04/09/2024
আইন উপদেষ্টা ও অ্যাটর্ণি জেনারেল খুব স্পষ্টভাষাতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করবেনা।
ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিল চেয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জনাব এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জনাব মো. মাহবুবুল উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার দায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটটি গত ২৭ আগস্ট খারিজ চান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এমনকি এই একই সিদ্ধান্ত দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মুখেও শোনা গেছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (৩০ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে
জানিয়েছেন কোন দল নিষিদ্ধের বিষয়টি তারা সমর্থন করেন না।
মঙ্গলবার ৩ সেপ্টেম্বর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন: "আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সব ধরনের নির্যাতনের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে জামায়াত ইসলামী।"
১৯৭৫ সালে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েমের পর আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করার আইনগত অনুমতি পেয়ে একাধিক গণহত্যা করেছে।
আবারো ছোট মুখে একটা বড় কথা বলি।
আওয়ামী লীগ যদি ১৯৭৫ সাল থেকেই নিষিদ্ধ থাকতো তাহলে এই হাজার হাজার মানুষকে আজ কবরের ভেতরে শুয়ে থাকতে বা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারাতে হতোনা।
ফ্যাসিবাদের হাতে -
যে কয়েকশো সাহসী মানুষের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে,
যাদের হাত বা পা কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে,
যাদের রক্তাক্ত ঘা এখনও শুকায় নাই,
যাদের সন্তান, পিতা, পরিবার-পরিজন, প্রিয়জন মারা গেছেন,
চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন,
লাশটাও খুজে পাওয়া যায় নাই,
যারা প্রিয়জনদের কবরটা জড়িয়ে ধরে কান্নার সুযোগটাও পাচ্ছেন না,
যাদের চোখের সামনে নিজ পরিবারের প্রিয়জনদের রক্তাক্ত, পোড়া বা গলিত দেহ রাস্তায় পড়ে ছিল,
তাদের কাছে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনে আবার সেই দুঃস্বপ্নতুল্য অন্ধকার সময় তৈরির সুযোগ দেবার বিষয়টা কেমন লাগছে বা কি অনুভুতি তাদের বুকের ভেতরে হচ্ছে তা আমার কল্পনাশক্তির বাইরে।
সেই সময় যখন -
"সহস্রাব্দের ভয়ংকর এক খুনী গ্রাস করেছিল
আমাদের কাল।
না সুর, না স্বর
কিছুই উচ্চকিত হত না ভয়ে, সন্ত্রাসে
এমনকি শিশুরাও কোলাহল ভুলে হয়ে যেত
নির্বিবাদী সুবোধ।...........
যখন চাটুকার ছাড়া সকলকেই নেয়া হতো বধ্যভূমিতে
প্রিয়জনের কান্নাকেও দণ্ডিত করা হতো
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে
পদ্মা-মেঘনা আর বুড়িগঙ্গার জলে
ভেসে বেড়াতো যে বেওয়ারিশ লাশ
তারাও পেত না স্বজনের হদিস"
(কবিতাঃ সহস্রাব্দের খুনী । লেখকঃ দীপ্র হাসান)
সেই ভয়ঙ্কর সময় আবার ফিরিয়ে আনার আতঙ্ক আমি নিজের মধ্যেই হাড়ে হাড়ে টের পাই।
আমার আম্মা ০৮.০৮.২০১৮ তারিখে লিভার সিরোসিসে প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে ভুগে ভুগে মৃত্যুবরণ করেন।
আম্মা অসুস্থ অবস্থায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না।
আম্মা বলতেন যে ওনার মনে হয়, ফেসবুকে লেখার কারণে আমাকে যেকোনো সময় গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাবে।
ফেসবুকে লেখার কারণে শহীদ হওয়া আবরার ফাহাদ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলা হয়।
সেই শহীদ আবরারের আপন ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ ফেসবুকে লিখে প্রশ্ন করেছেন যে - ইউরোপের উদার গনতান্ত্রিক দেশ জার্মানি, ইটালি ও বিভিন্ন গনতান্ত্রিক দেশে ফ্যাসিষ্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয়ে থাকলে বাংলাদেশের এই ফ্যাসিবাদী দলটি কেনো নিষিদ্ধ হবেনা?
