15/05/2026
আপনারা যারা বার কাউন্সিল প্রিলি পরীক্ষা দিবেন এই লেখাটা আপনার জন্য। যেহেতু, নতুন নতুন আইনজীবী হয়েছি আমার অভিজ্ঞতাটাও একদম তর তাজা।
বাড়তি না বলে প্রথমেই কিছু পরামর্শ দিবো যেগুলো ফলো করলে আল্লাহ চাইলে আপনি প্রিলি পাশ করতে পারেন। যেহেতু আপনাদের ১২ই জুন ২০২৬ তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
১/ সকল বেয়ার এ্যাক্টগুলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর ওয়েবসাইটে যে সিলেবাস দেওয়া আছে সে অনুযায়ী যতটা সম্ভব মুখস্থ করে ফেলবেন।
২/ বেয়ার এ্যাক্ট এর পাশাপাশি নিশ্চয়ই আপনারা একটা সহায়ক বই কিনেছেন। কেউ একাধিকও কিনতে পারেন। আমি বিশ্বাস করি আপনারা আরো আগেই পড়াশোনা শুরু করেছেন। তারপরও বলবো সহায়ক বই আর বেয়ার এ্যাক্ট এক সাথে রেখে পড়াশোনা করবেন। যেটাই পড়বেন সাথে খাতা কলম রেখে ছোট করে ধারাটা লিখে নিবেন। যে ধারা গুলো পড়েছেন, তারপর সহায়ক বই থেকে নিজেকে পরীক্ষা করবেন। সততার সহিত নিজেকে মূল্যায়ন করবেন। এভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ এম সি কিউ সমাধান করবেন।
৩/ যে প্রশ্ন গুলো পারেন সেগুলো নিয়ে সময় নষ্ট না করে যেখানে ভুল করছেন সেই এড়িয়াগুলো নিয়ে সাথে সাথে পড়ে ফেলবেন। এভাবে বিগত সালের সকল প্রশ্নের ব্যাখাসহ সমাধান করবেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪টা পরিক্ষা দিবেন।
৪/ যেহেতু আজকে ১৫ই মে আর আপনাদের পরীক্ষা ১২ই জুন। হাতে সময় আছে ২৭ দিন। আগে কি পড়ছেন না পড়ছেন ভুলে যান। আজকে থেকে এই ২৭ দিন কষ্ট করলে আগামী ২৭ বছরে আপনার পরিচয়হীনতা, কষ্ট এবং গ্লানি সহ্য করতে হবে না। এই ২৭ দিনে এক দমে পড়া শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে দম ফেলবেন। আপনাদের সারা বছর পড়াশোনার দরকার নেই। এই ২৭ দিনে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিন। ইন শাহ আল্লাহ, আপনি পাশ করবেন।
৫/ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করেন। এই ২৭ দিনে এক ওয়াক্ত যাতে মিস না হয় সেভাবে। এটা আপনার ভিতরে শৃঙ্খলা নিয়ে আনবে। যা আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একান্ত প্রয়োজন।
৬/ পরীক্ষা দিতে এবং প্রশ্ন সলভ করতে গিয়ে বোরিং ফিল করতে পারেন। এজন্য গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশোনা বা বার কাউন্সিল পরিক্ষার প্রস্তুতি সহায়তাকারী কোন শিক্ষকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেন।
৭/ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হচ্ছে, আপনি এই ২৭ দিনে ৭টা আইন মুখস্থ করতে পারবেন না। তবে আপনি যেটা পারবেন সেটা হচ্ছে প্রশ্নের প্যাটার্ন বোঝা।
আপনি যতো বেশি প্রশ্ন সলভ করবেন ততো বেশি প্রশ্ন ধরতে এবং এর উত্তর খুঁজে বের করা সহজ হবে।
তাই বেশি বেশি নিজের পরীক্ষা নিন। অবশ্যই নিজের উপর সততা ধরে রাখবেন।
৮/ পরীক্ষার হলে আপনি অজানা একটা পরিবেশ পাবেন। আবার সময় মাত্র ১ ঘন্টা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারার কারণে অনেকেই ফেল করে বসেন। সুতরাং এখানেও প্রস্তুতির ব্যাপার আছে।
আপনার মডেল টেস্ট গুলোতে সব সময় চেষ্টা করবেন ৪৫ মিনিটে ১০০ প্রশ্ন পড়ে ফেলার। এর পর যা পারেন নি তা আবার দেখবেন। অনলাইন থেকে বৃত্ত ভরাট এর পেইজ নিয়ে ২০০-৩০০ পেইজ করে রাখেন। এখানে যে মার্ক পাবেন সেখান থেকেই আপনার প্রস্তুতি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
সবিশেষ, আপনার প্রস্তুতি যদি এভাবে নিতে পারেন, তাহলে পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই আপনার নিজের উপর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে যাবে এবং আপনি বলবেন "আমি এই পরীক্ষায় পাশ করবো ইন শাহ আল্লাহ"।
আর হ্যাঁ, পরীক্ষার হলে গেলে অনেকেই র্নার্ভাস হয়ে পড়েন, সুগার ফল করে বা ব্লাড প্রেশা্র বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে সবসময় নিজের মাথা ঠান্ডা রাখবেন, এক কাপ কফি, দামী কিছু চকলেট বা চকলেট দুধ খেয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকবেন। আগের রাতে অবশ্যই ভালো ঘুম দিবেন।
নিজেকে সর্বোচ্চ সুস্থ রেখে পরীক্ষার হলে ঢুকবেন। ইন শাহ আল্লাহ, পরীক্ষার হল থেকে ভালো পরীক্ষা দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বেড় হবেন।
যেহেতু সময় কম, তাই ছোট করে লিখলাম। তবে, ফেসবুকে বেশি সময় দিবেন না। আপনার সময়ের মূল্যায়ন করুন। একদিন এই সময় আপনাকে সম্মানিত করবে।
সবার জন্য শুভকামনা।
নিবেদনে,
মোঃ জহির রায়হান
আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট।
যোগাযোগঃ +8801723194041