আইন ও প্রতিকার - Legal Remedy

আইন ও প্রতিকার - Legal Remedy প্রাত্যহিক ও ব্যবহারিক জীবনের আইন সম্পর্কে জানতে

সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রথায় সবকিছুই আইন দিয়ে হয় না। এটা প্রথাগতভাবে স্বীকৃত। এ বিষয়ে কার্যকর প্রথা হলো অলিখিত নীতি বা নিয়ম। এর আওতায় কোনো সরকারই সংসদ বা অন্য কোনো সংস্থার জনস্বার্থবিষয়ক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে না।

আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি ‘প্রি-অ্যাকশন প্রোটকল’-এর ভিত্তি বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ
21/08/2025

আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি ‘প্রি-অ্যাকশন প্রোটকল’-এর ভিত্তি বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ

যেকোনও ব্যক্তি তার বক্তব্য বা দাবির বিষয়টি আইনি নোটিশ তথা লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে অপর কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ব...

05/07/2025

৯ ধরনের মামলার আগে মধ্যস্থতার বাধ্যবাধকতা

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনপ্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ না মিললে বিচার শুরুর আগেই মামলা থেকে বাদপ্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ না মিললে ব...
05/07/2025

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন
প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ না মিললে বিচার শুরুর আগেই মামলা থেকে বাদ

প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ না মিললে বিচার শুরুর আগেই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, পুলিশ ও আদালত প্রাথমিক তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাঁদের বিচার শুরুর আগেই মামলার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবে। এতে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও মামলা-বাণিজ্যের হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন।

আসিফ নজরুল আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাদ দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি পরবর্তী তদন্তে কোনো প্রমাণ মেলে, তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় তাঁকে আবার আসামির তালিকায় যুক্ত করতে পারবে পুলিশ।

আসিফ নজরুল বলেন, পুলিশ কমিশনার, এসপি বা এসপি পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনো মামলার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে একটা প্রাইমারি তদন্ত প্রতিবেদন নিতে পারেন। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক রিপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেবেন। বিচারক যদি মনে করেন, কোনো মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের কিছুসংখ্যকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ নেই, সাক্ষ্য নেই; তাহলে ফ্রি ট্রায়াল স্টেজে আসামির তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দিতে পারবেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, গ্রেপ্তার ও মামলা-বাণিজ্য থেকে নিরপরাধ মানুষকে মুক্ত রাখতে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অনেক নিরপরাধ মানুষ হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন। তখন মামলা-বাণিজ্য থেকে অনেকে রেহাই পাবেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মামলার তদন্ত থেমে থাকবে। তদন্ত চলতে থাকবে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের সরকারের সময়ে কিছু জিনিস নিয়ে আমরা নিজেরাই বিব্রত। একটা হচ্ছে ভুয়া বা মিথ্যা মামলা করা, আরেকটা হচ্ছে মামলার ঘটনা সত্যি, কিন্তু সেখানে অনেক লোককে আসামি করে মামলা-বাণিজ্য করা। সে জন্য আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিআরপিসিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছি।’

আজ রোববার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই পরিবর্তনে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

নতুন অধ্যাদেশযৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার নারীরা সব ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা করতে পারবেন নাসুলতান মাহমুদ, ঢাকাযৌতুকের জন্য...
05/07/2025

নতুন অধ্যাদেশ
যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার নারীরা সব ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা করতে পারবেন না
সুলতান মাহমুদ, ঢাকা

যৌতুকের জন্য কোনো নারীকে তাঁর স্বামী বা স্বামীর পরিবারের কেউ বা তাঁর পক্ষে কেউ নির্যাতন করলেই সব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীরা আর সরাসরি মামলা করতে পারবেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীকে মামলার আগে সালিসের পথে যেতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি আইনগত সহায়তা প্রদান আইন সংশোধন করে নতুন যে অধ্যাদেশ জারি করেছে, তাতে এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

১ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে। দেশে পারিবারিক সহিংসতা যখন বাড়ছে, তখন আইনের এ ধরনের পরিবর্তন নারী নির্যাতনের সঙ্গে সমাজে অস্থিরতা বাড়াবে বলে মনে করছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার নারীর মামলায় কোনো বাধা নেই। তবে নির্যাতন ও আঘাতের মাত্রা বিবেচনায় ভিন্ন শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারীকে মামলার আগে মধ্যস্থতার পথে হাঁটতে হবে।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীকে সাধারণ জখম (simple hurt) করলে তাঁর শাস্তি অনধিক পাঁচ বছর, কিন্তু অন্যূন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড। উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও হবে।

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার নারী সরাসরি মামলা করতে পারবেন না। তাঁকে প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেখানে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে যেকোনো পক্ষ মামলা করতে পারবে।

আইনের এই পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

ইশরাত আজকের পত্রিকা'কে বলেন, ‘নারীদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি করা হয়। এখন যদি নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়ে আদালতে এসে মামলা করতে না পারেন, তাহলে নারীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার পাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। এতে নারীদের ওপর নির্যাতন আরও বাড়বে। বাড়বে পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতাও।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে চালু করা হেল্পলাইন ১০৯-এ আসা ফোনকলের অর্ধেকই হলো পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ।

জাতীয় হেল্পলাইন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১০৯ হেল্পলাইনে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪২৬ ফোনকল আসে। ২০২৪ সালে পারিবারিক সহিংসতা-সম্পর্কিত ৪ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৮টি ফোনকল আসে।

বাংলাদেশে উন্নত দেশের মতো আইনি সহায়তার কাঠামো গড়ে না ওঠায় সরাসরি মামলা থেকে নির্যাতিত নারীকে বাধা দেওয়া হলে আইনি প্রতিকার থেকে তাঁরা বঞ্চিত হবে বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল।

আজকের পত্রিকাকে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে নারীরা যদি আদালতে গিয়ে সরাসরি আইনি প্রতিকার না পায় তাহলে নারী নির্যাতনের ঘটনা আরও বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, ‘উন্নত দেশে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে যেভাবে সেবা দেওয়া হয়, বাংলাদেশে সেই কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই বিকল্প প্রতিকারের ব্যবস্থা না রেখে এভাবে সরাসরি আইনি প্রতিকার থেকে নারীদের বঞ্চিত করা হলে সমস্যা কমবে না।’

৯ ধরনের মামলার আগে মধ্যস্থতার বাধ্যবাধকতা: বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে?নাঈমুল হকপাঁচটি দেওয়ানি ও চারটি ফৌজদারি—মোট ৯ট...
05/07/2025

৯ ধরনের মামলার আগে মধ্যস্থতার বাধ্যবাধকতা: বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে?
নাঈমুল হক

পাঁচটি দেওয়ানি ও চারটি ফৌজদারি—মোট ৯টি আইনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার পথ বেছে নিয়েছে সরকার। এসব আইনের আওতায় কোনও বিরোধে সরাসরি মামলা করা যাবে না; প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। কেবল মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলেই আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য হলো—ভুয়া মামলা কমানো, নির্দোষ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো রোধ করা, মামলার চাপ হ্রাস এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমানো। এই উদ্দেশ্যে ২০০০ সালের ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর সংশোধনের মাধ্যমে ‘অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ’ নামে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যা ১ জুলাই আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

তবে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন, এতে বিচারপ্রার্থী হয়রানির শিকার হবেন এবং বিচারপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা আরও বাড়বে।

জানা গেছে, দেশের আইন অঙ্গনে বছরের পর বছর মামলার চাপ বাড়ছে। মামলার চাপ কমানো, নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে মুক্তি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবের কথা বলেই এই ৯টি আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০০ সালের ৬ নম্বর ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এ সংশোধন আনা হয়েছে। অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ নামে যে ৯টি আইনের ধারা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— ‘পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫’; ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১’; ‘সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ’; ‘স্টেট অ্যাকুজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর সেকশন ৯৬-এ উল্লিখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ’; ‘নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি অ্যাক্ট, ১৯৪৯-এর সেকশন ২৪-এ উল্লিখিত অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিরোধ’ এবং ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ধারা ৮ অনুসারে পিতা-মাতার ভরণপোষণ সম্পর্কিত বিরোধ’।