সাংবিধানিক অধিকার কি শুধু ফ্যাসিবাদী দলের আছে?
দেশের সাধারণ জনগণ যারা এই ফ্যাসিবাদী দলটির দেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার কথা শুনে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যত এবং দেশের অস্তিত্ব নিয়ে আতঙ্কিত তাদের মতামতের কোনো মূল্য কি নেই?
আমি বা আপনি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন বাতিলের দাবি করলে আমাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়,
আপনার বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়,
আপনাকে মাথাগরম বলা হয়,
আপনাকেই উল্টা ফ্যাসিবাদী, উগ্রবাদী বলা হয়।
আইন উপদেষ্টা ও অ্যাটর্ণি জেনারেল খুব স্পষ্টভাষাতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করবেন না।
এমনকি এই একই সিদ্ধান্ত আপনি দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মুখেও শোনেন।
তাহলে গণতান্ত্রিক দেশের কোটি কোটি জনগণের কার্যকরী মতামত দেবার বা সেই মতামত মূল্যায়নের সুযোগ কোথায়?
সব সিদ্ধান্ত ওনারা একতরফা নিলে আর আমজনতার আবেগ ও মতামত ব্যবহৃত টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দিলে ৫ই আগস্টের শহীদদের রক্তের তাৎপর্য কি?
একবার শুধু কল্পনা করেন যে, শহীদ আবু সাঈদ বা আবরার ফাহাদের মতো অজস্র শহীদ যদি আজকে এই বিষয়ে মতামত রাখার কোন সুযোগ পেতেন তবে সেই কয়েক হাজার গুম আর শহীদ হওয়া মানুষ আর তাদের পরিবার এই বিষয়ে কি মত দিতেন বলে আপনার মনে হয়?
এই দেশের অধিকাংশ মানুষ জাতীয় গণভোট হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে কি মত দিতেন?
এই প্রশ্নের উত্তর আমরা সবাই জানি। তবে এই কথা অনেক মানুষ জোরগলায় খোলাখুলি বলতে পারবেননা।
কারণ তাদের দল বা খোদ সরকার থেকে ধমক দিয়ে বা মাথায় হাত বুলিয়ে থামিয়ে দেওয়া হবে।
জঙ্গি সংগঠন জেএমবি বাংলাদেশে যতজনকে হত্যা করেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ হত্যা করেছে তারচাইতে হাজারগুন বেশী মানুষকে।
তাহলে আপনারা কি জেএমবিকেও রাজনীতি করার অনুমতি ও নিবন্ধন প্রদান করবেন?
আপনারা বলছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে বা গত ১৫ বছরে যা ঘটেছে তার দায় নাকি ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের না,
বরং কিছু নেতা কর্মীর !!
এরপর হয়তো বলবেন যে, জেএমবি যা করেছে সেই দায়ও জেএমবির না বরং তাদের কতিপয় নেতা কর্মীর।
তাহলে আপনারা কি জেএমবিকেও রাজনীতি করার অনুমতি ও নিবন্ধন প্রদান করবেন ? !!
টাকা পয়সা, অস্ত্র ও লোকবলের দিক থেকে প্রচন্ড ক্ষমতাধর ফ্যাসিবাদী সংগঠন আওয়ামী লীগের কয়েকশো সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার আর কাউন্সিলরদের শতকরা কয়ভাগ আটক বা গ্রেফতার হয়েছেন?
২% ? ৫%? ১০% ?
আপনারা অফিস, আদালত, পুলিশ, প্রশাসনের শীর্ষ কিছু পদে সামান্য রদবদল করে সমগ্র কাঠামো ও রাজনৈতিক ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে সরকারে বসে তাদের আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনছেন,
ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগকে দল গোছানোর, আবারো সংগঠিত হবার,
নির্বাচন করার পরামর্শ দিচ্ছেন !!!
