে ১৩৩৪ ও ১৩৩৬ বি.এস.-এ জমি বন্দোবস্ত গ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
✅নিম্ন আদালতসমূহের সিদ্ধান্তঃ
মুনসেফ আদালত বাদীর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন।
কিন্তু প্রথম আপিল আদালত, অর্থাৎ সাবঅর্ডিনেট জজ, মুনসেফের ডিক্রি বাতিল করে বাদীর মামলা খারিজ করে দেন। আদালতের অভিমত ছিল যে, বাদী তার স্বত্ব ও দখল যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেননি এবং মামলাটি তামাদি আইনে বাধাগ্রস্ত ছিল।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ Second Appeal No. 280 of 1978-এ প্রথম আপিল আদালতের রায় বাতিল করে মুনসেফ আদালতের ডিক্রি বহাল করেন।
এর বিরুদ্ধে বিবাদী আপিল বিভাগে Leave to Appeal করেন।
✅ পক্ষসমূহের যুক্তি
আপিলকারীর যুক্তিঃ
আপিলকারীর প্রধান বক্তব্য ছিল যে, হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০০ ধারার অধীনে দ্বিতীয় আপিলের সীমিত এখতিয়ার অতিক্রম করে প্রথম আপিল আদালতের factual findings-এ হস্তক্ষেপ করেছেন।
তিনি আরও যুক্তি দেন যে, বাদী তার মূল আরজিতে বিক্রেতার পত্তনের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের অনেক পরে বাদী আরজি সংশোধন করে একটি সন্দেহজনক পত্তনি দাখিলা উপস্থাপন করেন। কিন্তু উক্ত পত্তনি দাখিলা বাদীর স্বত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
আপিলকারীর আরও বক্তব্য ছিল যে, ১৯৫৬ সালের পর বাদী কখনোই উক্ত জমিতে দখলে ছিলেন না এবং বর্গা বন্দোবস্তের দাবির সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও ছিল না। ফলে বাদীর মামলা তামাদি দ্বারা বর্জিত ছিল।
✅বাদীর যুক্তিঃ
বাদীর বক্তব্য ছিল যে, ১৯৫৬ সালের কোবালা দলিলের মাধ্যমে তিনি উক্ত জমিতে স্বত্ব অর্জন করেন এবং বর্গাদারের মাধ্যমে জমিতে দখল বজায় রাখেন।
পরবর্তীতে বিবাদী তাকে বেদখল করায় তিনি স্বত্ব ঘোষণা এবং খাস দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী।
✅রায়ের আইনি ভিত্তি ও মূল সিদ্ধান্তঃ
১. Second Appeal-এ Section 100 CPC-এর সীমা
দেওয়ানি কার্যবিধির ১০০ ধারার অধীনে দ্বিতীয় আপিলে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত প্রথম আপিল আদালতের factual finding-এ হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
তবে কোনো factual finding আইন বা কার্যপ্রণালীর গুরুতর ত্রুটির কারণে vitiated হলে, অথবা evidence-এর সম্পূর্ণ misreading বা কোনো evidence ছাড়াই finding প্রদান করা হলে, হাইকোর্ট বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারে।
শুধু সাক্ষ্যের মূল্যায়ন ভুল হয়েছে বা হাইকোর্টের কাছে অন্যরকম মনে হয়েছে, এই কারণে Section 100 CPC-এর অধীনে হস্তক্ষেপ করা যায় না।
২. বাদীকে নিজের মামলার শক্তিতে সফল হতে হবে
দেওয়ানি মামলার একটি মৌলিক নীতি হলো:
“A plaintiff must succeed on the strength of his own case and not on the weakness of the defendant's case.”