এছাড়াও ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর সেকশন ১৩৮-এ বর্ণিত চেক ডিসঅনার সম্পর্কিত অভিযোগ (অনধিক ৫ লাখ টাকা মূল্যমান চেকের ক্ষেত্রে)’; ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩ ও ৪-এ বর্ণিত যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগ’ এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১(গ)-তে বর্ণিত যৌতুকের জন্য নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগ’-এর ক্ষেত্রেই নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এসব আইন পরিবর্তনের পর আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এটার কার্যকারিতা শুরু হলে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি হবে। লিগ্যাল এইডের দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে আগ্রহ হারাবে। মধ্যস্থতার কথা বলে সময়ের পর সময় নিতে থাকবে অপরপক্ষ। তদন্তের নামে হয়রানি আরও বাড়বে।’

দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি লিগ্যাল এইড অফিসার থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি জেলায় একজন কর্মকর্তা দিয়ে এত কাজ করা অনেক কঠিন হবে। ঢাকা জজ কোর্টে ৩৭টি সিএমএম আদালতে বিচারক এ সংক্রান্ত মামলা শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর একজন লিগ্যাল অফিসারকে দিয়ে কীভাবে এত কাজ করা সম্ভব হবে?’

ঢাকা মহানগরের আইনজীবী রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন নারীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করার পর সে কীভাবে মধ্যস্থতা করতে যাবে? নারীরা সমাজ ও পরিবারে এমনিতেই দুর্বল পক্ষ। এখন এ আইনে তাদের আরও দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কোনও আইডিয়া আছে? মেয়েদের জন্য বাস্তবতা কতো কঠিন হচ্ছে? এটা তো আইনেরও পরিপন্থি কাজ। একজন মানুষ আগে যেখানে অন্যায় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনের কাছে আশ্রয় নিতে পারতো, এখন তাকে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।’

‘এছাড়া প্রতিদিন কী পরিমাণ ১৩৮ ধারার চেকের মামলা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা এবং মহানগর আদালতগুলোতে দায়ের হয়? ঢাকার প্রায় ৪৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট যেখানে প্রতিদিন মামলা গ্রহণ ও বিচার পূর্ববর্তী কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খায় সেখানে একজন বিচারকের নেতৃত্বাধীন লিগ্যাল এইড অফিস কীভাবে কী করবে? বুঝে আসে না। সঙ্গে আছে পারিবারিক মামলা, যৌতুক, নারী শিশু নির্যাতন ও দেওয়ানি মামলা। পাহাড় সমান চাপ সামলানোর সক্ষমতা লিগ্যাল এইড অফিসের আছে কী?’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘এই ধরনের বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু করার আগে সিনিয়র আইনজীবী, বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করাই ছিল সমীচীন। কারণ আইনের উদ্দেশ্য যদি হয় ন্যায়বিচার সহজতর করা, তাহলে যেকোনও প্রক্রিয়া বিচারপ্রাপ্তির পথকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল করলে তা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি হয়ে দাঁড়ায়।’