অথচ আপনারা পুরোপুরি ভুলে গেছেন যে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ৬ বছর পর দেশে ফিরতে চাইলে জিয়াউর রহমান পরম উদারতার সঙ্গে হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছিলেন।
হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।
এর ঠিক ১৩ দিন পরেই জিয়াউর রহমানকে গুলি করে ঝাঝরা করে ফেলা হয়।
ওনার লাশটাও সহজে চেনা যায় নাই।
একই ভাবে শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ২৫শে ডিসেম্বরে ইলেকশন জিতবার ৬০ দিন পর বিডিআর এর পোশাক আর গেরুয়া রুমাল পরা তথাকথিত বিদ্রোহীরা ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটান তা আওয়ামীলীগ সরকারের নিরংকুশ ক্ষমতা ও ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠার পথ একদম পরিষ্কার করে দেয়।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর পিপড়ার মতো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের পুনরায় রাজনীতি করতে দেবার আইনগত অনুমতি দিয়েছিলেন অতি উদার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
খেয়াল করেন,
১৯৭৫ সালের সেই পিপড়ার মতো দুর্বল আওয়ামী লীগ এরপর ভয়ঙ্কর বিশাল এক দানব হয়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম খুন করে।
আজকে অনেকেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলছেন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতি নাকি শেষ; এদের রাজনীতি করার অনুমতি দিলেও এরা নাকি আর কখনোই ক্ষমতাধর হতে পারবেনা।
অথচ যারা এটা বলছেন তারা ইতিহাস থেকে বিন্দুমাত্র শিক্ষা নেননি।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হবার কারনে রাজনীতিতে এখনও আইনগতভাবে টিকে আছে,
সুতরাং, তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা, অস্ত্র আর বৈদেশিক সমর্থনের ফলে তারা ধারনার চাইতেও অনেক দ্রুত শক্তিশালি হয়ে ফিরে আসবে।
হাসিনার পালানোর একদিন আগেও সেই সরকারের বেশীরভাগ লোক বিশ্বাস করেনি যে এতো দ্রুত তার পতন হবে।
ইউনুস সাহেবের সরকারের বেশীরভাগ মানুষ একইভাবে অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে এটা মানবেননা যে আওয়ামী ফ্যাসিজম আর কখনো কোনোভাবে ফেরত আসবে।
ইউনুস সাহেবের বয়স ৮৪ বছর।
আওয়ামী ফ্যানাটিকদের থেকে গত ১৫ বছর বিশেষভাবে নিয়োগ পাওয়া বাহিনী SSF ওনার চারদিকে ঘিরে রাখে। শীর্ষ কিছু পদে রদবদল হলেও ভেতরে লোকজন সবতো একই আছে।
এইসময় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলে এটা সবাই স্বাভাবিকভাবেই নেবে।
বইপত্র আর অনলাইনে দেখবেন যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র (RAW) প্রতিষ্ঠা হয়েছে ইসরাইলের মোসাদের হাত ধরে।
পৃথিবীর সবচাইতে বেশী রাজনৈতিক গুপ্ত হ*ত্যা মোসাদ করে থাকে।
এর খুব বড় একটা অংশ সাজানো দূর্ঘটনা (staged accidents) অথবা বিষ প্রয়োগে ঘটানো হার্ট অ্যাটাক। এই কাজে র (RAW) এর ব্যবহার করা বিষের নাম রাইছিন (Ricin)
এগুলো সাধারণ কোনো ময়না তদন্তে ধরা পড়েনা।
ইয়াসির আরাফাত কিংবা ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির ঘটনা কি ঘটেছিলো মনে আছে ?
