24/11/2025
প্রতিটা ডিভোর্সের সময়ই যেন নতুন একটা গল্প তৈরি হয়—কখনও বেদনাময়, কখনও বিভ্রান্তির, আবার কখনও অসম্পূর্ণ ভালোবাসার। একজন আইনজীবী হিসেবে এসব গল্প আমরা প্রতিদিন প্রায় খুব কাছ থেকে দেখি। মানুষের ভাঙন, চোখের জলে লুকানো অসহায়ত্ব, আর একে অপরকে হারানোর ভয়—সবকিছুরই সাক্ষী হতে হয় আমাদের।
অভিজ্ঞতা থেকে বারবারই মনে হয়েছে, মন থেকে কেউই আসলে ডিভোর্স চায় না—না ছেলে, না মেয়ে। দু’জনের পথ আলাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে থাকে অসংখ্য ভুল বোঝাবুঝি, কিছু না-বলা কথা, কিছু অভিমান, আর কখনও পরিস্থিতির নিষ্ঠুর চাপ। সম্পর্কটা টানাপোড়েনে জর্জরিত হলেও ভেতরে ভেতরে দু’জনেই চায় না এই বন্ধনটা ভেঙে যাক।
তাই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মাঝেও যখন দেখি একে অপরের প্রতি উদ্বেগ, ভাঙা স্বরের প্রশ্ন—“ওর কী হবে?”, “সে ঠিক আছে তো?”—তখন বুঝি বন্ধনটা পুরোপুরি ভাঙেনি, শুধু কুয়াশায় ঢেকে গেছে।
অনেক দম্পতিকে দেখেছি শেষ মুহূর্তে এসে থমকে যেতে। আদালতের নীরব করিডরে দাঁড়িয়ে হঠাৎ উপলব্ধি হয়—ভুল বোঝাবুঝির পাহাড় যতই উঁচু হোক, ভালোবাসার শেকড়টা তার চেয়েও গভীর। আর সেই উপলব্ধির শক্তিতেই তারা আবার নতুনভাবে শুরু করতে চান, ডিভোর্সের আবেদন প্রত্যাহার করে আবার হাতে হাত রেখে ফিরে যান সংসারে।
প্রতিটি এমন দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। শুধু কখনও সময় লাগে তাকে ফিরে পাওয়ার, বুঝতে শেখার, আর একটু সাহস লাগে একে অপরের দিকে আবারও হাত বাড়িয়ে দেওয়ার।
-এডভোকেট বোরহান উদ্দিন
ালত #আইনজিবী #ডিভোর্স