কিছু ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের আগে নতুন করে আরবিট্রেশনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। যেসব মামলা এমনিতেই আপসযোগ্য বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এসব মামলায় রায়ের আগে আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। তাই মামলা দায়েরের আগেই লিগ্যাল এইডে যাওয়ার বিধান করে অভিযুক্তকে শাস্তির ভয় থেকে দূরে রাখা হলো। এর মাধ্যমে অপরাধী সুযোগ পাবে ও বিচারপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা আরও বাড়বে। এই অধ্যাদেশের কারণে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং ক্ষতি আরও বাড়বে। সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য একটি অধ্যাদেশ।’ অনতিবিলম্ব এই অধ্যাদেশ বাতিল করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই আইন বিচারপ্রার্থীর জন্য হয়রানি। লিগ্যাল এইড অফিসে যাওয়া মানে এক নতুন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, যা মামলা শুরুর পূর্বে বাড়তি সময় ও জটিলতা সৃষ্টি করবে। এই প্রক্রিয়ায় মামলা গ্রহণের পূর্বে কাগজপত্র যাচাই, ডাকাডাকি, তারিখ নির্ধারণ, মধ্যস্থতার সময়সীমা, সব মিলিয়ে বিচারপ্রার্থীকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া আর্থিক খরচের বিষয়ও আছে। যদিও লিগ্যাল এইড মূলত বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা, কিন্তু প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ন ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন, ট্রাভেল, সময় ব্যয় ইত্যাদি মিলে ব্যক্তিগত খরচ বেড়ে যায়। এমনকি অনেক সময় ক্লায়েন্টরা দ্বৈত খরচের মুখোমুখি হন—প্রথমে মধ্যস্থতা, পরে মামলার ব্যয়।’

‘এই গেজেট অনুযায়ী চেক ডিজঅনার, ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ, বণ্টন মামলা, যৌতুক নিরোধ কিংবা পিতামাতার ভরণপোষণের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে সরাসরি আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যাবে না—এটি সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে’, উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের পেশকার বেলাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা গণমাধ্যমে শুনেছি। এখনও এ ধরনের কোনও নোটিশ আমরা পাইনি। যদি এই সংক্রান্ত গেজেট সত্যি সত্যি কার্যকর হয়, তাহলে আমাদের ওপর অনেক চাপ পড়বে।’ এমনিতেই অনেক কাজের চাপ বলে জানান তিনি।

যৌতুকের জন্য ‘সাধারণ জখম’ভুক্তভোগী নারীকে মামলার আগে মধ্যস্থতায় যেতে হবেনাজনীন আখতারযৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের শিকার নার...
05/07/2025

যৌতুকের জন্য ‘সাধারণ জখম’
ভুক্তভোগী নারীকে মামলার আগে মধ্যস্থতায় যেতে হবে
নাজনীন আখতার

যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের শিকার নারীদের এখন থেকে মামলার আগে মধ্যস্থতায় যেতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’ সংশোধন করে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করে ১ জুলাই অধ্যাদেশ জারি করে।

অধ্যাদেশ অনুসারে, প্রথমে ভুক্তভোগী নারীকে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে কোনো পক্ষ প্রয়োজনে আদালতে মামলা করতে পারবে।

‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর এ নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে নানা মত উঠে এসেছে। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের অনেকের মতে, এই সংশোধন নারীর মামলা করার আইনি অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ভুক্তভোগীকে অপরাধীর সঙ্গে আপস করতে বাধ্য করবে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, অধ্যাদেশের ধারাটি নারীর অধিকারকে ব্যাহত করবে না, বরং সুসংহত করবে। কারণ, যৌতুকের জন্য সাধারণ জখমের অপরাধটি উচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০২০ সালে আপসযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। এই আপস প্রক্রিয়াকে অর্থবহ করতে মধ্যস্থতার জন্য নতুন বিধান আনা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের মামলাগুলো আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করা নারীদের জন্য কঠিন ছিল। মামলা দায়ের ও তদন্তপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় হতো এবং মামলা চালাতে খরচ হতো বলে নারীরা নিজেরাই একপর্যায়ে আপস চাইতেন। এখন শুরুতেই লিগ্যাল এইড অফিসে গেলে বিনা খরচে নারীরা কম সময়ের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আপস করার সুযোগ পাবেন। নতুন আইনে লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদনের যে বিধানটি আনা হয়েছে, এটিও একটি আইনি প্রক্রিয়া। এতে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সময় ব্যয় হতে পারে। আর আপস ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী নারীর মামলা দায়েরের অধিকার অবশ্যই বহাল থাকছে।
অধ্যাদেশে যৌতুক নিয়ে যেসব সংশোধন হয়েছে