সেভাবেই র কতৃক কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিখ জাতীয়তাবাদী নেতাদের হত্যার ঘটনার মতো অজস্র ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যাবে।
ইউনুস সাহেবের হার্ট অ্যাটাক হলেও এটা কেউ সন্দেহ করবেনা।
আর এটা ঘটলেই এই সরকারের আন্তর্জাতিক কানেকশন আর শক্তি ৯৫% কমে যাবে।
কেউ শুনুন বা না শুনুক একটা ছোট্ট কথা বলে রাখি।
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন -
বাধ্যতা আর সুশীলতার মাধ্যমে ৫ই আগস্টের বিপ্লব হয়নাই।
সুতরাং, সুশীলতার মাধ্যমে আপনি ৫ই আগস্টের বিপ্লবকেও খুব বেশীদিন টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। (আমি শুধু বলবো, দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন)
ইউনুস সাহেবের মত ভদ্রলোক সুইজারল্যান্ডের সরকার প্রধান হলে ঠিক হতো।
কিন্ত এটা বাংলাদেশ। এইখানে যুদ্ধাবস্থা আর ভিনদেশের আগ্রাসী শক্তি সমর্থিত ফ্যাসিবাদীরা বিপুল টাকা, অস্ত্র আর লোকবল নিয়ে বিরাজ করছে।
একজন বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য শুনলাম যে -
আওয়ামী লীগ দুর্বল হবার কারণে বিএনপি জামায়াত জোট ভবিষ্যতের ইলেকশনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নতুন করে আরেক ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারে।
এইটা ঠেকানোর জন্য নাকি সরকারের ব্যালেন্স করা জরুরী।
এই ব্যাখ্যা শোনার পর মনে হচ্ছে যে ইউনুস সাহেবের সরকার রাষ্ট্রপতি, অফিস, আদালত, পুলিশ, প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গাতে তাহলে এই কারণে ফ্যাসিবাদীদের শুধু টিকিয়েই রাখছেন না বরং পুনঃনিয়োগও দিচ্ছেন।
এইটা নাকি লজিক !
উপদেষ্টা পরিষদের বিষয়ে আপনি খুব ভালোমতো খেয়াল করলে হাসিনা সরকারের অতি উচ্চপদস্থ একাধিক লোকজন সেখানে দেখবেন।
এই দেশে সবসময় সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে প্রধানমন্ত্রীরাই সবসময় বাকি মন্ত্রীদের বাছাই ও নিয়োগ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টারাও সরকার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়ে বাকি উপদেষ্টাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোমতো জেনেই নিয়োগ করেছেন।
ইউনুস সাহেবের অমতে বা অজান্তে ওনার কোনো উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছে এই কথা ভাবার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
ইউনুস সাহেবের যে প্রোফাইল ও আন্তর্জাতিক প্রভাব তাতে ওনার অমতে সরকারের বিষয়ে কারোরই কিছু করার বা চাপিয়ে দেবার সুযোগ ছিলোনা।
এখনো সেই সুযোগ নেই।
সুতরাং, এই বিষয়টি সকল যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের উর্ধে।
ইউনুস সাহেব বিশ্ব বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ হলেও রাজনীতিবিদ নন।
সুতরাং বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী এবং তাদের বৈদেশিক মদদদাতাদের বাকিদের সঙ্গে ব্যালেন্স করার সেই কথা সত্যি হলে বলতে হবে যে তিনি আসলে আগুন নিয়ে খেলছেন।
এই অবস্থাতে অতি উদারবাদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী দলের পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুধু বর্তমান সরকার না বরং সমগ্র দেশের জনগণ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের স্বাধীনতার জন্য আত্মহ*ত্যার শামিল।
আপনি যদি সাত আসমানের উপর থেকে ফেরেশতা ধরে এনেও বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা বানিয়ে দেন তবু এই দলকে আমি বিশ্বাস করবোনা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনঃ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেবার অর্থ হচ্ছে ২০২৪ সালের চাইতেও কোটিগুণ ভয়ঙ্কর অবস্থার দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়া।
শহীদদের রক্তের আর তাদের পরিবারের মতামতের চরম অবমাননা করা।
ফ্যাসিবাদী সংগঠন পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসার অর্থ আমার বা আপনাদের কারো কারো মত অনেককেই জীবন দিতে হবে, পঙ্গু হতে হবে বা কেউ কেউ সপরিবারে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হবেন।
এই পৈ*শাচিক গণহ*ত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও গণহ*ত্যার সমর্থকদের আবারো একই সংগঠনের পতাকাতলে সংগঠিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিপন্ন করা দেশের শতকরা কতজন আসলে সমর্থন করেন?
