07/03/2026
বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের জিম্মা (Custody) কে পাবেন—মা নাকি বাবা?? চলুন আলোচনা করি
=================================
🇧🇩সন্তানের জিম্মার বিষয়টি ধর্ম ও দেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০ (The Guardians and Wards Act, 1890), দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
🇧🇩আইনের মূলনীতিটি হলো:
"সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ (Best Interest of the Child)" নিশ্চিত করা।
🇧🇩এখানে মুসলিম আইন এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী জিম্মার নিয়মাবলী এবং আদালত কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা আলোচনা করা হলো:
🇧🇩১. মুসলিম আইন অনুযায়ী জিম্মার নিয়ম (Custody Rules in Muslim Law)
মুসলিম আইনে শিশুর জিম্মার প্রাথমিক অধিকার সাধারণত মায়ের থাকে (এটিকে হিজানত বা হেফাযত বলা হয়)। তবে এই অধিকার একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রযোজ্য:
🇧🇩মায়ের জিম্মা (প্রাথমিক অধিকার বা হিজানত):
মা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সন্তানের জিম্মা পাওয়ার অধিকারী।
🇧🇩পুত্রের ক্ষেত্রে:
সাধারণত ৭ বছর বয়স পর্যন্ত।
🇧🇩কন্যার ক্ষেত্রে:
সাধারণত বয়ঃসন্ধি (Puberty) অর্থাৎ প্রায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত।
🇧🇩এই সময়কালটি শেষ হলে জিম্মার অধিকার সাধারণত পিতার কাছে চলে যায়।
🇧🇩পিতার জিম্মা (গার্ডিয়ানশিপ)আইন অনুযায়ী,: সন্তানের প্রাকৃতিক অভিভাবক (Natural Guardian) হলেন পিতা। জিম্মার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবকত্ব।
🇧🇩পিতা হলেন সন্তানের সম্পত্তির অভিভাবক এবং সন্তানের কল্যাণের চূড়ান্ত জিম্মাদার (Custody)।
🇧🇩মায়ের হিজানত বা প্রাথমিক জিম্মার সময়কাল শেষ হলে, জিম্মা সাধারণত পিতার কাছে চলে আসে।
🇧🇩মা কখন তার জিম্মার অধিকার হারান?
🇧🇩নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে মা তার 'হিজানত' বা প্রাথমিক জিম্মার অধিকার হারাতে পারেন:
🇧🇩১।যদি মা অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে (যার সাথে শিশুর রক্ত সম্পর্ক নেই বা বিবাহ বৈধ নয় এমন) পুনরায় বিবাহ করেন।
🇧🇩২।যদি মা সন্তানের প্রতি অযত্ন করেন বা অবহেলা করেন।
🇧🇩যদি মা এমন কোনো স্থানে বসবাস করেন যেখানে শিশুর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২🇧🇩. আদালতের ভূমিকা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (The Role of the Court)
যদিও ধর্মীয় আইনে প্রাথমিক জিম্মার বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধি আছে, তবে যখনই কোনো বিরোধ আদালতে আসে, আদালত গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০ অনুযায়ী সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণের নীতি অবলম্বন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
🇧🇩আদালত যা বিবেচনা করে:
আদালত জিম্মার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সন্তানের জীবনের প্রতিটি দিক বিবেচনা করে:
🇧🇩বিবেচ্য বিষয় | ব্যাখ্যা
🇧🇩১. সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ :
এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি। মা বা বাবা কার কাছে থাকলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, শিক্ষাগত ও নৈতিক বিকাশ সবচেয়ে ভালো হবে, আদালত তা বিবেচনা করে।
🇧🇩২. সন্তানের ইচ্ছা (Child's Preference) :
যদি সন্তান যথেষ্ট বোঝার মতো বয়স বা পরিপক্কতায় পৌঁছে যায় (সাধারণত ১২ বছরের বেশি), তবে আদালত শিশুর ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাইতে পারে।
🇧🇩৩. পিতামাতার আর্থিক সামর্থ্য :
কে সন্তানের জন্য উন্নত জীবন, শিক্ষা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে পারবে।
🇧🇩৪. পিতামাতার নৈতিকতা ও চরিত্র:
পিতামাতার জীবনযাপন, অভ্যাস এবং সন্তানের প্রতি তাদের আচরণ।
🇧🇩৫. পিতামাতার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য : সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য পিতামাতা শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে উপযুক্ত কিনা।
🇧🇩৬. আগে থেকে জিম্মায় থাকা :
শিশু যদি দীর্ঘদিন ধরে কোনো এক পক্ষের সাথে বসবাস করে অভ্যস্ত হয়, তবে সেই পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রবণতা থাকে।
🇧🇩৭. সন্তানের সাথে সম্পর্ক :
মা বা বাবার সাথে সন্তানের আবেগিক বন্ধন এবং সম্পর্কের গভীরতা।
🇧🇩সংক্ষিপ্তসার:
প্রাথমিক জিম্মা (Custody):
মুসলিম আইনে ছোটবেলায় মা সাধারণত জিম্মা পান (৭ বছর পর্যন্ত পুত্র, বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত কন্যা)।
🇧🇩চূড়ান্ত অভিভাবকত্ব (Guardianship):
চূড়ান্ত অভিভাবক সব সময় পিতা, এমনকি মা জিম্মা পেলেও।
🇧🇩বিরোধের ক্ষেত্রে:
কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালত সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। ৭ বছর বা বয়ঃসন্ধির পর আইনত অধিকার পিতার থাকলেও, যদি আদালত মনে করে যে মায়ের কাছে থাকলেই সন্তানের মঙ্গল হবে, তবে আদালত জিম্মা মায়ের কাছেই রাখতে পারেন।
🇧🇩বিবাহবিচ্ছেদ ও জিম্মা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর সাথে আলোচনা করা সবচেয়ে জরুরি।
ফলো দিয়ে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন ধন্যবাদ।
゚
🍓🍓বিঃদ্রঃ আইনী পরামর্শের জন্য প্রাথমিক আলোচনা ফি প্রয়োজন। তবে দুঃস্থ এবং অসহায়দের জন্য ফ্রী।
ধন্যবাদান্তে
-------------
এ্যাডভোকেট শাহানারা খাতুন (শানু)
বি.এস.এস(১ম শ্রেনী)
এম.এস.এস( ১ম শ্রেনী ৩৬তম মেধা তালিকা)
এলএল.বি, এলএল.এম ( DIU)
জজকোর্ট, ঢাকা।
Civil & Criminal Lawyer.
Life Member - Civil Law Foundation.
মোবাইলঃ 01791118968- WhatsApp
যে কোন জিজ্ঞাসা কমেন্টস বক্সে লিখুন।
যে কোন আইনী পরামর্শের জন্য কল করার পূর্বে হোয়াটসঅ্যাপ এ মেসেজ দিন।
নিজে জানুন অন্যকে জানতে টাইমলাইনে শেয়ার করে দিন