আইনের ২১(খ) ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর শিরোনাম, ‘কতিপয় ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি কেস মেডিয়েশন) প্রক্রিয়ার উদ্যোগ গ্রহণ’। এই ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ আইনে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা বিষয়ে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হবে।

(২) উপধারায় বলা হয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, সংক্ষুব্ধ পক্ষকে অবশ্যই প্রথমে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আবেদন করতে হবে এবং মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে কোনো পক্ষ প্রয়োজনে উপযুক্ত আদালতে মামলা করতে পারবেন।

সংশোধিত অধ্যাদেশের এই ধারা ৯টি আইনের সুনির্দিষ্ট কিছু ধারার ওপর প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০–এর ১১ (গ) ধারা এবং যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮–এর ৩ ও ৪ ধারা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ১১ ধারাটি যৌতুক–সংক্রান্ত। ১১ (গ) ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য নারীকে সাধারণ জখম (সিম্পল হার্ট) করে, তবে ওই ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বছর, অন্যূন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আর যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮–এর ৩ ধারায় যৌতুক দাবি করার দণ্ড এবং ৪ ধারায় যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধানের কথা বলা আছে।

অপর দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ গত ২৫ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই অধ্যাদেশে ৩৫ ধারা সংযোজন করে বলা হয়েছে, যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের ১১ (গ) ধারায় করা মামলা এখন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। ১১ (গ) ধারায় বর্ণিত অপরাধ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করবেন ও বিচার করবেন। তবে এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার আগে ১১ (গ) ধারায় মামলা যেভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সেভাবেই হবে। ওই সব মামলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলি হবে না। এ ধারার মামলা আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পরিচালনা হতো।
নারীর আইনি অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে

আইন বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ফউজুল আজিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অধ্যাদেশটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ১১ (গ) ধারার অপরাধটিকে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার আওতায় আনা হয়েছে। যাতে নারীর ন্যায়বিচারের অভিগম্যতা বাধা হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা আছে। এই ধারার ভুক্তভোগীকে ৩২ ধারা অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও সনদ নিতে হবে, হাসপাতাল থেকে তাঁকে থানায় পাঠানো হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, এখন নতুন ব্যবস্থায় ভুক্তভোগী কোথায় যাবেন? হাসপাতালে না লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে? যদি নতুন বিধান অনুসারে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে ভুক্তভোগী যান, তাহলে চিকিৎসা সনদ না থাকার কারণে পরে সাধারণ জখমের অভিযোগ প্রমাণ করা যাবে না।

ফউজুল আজিম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ হচ্ছে বিশেষ আইন। এই আইনে নারীকে দ্রুত বিচার পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১১ (গ) ধারার মাধ্যমে যৌতুকের কারণে সাধারণ জখম হলেও এটাকে অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে অধ্যাদেশে ২১ (খ) ধারা যুক্ত করে বিচারপ্রার্থী নারীকে মধ্যস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়ার মানে হচ্ছে তাঁকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে আপস করতে বাধ্য করা।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের আইনজীবী নাহিদ শামস্ প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত আইনে যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। জখম হালকা হলেও এটা নির্যাতন। এ ধরনের অপরাধে ভুক্তভোগী নারীকে মধ্যস্থতার দিকে ঠেলে দিলে যৌতুকের কারণে নির্যাতন বেড়ে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী নাহিদ শামস্‌ বলেন, অধ্যাদেশ অনুসারে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে দুই পক্ষকেই প্রয়োজনে আদালতে মামলা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে অভিযুক্তও কি ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন?