একটা উদাহরণ দেই।
ইতিহাস বইতে আছে যে -
নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ধরে ফেলার পর তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং কোরআন শরীফ ছুঁয়ে বিশ্বস্ততার শপথ করতে বাধ্য করেন। তারপর পলাশীর যুদ্ধ হয়।
এর পরের ঘটনা সবারই জানা।
সিরাজের অতি উদারতার কারণে আমরা শত শত বছর বৈদেশিক শক্তির গোলাম হয়ে দুর্ভিক্ষ পীড়িত একটা জাতিতে রূপান্তরিত হই।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রচন্ড রকম আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী। তবুও তারাই ভবিষ্যতে আবার ক্ষমতায় আসবে।
এর কারণটা কি জানেন?
নিচের ছোট্ট উদাহরণটা পড়লেই পরিষ্কার হবে।
পলাশীর প্রান্তরে নবাবের সৈন্য ছিলো ৫০ হাজার। অস্ত্র এবং কামানও ছিলো ইংরেজদের থেকে অনেকগুণ বেশী।
ইংরেজদের ছিলো মাত্র ২ হাজার সৈন্য !! তার মধ্যে ১৮০০ জন ছিলো ভাড়া করে আনা ভারতীয় সৈন্য। আর মাত্র ২০০ জন ছিলো ইংরেজ সৈন্য।
যুদ্ধ শুরু হলে নবাবের বাহিনী যখন প্রায় জিতে যাচ্ছেন তখন মীর জাফর আলী খান নবাবকে বলে যুদ্ধ থামিয়ে দেন। সেদিনের মতো যুদ্ধ থামলে বাইরে থাকা নবাবের সব গোলা বারুদ বৃষ্টিতে ভিজে যায়। মীর জাফরের কারণে সেগুলো ঢাকা হয়নি।
পরের দিন যুদ্ধ শুরু হলে মোহনলাল আর মীর মদন বীর বিক্রমে যুদ্ধ করলেও, মীর জাফর আলী খানের বিশাল বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে নীরবে দাড়িয়ে থাকে।
তাদের যুদ্ধ করার ইচ্ছা থাকলেও যুদ্ধের অনুমতি ছিলোনা।
ফলে মোহনলাল আর মীর মদন বার বার যুদ্ধ করার জন্য ডাকলেও মীর জাফরের বাহিনী যুদ্ধে নামেনি।
আসলেও তো। নেতার আদেশ আর আনুগত্য ছাড়া তো আর লড়াই করা যায়না।
পরে যুদ্ধ যখন শেষ হলো তখন তারা যুদ্ধের ফলাফল আর আসল ঘটনা বুঝে গভীর বেদনা আর লজ্জা অনুভব করলেন। কিন্তু যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
পরে সেই বাহিনীর অজস্র দেশপ্রেমিক সৈন্য গেরিলা যুদ্ধের নেতা ফকির মজনু শাহের অধীনে ফকির বিদ্রোহে যোগ দিলেও পরাধীনতার শেকল আড়াইশো বছর টেনে বেড়াতে হয়েছে।
এর মধ্যে ইংরেজদের আরোপ করা অতিরিক্ত খাজনা দিতে গিয়েই ১১৭৬ বাংলা সাল মানে ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে এই দেশের তিন কোটি মানুষের মধ্যে সোয়া কোটি মানুষ ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম দুর্ভিক্ষে মারা যান।
ফ্যাসিবাদীদের সীমাহীন লুটতরাজে সৃষ্ট ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ আর,
২৪ সালের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা যদি আমরা ভুলে যাই,
যদি খুনি ফ্যাসিবাদীদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা হাত পা গুটিয়ে নীরবে মেনে নেই,
তবে আগামীতে আরো বহুগুণ বড়ো গণহ*ত্যা, দুর্ভিক্ষ আর পরাধীনতাই আমাদের সবার প্রাপ্য হবে।
আওয়ামী লীগ যে একটি ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী সংগঠন এই কথা ২০১৩ সালে যারা প্রকাশ্যেই স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন তাদের সেইসময় চরমপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিলো।
আজকে দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে, ঐ সময় ওনারা ঠিক বলেছিলেন।
তবে ওনাদের কথা দেশবাসীর পুরোপুরি বুঝতে সময় লেগেছে প্রায় এক যুগ।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার পক্ষে এবং রাজনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিপক্ষে যারা কথা বলবেন তাদেরকেও আজকে চরমপন্থী বলে গালিগালাজ করা হবে।
তবে ইতিহাস একদিন সাক্ষী দেবে যে তারাই ঠিক ছিলেন।
History will exonerate us.