অর্থাৎ, বাদী তার নিজের pleadings, documents এবং evidence-এর ভিত্তিতে তার দাবি প্রমাণ করতে বাধ্য।
বিবাদীর defence দুর্বল, অস্পষ্ট অথবা প্রমাণিত হয়নি, শুধু এই কারণে বাদী তার দাবির পক্ষে decree পাওয়ার অধিকারী হন না।
৩. স্বত্ব প্রমাণের দায়িত্ব
বাদী যে দলিলের ভিত্তিতে স্বত্ব দাবি করেছেন, সেই দলিলের মাধ্যমে তার predecessor-in-title-এর স্বত্ব এবং তার নিজের derivative title যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এই মামলায় মূল বিক্রেতা রাধা প্রসন্ন বিশ্বাসের পত্তনের বৈধতা বাদী যথাযথভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হননি।
ফলে পরবর্তী কোবালা দলিলের ভিত্তিতে বাদীর স্বত্বের দাবি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. Limitation-এর প্রশ্ন
প্রথম আপিল আদালত দেখতে পেয়েছিল যে বাদী ১৯৫৬ সালের পর থেকেই জমির দখলের বাইরে ছিলেন এবং পরবর্তীতে বর্গা দেওয়া ও বর্গাদারের মাধ্যমে দখলে থাকার যে বক্তব্য তিনি দিয়েছিলেন, তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ফলে ১৯৭৪ সালে দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘদিন দখলের বাইরে থাকার কারণে Limitation Act-এর অধীনে barred by limitation ছিল।
৫. High Court-এর হস্তক্ষেপ ছিল আইনসঙ্গত নয়
আপিল বিভাগ মত দেন যে, প্রথম আপিল আদালত evidence বিবেচনা করে যে factual findings প্রদান করেছিল, সেগুলো আইনগতভাবে বা প্রমাণের সম্পূর্ণ misreading-এর কারণে vitiated ছিল না।
অতএব, হাইকোর্ট বিভাগ Section 100 CPC-এর সীমিত jurisdiction-এর মধ্যে থেকে ওই findings-এ হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।
✅চূড়ান্ত সিদ্ধান্তঃ
আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাতিল করেন এবং প্রথম আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
ফলে বাদীর মামলা খারিজের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ Legal Principle:
“A plaintiff must succeed on the strength of his own case and not on the weakness of the defendant's case.”
অর্থাৎ, বাদীর নিজের মামলা প্রমাণিত না হলে, বিবাদীর defence দুর্বল বা প্রমাণিত না হলেও বাদী decree পাওয়ার অধিকারী নন।
𝐂𝐢𝐭𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧: 𝐌𝐝. 𝐍𝐚𝐢𝐦𝐮𝐝𝐝𝐢𝐧 𝐒𝐚𝐫𝐝𝐚𝐫 𝐯𝐬. 𝐌𝐝. 𝐀𝐛𝐝𝐮𝐥 𝐊𝐚𝐥𝐚𝐦 𝐁𝐢𝐬𝐰𝐚𝐬 𝐚𝐧𝐝 𝐨𝐭𝐡𝐞𝐫𝐬, 𝐂𝐢𝐯𝐢𝐥 𝐀𝐩𝐩𝐞𝐚𝐥 𝐍𝐨. 𝟏𝟖 𝐨𝐟 𝟏𝟗𝟖𝟓, 𝐀𝐩𝐩𝐞𝐥𝐥𝐚𝐭𝐞 𝐃𝐢𝐯𝐢𝐬𝐢𝐨𝐧, 𝐉𝐮𝐝𝐠𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐝𝐚𝐭𝐞𝐝 𝟓 𝐀𝐩𝐫𝐢𝐥 𝟏𝟗𝟖𝟕.
[𝟑𝟗 𝐃𝐋𝐑 (𝐀𝐃) 𝟐𝟑𝟕]
✍️_________________
সাদ্দাম হোসাইন আবির
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
⚠️ 𝑼𝒏𝒂𝒖𝒕𝒉𝒐𝒓𝒊𝒛𝒆𝒅 𝒄𝒐𝒑𝒚𝒊𝒏𝒈 𝒐𝒓 𝒓𝒆𝒑𝒓𝒐𝒅𝒖𝒄𝒕𝒊𝒐𝒏 𝒘𝒊𝒕𝒉𝒐𝒖𝒕 𝒑𝒓𝒐𝒑𝒆𝒓 𝒂𝒕𝒕𝒓𝒊𝒃𝒖𝒕𝒊𝒐𝒏 𝒊𝒔 𝒔𝒕𝒓𝒊𝒄𝒕𝒍𝒚 𝒑𝒓𝒐𝒉𝒊𝒃𝒊𝒕𝒆𝒅. 𝑺𝒉𝒂𝒓𝒊𝒏𝒈 𝒊𝒔 𝒆𝒏𝒄𝒐𝒖𝒓𝒂𝒈𝒆𝒅 𝒘𝒊𝒕𝒉 𝒅𝒖𝒆 𝒄𝒓𝒆𝒅𝒊𝒕 𝒕𝒐 𝒕𝒉𝒆 𝒐𝒓𝒊𝒈𝒊𝒏𝒂𝒍 𝒔𝒐𝒖𝒓𝒄𝒆.