এ বিষয়ে ফউজুল আজিম বলেন, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে গ্রামে সালিস প্রক্রিয়ায় যা হয়, অভিযুক্ত পক্ষ মধ্যস্থতায় আসতে ইচ্ছাকৃত দেরি করে বা আসে না। সে ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার জন্য অপেক্ষা করা নারীর যদি মেডিকেল পরীক্ষা না হয়, তাহলে তাঁর সাধারণ জখমের আঘাত চিহ্ন চলে যায়। মধ্যস্থতায় কোনো একটি পক্ষ আপসে রাজি না হলে ওই নারী পরে মামলা করে তাঁর আঘাত প্রমাণ করতে পারেন না। যদি অভিযুক্ত আপস না করেন, তখন কী হবে? ভুক্তভোগীকে আবার আদালতেই যেতে হবে। এতে ভুক্তভোগীর হয়রানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। এ বিধান অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এখন থেকে যে সকল মামলা সরাসরি আদালতে করা যাবে না:পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা, চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম), যৌতুকের (৩ ও...
02/07/2025

এখন থেকে যে সকল মামলা সরাসরি আদালতে করা যাবে না:

পারিবারিক আদালতের মোকদ্দমা,
চেক এর মামলা (৫ লক্ষ টাকার কম),
যৌতুকের (৩ ও ৪ ধারা),
নারী নির্যাতন মামলা (১১গ),
বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ,
অগ্রক্রয় মামলা—
এখন থেকে সরাসরি আদালতে দায়ের করা যাবে না। আগে Legal Aid-এ যেতে হবে (দরখাস্ত করতে হবে)।
মধ্যস্থতা না হলে তারপর আদালতে মামলা করতে হবে।

অধস্তন আদালতে সহায়ক কর্মকর্তা কর্মচারীর তিন হাজার পদ শূন্য
19/06/2025

অধস্তন আদালতে সহায়ক কর্মকর্তা কর্মচারীর তিন হাজার পদ শূন্য

নোটিশে ২৮টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ২১টি একক বেঞ্চের নাম এবং বিচারিক এখতিয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।
17/06/2025

নোটিশে ২৮টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ২১টি একক বেঞ্চের নাম এবং বিচারিক এখতিয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।

অবকাশ শেষে থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৪৯ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচার.....

:::পৃথক হচ্ছেন দেওয়ানি আর ফৌজদারি মামলার বিচারক:::দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার্য বিষয়, এজলাসের ধরন ও সাক্ষীর প্রকৃতি ভ...
15/06/2025

:::পৃথক হচ্ছেন দেওয়ানি আর ফৌজদারি মামলার বিচারক:::

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার্য বিষয়, এজলাসের ধরন ও সাক্ষীর প্রকৃতি ভিন্ন রকমের। দুই ধরনের আদালতের বিচারকদের পদও পৃথক আইনের মাধ্যমে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও অধস্তন আদালতের বিচারকদের একসঙ্গে উভয় ধরনের আদালতে দায়িত্ব পালন করার কারণে মামলাজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে মামলার নিষ্পত্তি বাড়াতে পৃথক আদালত স্থাপন ও পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকারবিষয়ক ছাড়া অন্য যেকোনো অপরাধ (খুন, অপহরণ, জালিয়াতি ইত্যাদি) ফৌজদারি মামলার অন্তর্ভুক্ত। বিচারকেরা সাধারণত ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে বেশি মনোযোগ দেন। এতে করে দেওয়ানি মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিচারপ্রার্থীদের। এ কারণেই সুপ্রিম কোর্ট এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। আইনজ্ঞরা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার্য বিষয়, এজলাসের ধরন ও সাক্ষীর প্রকৃতি ভিন্ন রকমের। দুই ধরনের আদালতের বিচারকদের পদও পৃথক আইনের মাধ্যমে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও অধস্তন আদালতের বিচারকদের একসঙ্গে উভয় ধরনের আদালতে দায়িত্ব পালন করার কারণে মামলাজট সৃষ্টি হয়। এ কারণে মামলার নিষ্পত্তি বাড়াতে পৃথক আদালত স্থাপন ও পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