১৯৭৫ সালের পর যারা বাকশালী আওয়ামী লীগকে আইনগত এবং রাজনৈতিভাবে বৈধতা দেবার বিরোধীতা করেছিলেন তাদের কথা কোন গুরুত্ব না দেবার ফল গত ১৫ বছর সবাই নিজের চোখেই দেখেছেন।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে গণহত্যার প্রকাশ্য সমর্থক ও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিশেষ সুবিধা ভোগীদের রাজনৈতিক জীবনকে পুনরুজ্জীবন দান করে আবারো সেই ভয়ঙ্কর আওয়ামী দানবকে কবর থেকে নতুন জীবন দান করে তুলে আনা হচ্ছে ।
১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান পরম মহানুভবতা ও গণতান্ত্রিক উদারতা দেখিয়ে যে ভুল করেছিলেন,
যে ভুলের মাশুল গতো ১৫ বছর হাজার হাজার মানুষকে জীবন, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আর সম্পদ হারিয়ে দিতে হলো,
যে ভুলের কারণে তারা শেষে ওনাকেই রাজাকার আর পাকিস্তানের চর আখ্যায়িত করলো !!!!
সেই একই ভুল সবাই মিলে আবার সবার সামনে পুনরাবৃত্তি করছে !!!
কোনো দলের অন্ধ সমর্থক হলে এসব কথা প্রকাশ্যে বলার সুযোগ নেই।
এসব কথা বললে অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে, অনেক পেশাগত উন্নতির দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
এটা ভালোমতো বুঝেই আমি লিখতে বসেছি।
এই লেখাটি কোনো প্রাপ্তির আশায় লেখা হয়নি।
ব্যারিস্টার সারা হোসেনের বক্তব্য থেকে মানুষজন বুঝতে পারছে যে,
ফ্যাসিবাদের শিকার ও ভুক্তভোগী মানুষজন অজস্র দুর্বল মামলা করার কারণে সেগুলো প্রথম দিকেই খারিজ হয়ে যাবে।
পুলিশ ও সরকারের আইনজীবীদের সহযোগিতা তারা শুরুতে পায়নি। মামলাগুলো তো সেক্ষেত্রে দুর্বল হওয়াই স্বাভাবিক। জনগণেরই বা দোষ কি?
এখন কোথাও কোথাও কিছু কিছু সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন।
কিন্তু এসব ফ্যাসিবাদী অপরাধীদের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবচাইতে বেশী দেশের প্রধানতম সরকারী আইনজীবি তথা অ্যাটর্ণি জেনারেলের উপর।
কিন্তু তিনি বিস্ময়করভাবে আওয়ামী সরকারের আইনজীবীদের সবাইকে অপসারণের পর তাদের বিভিন্ন জনকে পুনরায় একই পদে পুনরায় নিয়োগ করছেন।
আওয়ামী সরকারের আইনজীবীরাও কি তবে বিকল্পহীন ?!!
