10/08/2026
#গ্রাম আদালতে কি সব মামলা করা যায়?
অনেকে মনে করেন, গ্রামের যেকোনো ঝামেলা বা জমি-জমার বিরোধ গ্রাম আদালতে নিয়ে গেলেই সমাধান হবে!
এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
বাংলাদেশের গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ এর তফসিলে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে কোন ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য।
গ্রাম আদালতে যে ২০ ধরনের বিষয় আসতে পারে
ক. ফৌজদারি বিষয়
১️. সাধারণ আঘাতের অভিযোগ
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩২৩
২️. সম্পত্তির ক্ষতি করার অপরাধ ধারা ৪২৬
৩️. বেআইনিভাবে অন্যের সম্পত্তিতে প্রবেশ ধারা ৪৪৭
৪️. নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেআইনি সমাবেশ ধারা ১৪৩ ও ১৪৭ আইনে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে
৫️. জনসমক্ষে মারামারি/হাতাহাতি ধারা ১৬০
৬️.গুরুতর আঘাত নয় এমন অপরাধে জোর প্রয়োগ ধারা ৩৩৪
৭️. বেআইনিভাবে পথরোধ ধারা ৩৪১
৮️. বেআইনিভাবে আটক ধারা ৩৪২
৯️. আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ ধারা ৩৫২
10. আক্রমণের চেষ্টা বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের নির্দিষ্ট ঘটনা ধারা ৩৫৮
১️১️. ইচ্ছাকৃত অপমান ও শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা ধারা ৫০৪
১️২ অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের নির্দিষ্ট অভিযোগধারা ৫০৬-এর প্রথম অংশ
১️৩. অন্যের ধর্মীয়/সামাজিক অনুভূতিতে নির্দিষ্ট ধরনের আঘাতের অভিযোগ ধারা ৫০৮
১️৪️. নারীর শালীনতাসংক্রান্ত নির্দিষ্ট অপরাধ ধারা ৫০৯
১️৫️. মাতাল অবস্থায় প্রকাশ্যে অসদাচরণ ধারা ৫১০
১️৬️ গবাদিপশু সংক্রান্ত নির্দিষ্ট চুরি দণ্ডবিধি ৩৭৯, ৩৮০ ও ৩৮১ আইনে নির্ধারিত মূল্যসীমা ও শর্তসাপেক্ষে
১️৭️. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ ধারা ৪০৩ আইনে নির্ধারিত অর্থসীমার মধ্যে
১️৮️ বিশ্বাসভঙ্গ ধারা ৪০৬ আইনে নির্ধারিত অর্থসীমার মধ্যে
১️৯️ প্রতারণা ধারা ৪১৭ ও ৪২০, আইনে নির্ধারিত অর্থসীমার মধ্যে
দেওয়ানি বিষয়ে
চুক্তি, রসিদ বা অন্য কোনো দলিলের ভিত্তিতে পাওনা টাকা আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার/মূল্য আদায়, গবাদিপশুর দ্বারা ক্ষতিসাধন এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য দেওয়ানি বিরোধ।
বর্তমান সংশোধিত আইনে তফসিলের নির্দিষ্ট দেওয়ানি দাবির ক্ষেত্রে **৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমা প্রযোজ্য।
কোন বিষয়গুলো গ্রাম আদালতে সাধারণত যাবে না?
বড় অঙ্কের জটিল দেওয়ানি দাবি, জটিল স্বত্ব বা মালিকানা নির্ধারণের মামলা
গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, শিশুর স্বার্থ জড়িত নির্দিষ্ট দেওয়ানি বিরোধ
চুক্তিতে সালিশ/বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা নির্দিষ্ট দেওয়ানি বিরোধ
সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মচারী পক্ষ হলে নির্দিষ্ট দেওয়ানি বিরোধ
এসব ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সীমিত বা আইনগতভাবে বাদ পড়ে। গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩ এ বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।
জমির মামলা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা
গ্রাম আদালত কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তি বা দখল ফেরত দেওয়ার আদেশ দিতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে গ্রাম আদালত সব ধরনের জটিল জমির স্বত্ব ঘোষণা, মালিকানা নির্ধারণ বা টাইটেল স্যুট বিচার করতে পারে।
আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী গ্রাম আদালতের ক্ষমতা মূলত তফসিলে নির্ধারিত অর্থের সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পত্তি/দখল ফেরত দেওয়ার আদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অপরাধ সংঘটনের ৩০ দিনের মধ্যে এবং অধিকাংশ দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে কারণ উদ্ভবের ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয়। এটি ধারা ৬ক-এর গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপিলের সুযোগ আছে।
ধারা ৮ অনুযায়ী ৩:২ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং দেওয়ানি বিষয়ে এখতিয়ারসম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে আপিল করা যায়।
মনে রাখবেন, গ্রাম আদালত আছে মানেই সব মামলা গ্রাম আদালতে হবে” এটি ভুল।
মামলার প্রকৃতি আইনের তফসিল অর্থের সীমা পক্ষদের অবস্থান মামলার সময়সীমা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোথায় মামলা করা যাবে।