ব্যক্তির অধিকার ও সম্পত্তির অধিকারবিষয়ক ছাড়া অন্য যেকোনো অপরাধ (খুন, অপহরণ, জালিয়াতি ইত্যাদি) ফৌজদারি মামলার অন্তর্ভুক্ত। বিচারকেরা সাধারণত ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে বেশি মনোযোগ দেন। এতে করে দেওয়ানি মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিচারপ্রার্থীদের। এ কারণেই সুপ্রিম কোর্ট এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। আইনজ্ঞরা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আদালত পৃথক করার বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। চিঠিতে বলা হয়, সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট (দেওয়ানি আদালত আইন) ১৮৮৭-এর ১৩ ও ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে জেলা জজশিপের স্থানীয় অধিক্ষেত্র ও বিচারকার্য অনুষ্ঠানের স্থান এবং কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (ফৌজদারি কার্যবিধি) ১৮৯৮-এর ৭ ও ৯ ধারার ক্ষমতাবলে সেশনস ডিভিশনের স্থানীয় অধিক্ষেত্র ও বিচারকার্য অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী জেলা জজশিপ এবং সেশনস ডিভিশন পৃথকভাবে রয়েছে। এটি স্পষ্ট যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ওই আদালতের বিচারকের পদ পৃথক আইনের মাধ্যমে পৃথকভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে একজন বিচারককে একসঙ্গে অনেক ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়। এতে সময়স্বল্পতার কারণে মামলায় যথাযথভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই প্রধান বিচারপতি আদালত পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বিচারকের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আমরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে এখন মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।’

এ নিয়ে জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের বিষয়টিকে ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়’ উল্লেখ করে জানান, তাঁর কিছু বলার নেই।

সুপ্রিম কোর্টের চিঠিতে বলা হয়, অধস্তন আদালতসমূহে বর্তমানে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ানি আপিল, দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি আপিল, ফৌজদারি রিভিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর ফলে বিচারকদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মামলার জট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে।

আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, পৃথক এখতিয়ার প্রয়োগের সুবিধার্থে এবং মামলাজট নিরসনের জন্য বিচার বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে পৃথক আদালত স্থাপন ও দরকারিসংখ্যক পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি এখতিয়ার অনুসারে জেলা জজশিপ ও সেশনস ডিভিশন পৃথক্‌করণ এবং সংশ্লিষ্ট জজশিপ ও সেশনস ডিভিশনের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ‘নির্দেশক্রমে অনুরোধ’ করা হলো।

মামলাজট কমাতে আদালত পৃথক করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা। আইনজীবীরা বলছেন, আদালত পৃথক করতে পারলে তা হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে মামলা নিষ্পত্তি বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি থেকে বাঁচবেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আদালত পৃথক করার উদ্যোগ খুবই ভালো। এটি বাস্তবায়িত হলে বিচারকেরা মামলার প্রতি আরও মনোযোগ দিতে পারবেন, গবেষণা করতে পারবেন। চিন্তাভাবনা করে ভালোভাবে রায় দিতে পারবেন। এতে মামলা নিষ্পত্তিও বাড়বে।’

অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি ভালো উদ্যোগ। এই দাবি বিচারকদের দীর্ঘদিনের। উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে বিচারকাজে গতি আসবে। এটি হবে বড় ধরনের মাইলফলক।’

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া তাঁর অভিভাষণে বলেছিলেন, একজন বিচারক একই সঙ্গে একাধিক কোর্ট এবং ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকেন। এটি বিলুপ্ত করে একজন বিচারককে একটি কোর্টের দায়িত্ব দিতে হবে। এ জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া দেওয়ানি ও ফৌজদারি এখতিয়ার অনুসারে পৃথক আদালত স্থাপন করা প্রয়োজন। এসবের জন্য সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭–এ পরিবর্তন আনতে হবে। সংস্কার প্রক্রিয়ার শুরুতে এখন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমেও এটা করা সম্ভব।

Address

Dhaka
1215

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইন ও প্রতিকার - Legal Remedy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category