আইনজীবীদের তুমুল দাবি ও আন্দোলনের পরেও তিনি কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আইন কর্মকর্তা যাদের তিনি পুনরায় নিয়োগ দিয়েছেন তাদের কোনো অবস্থাতেই অপসারণ করবেন না।
শহীদ, পঙ্গু আর নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষজন তাহলে ন্যায়বিচার পাবে কিভাবে?
জনাব আসিফ নজরুল কোর্ট প্র্যাক্টিস বা ওকালতি করেননি। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আওয়ামী এএজি, ডিএজি ইত্যাদি কর্মকর্তাদের চিনবেন না এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু অ্যাটর্ণি জেনারেল সবকিছু খুব ভালোমতো জেনেশুনেও ঠিক কি বিবেচনায় ফ্যাসিবাদী সরকারের আইন কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগ দিচ্ছেন?
উনি এই বিষয়ে আন্তরিক হয়ে থাকলে তো এতোক্ষণে ওনার জাতির কাছে ক্ষমা চাইবার কথা।
উল্টা উনি যে ধরণের কঠোর ও তাচ্ছিল্যসূচক আচরণ করছেন তা শহীদদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে ভয়ঙ্কর গুরুতর সব সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
গত কয়েক মাসে আবু সাঈদের মতো অনেকেই ভয়শূণ্যভাবে জীবন দিয়েছেন।
কয়েকশো মানুষের চোখ আর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে। ওনারা এরপরেও দমে যাননি।
"স্যার দেখেন, গুলি করলে একজন পড়ে যায়, বাকিরা তো নড়েনা।"
এই অবিশ্বাস্য বীরত্ব দেখিয়েছেন যে লক্ষ কোটি জনগণ, তাদের উদ্দেশ্যেই এই লেখা। তাদের সাহস আর আত্মত্যাগের ফলাফল টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার সঙ্গে জড়িত এই সকল বিষয়গুলো স্পষ্ট ভাষায়, জোরগলায় আর প্রকাশ্যে বলার সময় এসে গেছে।
আমরা যদি বিষয়গুলো পুরোপুরি বুঝে থাকি, যদি আমাদের নৈতিক অবস্থান ঠিক থাকে, তবে এগুলো বলতে দ্বিধা করা, লুকাছাপা করা, কথা ঘুরিয়ে বলা বা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
Keep fear to yourself. Spread the courage.
ইতালির সিসিলিতে ২০০ বছর আগে সৃষ্টি হওয়া মাফিয়া নামক সংগঠনটি শুরুতে জনপ্রিয় এবং জনদরদী একটি বিপ্লবী সংগঠন ছিলো। পরে অপরাধী সংগঠনে রূপান্তরিত হবার পর তাদের আইনত নিষিদ্ধ করা হয়।
একইভাবে ১৯৭১ আর ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগও পুরোপুরি এক না।
কথা খুব পরিস্কার।
"মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায় নিয়োজিত দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিকারী গণহ*ত্যাকারী
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে, ঠিক যেভাবে জার্মানি ও অন্যান্য দেশে ফ্যাসিবাদী দলগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"
Save Bangladesh
-------------------------------
বিশেষ দ্রষ্টব্য ও দায়বর্জন-বিবৃতি/ Special note and Disclaimer:
আমার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে বলা না। আওয়ামী লীগের সবাই গণহত্যার সমর্থক বা সুবিধাভোগী ছিলেন না।
আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক সমর্থক এই আন্দোলনে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সক্রীয় ছিলেন।
এই লেখা সবার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে লেখা হয়নি।
অপরাধ সমর্থন ও সংঘটনের সঙ্গে যুক্ত ফ্যাসিবাদীদের এবং আওয়ামী ফ্যাসিজমকে রাজনৈতিক দল হিসেবে ফিরিয়ে আনার ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই লেখাটি লেখা হয়েছে।
----------------------------------------------
- সংবাদ সুত্রসমূহ কমেন্টের ঘরে।